আবদুর রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আবদুর রহমান
আবদুর রহমান বীর প্রতীক.jpg
মৃত্যু১৯৮৯
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

আবদুর রহমান (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ১৯৮৯) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

আবদুর রহমানের জন্ম বরিশাল জেলার সদর উপজেলার চিওটা গ্রামে। তার বাবার নাম আজিমউদ্দীন হাওলাদার এবং মায়ের নাম জমিলা খাতুন। তার স্ত্রীর নাম মাসুদা বেগম। তার চার ছেলে ও চার মেয়ে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

যশোর ইপিআর সেক্টর হেডকোয়ার্টারের অধীনে সীমান্ত এলাকায় ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন আবদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রতিরোধযুদ্ধে যোগ দেন। পরে ভারতে পুনর্গঠিত হওয়ার পর বয়রা সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন। চৌগাছা, হাজীপুর, সাদিপুরসহ আরও কয়েকটি স্থানে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার অন্তর্গত হিজলীর অবস্থান ছিল জেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। সেখানে বর্ডার আউট পোস্টে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি। এর মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি করত। টহলদল নিয়মিত টহল দিত। মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায়ই পাকিস্তানি টহলদলকে আক্রমণ করতেন। চৌগাছা ছিল মুক্তিবাহিনীর ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টরের অধীন এলাকা। সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নতুন দল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘেরাও করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে যুদ্ধ হয়। পরে খবর পেয়ে বয়রা সাব-সেক্টরের কমান্ডার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম) অতিরিক্ত শক্তি নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আসেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী আর্টিলারির গোলাবর্ষণ করে। এরপর পাকিস্তানি সেনারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে ১৮-১৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। মুক্তিবাহিনীর একজন আহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় নিহত পাকিস্তানি সেনাদের লাশ ভারতে নিয়ে যান।

সেদিন খুব ভোরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আবদুর রহমানসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা। তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ফাঁদ পাতলেন হিজলীতে। সকাল হলেই পাকিস্তানি সেনারা টহলে আসবে আগেই জানা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের। তখন তারা অতর্কিতে আক্রমণ করবেন, সেটাই ছিল পরিকল্পনা। গণবাহিনী ও ইপিআর মিলে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ৪২ জন। চারটি দলে বিভক্ত। একটি দলের নেতৃত্বে আবদুর রহমান। তাদের সবার নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট অলীক কুমারগুপ্ত। মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তার দিকে সতর্ক দৃষ্টি ফেলে অপেক্ষায় থাকেন। সকাল নয়টার দিকে সেখানে হাজির হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি পেট্রোল পার্টি। গুলির আওতায় আসামাত্র গর্জে উঠল মুক্তিযোদ্ধাদের সবার অস্ত্র। তিন-চারজন পাকিস্তানি সেনা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। বাকি পাকিস্তানি সেনারা দ্রুত পজিশন নিয়ে শুরু করল পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড আক্রমণে বেশির ভাগই হতাহত হলো। এ সময় গোলাগুলির শব্দ পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঘাঁটি থেকে দ্রুত হাজির হলো নতুন আরেক দল পাকিস্তানি সেনা। সংখ্যায় তারা ছিল অনেক। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলল। এতে মুক্তিযোদ্ধারা বেশ বিপদেই পড়লেন। তবে আবদুর রহমান মনোবল ও সাহস হারালেন না। তিনি অত্যন্ত সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে পাকিস্তানিদের মোকাবিলা করতে থাকলেন। তার অসাধারণ রণনৈপুণ্যে পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রাভিযান থেমে যায়। এতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান।[৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ০8-১০-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ১৪০। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ১৭১। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]