আলী আহমেদ খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আলী আহমেদ খান
আলী আহমেদ খান বীর প্রতীক.jpg
মৃত্যু১৮ মার্চ, ২০০৩
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর প্রতীক

আলী আহমেদ খান (জন্ম: ১৯৫১ - মৃত্যু: ১৮ মার্চ, ২০০৩) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

আলী আহমেদ খানের জন্ম ১৯৫১ সালে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারুইখালী গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মুসলেম আলী খান এবং মায়ের নাম আছিয়া বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম রেহেনা বেগম। এ দম্পতির চার ছেলে।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে চাকরি করতেন আলী আহমেদ খান। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকে ছুটিতে ছিলেন তিনি। ২৬ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বরিশালের পতন হলে স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা কুড়িয়ানায় সমবেত হন। তখন আলী আহমেদ খান তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। কুড়িয়ানার পর গাবাতে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর, বেণীলাল দাসগুপ্তসহ আরও কয়েকজন। আলী আহমেদ খান বানারীপাড়া যুদ্ধের আগে ঝালকাঠি সদর উপজেলা, বাবুগঞ্জ উপজেলা, মুলাদী উপজেলা, বাকেরগঞ্জ ও পাতারহাটে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের অবস্থানে কয়েকবার আক্রমণ করেন। বানারীপাড়ার অবস্থান বরিশাল জেলার পশ্চিম প্রান্তে, পিরোজপুর জেলার সীমান্তে। বানারীপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধারা সর্বশেষ আক্রমণ করেন নভেম্বরের শেষে। এই আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমেদ খানও অংশ নেন। বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান ছিল, আর থানায় ছিল মূলত রাজাকার ও পুলিশ। প্রায় এক কোম্পানি রাজাকার সেখানে ছিল। সর্বশেষ আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল সম্মিলিতভাবে বানারীপাড়ার পাকিস্তানি অবস্থানে এবং থানায় একযোগে আক্রমণ করে। আলী আহমেদ থানা আক্রমণে অংশ নেন। এখানে কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধে আলী আহমেদ খান যথেষ্ট সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। তিনি পুকুর সাঁতরে থানা চত্বরে ঢুকে সেখানে সফল গ্রেনেড হামলা চালান। এ সময় রাজাকারদের ছোড়া গুলি তাঁর পায়ের গোড়ালিতে বিদ্ধ হয়। একজন সহযোদ্ধা তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। তুমুল যুদ্ধের পর সেদিন বানারীপাড়া মুক্ত হয়। কয়েকজন রাজাকার ও থানার পুলিশ আত্মসমর্পণ করে। বাকি রাজাকাররা পালিয়ে যায়। সন্ধ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারাও সেদিন পালিয়ে যায়। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না", দৈনিক প্রথম আলো, তারিখ: ০১-০৫-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ৩৮৯। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ১৭৬। আইএসবিএন 9789843338884 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]