শামসুদ্দিন আহমেদ
মৌলভী শামসুদ্দিন আহমেদ | |
|---|---|
![]() | |
| ১ম বার্মায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত | |
| কাজের মেয়াদ জানুয়ারি ১৯৪৮ – মে ১৯৪৮ | |
| গভর্নর জেনারেল | মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ |
| পূর্বসূরী | পদ সৃষ্ট |
| উত্তরসূরী | মোহাম্মদ আলী বগুড়া |
| বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ২৪ এপ্রিল ১৯৪৬ – ১৩ আগস্ট ১৯৪৭ | |
| প্রধানমন্ত্রী | হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী |
| গভর্নর | ফ্রেডেরিক বারোজ |
| দপ্তর | বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প |
| পূর্বসূরী | খাজা শাহাবুদ্দিন |
| উত্তরসূরী | পদ বিলুপ্ত |
| কাজের মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর ১৯৪১ – ২৮ এপ্রিল ১৯৪৩ | |
| প্রধানমন্ত্রী | এ কে ফজলুল হক |
| গভর্নর | জন আর্থার হার্বার্ট |
| দপ্তর | যোগাযোগ ও পূর্ত |
| পূর্বসূরী | শ্রীশচন্দ্র নন্দী |
| উত্তরসূরী | বরদা প্রসন্ন পাইন |
| কাজের মেয়াদ ১ এপ্রিল ১৯৩৭ – ১১ ডিসেম্বর ১৯৪১ | |
| প্রধানমন্ত্রী | এ কে ফজলুল হক |
| গভর্নর | মাইকেল ন্যাচবুল জন আর্থার হার্বার্ট |
| দপ্তর | বাণিজ্য ও শিল্প |
| পূর্বসূরী | পদ সৃষ্ট |
| উত্তরসূরী | হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৮৮৯ নদীয়া জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ৩১ অক্টোবর ১৯৬৯ (বয়স ৭৯–৮০) চট্টগ্রাম, পূর্ব পাকিস্তান, পাকিস্তান |
| সমাধিস্থল | সুলতানপুর, কুষ্টিয়া জেলা, বাংলাদেশ |
| রাজনৈতিক দল | পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল |
| অন্যান্য রাজনৈতিক দল |
|
| শিক্ষা |
|
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | আইনজীবী |
শামসুদ্দিন আহমেদ (১৮৮৯–১৯৬৯) কৃষক প্রজা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ব্রিটিশ শাসিত ভারত ও স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী বাংলাদেশের আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]শামসুদ্দিন আহমেদ ১৮৮৯ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার কুমারখালী থানার সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯১০ সালে হুগলী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক লাভ করেন। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার ৬ বছর পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং আইনবিদ্যায় স্নাতক অর্জন করেন।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]তিনি ১৯১৭ সাল থেকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। তার দুই বছর পর তিনি ১৯১৯ সাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টে কাজ করতে শুরু করেন, সেই সময় তিনি চিত্তরঞ্জন দাশের সহকারী ছিলেন। ১৯২১ সাল থেকে চার বছর পর্যন্ত তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯২৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে জিতে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ১৯২৯ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতিতে যোগ দিয়ে দলটির যুগ্ম-সম্পাদক হন। ১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের কমিশনার নির্বাচিত হয় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন।[১] ১৯৩৭ সালে তিনি বঙ্গীয় আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে কৃষক প্রজা পার্টির আইনসভা সদস্য হয়েছিলেন[১] এবং প্রথম হক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হয়েছিলেন।[২] তিনি ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় হক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে যোগাযোগ ও পূর্তমন্ত্রী হয়েছিলেন[২] এবং ১৯৪৪ সালে কৃষক প্রজা পার্টি ছেলে নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগদান করেন। ১৯৪৬ সালে তাকে সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়[১] এবং তখন তিনি বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।[৩] ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর পাকিস্তান সরকার তাকে বার্মায় নবগঠিত রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করে পাঠায়।[১] পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দলের পূর্ব পাকিস্তান শাখার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হয়েছিলেন এবং এর চেয়ারম্যান ছিলেন।[৪][৫] স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন।[৬]
পরিবার, কিংবদন্তি ও মৃত্যু
[সম্পাদনা]জনহিতৈষী ও সক্রিয়কর্মী মৌলভী আফসার উদ্দিন তার বড় ভাই ছিলেন।[৭] ১৯৪৬ তিনি কুষ্টিয়া কলেজ ও কুষ্টিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।[২] শামসুদ্দিন আহমেদ ৩১ অক্টোবর ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে তার জামাতা ভাসানী ন্যাপের রাজনীতিবিদ বজলুস সাত্তারের বাসভবনে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করেন।[৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 রাণা রাজ্জাক (২০১২)। "আহমেদ, শামসুদ্দীন২"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 3 "অবিভক্ত বাংলার প্রথম মন্ত্রী মৌলভী শামসুদ্দিন আহমেদের ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি"। দিগন্তধারা নিউজ। ১ নভেম্বর ২০২৪। ২ জুন ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Bengal Legislative Assembly Proceedings on Partition of Bengal (The 20th June 1947)" [বঙ্গভঙ্গের উপর বঙ্গীয় আইনসভার কার্যবিবরণী (২০শে জুন ১৯৪৭)] (নথি) (ইংরেজি ভাষায়)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। ২০০২ [১৯৪৭]। পৃ. VII।
{{cite document}}: অজানা প্যারামিটার|issue=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|volume=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - 1 2 "বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ শামসুদ্দিন আহমদের এন্তেকাল"। দৈনিক আজাদ। ১ নভেম্বর ১৯৬৯। পৃ. ১, ৮।
- ↑ "সমাজতন্ত্রী দলের পুনরুজ্জীবন: চেয়ারম্যান কর্ত্তৃক জাতীয় চরিত্র গঠনের আহ্বান"। দৈনিক আজাদ। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬২। পৃ. ৫।
- ↑ বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান। ঢাকা: বাংলা একাডেমি। ২০১১ [১৯৮৫]। পৃ. ৫১০। আইএসবিএন ৯৮৪০৭৫১৩৮৭।
- ↑ হোসেন, মোহাম্মদ আমজাদ (৭ এপ্রিল ২০২২)। "কুমারখালী, শুধু একটি নাম নয়"। মানবজমিন। ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ১৮৮৯-এ জন্ম
- ১৯৬৯-এ মৃত্যু
- পাকিস্তানি সমাজতন্ত্রী
- কুষ্টিয়া জেলার আইনজীবী
- মিয়ানমারে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত
- পূর্ববঙ্গ আইনসভার সদস্য ১৯৪৭-১৯৫৪
- বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ১৯৪৬-১৯৪৭
- বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ১৯৩৭-১৯৪৫
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ
- কৃষক শ্রমিক পার্টির রাজনীতিবিদ
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ
- বাঙালি মুসলিম
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- হুগলী কলেজিয়েট স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- কুমারখালী উপজেলার ব্যক্তি
- কুষ্টিয়া জেলার রাজনীতিবিদ
