মির্জাপুর ইউনিয়ন, রায়পুরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মির্জাপুর ইউনিয়ন বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন।[১] মির্জাপুর ইউনিয়ন আনুমানিক ১৯৭৩ সালে গঠিত হয় এবং প্রথম অবস্থায় এটি রাধানগর ইউনিয়নের আওতাধীন ছিল। পরে এটিকে ভেঙ্গে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ করা হয়। কালের পরিক্রমায় এই ইউনিয়ন এখন শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলায় অনেক এগিয়ে।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই ইউনিয়ন নরসিংদী জেলা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত। এর আয়তন ৫.১৫৬ বর্গমাইল / ৮.৩ বর্গকিমি। এ ইউনিয়নের উত্তরে বেলাব উপজেলার সাল্লাবাদ ইউনিয়ন, দক্ষিণে মুছাপুর ইউনিয়ন, পূর্বে মহেশপুর এবং পশ্চিমে রাধানগর ইউনিয়ন অবস্থিত।

প্রশাসনিক বিন্যাস[সম্পাদনা]

এই ইউনিয়নটি ৯টি ওয়ার্ড, ৭টি মোজা, ০৯ টি গ্রাম (মাহমুদাবাদ, পূবেরচর, কুকুরমারা, মির্জাপুর, মেরাতলী, সাধুনগর, আনরাবাদ, পিরিজকান্দি, পীরপুর) ও ১টি গুচ্ছ গ্রাম নিয়ে গঠিত। স্থানীয় সরকারের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে জনগনের প্রত্যেক্ষ্য ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান ও প্রতিটি ওয়ার্ডে ০১ জন করে মেম্বার ও মহিলা মেম্বার রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ অফিস ৭নং ওয়ার্ড এর পিরিজকান্দি গ্রামে অবস্থিত।

ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিনিধিবৃন্দ
ক্রমিক নাম নিয়োগ মোবাইল নাম্বার
জনাব মো:আসাদুল্লাহ ভূইয়া চেয়ারম্যান
ওয়ার্ড নং নাম নিয়োগ মোবাইল নাম্বার
মোঃ উজ্জল মিয়া মেম্বার ০১৭২০৯৫৯৮১৬
বকুল ভূইয়া মেম্বার ০১৭৪০৬৩৩১২৩
১,২,৩
৪,৫,৬
৭,৮,৯

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এই ইউনিয়ন এর মোট জনসংখ্যা ২৩,৭৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ= ১২,৩৩৭ জন, মহিলা= ১১,৩৩৯ জন, পরিবার= ৫,৮০২টি, গুচ্ছ গ্রামের পরিবার= ৩০টি।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

এই ইউনিয়নে শিক্ষার হার- ৬৮%।

  • বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়- ২টি (পিরিজকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাহমুদাবাদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু উচ্চ বিদ্যালয়)
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ৮টি
  • মাদ্রাসা- ২টি
  • এতিম খানা- ২টি
  • মসজিদ- ৩০টি

এই ইউনিয়নে ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৯২৪ সালে পিরিজকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় নির্মিত হয়।

চিকিৎসা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরষদের হাসপাতালটি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পিরিজকান্দি বাজার সংলগ্ন পিরিজকান্দি গ্রামে অবস্থিত। জনসাধারণকে প্রাথমিক ও সুচিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে এই ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।  এখানে সরকারীভাবে ইউনিয়নের সকল বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের টিকা, পোলিও টিকা ও ভিটামিন ক্যাপসুল প্রদান করা হয়ে থাকে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

অত্র ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা খু্বই ভাল। সমগ্র ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ রাস্তা-ঘাটই পাকা। এছাড়া অত্র ইউনিয়নের নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ড হতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, বি. বাড়িয়া, সিলেটসহ সমগ্র জেলাসমূহের সাথে সড়কপথে যোগাযোগ করা যায়।

কৃষি[সম্পাদনা]

এখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষক।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বর্তমান সময়ে কৃষি কাজের পাশাপাশি মৎস্য চাষ এখানকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি সমিল রয়েছে।এই ইউনিয়নে হাঠবাজার এর সংখ্যা ৫টি। এই ইউনিয়নের ৯ং ওয়ার্ড এর পীরপুর গ্রামের ধানু বাড়ীতে এখনো তাঁত শিল্প রয়েছে।আরো রয়েছে বাঁশ দ্বারা তৈরি সামগ্রীর শিল্প, লৌহ শিল্প, মৃৎ শিল্প, সূচী-শিল্প।[২]

খাল বিল[সম্পাদনা]

নরসিংদী জেলাধীন রায়পুরা উপজেলাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নটি একটি এতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এখানে রয়েছে অনেক পুরাতন খাল এবং বিল।

  1. দরগাহ বিল - উক্ত ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামে।
  1. পীরপুর খাল - এটার অবস্থান উক্ত ইউনিয়নের ০৯নং ওয়ার্ডের পীরপুর গ্রামে।
  1. কামালপুর বিল - এটার অবস্থান উক্ত ইউনিয়নের ০৭নং ওয়ার্ডের পিরিজকান্দি গ্রামে।
  1. কালাবিল - এটার অবস্থান উক্ত ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।

প্রখ্যাত ব্যক্তি[সম্পাদনা]

১) ড. মোহাম্মদ সাদেক,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভাইস চ্যান্সেলর,এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ।

২) মওলানা মোহাম্মদ আব্দুল খালেক , বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ  ।

৩) মাহবুবুর রহমান,বিশিষ্ট কম্পিউটার পোগ্রামার ও লেখক  ।

ঐতিহাসিক স্থাপনা[সম্পাদনা]

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ নামক গ্রামের মিস্ত্রিবাড়ীতে রয়েছে ব্রিটিশ শাসনামলের নীল চাষের চিহ্ন। চীল চাষের জন্য ইংরেজ বণিকরা এখানে কুঠি স্থাপন করেছিল। সেই কুঠির নাম থেকেই এই স্থানের নাম নীলকুঠি রাখা হয়েছে। নীল তৈরী করার জন্য ব্যবহৃত চুলার একটি চিমনী এখনও ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে বিরাজমান রয়েছে। চিমনীটি উচ্চতায় আনুমানিক ৭৫ ফুট ও প্রস্থে প্রায় ১৫ ফুট।  

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে মির্জাপুর"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "রায়পুরা উপজেলা"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৬