মোহাম্মদ গোলাম ইয়াকুব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মো. গোলাম ইয়াকুব
মো. গোলাম ইয়াকুব বীর প্রতীক.jpg
মৃত্যু২০০১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

মো. গোলাম ইয়াকুব (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ২০০১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মো. গোলাম ইয়াকুবের জন্ম মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম জমিরউদ্দীন মোল্লা এবং মায়ের নাম সাজু বিবি। তার স্ত্রীর নাম শামছুন্নাহার। তার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন মো. গোলাম ইয়াকুব। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মাগুরায় প্রতিরোধযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরে ভারতে গিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ নেন। মুক্তিবাহিনীর একটি ক্ষুদ্র দলের নেতৃত্ব দিয়ে তাকে গেরিলা অপারেশন করার জন্য মাগুরা এলাকায় পাঠানো হয়। নহাটায় অ্যামবুশ করার কয়েক দিন পর মহম্মদপুর থানার জয়রামপুরে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধে তার বীরত্ব ও রণকৌশলে পাকিস্তানিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক অস্ত্রশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানার অন্তর্গত নহাটার পশ্চিম দিক দিয়ে ছিল নবগঙ্গা নদী। দক্ষিণে নড়াইল জেলা। তখন একটি কাঁচা রাস্তার মাধ্যমে নহাটার সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ছিল। এই এলাকায় পাকিস্তানিদের কোনো স্থায়ী ঘাঁটি ছিল না। কিন্তু তারা নিয়মিত টহল দিত এ এলাকায়। ২১ আগস্ট একদল পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নৌকাযোগে নবগঙ্গা নদী দিয়ে নহাটায় আসে। তাদের আসার খবর মুক্তিযোদ্ধাদের দলনায়ক মো. গোলাম ইয়াকুব গুপ্তচরের মাধ্যমে আগেই পেয়ে যান। খবর পেয়ে তিনি পাকিস্তানিদের অ্যামবুশ করার সিদ্ধান্ত নেন। মুক্তিযোদ্ধারা তখন সেই এলাকাতেই ছিলেন। তারা ছিলেন মাত্র ১১ জন। ময়মনসিংহের অসীম সাহা, যশোর জেলার দেলোয়ার ও গরিব হোসেন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার পরিতোষ ছিলেন এ দলে। তাদের কাছে অস্ত্র ছিল সাতটি এসএলআর, একটি এসএমজি ও তিনটি রাইফেল। সকাল আটটার দিকে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা সেখানে আসে। তারা সংখ্যায় ছিল প্রায় এক কোম্পানি। খবর পেয়েই দ্রুত মুক্তিযোদ্ধারা তৈরি হলেন। তারপর অবস্থান নিলেন নহাটা বাজারের পার্শ্ববর্তী পাকা স্কুল ভবনের ছাদে ও তহশিল অফিসে। ওখানে মানুষজন যারা ছিল, তারা নিরাপদ স্থানে সরে যায়। একটু পর পাকিস্তানি সেনারা নৌকাযোগে এসে ঘাটে নামে। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার মিলে প্রায় ১০০ জন ছিল। গোলাম ইয়াকুব ও তার সহযোদ্ধারা চমকে গেলেন। অন্যদিকে তারা মাত্র ১১ জন। গোলাম ইয়াকুব ভয় পেলেন না। আক্রমণের সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা তাদের আওতার মধ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠল সবার অস্ত্র। গোলাগুলির শব্দের মধ্যে আর্তচিৎকার শোনা যেতে থাকল। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল অনেক পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার। ঘটনার আকস্মিকতায় তারা হতবিহ্বল। পাকিস্তানিরা সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিহত হলো ৩০-৩৫ জন। পরে পাকিস্তানিরা পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ স্থানে চলে যান। মো. গোলাম ইয়াকুব ক্ষুদ্র দল নিয়ে দুঃসাহসিকতার সঙ্গে অ্যামবুশ পরিচালনা করেন। সেদিন পাকিস্তানি সেনারা সেখানেই অবস্থান করে। পরদিন ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা আবার পাকিস্তানিদের আকস্মিক আক্রমণ করেন। এ আক্রমণেও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ:০৩-১১-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ১৪০। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ১৭১। আইএসবিএন 9789843338884 

পাদটীকা[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]