সর্বাধিনায়ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

সর্বাধিনায়ক হল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যে কোনো জাতির সামরিক বাহিনীকে বা তার গুরুত্বপূর্ণ কোনো অংশকে সর্বোচ্চ আদেশ বা নিয়ন্ত্রণ প্রদান করতে পারে। সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে, বা কোনো নির্দিষ্ট কাজের সাথে যুক্ত থাকে। তবে সাধারণত এর দ্বারা সামরিক অধিকার বুঝায়, যা রাষ্ট্রের নির্বাহী পরিচালনার অধীনে থাকে। যেমন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রীসভা অথবা অন্য কোনো নেত্রীস্থানীয় ব্যক্তি। প্রায়শ একটি দেশের সর্বাধিনায়ক হয় সামরিক বাহিনীর নিযুক্ত কোনো অভিজ্ঞ কর্মচারী। এবং তা সামরিক বাহিনীর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের মূলনীতি অনুসরণ করে। 

পরিচ্ছেদসমূহ

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

সর্বাধিনায়কের ভুমিকা লাতিন ইম্পারাটর  হতে উদ্ভূত। রোমান সাম্রাজ্যের ইম্পারাটর  -রা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করত। আধুনিক যুগে ১৬৩৯ সালে ইংল্যান্ডের রাজা চার্লস ১ এর জন্য সর্বপ্রথম এই পদ ব্যবহার করা হয়। এবং ইংরেজদের গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত এর ব্যবহার চলতে থাকে।[১] কোনো জাতির রাষ্ট্রপ্রধান(একনায়কতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র) সাধারণত সর্বাধিনায়ক পদের দায়িত্ব কাগজে-কলমে পেয়ে থাকেন, যদিও নির্বাহী ক্ষমতা অন্য কোনো সরকার প্রধানের হতে পারে। সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থায়, সরকারের নির্বাহী বিভাগ আইন বিভাগের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। যদিও আইন বিভাগ সশস্ত্র বাহিনীর উপর সরাসরি আদেশ জারি করে না। অতএব আইন বিভাগ সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেনা। সামরিক বাহিনীর গভর্নর-জেনারেল এবং ঔপনিবেশিক গভর্নর সাধারণত সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন।  [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সর্বাধিনায়ককে সুপ্রিম কমান্ডার ও বলা হয়। এই পদ সামরিক কর্মকর্তাদের  জন্যেও ব্যবহৃত হয়, যাদের সামরিক বাহিনীর উপর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আছে।[২]

সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধান[সম্পাদনা]

আলবেনিয়া[সম্পাদনা]

আলবেনিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, আলবানিয়ান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হল আলবেনিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। বর্তমানে সর্বাধিনায়ক হলেন রাষ্ট্রপতি বুজার নিশানি। 

আর্জেন্টিনা[সম্পাদনা]

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি মরিসিও মাকরি, ১০ই ডিসেম্বর,২০১৫ থেকে আর্জেন্টাইন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক

আর্জেন্টিনার সংবিধানের দ্বিতীয় অংশের তৃতীয় পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ ৯৯ এর  ধারা ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নং এ বলা আছে, আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতি হল "রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক"। এখানে আরো বলা আছে রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর কোনো উচ্চ পদে আসীন কর্মকর্তাকে সামরিক পদ প্রদান করার, জাতির প্রয়োজনে এই সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাহ ও নিয়ন্ত্রণ করার এবং জাতীয় সংসদের সম্মতি ও অনুমোদন সাপেক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করার অধিকার সংরক্ষণ করে।[৩]

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হল সরকারের একটা বিভাগ যা রাষ্ট্রপতিকে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী) তত্ত্বাবধানে সহায়তা করে। [৪]

অস্ট্রেলিয়া[সম্পাদনা]

 ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড গউরি (ডানে) প্রধানমন্ত্রী জন কার্টিনের (বামে) উপস্থিতিতে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করছেন।

অস্ট্রেলিয়ান সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬৮ নং ধারায় বর্ণিত, রাষ্ট্রের গভর্নর জেনারেল রানীর প্রতিনিধি হিসেবে নৌ বাহিনী ও সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হবে।

বাস্তবে, গভর্নর জেনারেল অস্ট্রেলিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে না। অস্ট্রেলিয়ান মন্ত্রীসভা ডি ফেক্টো (প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে) সাধারণত অস্ট্রেলিয়ান সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 

অস্ট্রিয়া[সম্পাদনা]

অস্ট্রিয়ান সংবিধানের ৮০ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত, যৌথ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হল রাষ্ট্রপতি। আরো বলা আছে, রাষ্ট্রপতি যৌথ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করবে প্রতিরক্ষা আইন অনুযায়ী। তবে ৬৯ নং ধারা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা কেবল মাত্র প্রধানমন্ত্রীর। অর্থাৎ ফেডারেল চ্যান্সেলরের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভা এই অধিকার সংরক্ষণ করে।[৫]

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে সর্বাধিনায়ক হল রাষ্ট্রপতি, যদিও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল নির্বাহী ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন প্রথম সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে তাঁকে তাঁর দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হয় যা ১৯৭২ সালে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। তিনি ৭ই এপ্রিল, ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতির নিকট সকল ক্ষমতা ও দায়িত্ব হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।[৬]

ব্রাজিল[সম্পাদনা]

ব্রাজিলিয়ায় স্বাধীনতা দিবসে সৈন্যবহরের কুচকাওয়াজ পরিদর্শনকালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লুলা ও তার স্ত্রী মারিসা লেতিসিয়ার।

১৯৮৮ সালের ব্রাজিলীয় সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি হল ব্রাজিলীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।[৭]

Brunei[সম্পাদনা]

ব্রুনেই -এর সুলতান হল ব্রুনেই রাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

কানাডা[সম্পাদনা]

কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর উপর সর্বাধিনায়কের যে ক্ষমতা তা কানাডীয় রাজতন্ত্রের উপর ন্যস্ত, [৮] এবং কানাডার গভর্নর জেনারেল সর্বাধিনায়ক উপাধির দাবিদার।[৯] গভর্নর জেনারেলের পোশাকে পদচিহ্নের প্রতীক হিসেবে আস্তিনে বিশেষ নকশা থাকে।

গণচীন[সম্পাদনা]

গণচীন সংবিধানের ৯৩ ন্ং অনুচ্ছেদে বলা আছে, চীনের সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী কমিশনের উপর ন্যস্ত, যা একজন চেয়ারম্যান ও কিছু ভাইস-চেয়ারম্যান এবং সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। একই অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী কমিশনের চেয়ারম্যান সকল দায়িত্ব পালন করবে এবং জাতীয় সংসদ এবং স্থায়ী কমিটির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।[১০]

হংকং[সম্পাদনা]

হংকং যখন ব্রিটিশ নেতৃত্বের অধীনে ছিল তখন হংকং -এ ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন সিভিলিয়ান গভর্নর। ১৯৯৭ সালে গণ চীন প্রজাতন্ত্রের হাতে এই অঞ্চল হস্তান্তরের সময় হংকং -এর সামরিক বাহিনীর প্রধান করা হয় চীনের পিএলএ পারসোনেল -কে।

ক্রোয়েশিয়া[সম্পাদনা]

ক্রোয়েশিয়ান সংবিধান অনুযায়ী, ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি হল ক্রোয়েশিয়ান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। সর্বাধিনায়ক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে থাকে। যুদ্ধ বা অন্য যেকোনো বিশেষ ক্ষেত্রে, যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার নির্দেশ সমূহ পালনে ব্যর্থ হয়, তখন সর্বাধিনায়ক সরাসরি নির্দেশ দিয়ে থাকেন। 

চেক প্রজাতন্ত্র[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালের সংবিধান অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ নং ৬৩(১)(গ) -তে বলা আছে, চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, এবং অনুচ্ছেদ নং ৬৩(১)(চ) -তে বর্ণিত, সর্বাধিনায়ক জেনারেলদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দেন। অনুচ্ছেদ নং ৬৩(৩-৪) -এ বর্ণিত, তবে উপরোল্লিখিত বিধানের জন্য রাষ্ট্রপতির যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন হবে, অন্যথায় তা বাতিল বলে বিবেচিত হবে। প্রধানমন্ত্রী অন্য কোনো মন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে প্রতিস্বাক্ষরের এই দায়িত্ব অর্পণ করতে পারে। সশস্ত্র বাহিনীর রাজনৈতিক দায়িত্ব সরকারের দ্বারা উদ্ভূত, যা অনুচ্ছেদ নং ৬৭ -তে বলা হয়েছে, নির্বাহী ক্ষমতার সর্বোচ্চ ধারক। 

ডেনমার্ক[সম্পাদনা]

ডেনিশ প্রতিরক্ষা আইনের ৯ নং অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে প্রতিরক্ষার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। মন্ত্রীর নিচেই আছে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, যিনি সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা। এবং তিনি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অধিনায়ক।[১১][১২]

ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র[সম্পাদনা]

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৮, ধারা ২, ৪ নং শিরোনামে বর্ণিত, পররাষ্ট্র নীতি, প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনী, আইন রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সর্বাধিনায়ক হচ্ছে রাষ্ট্রপতি।[১৩]

মিশর[সম্পাদনা]

মিশরে রাষ্ট্রপতি হল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ অধিনায়ক। সরকারের একজন সদস্য, সাধারণত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এই দায়িত্ব এখন সেদকি সোভির উপর অর্পিত। তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার রাখত। জুন ২০১২ সালে, মুহাম্মাদ মুরসির নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সকল সামরিক বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতি। এবং ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের সকল পরিকল্পনা এবং যুদ্ধ চলাকালীন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কমান্ডারদের সরাসরি নির্দেশনা প্রদানে সর্বাধিনায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। আনোয়ার সাদাত প্রায়ই তাঁর সামরিক পোশাক পরিধান করতেন, তবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক এই প্রথা পরিত্যাগ করেন। 

ফিনল্যান্ড[সম্পাদনা]

ফিনিশ সংবিধান অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি হলেন ফিনিশ সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তবে বাস্তবে নিত্য নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং ফিনিশ সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডারের উপর ন্যস্ত। সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতি যেসব বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নেন তা হল-[১৪]:§31

  • রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামরিক বাহিনীর মূলনীতি নির্ধারণ
  • সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যনির্বাহী মূলনীতি 
  • সুদূরপ্রসারী সামরিক কর্মকাণ্ড বিষয়ক অন্যন্য সামরিক নির্দেশাবলী 
  • অন্য যেকোনো সামরিক নির্দেশনা যা তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করবেন 

২০০০ সালের সংবিধান সংশোধনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি যেকোনো ধরণের নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে, যদি সেটা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাপার না হয়।  

ফ্রান্স[সম্পাদনা]

ফ্রান্সের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর প্রধান হল রাষ্ট্রপতি এবং সামরিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ও তিনি। অনুচ্ছেদ নং ১৬ তে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি হল ব্যাপক পরিসরে জরুরি ক্ষমতার অধিকারী।[১৫]

ঘানা[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালের পূর্বে ঘানা সশস্ত্র বাহিনীর (জিএএফ) সর্বাধিনায়ক ছিলেন জিএএফ -এর সামরিক পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি। তবে ১৯৯২ সালে ঘানা বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লিউট্যানেন্ট জেরি রাউলিংস -এর অনুমোদনে ঘানা সংবিধান অনুসারে, ঘানার রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হল ঘানা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। জিএএফ -এর সর্বাধিনায়ক হলেন ঘানার রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জন দ্রামানি মাহামা।[১৬][১৭]

ভারত[সম্পাদনা]

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হল ভারতের রাষ্ট্রপতি, যদিও নির্বাহী ক্ষমতার উৎস প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীসভা।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট, প্রতিটা বাহিনীর নিজস্ব সর্বাধিনায়ক ছিল। ১৯৫৫ সালে, তিন বাহিনীর প্রধানকে পুনরায় নতুন পদ দেয়া হয়। সেনাবাহিনী প্রধানকে জেনারেল পদ, নৌবাহিনীর প্রধানকে ভাইস-এডমিরাল পদ ও বিমানবাহিনীর প্রধানকে এয়ার মার্শাল পদ ঠিক করা হয় যেখানে সর্বাধিনায়ক হবেন রাষ্ট্রপতি। ১৯৬৫ সালে বিমানবাহিনী প্রধানকে এয়ার চীফ মার্শাল পদে এবং ১৯৬৮ সালে নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। 

ইন্দোনেশিয়া[সম্পাদনা]

ইন্দোনেশিয়ার সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত, ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি। সশস্ত্র বাহিনীর সাধারণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইন্দোনেশীয় সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার (চতুর্থ র‍্যাঙ্কের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে যিনি জেনারেল, নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে এডমিরাল ও বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রে মার্শাল)।

ইরান[সম্পাদনা]

ইরানীয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই

১৯৭৯ সালের পূর্বে, ইরানের সর্বাধিনায়ক ছিলেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সূচনালগ্নে ইরানের রাষ্ট্রপতি আবুল হাসান বানি সাদার সর্বাধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৮১ সালের ২২শে জুন তিনি অভিযুক্ত হন যার ফলে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে দেওয়া হয়।

আয়ারল্যান্ড[সম্পাদনা]

আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সেনাপতি,[১৮] তবে বাস্তবে রাষ্ট্রপতির হয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ই কার্যনির্বাহকের দায়িত্ব পালন করেন এবং সরকারকে রিপোর্ট করেন।[১৯] 

ইতালি[সম্পাদনা]

ইতালির সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৮৭ -তে বর্ণিত, রাষ্ট্রপতি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক এবং সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদের সভাপতি। সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করে থাকেন।[২০]

কেনিয়া[সম্পাদনা]

কেনিয়ার সংবিধানের ১৩১ নং অধ্যায়ে রাষ্ট্রপতিকে কেনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।[২১] রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনী পরিচালনার কাজে সহায়তা করার একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেন যিনি কেনিয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে বিবেচিত এবং তিনি রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই সশস্ত্র বাহিনী প্রধানকে কেনিয়া সেনাবাহিনী অথবা কেনিয়া নৌবাহিনী অথবা কেনিয়া বিমানবাহিনী থেকে বাছাই করা হয়।

মালয়েশিয়া[সম্পাদনা]

মালয়েশিয়া -র সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৪১ অনুযায়ী, মালয়েশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা হলেন ইয়ান দি-পারতুয়ান আগোং (মালয়েশিয়ান শব্দ যার অর্থঃ মালয়েশিয়ার রাজা)। তিনি সামরিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদ প্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি তিনটি সামরিক বাহিনীর প্রধানকে নিয়োগ দেন।

মরিশাস[সম্পাদনা]

মরিশাস প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মরিশাস প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হলেন সর্বাধিনায়ক।[২২]

১৯৬৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে মরিশাসের গভর্নর-জেনারেলের প্রতিনিধিত্বে মরিশাসের রানী -কে সর্বাধিনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯২ সালে কমনওয়েলথ ঘোষণার পর নতুন সংবিধানে বলা হয় রাষ্ট্রপ্রধান ও সর্বাধিনায়ক পদের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির উপর।

নাইজেরিয়া[সম্পাদনা]

নাইজেরিয়ান সংবিধান অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হলেন নাইজেরিয়ান সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

পাকিস্তান[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সালের সংবিধানের পূর্বে, পাকিস্তানি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে সামরিক বাহিনীর প্রধানকে সর্বাধিনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] হামুদুর রেহমান কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী এই পদ সেনা বাহিনীর প্রধান দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৭৩ সালে  এই পদ পরিবর্তিত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতির হাতেই সকল ক্ষমতা নিহিত। কিন্ত বর্তমানে গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়ার পর প্রধান ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ফিলিপাইন[সম্পাদনা]

ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি হল রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান। ১৯৮৭ সালের ৭ নং অনুচ্ছেদের ১৮ নং ধারায় সংশোধনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[২৩]

ফিলিপাইন সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান সর্বাধিনায়ক হলেন রাষ্ট্রপতি রড্রিগো ডুটার্টে যিনি ফিলিপিনো সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পোল্যান্ড[সম্পাদনা]

পোল্যান্ডে, পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেন রাষ্ট্রপতি। পোল্যান্ডে যুদ্ধকালীন সময়ে পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন। 

পর্তুগাল [সম্পাদনা]

পর্তুগীজ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হল সশস্ত্র বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বোচ্চ অধিনায়ক। তবে পরিচালনাগত নির্দেশনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের উপর ন্যস্ত।

রাশিয়া[সম্পাদনা]

২০১২ সালে রাষ্ট্রপতির অভিষেক উপলক্ষ্যে দিমিত্রি মেদভেদেভ হতে ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে চেগেত হস্তান্তর অনুষ্ঠান [২৪]

রাশিয়ান ফেডারেশন সংবিধানের অধ্যায় ৪, অনুচ্ছেদ ৮৭, ধারা ১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।[২৫] রাষ্ট্রপতি সাধারণত সামরিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন।[২৬]

রুশ সশস্ত্র বাহিনী ৩টা সেবার উপর ভিত্তি করে বিভক্তঃ রুশ স্থল বাহিনী, রুশ নৌবাহিনী এবং রুশ বিমান বাহিনী। পাশাপাশি আরো ৩টা স্বাধীন সশস্ত্র সেবা আছেঃ স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ট্রুপস, রুশ মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং রুশ এয়ারবোম ট্রুপস।প্রাক্তন সোভিয়েত বিমান বাহিনী ১৯৯৮ সালে রুশ বিমান বাহিনীর নেতৃত্বে আসে।

সার্বিয়া [সম্পাদনা]

আইন অনুযায়ী, সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং সামরিক বাহিনীর নির্দেশক। সার্বিয়ার সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের তিনি নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রত্যাহার করে থাকেন।[২৭]

স্লোভেনিয়া [সম্পাদনা]

স্লোভেনিয়াতে রাষ্ট্রপতি হল সর্বাধিনায়ক। যদিও সে যুদ্ধবিগ্রহহীন সময়ে এই ক্ষমতা ব্যবহার করেন না। তাঁর পরিবর্তে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

স্পেন[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে রাজা জুয়ান কার্লোস-১ রাজকীয় সৈন্যবাহিনী পরিদর্শনকালে

১৯৭৮ সালের স্পেনের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২-তে বলা আছে, স্পেনের রাজা হলেন সশস্ত্র বশিনীর সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা। 

তবে অনুচ্ছেদ ৬৪ -তে বলা আছে, রাজার সকল সিদ্ধান্ত বৈধ করার জন্য রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনো উপযুক্ত মন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন। অনুচ্ছেদ ৯৭ -এ বলা আছে, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র বিষয়ক নীতি, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনিক কর্ম এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের উপর। 



শ্রীলংকা[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে, শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর নামমাত্র সর্বাধিনায়ক।

সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে। তবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের হাতে।তিন শাখায় তাদের নিজস্ব প্রধান আছেঃ সেনাবাহিনীর কমান্ডার, নৌবাহিনীর কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডার যাদের স্ব স্ব শাখায় পূর্ণ অধিকার আছে।

থাইল্যান্ড[সম্পাদনা]

থাই রাজা হল সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। সর্বশেষ অক্টোবর ২০১৬ সালে রাজা ভূমিবল অতুল্যতেজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থাই রাজকীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।[২৮]

তুরস্ক[সম্পাদনা]

তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মোস্তফা কামাল পাশা (মাঝে), জেনারেল মেহমেদ এমিন পাশা (বামে), জেনারেল আলি সাইদ পাশা (ডানে) ১৯২৫ সালে ইনেবলুতে

তুরস্কের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব হলঃ তুরস্কের জাতীয় সংসদের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক অধিনায়কের দায়িত্ব পালন এবং তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর সমাবেশ বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সামরিক বাহিনীর প্রধানকে নিয়োগ দেওয়া, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মিটিং আহবান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করা, সামরিক আইন জারি করা বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা, আইনের অনুশাসন জারি করা, তার সভাপতিত্বে মন্ত্রী পরিষদের মিটিং আহবান করা। সংবিধানের উপরোল্লিখিত দায়িত্ব ছাড়াও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি নির্বাহী ক্ষমতার বলে জাতির সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ রাজা হল সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান[২৯] এবং তাদের সর্বাধিনায়ক।[৩০] সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী (মন্ত্রীসভার সহযোগিতায়) মূল সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে থাকেন।[৩১][৩২] ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সংবিধানে একটা নতুন সংশোধন পাশ হয় যেখানে বলা হয়, হাউজ অফ কমনস -এর অনুমতি সাপেক্ষে যেকোনো ধরণের সামরিক কার্যকলাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সর্বাধিনায়কের ঐতিহাসিক তাৎপর্য[সম্পাদনা]

১৬৬০ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন সর্বাধিনায়ক এবং তার হাতে এই ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল।

নৌ, সেনা ও বিমান বাহিনী[সম্পাদনা]

২০১২ সালের আগ পর্যন্ত তিনটি বাহিনীর প্রত্যেকটিতে এক বা একাধিক নেতৃত্বের জন্য একজন সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত ছিলেন।

২০১২ সাল থেকে প্রতেকটি বাহিনীর পূর্ণ নেতৃত্ব শুধুমাত্র একজন প্রধানের হাতে ন্যস্ত। এবং একজন স্বতন্ত্র সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত দেওয়ার প্রথা রহিত হয়। 

যুক্তরাষ্ট্র[সম্পাদনা]

সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ২, ধারা ২ এর দফা ১ -এ বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হল যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি[৩৩][৩৪] [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যুদ্ধের সময় সামরিক নেতৃত্বের কি পরিমাণ রাষ্ট্রপতি নিজে নিয়ন্ত্রণ করবেন তা বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত হয়েছে।[৩৫] প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন, বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭৪ সালে ওয়াশিংটন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ১২০০০ সেনাবহর একত্রিত করেন হুইস্কি বিদ্রোহ দমণ করার জন্য। এই বিদ্রোহ ছিল পশ্চিম পেনিসিলভেনিয়ায় সশস্ত্র কৃষক সমাজ ও মদপ্রস্তুতকারী সমাজের, যারা আবগারী শুল্ক দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। 

১৮৬১-১৮৬৫ সালে আমেরিকান গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণে আব্রাহাম লিংকন গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। ইতিহাসবিদগণ তার এই কৌশলগত জ্ঞান ও উলিসেস এস. গ্রান্টের মত দক্ষ কমান্ডার নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন।[৩৬] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার জেনারেল, এডমিরাল -দের সাথে এক হয়ে কাজ করেছেন এবং এডমিরাল উইলিয়াম ডি. লেহি -কে সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেন।[৩৭]

জর্জ ডব্লিউ. বুশ -এর নেতৃত্ব আফগানিস্তান যুদ্ধ ও ইরাক যুদ্ধের সময় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাভ করে। আল-কায়েদার ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ২০০৩ সালে তিনি ইরাক আক্রমণ করেন। সন্ত্রাসবাদের সাথে ইরাকের সম্পর্ক ও অবৈধ গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার দায়ে তিনি এই আক্রমণ চালান।

২০০২ সালের ২৪শে অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড এইচ. রামসফিল্ড ঘোষণা দেন, সর্বাধিনায়ক শব্দের ব্যবহার শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির জন্যই ব্রাদ্দ থাকবে।[৩৮]



ভিয়েতনাম[সম্পাদনা]

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হল ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি। যিনি একই সাথে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি। যদিও এই পদ শুধু লিখিত এবং সত্যিকার অর্থে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সেনা কমিশনের নিকট এই ক্ষমতা অর্পিত। 

সর্বাধিনায়ক হিসেবে অন্যান্য কর্মকর্তা[সম্পাদনা]

ইথিওপিয়া[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৭৪(১)-এ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়।[৩৯]

জার্মানি[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সালে পশ্চিম জার্মানি ন্যাটো -তে যোগদানের পর সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধন করা হয়। এই সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৬৫(ক) অনুযায়ী,

  • যুদ্ধবিগ্রহকালীন সময়ে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।
  • সশস্ত্র বাহিনীর উপর জার্মান রাষ্ট্রপতির কোনো কর্তৃত্ব নেই, যদিও তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার কারণে সকল আনুষ্ঠানিক সম্মান লাভ করবে।
১৯৩৭ সালে ন্যুরেমবার্গ সমাবেশে ওয়ার্নার ভন ব্লুমবার্গ (বামে) এডলফ হিটলারকে (ডানে) সামরিক অভিবাদন জানাচ্ছেন

প্রুশিয়ান রাজ্য, জার্মান রাজত্ব, ওয়েইমার প্রজাতন্ত্র এবং নাৎজি যুগে যেই রাষ্ট্রপ্রধান হোক না কেন - ১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রুশিয়ান রাজ্য /জার্মান রাজ্যের রাজা (প্রুশিয়ান রাজ্যের সংবিধান /জার্মান রাজ্যের সংবিধান অনুযায়ী), ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত ওয়েইমার রাজ্যের রাষ্ট্রপতি (ওয়েইমার সংবিধান অনুযায়ী) এবং ১৯৩৪-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ফুহ্রার (প্রধান নেতা) - সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োযিত ছিলেন।


ইসরায়েল[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের আইনে বর্ণিত, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের উপর অর্পিত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরকারের হয়ে কর্তৃত্ব চর্চা করে থাকেন এবং তার অধীনস্থ জেনারেল স্টাফ প্রধান সামরিক বাহিনীর উপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব করে থাকেন।[৪০]

জাপান[সম্পাদনা]

জাপানে মেইজি সভ্যতার পূর্বে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব ছিল শোগুনের উপর।জাপানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর জাপানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়।

নেদারল্যান্ড[সম্পাদনা]

রাজা উইলিয়াম আলেকজান্দার পরিহিত ডাচ সামরিক পোষাকের রাজকীয় পদচিহ্ন

নেদারল্যান্ডের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৯৭ -এ বর্ণিত, সশস্ত্র বাহিনীর উপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব সরকারের। অনুচ্ছেদ নং ৪২ -এ বলা হয়, সরকারের সব কাজের জন্য মন্ত্রীসভা দায়ী থাকবে। অনুচ্ছেদ নং ৪৫ -এ বলা হয়, মন্ত্রীবর্গ নিয়ে সাংবিধানিক উপায়ে গঠিত মন্ত্রীসভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সকল সরকারী নীতি নির্ধারণের অধিকার রাখেন।[৪১]

সশস্ত্র বাহিনীর প্রাথমিক কার্যনির্বাহী দায়িত্ব প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপর ন্যস্ত, যা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মমাফিক কার্য।[৪২] প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হল উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা যিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্রিয়তা এবং বিস্তৃতির ব্যাপারে মন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ থাকেন।[৪৩]

উত্তর কোরিয়া[সম্পাদনা]

সর্বাধিনায়কের পতাকা

উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে রাষ্ট্রপ্রধান কে হবে এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বর্ণণা দেওয়া নেই।

তবে উত্তর কোরিয়ার সংবিধানের ১০২ নং ধারা তে বর্ণিত, জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার এবং রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীকে তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন। 



সুইডেন[সম্পাদনা]

সুইডেনের রাজা কার্ল-১৬ গুস্তাফ বর্তমানে সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নন, যদিও তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মান লাভ করেন

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত সুইডিশ সরকার সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী; এবং সর্বাধিনায়কের সম পদমর্যাদার, যদিও লিখিতভাবে এই পদ দেওয়া হয়নি।[৪৪] 

তবে বর্তমান রাজা কার্ল ১৬ গুস্তাফ এখনও সুইডিশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর চার তারকা সম্বলিত জেনারেল ও এডমিরাল এবং অলিখিত বিধানে সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রতিনিধি।[৪৫]

সুইজারল্যান্ড[সম্পাদনা]

যুদ্ধবিগ্রহকালীন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী পরিচালিত হয়, যিনি প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং ফেডারেল কাউন্সিলে প্রতিবেদন পেশ করেন।

সংবিধানের ১৬৮ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, যুদ্ধ ঘোষণা বা জরুরি অবস্থার সময় ফেডারেল এসেম্বলি যুদ্ধকালীন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য একজন জেনারেলকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিবেন। এই জেনারেল সর্বোচ্চ ক্ষমতাবলে সামরিক বাহিনীর উপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব করতে পারবে। কিন্তু সে ফেডারেল কাউন্সিলের অধীনস্থ থাকবে (অনুচ্ছেদ ৫৮,৬০,১৭৪,১৭৭,১৮০ ও ১৮৫ দ্রষ্টব্য)। [৪৬]

সুইস ইতিহাসে চারজন জেনারেলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল- সুইস গৃহযুদ্ধের সময় জেনারেল হেনরি ডাফোর, ফ্রাংকো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের সময় জেনারেল হানস হারজুগ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জেনারেল উলরিক উইলি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জেনারেল হেনরি গুসান।



References[সম্পাদনা]

  1. For example: "Ordered, That this House joins and agrees with the House of Commons in this Vote; and that the Lord Admiral is hereby desired, from both Houses of Parliament, that the Commander in Chief of this Summer's Fleet under his Lordship, may be the Earl of Warwicke."
  2. Dupuy, Trevor N., Curt Johnson, and Grace P. Hayes.
  3. "CONSTITUTION OF THE ARGENTINE NATION"Argentine Senate। সংগৃহীত ২০১৪-০১-২১ 
  4. "Ministerio de Defensa" (Spanish ভাষায়)। সংগৃহীত ২০১৪-০১-২১ 
  5. Bundes-Verfassungsgesetz (B-VG).
  6. Bangladesh : General M.A.G. Osmani (1918-1984) - C-IN-C Liberation Forces 1v MNH 1986
  7. Constitution of the Federative Republic of Brazil: 3rd Edition, Chamber of Deputies (2010) ISBN 978-85-736-5737-1.
  8. Constitution Act, 1867। III.15। Westminster: Queen's Printer। আসল থেকে ২৮ মে ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০১৪-০১-১০ 
  9. Letters Patent Constituting the Office of Governor General of Canada। X.। Ottawa: King's Printer for Canada। ১ অক্টোবর ১৯৪৭। সংগৃহীত ২০১৪-০১-১০ 
  10. "Constitution"Government of the People's Republic of China। সংগৃহীত ২০১৪-০১-২১ 
  11. "LOV nr 122 af 27/02/2001 om forsvarets formål, opgaver og organisation m.v." (Danish ভাষায়)। সংগৃহীত ২০১৪-০১-১০ 
  12. "Facts and Figures"Danish Defence। সংগৃহীত ২০১৪-০১-১০ 
  13. "Constitucion de la República Dominicana" (Spanish ভাষায়)। World Intellectual Property Organisation। সংগৃহীত ২০১৪-০১-২১ 
  14. Laki puolustusvoimista (551/2007).
  15. Constitution of 4 October 1958, National Assembly of France.
  16. "GAF and Police pledge full commitment to their new C-in-C"Gaf.mil.gh। Ghana Armed Forces। ২৬ জুলাই ২০১২। সংগৃহীত ২০১৪-০৫-০৮ 
  17. "Continue to position Ghana and GAF high globally, -C-in-C"Gaf.mil.gh। Ghana Armed Forces। ১৫ আগস্ট ২০১২। সংগৃহীত ২০১৪-০৫-০৮ 
  18. "Official President.ie site - Roles of the President"। Áras an Uachtaráin। সংগৃহীত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  19. "Statute Book - Defence Act, 1954"। সংগৃহীত ১ মে ২০১৫। "Under the direction of the President, and subject to the provisions of this Act, the military command of, and all executive and administrative powers in relation to, the Defence Forces, including the power to delegate command and authority, shall be exercisable by the Government and, subject to such exceptions and limitations as the Government may from time to time determine, through and by the Minister." 
  20. Constitution of Italy
  21. https://www.kenyaembassy.com/pdfs/The%20Constitution%20of%20Kenya.pdf
  22. "The Constitution"National Assembly of Mauritius। সংগৃহীত ২০১৫-০৬-৩০ 
  23. "THE 1987 CONSTITUTION OF THE REPUBLIC OF THE PHILIPPINES – ARTICLE VII"Official Gazette। সংগৃহীত ২০১৪-০১-২১ 
  24. Mikhail Tsypkin (সেপ্টেম্বর ২০০৪)। "Adventures of the "Nuclear Briefcase""Strategic Insights 3 (9)। আসল থেকে ২০০৪-০৯-২৩-এ আর্কাইভ করা। 
  25. "The Constitution of the Russian Federation"Presidential Administration of Russia। সংগৃহীত ২০১৪-০১-১০ 
  26. "Commander-in-Chief of the Armed Forces"Presidential Administration of Russia। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১০ 
  27. "President of Serbia"। Presidential Administration of Serbia। সংগৃহীত ২০১৬-০৯-০৬ 
  28. http://www.schq.mi.th/EN/vision_mission.htm
  29. Queen and Armed Forces, royal.gov.uk.
  30. The Royal Prerogative SN/PC/03861, House of Commons of the United Kingdom.
  31. Governance of Britain, July 2007.
  32. Review of the Royal Prerogative Powers: Final Report, Ministry of Justice, October 2009.
  33. Joseph G. Dawson, ed.
  34. Matthew Moten, Presidents and Their Generals: An American History of Command in War (2014)
  35. Andrew J. Polsky, Elusive Victories: The American Presidency at War (Oxford University Press, 2012) online review
  36. James M. McPherson, Tried by War: Abraham Lincoln As Commander in Chief (2009)
  37. Eric Larrabee, Commander in Chief: Franklin Delano Roosevelt, His Lieutenants, and Their War (2004)
  38. "CINC" Is Sunk, American Forces Press Service, 25 October 2002.
  39. "Constitution of Ethiopia"House of Federation। সংগৃহীত ২০১৪-০১-২১ 
  40. Basic Law of Israel: The Military, Knesset.
  41. "The Constitution of the Kingdom of the Netherlands 2008"Government of the Netherlands। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১০ 
  42. "Organisation chart"Ministry of Defence। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১০ 
  43. "The Instrument of Government"। The Riksdag। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১০ 
  44. Duties of the Monarch, Royal Court of Sweden.
  45. Federal Constitution of the Swiss Confederation (English translation) (as of March 2012), The Federal Authorities of the Swiss Confederation.