বব উইলিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
বব উইলিস
BobwillisatTaunton.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরবার্ট জর্জ ডিলন উইলিস
জন্ম (১৯৪৯-০৫-৩০) ৩০ মে ১৯৪৯ (বয়স ৬৯)
সান্ডারল্যান্ড, কাউন্টি ডারহাম, ইংল্যান্ড
উচ্চতা৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৯৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৪৮)
৯ জানুয়ারি ১৯৭১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১৬ জুলাই ১৯৮৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ২৬)
৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই৪ জুন ১৯৮৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৬৯-১৯৭১সারে
১৯৭০-১৯৭৭এমসিসি
১৯৭২-১৯৮৪ওয়ারউইকশায়ার
১৯৭২/৭৩নর্দান্স ট্রান্সভাল
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৯০ ৬৪ ৩০৮ ২৯৩
রানের সংখ্যা ৮৪০ ৮৩ ২,৬৯০ ৬১৫
ব্যাটিং গড় ১১.৫০ ১০.৩৭ ১৪.৩০ ৯.৪৬
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/২ ০/১
সর্বোচ্চ রান ২৮* ২৪ ৭২ ৫২*
বল করেছে ১৭,৩৫৭ ৩,৫৯৫ ৪৭,৯৯০ ১৪,৯৮৩
উইকেট ৩২৫ ৮০ ৮৯৯ ৪২১
বোলিং গড় ২৫.২০ ২৪.৬০ ২৪.৯৯ ২০.১৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৬ ৩৪
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৮/৪৩ ৪/১১ ৮/৩২ ৭/৩২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩৯/– ২২/– ১৩৪/– ৮৪/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ২৬ মে ২০১৭

রবার্ট জর্জ ডিলন উইলিস, এমবিই (ইংরেজি: BoB Willis; জন্ম: ৩০ মে, ১৯৪৯) ডারহাম কাউন্টির সান্ডারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটার। জন্মকালীন সময়ে তাঁর নাম ছিল রবার্ট জর্জ উইলিস; কিন্তু বব উইলিস নামেই তিনি বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে সমধিক পরিচিত। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম ফাস্ট বোলার উইলিস ১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ সময়কালের মধ্যে টেস্টএকদিনের ইংল্যান্ড দলের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেকবার। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ডানহাতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় দীর্ঘ দৌঁড়ের মাধ্যমে ফাস্ট বোলিং করে পরিচিত হয়ে আছেন। এছাড়াও, ঘরোয়া ক্রিকেটে সারে, ওয়ারউইকশায়ারনর্দার্ন্স ট্রান্সভালের হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইজডেন কর্তৃপক্ষ ১৯৭৮ সালে তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটাররূপে ঘোষণা করে।[১]

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বমোট উইকেট পেয়েছেন ৮৯৯টি। ব্যাটিংয়ে দূর্বল উইলিস প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইবার অর্ধ-শতক রানের কোটা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন। ২০.১৮ রান গড়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে ৪২১ উইকেট পেয়েছেন।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি ৯০ টেস্টে অংশ নিয়ে উইকেট প্রতি ২৫.২০ রান দিয়ে ৩২৫ উইকেট লাভ করেছেন। তাঁর এ সংগ্রহটি ঐ সময়ে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় বোলার ডেনিস লিলি’র পর দ্বিতীয় স্থানে ছিল।[২] বর্তমানে ইয়ান বোথামজেমস অ্যান্ডারসনের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যানটি তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে হাঁটুর ব্যথায় ভুগতে থাকেন তিনি। সেজন্য দুইবার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে তাঁকে। এরফলে অবশ্য তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের অগ্রযাত্রাকে রুখে দেয়া যায়নি। ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তিনি তাঁর নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৮/৪৩। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর এ বোলিং পরিসংখ্যান অদ্যাবধি অন্যতম সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান।[৩] বোলিংয়ে যথেষ্ট সফলকাম হলেও ব্যাটিংয়ে তেমন সফলতা পাননি তিনি। নিম্নসারির ব্যাটসম্যানরূপে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ রান তুলেছেন অপরাজিত ২৮* রান। একসময় টেস্টে সবচেয়ে বেশী অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।[৪] টেস্ট ক্রিকেটের পাশাপাশি একদিনের আন্তর্জাতিকেও সফলকাম ছিলেন তিনি। ৬৪টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়ে ৮০ উইকেট লাভ করেছেন উইলিস।

অধিনায়কত্ব[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালের জুন থেকে মার্চ, ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সাত জয়, পাঁচ পরাজয় ও ছয় টেস্ট ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়াও, ১৬টি একদিনের আন্তর্জাতিকে তাঁর দল জয় পেয়েছিল। তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত অল-রাউন্ডার ইয়ান বোথাম বলেছেন, “তুখোড় চেষ্টাকারী, সেরা সহযোদ্ধা ও একজন উদ্দীপক হিসেবে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।”[৫] আমার সময়কালে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি একমাত্র বিশ্ব সেরা ফাস্ট বোলার ছিলেন উইলিস।[৬] উইজডেনের সম্পাদকীয় কলামেও একই কথার পুণরাবৃত্তি ঘটে। টেস্ট উইকেট প্রাপ্তিতে ইংল্যান্ড সেবা করার মানসিকতা তাঁর চেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। শারীরিক ব্যথাপ্রাপ্তি স্বত্ত্বেও দেশের জন্য তাঁর বোলিংয়ের উপর আত্মবিশ্বাস হারাননি।[৭]

অবসর[সম্পাদনা]

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ১৯৮৪ সালের টেস্ট সিরিজের মধ্য দিয়ে তাঁর সফলতম টেস্ট জীবনের অবসান ঘটে। এরপর তিনি স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকাররূপে দায়িত্ব পালন করেন। ইয়ান বোথামের সাথে জুটি গড়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল থেকে দ্বিতীয় সারিতে ধারাভাষ্যকাররূপে যোগ দিয়ে আসছেন।[৮][৯] অদ্যাবধি ধারাভাষ্যকারের পাশাপাশি বই প্রকাশ করেছেন ও প্রায়শঃই তাঁকে ক্রিকেটের আধুনিক সংস্করণের তুখোড় সমালোচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায় উইলিসকে।[১০][১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bob Willis – Wisden Cricketer of the Year 1978"Wisden Almanack। CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০০৯ 
  2. Playfair Cricket Annual। Queen Anne Press। ১৯৮৫। পৃষ্ঠা 228। আইএসবিএন 0-356-10741-8 
  3. Miller, Andrew (২৯ জুলাই ২০০৯)। "Scattered stumps and hexed batsmen"। CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০০৯ 
  4. "Bob Willis – an assessment"। Wisden. CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০০৯ 
  5. Botham, p. 370.
  6. Botham, p. 376.
  7. Wisden Cricketers' Almanack। ১৯৮৫। পৃষ্ঠা 51। আইএসবিএন 0-947766-00-6 
  8. "Player Profile: Bob Willis"। CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০০৯ 
  9. "'Death seems a better option than listening to those zombies'"। CricInfo and Wisden। ১৮ আগস্ট ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০০৯ 
  10. Buckland, William (২০০৮)। Pommies: England Cricket Through An Australian Lens। Troubador Publishing Ltd। পৃষ্ঠা 179। আইএসবিএন 1-906510-32-6 
  11. Biggs, Simon (৩ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "Ex-players call for reform"Daily Telegraph। London: Telegraph.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০০৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

ওয়েবসাইটে

  • John, Emma (১ অক্টোবর ২০০৯)। "Watching the fat lady sing"। CricInfo। 
  • Kidd, Patrick (২৪ জানুয়ারি ২০০৯)। "Superstitions: Bob Willis, former cricketer"The Times। London: Times Online। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১০ 
  • "Bob Willis – Wisden Cricketer of the Year 1978"Wisden Almanack। CricInfo। 
  • "Bob Willis – an assessment"Wisden। CricInfo। ১৯৮৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০০৯ 

মুদ্রিত মাধ্যমে

  • Andrew, Keith (১৯৮৪)। The Skills of Cricket। Crowood। আইএসবিএন 0-946284-93-8 
  • Botham, Ian (১৯৯৪)। Peter Hayter, সম্পাদক। Don't tell Kath। Collins Willow। আইএসবিএন 0-00-218316-1 
  • Buckland, William (২০০৮)। Pommies: England Cricket Through an Australian Lens। Troubador Publishing Ltd.। আইএসবিএন 1-906510-32-6 
  • Cox, Richard William (২০০০)। Encyclopedia of British Sport। Wray Vamplew, Grant Jarvie। ABC-CLIO। আইএসবিএন 1-85109-344-3 
  • Hopps, David (২০০০)। A Century of Great Cricket Quotations। Robson। আইএসবিএন 1-86105-346-0 
  • Lemmon, David (১৯৯০)। The Wisden Book of Cricket Quotations। Wisden। আইএসবিএন 0-356-17650-9 
  • Willis, Bob; Lee, Alan (১৯৮৩)। The Captain's diary: England in Australia and New Zealand 1982–83। Willow। আইএসবিএন 0-00-218002-2 
  • Willis, Bob (১৯৮৪)। Fast bowling: With Bob Willis। Willos। আইএসবিএন 0-00-218022-7 
  • Willis, Bob; Murphy, Patrick (১৯৮১)। The cricket revolution: test cricket in the 1970s। Sidgwick & Jackson। আইএসবিএন 0-283-98759-6 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
কিথ ফ্লেচার
ইংরেজ ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮২-১৯৮৩/৮৪
উত্তরসূরী
ডেভিড গাওয়ার