তরমুজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

তরমুজ
Watermelon
Citrullus lanatus
Taiwan 2009 Tainan City Organic Farm Watermelon FRD 7962.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): সপুষ্পক উদ্ভিদ
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Rosids
বর্গ: Cucurbitales
পরিবার: Cucurbitaceae
গণ: Citrullus
প্রজাতি: C. lanatus
দ্বিপদী নাম
Citrullus lanatus
(কার্ল পিটার থুনবার্গ.) Matsum. & Nakai
2005watermelon.PNG
২০০৫ সালে তরমুজ উৎপাদন

তরমুজ (ইংরেজি: Watermelon) (Citrullus lanatus (কার্ল পিটার থুনবার্গ) একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল। ঠান্ডা তরমুজ গ্রীষ্মকালে বেশ জনপ্রিয়। এতে প্রচুর পরিমাণ জল থাকে। এই ফলে ৬% চিনি এবং ৯২% জল এবং অন্যান্য উপাদান ২%। এটি ভিটামিন এ জাতীয় ফল

প্রত্নতাত্ত্বিক এবং প্যালেওবোটানিস্টদের মতে, তরমুজের সাংস্কৃতিক বিভিন্ন জাতীয় সিট্রুলাস প্রজাতির ক্ষুদ্র বুনো প্রতিনিধিদের সাথে প্রচলিত শেকড় রয়েছে, যা এখনও দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক এবং জাম্বিয়া, নামিবিয়া এবং বোটসওয়ানা প্রান্তরে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই দেশগুলিতেই তরমুজগুলির জিনগত রূপগুলির সর্বাধিক সংখ্যক প্রকাশিত হয়েছিল, এতে তিক্ত, তাজা এবং সামান্য মিষ্টি মাংসযুক্ত ফল পাওয়া যায়।

তারপরেই তরমুজের ইতিহাস শুরু হয়েছিল, খাদ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃতি হিসাবে। যদি উচ্চ গ্লাইকোসাইড উপাদানযুক্ত তিক্ত উদ্ভিদগুলি যদি বিনা বাধে ফেলে রাখা হয় তবে 4,000 বছর আগে আরও ভোজ্য প্রজাতি আফ্রিকার উত্তরে এসেছিল এবং নীল উপত্যকায় বসবাসকারী লোকদের আগ্রহী ছিল। এখান থেকে সংস্কৃতি, যেমন তরমুজের ইতিহাস বলেছে, ভূমধ্যসাগর, মধ্য প্রাচ্য এবং এর বাইরেও ভারত এবং চীন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।পশ্চিম আফ্রিকা, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাকি মিসর—কোনটি তরমুজের জন্মভূমি, সেটি নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বাংলা যে দেশের দ্বিতীয় অফিশিয়াল ভাষা সেটি সিয়েরালিওন। এই সিয়েরালিওন আফ্রিকার যে অঞ্চলে অবস্থিত সেই পশ্চিম আফ্রিকা তরমুজের জন্মভূমি হিসেবে বিখ্যাত—এ রকম একটি জনপ্রিয় মত চালু আছে।

তবে নাইজেরিয়া, নাইজার, সেনেগাল, আইভরি কোস্টসহ পশ্চিম আফ্রিকার ১৭টি দেশের কোনটি তরমুজের আদিভূমি, তা বলা মুশকিল। কিন্তু ইসরায়েলের গবেষক হ্যারি প্যারিস অনুমান করেছেন, প্রাচীন মিসরও তরমুজের আদিভূমি হতে পারে। প্রাচীন মিসরীয়দের তরমুজ চাষের ছবি দেখে তিনি বলতে চেয়েছেন, মিসরীয়দের কৃষির ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো এবং এটি পশ্চিম আফ্রিকার কৃষির চেয়েও প্রাচীন। প্রাচীন মিসরের দ্বাদশ রাজবংশের রাজা আমেনমহাট–১–এর শাসন আমলে ১৯৯১-১৯৬২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তরমুজের দেখা পাওয়া যায়। এ ছাড়া তুতেনখামেনের সমাধিমন্দিরের গায়ে যে চিত্র রয়েছে, সেখানেও তরমুজের চিত্র দেখা যায়। প্যারিস জানান, উত্তর আফ্রিকার স্থানীয় ‘গুরুম’ (Citrullus lanatus var. citroides) আধুনিক তরমুজের পূর্বপুরুষ।

তথ্যসূত্রঃwww.prothomalo.com এবং

bn.crushingplants.info/

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তরমুজের গুনাগুণ[সম্পাদনা]

তরমুজ শাঁসের পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি১২৭ কিজু (৩০ kcal)
7.55 g
চিনি6.2 g
খাদ্যে ফাইবার0.4 g
0.15 g
0.61 g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন এ সমতুল্য
(4%)
28 μg
(3%)
303 μg
থায়ামিন (বি)
(3%)
0.033 mg
রিবোফ্লাভিন (বি)
(2%)
0.021 mg
ন্যায়েসেন (বি)
(1%)
0.178 mg
(4%)
0.221 mg
ভিটামিন বি
(3%)
0.045 mg
কোলিন
(1%)
4.1 mg
ভিটামিন সি
(10%)
8.1 mg
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম
(1%)
7 mg
লোহা
(2%)
0.24 mg
ম্যাগনেসিয়াম
(3%)
10 mg
ম্যাঙ্গানিজ
(2%)
0.038 mg
ফসফরাস
(2%)
11 mg
পটাশিয়াম
(2%)
112 mg
সোডিয়াম
(0%)
1 mg
দস্তা
(1%)
0.1 mg
অন্যান্য উপাদানসমূহ
পানি91.45 g
Lycopene4532 µg

Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

শীর্ষ পাঁচটি তরমুজ উৎপাদনকারী (২০১২, টন)
 গণচীন ৭০,০০০,০০০
 তুরস্ক ৪,০৪৪,১৮৪
 ইরান ৩,৮০০,০০০
 ব্রাজিল ২,০৭৯,৫৪৭
 মিশর ১,৮৭৪,৭১০
 ভারত ৯৫,২১১,৪৩২
উৎস: UN FAOSTAT [২]
বীজহীন তরমুজ

পুষ্টিবিধান[সম্পাদনা]

তরমুজে খুব সামান্য ক্যালরি আছে। তাই তরমুজ খেলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি। শরীরে পানির অভাব পূরণে ফলের মধ্যে তরমুজই হলো আদর্শ ফল। তরমুজে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ। মওসুমি এই ফলটির রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি৬’-এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিষ্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে। এই ফলটি নিয়মিত খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে না। তরমুজের আরো একটি গুণ হলো এটি চোখ ভালো রাখতে কাজ করে। তরমুজে ক্যারোটিনয়েড থাকায় এ ফলটি চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। একইসঙ্গে চোখের নানা সমস্যার প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে তরমুজ। চিকিৎসকেরা বলেন, ক্যারোটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পানি এবং কম ক্যালরি থাকায় পেট পুরে তরমুজ খেলেও ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজে থাকা উচ্চ পরিমাণে সিট্রুলিন মানব দেহের ধমনির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে এবং রক্তচাপ কমিয়ে দেয়।

বৈচিত্র্য[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

গ্যালারী[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আঃ খালেক মোল্লা সম্পাদিত;লোকমান হেকিমের কবিরাজী চিকিৎসা; আক্টোবর ২০০৯; পৃষ্ঠা- ২০৬
  2. "Statistics from: Food And Agricultural Organization of United Nations: Economic And Social Department: The Statistical Division"। UN Food and Agriculture Organization Corporate Statistical Database 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]