আবদুল খালেক (বীর প্রতীক)
আবদুল খালেক | |
|---|---|
| জন্ম | মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা |
| মৃত্যু | ১৯৯৭ কুমিল্লা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| নাগরিকত্ব | |
| পরিচিতির কারণ | বীর প্রতীক |
আবদুল খালেক (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ১৯৯৭) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা]আবদুল খালেকের জন্ম কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের পূর্ব বাতাবাড়িয়া গ্রামে। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তার বাবার নাম আমিনউদ্দিন ভূইয়া এবং মায়ের নাম নূরজাহান বিবি। তার স্ত্রীর নাম আছিয়া খাতুন।[২]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]পাকিস্তান ইউনাইটেড ব্যাংকে চাকরি করতেন আবদুল খালেক। ১৯৭১ সালে ওই ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিজ এলাকায় এসে যোগ দেন যুদ্ধে। পরে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানিতে। আহত হওয়ার আগে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন কসবা, মন্দভাগ, কইখোলা, নয়নপুরসহ আরও কয়েকটি স্থানে।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
[সম্পাদনা]ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার অন্তর্গত সালদা নদী। সীমান্তবর্তী এলাকা। ঢাকা থেকে সালদা রেলস্টেশন দিয়ে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ। এ কারণে ১৯৭১ সালে সালদা নদী ও সালদা রেলস্টেশন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। বিভিন্ন স্থানে ছিল তাদের প্রতিরক্ষা অবস্থান। মুক্তিবাহিনীর ২ নম্বর সেক্টরের সালদা নদী সাব-সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়ই পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা অবস্থানে আক্রমণ করতেন। সেখানে যুদ্ধ ছিল তখন নিয়মিত ঘটনা। সালদা নদীর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানের খুব কাছাকাছিই ছিল মুক্তিবাহিনীর গোপন অগ্রবর্তী স্ট্যান্ডিং পেট্রল পার্টি। কয়েকজনের এই দলের সদস্য ছিলেন আবদুল খালেক। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎপরতা লক্ষ করতেন। মাঝেমধ্যে গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে এসে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে আবার চলে যেতেন তাদের গোপন অবস্থানে। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষ থেকে এভাবে তারা বেশ কয়েকটি সফল অপারেশন চালান। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় তাদের খোঁজ পেয়ে যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর একদল পাকিস্তানি সেনা তিন দিক থেকে তাদের আকস্মিকভাবে আক্রমণ করে। তখন শুরু হয় যুদ্ধ। সেদিন সামগ্রিক পরিস্থিতি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুকূলে ছিল না। তার পরও মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণে যুদ্ধ করতে থাকেন। আবদুল খালেক ও তার সহযোদ্ধারা সীমিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়েই সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রাভিযান প্রতিহত করেন। তারপর যুদ্ধ চলতে থাকে। এক সময় গুলি এসে লাগে আবদুল খালেকের মাথায় ও বুকে। কয়েকটি শেলের টুকরোও লাগে তার পায়ে। গুরুতর আহত হয়ে ঢলে পড়েন মাটিতে। পরে কাছাকাছি থাকা এক সহযোদ্ধা তাকে নিয়ে যান পেছনে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ভর্তি করা হয় আগরতলার এক হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দেশ স্বাধীন হয়। [৩]
পুরস্কার ও সম্মাননা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না"। দৈনিক প্রথম আলো। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১। ২৯ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃ. ৪৭৭। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৩৩৫১৪৪৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - ↑ একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (দ্বিতীয় খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃ. ১৬২। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯০২৫৩৭৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক)