মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ
মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ বীর প্রতীক.jpg
মৃত্যু২০০৮
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর প্রতীক

মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ২০০৮) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ’র জন্ম কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সাহেবউল্লাহ এবং মায়ের নাম রাবেয়া খাতুন। তাঁর স্ত্রীর নাম নাসিমা আক্তার। তাঁর এক ছেলে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের বাংলার শিক্ষক ছিলেন মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন। পরে তিনি ৮ নম্বর সেক্টরের হাকিমপুর সাবসেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁকে ক্যাপ্টেন উপাধি প্রদান করা হয়। তিনি বালিয়াডাঙ্গায় যু্দ্ধ করেন। এ যুদ্ধ এত ভয়াবহ, ল যে আজও সে কথা মনে করলে ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধারা শিউরে ওঠেন। ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এম এ মঞ্জুর বীর উত্তমের মতে ‘বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধ ছিল যুদ্ধ-জগতের এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী সংঘর্ষ।’ মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্বের জন্য মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী তাঁর বীরত্বভূষণ সনদ নম্বর ২৩। স্বাধীনতার পর মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে অবসর নেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার অন্তর্গত বালিয়াডাঙ্গার অবস্থান ছিলো পশ্চিমে ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্যের সীমান্তে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিক থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সাতক্ষীরা-যশোর এলাকায় ভারত সীমান্ত বরাবর প্রতিরক্ষা অবস্থান সুদৃঢ় করতে থাকে। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা অবস্থান দুর্বল করার জন্য আক্রমণের পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনার অংশহিসেবে মোহাম্মদ সফিকউল্লাহর নেতৃত্বে এক কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা ১৬ সেপ্টেম্বর সীমান্ত অতিক্রম করে বালিয়াডাঙ্গায় অবস্থান নেয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীকে পাল্টা আক্রমণ করে। সেদিন সারা দিন যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধারা মোহাম্মদ সফিকউল্লাহর নেতৃত্বে সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। পাকিস্তানিরা বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ করে। মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ সে সব উপেক্ষা করে সহযোদ্ধাদের নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যান। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আবার যুদ্ধ শুরু হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের দলনেতা মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ সকালবেলা নিজেদের প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো সুরক্ষিত করেন। এমন সময় শুরু হলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণ। প্রথম গোলা এসে পড়ল মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ’র অবস্থান থেকে ২৫০-৩০০ গজ দূরে। ভয় না পেয়ে সহযোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য তিনি দাঁড়িয়ে নির্দেশ দিতে থাকলেন। দ্বিতীয় গোলা এসে পড়ল ঠিক তাঁর ১০০ গজ সামনে। এক-দেড় মিনিটের মধ্যে তৃতীয় গোলা এসে পড়ল একদম তাঁর কাছে। কোনো কিছু বোঝার আগেই বাতাসের প্রবল ধাক্কায় তিনি নিচে পড়ে গেলেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গোলার স্প্লিন্টারের টুকরা লেগে যায়। তাঁর গোটা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। সফিকউল্লাহ ভয় পেলেন না, দমেও গেলেন না। একজন এসে তাঁর ক্ষতস্থানে দ্রুত ব্যান্ডেজ বেঁধে দিল। তীব্র ব্যথা-জ্বালা উপেক্ষা করে তিনি সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দিতে থাকলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ পারলেন না। একসময় অচেতন হয়ে পড়লেন। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ২০-০১-২০১২
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ৬০৪। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ৩১৮। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]