রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া
রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া বীর প্রতীক.jpg
মৃত্যু১৯৮১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর প্রতীক

রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ১৯৮১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়ার জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি গ্রামে। তাঁর বাবার নাম ফরহাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং মায়ের নাম রওশন আরা খাতুন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। নিজ এলাকায় প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেন। সেখানে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে পাঠানো হয় উচ্চতর প্রশিক্ষণে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মুক্তিবাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরের মানকারচর সাবসেক্টরে যুদ্ধ করেন। কোদালকাঠির যুদ্ধে তিনি যথেষ্ট রণকৌশল প্রদর্শন করেন। অক্টোবর মাসে ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাবসেক্টরে যোগ দেন। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে তাঁকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ওয়ারকোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওয়ারকোর্সের প্রশিক্ষণ চলা অবস্থায় দেশ স্বাধীন হয়ে যায়। রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার অন্তর্গত দত্তনগর কৃষি ফার্ম এলাকা ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে ছিল সরকারি কৃষি ফার্ম। তখন এই কৃষি ফার্ম বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শক্তিশালী একটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি স্থাপন করে। এই ঘাঁটিতে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারা সহযোগী রাজাকারদের নিয়ে নিয়মিত সীমান্ত এলাকায় টহল দিত। নভেম্বর মাসের প্রথম দিক থেকে মুক্তিবাহিনী সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকা থেকে পাকিস্তানি সেনাদের বিতাড়ন করা। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিবাহিনীর ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাবসেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ১৭ নভেম্বর ভোররাতে দত্তনগর কৃষি ফার্মে আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন তিনটি দলে বিভক্ত। একটি দল তেঁতুলিয়ার দিক থেকে, দ্বিতীয় দল নারায়ণপুরের দিক থেকে, তৃতীয় দল হাসনাবাদের দিক থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দত্তনগর কৃষি ফার্মের ক্যাম্পে সাঁড়াশি আক্রমণ চালায়। ত্রিমুখী আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এই যুদ্ধে রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া অসীম সাহস ও রণকৌশল প্রদর্শন করেন। দু-তিন ঘণ্টা যুদ্ধের পর পাকিস্তানি সেনাদের প্রবল প্রতিরোধ ভেঙে যায়। তখন তারা পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ১৭-১১-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ১৪০। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ১৭১। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]