মনির আহমেদ খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মনির আহমেদ খান
মনির আহমেদ খান.jpg
জন্ম১৯৩৬
মৃত্যু২০১২
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

মনির আহমেদ খান (জন্ম: ১৯৩৬ - মৃত্যু: ২০১২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মনির আহমেদ খানের পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার দেলী গ্রামে। তার বাবার নাম আলী আহমেদ খান এবং মায়ের নাম রহিমা বেগম। তার স্ত্রীর নাম বেনুআরা বেগম। তাদের এক ছেলে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মনির আহমেদ খান চাকরি করতেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে। ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র অবস্থায় আক্রান্ত হন। কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন। চট্টগ্রামে প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে যান। এরপর প্রথমে ৩ নম্বর সেক্টরের পঞ্চবটী সাবসেক্টরে পরে এস ফোর্সের (১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) অধীনে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে আখাউড়ার পতনের পর মনির আহমেদ খানসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা অগ্রসর হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার চান্দুরায়। তারা ছিলেন নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর এস ফোর্সের অধীন মুক্তিযোদ্ধা। এক ব্যাটালিয়ন শক্তির। তাদের অধিনায়ক ছিলেন এ এস এম নাসিম (বীর বিক্রম)। মুক্তিযোদ্ধাদের এ অগ্রাভিযানে সবার আগে ছিল ‘সি’ (চার্লি দল)। তাদের ওপর দায়িত্ব ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর টাউনের শাহবাজপুর সেতু দ্রুত দখল করা। তাদের অনুসরণ করে ‘এ’ (আলফা) দল। সব শেষে ছিল ‘ডি’ (ডেলটা) দল। আর ‘বি’ (ব্রাভো) দল ছিল পেছনে। কাট অফ পার্টি হিসেবে তাদের ওপর দায়িত্ব ছিল অগ্রসরমাণ মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা বিধান করা। এস ফোর্সের অধিনায়ক কে এম শফিউল্লাহ ও (বীর উত্তম) সে দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ছিলেন ডি দলের একাংশের সঙ্গে। তিনটি দলের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব বিদ্যমান ছিল। মেজর সফিউল্লাহ যখন চান্দুরার কাছে ইসলামপুরে পৌঁছেন, তখন বড় ধরনের এক দুর্ঘটনা ঘটে। দুটি মিলিটারি ট্রাক হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হয়। তাতে ছিল একদল পাকিস্তানি সেনা। এ ঘটনা ছিল অভাবিত। এ সময় মেজর সফিউল্লাহ অগ্রসরমাণ সি দলের পেছনে খানিকটা দূরে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন মাত্র কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক নাসিম ছিলেন সি দলের একদম পশ্চাতে। মেজর সফিউল্লাহ তাৎক্ষণিক পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। পাকিস্তানি সেনারা হাত উঁচু করে ট্রাক থেকে নামতে থাকে। এরপর হঠাৎ তাদের কেউ কেউ দৌড় দেয় এবং বাকিরা গোলাগুলি শুরু করে। নিমেষে সেখানে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। একটু পর সেখানে হাজির হয় আরও কিছু পাকিস্তানি সেনা। তখন মনির আহমেদ খান ও তার দলের সহযোদ্ধারা ছিলেন বেশ এগিয়ে। তিনি ছিলেন সি দলে। তারা ধর্মনগর-হরষপুর-পাইকপাড়া হয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তারা দ্রুত পেছনে আসেন। পাকিস্তানি সেনারা প্রচণ্ড গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের ওপর। আক্রমণের প্রচণ্ডতায় তার দলের মুক্তিযোদ্ধারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একটি প্লাটুন (উপদল) নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাশের তিতাস নদীর অপর পাড়ে চলে যায়। বাকি দুই প্লাটুনের একটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অক্ষত থাকে একটি প্লাটুন। অক্ষত প্লাটুনে ছিলেন মনির আহমেদ খান। তারা সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করেন। তাদের সাহস ও বীরত্বে বেঁচে যায় কে এম সফিউল্লাহর জীবন এবং শেষ পর্যন্ত পর্যুদস্ত হয় পাকিস্তানি সেনারা। সেদিন যুদ্ধে দুজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এবং এ এস এম নাসিমসহ ১১ জন আহত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৫ জন নিহত ও ১৪ জন বন্দী হয়। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ১৫-১০-২০১২
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা 346। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (দ্বিতীয় খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃষ্ঠা ২৫৭। আইএসবিএন 9789849025375 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]