মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া
মো. ইদ্রিস মিয়া বীর প্রতীক.jpg
মৃত্যু১৯৯০
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ১৯৯০) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মো. ইদ্রিস মিয়ার জন্ম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জের বড়খাপন গ্রামে। তার বাবার নাম মো. হোসেন মিয়া এবং মায়ের নাম সুনাতন নেছা। তার দুই স্ত্রী। তাঁদের পাঁচ ছেলে ১১ মেয়ে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন মো. ইদ্রিস মিয়া। ১৯৭১ সালে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল কুমিল্লা সেনানিবাসে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে এই রেজিমেন্টের দুটি কোম্পানিকে সম্ভাব্য ভারতীয় আক্রমণের কথা বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১ মার্চ থেকে ‘সি’ (চার্লি) ও ‘ডি’ (ডেলটা) কোম্পানি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিল। সি কোম্পানির অধিনায়ক ছিলেন শাফায়াত জামিল (বীর বিক্রম)। মার্চের মাঝামাঝি তাকে সিলেট পাঠানো হলে মো. ইদ্রিস মিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল খিজির হায়াতের (পাকিস্তানি) ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন। ২৭ মার্চ শাফায়াত জামিনের নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সি ও ডি কোম্পানি বিদ্রোহ করে। এই বিদ্রোহে মো. ইদ্রিস মিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিদ্রোহের পর প্রতিরোধ যুদ্ধ শেষে মো. ইদ্রিস মিয়া মূল দলের সঙ্গে ভারতে যান। ভারতে তিনি চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টারে নানা ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। পরে নিয়মিত মুক্তিবাহিনী পুনর্গঠিত হলে তাকে ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৩-১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত কুমিরায় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর কে ফোর্সের একাংশ ফেনী মুক্ত করার পর মিত্রবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে অভিযান শুরু করে। ১৩ ডিসেম্বর তারা চট্টগ্রামের কুমিরায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্তিশালী একটি দলের মুখোমুখি হন। কুমিরায় চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে একটি গভীর খালের ওপরের সেতু ধ্বংস করে পাকিস্তানিরা সেতুর দক্ষিণে রাস্তার দুই পাশে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ডিফেন্স তৈরি করে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ দল সমুদ্রসৈকত ধরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন চট্টগ্রামের দিকে। মুক্তিবাহিনীর দলে ছিলেন মো. ইদ্রিস মিয়া। সামনে কুমিরায় ছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত একটি অবস্থান। তারা পাকিস্তানি ওই অবস্থান পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। কারণ তাঁদের দ্রুত চট্টগ্রামে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু তা সম্ভব হলো না। সেখানে শুরু হলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। আর্টিলারির নির্ভুল গোলাবর্ষণেও পাকিস্তানিদের টলানো গেল না। এরপর নতুন রণকৌশলে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ শুরু করলেন। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হলেন। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর পাকিস্তানিরা পশ্চাদপসরণ করল। রাত তিনটায় গোটা এলাকা মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর দখলে চলে এল। তখন চট্টগ্রাম আর মাত্র ১৪-১৫ মাইল দূরে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানিদের আক্রমণ করার পর সেখানে ২০ ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাত তিনটায় কুমিরা মুক্ত হয়। এই যুদ্ধে পাকিস্তানিদের বিপুল ক্ষতি হয়। তারা নিহতদের লাশ ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ:২৮-১০-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ১৪০। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ১৭১। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]