জেমস অ্যান্ডারসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জেমস অ্যান্ডারসন
ওবিই
JIMMY ANDERSON.jpg
২০১৪ সালে অ্যান্ডারসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজেমস মাইকেল অ্যান্ডারসন
জন্ম (1982-07-30) ৩০ জুলাই ১৯৮২ (বয়স ৩৮)
বার্নলে, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামজিমি, জিম, জিমজা, সুইংয়ের রাজা, বার্নলি এক্সপ্রেস[১] ডেইজি[২]
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬১৩)
২২ মে ২০০৩ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ টেস্ট২১-২৫ আগস্ট ২০২০ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৭২)
১৫ ডিসেম্বর ২০০২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই১৩ মার্চ ২০১৫ বনাম আফগানিস্তান
ওডিআই শার্ট নং৯ (পূর্বে ৪০)
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০২-বর্তমানল্যাঙ্কাশায়ার (দল নং ৯)
২০০৭/০৮অকল্যান্ড
২০০০ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেট বোর্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৫১ ১৯৪ ২৪৮ ২৬১
রানের সংখ্যা ১১৮৫ ২৭৩ ১,৮২৬ ৩৭৬
ব্যাটিং গড় ৯.৬৩ ৭.৫৮ ৯.৬১ ৮.৯৫
১০০/৫০ ০/১ ০/০ ০/১ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৮১ ২৮ ৮১ ২৮
বল করেছে ৩৩,৭৪৫ ৯,৫৮৪ ৪৯,৯০৫ ১২,৭৩০
উইকেট ৬০০ ২৬৯ ৯৫৯ ৩৫৮
বোলিং গড় ২৬.৭৯ ২৯.২২ ২৪.৯২ ২৮.৫৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৯ ৪৮
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a -
সেরা বোলিং ৭/৪২ ৫/২৩ ৭/৪২ ৫/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯৩/– ৫৩/– ১৪৬/– ৬৮/–
উৎস: ইএসপিএন ক্রিকইনফো, ১১ মে ২০২০

জেমস মাইকেল "জিমি" অ্যান্ডারসন, ওবিই (ইংরেজি: James Michael "Jimmy" Anderson; জন্ম: ৩০ জুলাই, ১৯৮২) ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ ক্রিকেটার। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ সংখ্যক উইকেট সংগ্রাহক। তিনি প্রথম ইংরেজ বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০, ৫০০ ও ৬০০ উইকেটে সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেস্ট ক্রিকেটে ৬০০ উইকেটধারী অ্যান্ডারসন টেস্ট ক্রিকেটে পেস বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক এবং সবমিলিয়ে ৪র্থ সর্বোচ্চ সংখ্যক উইকেট সংগ্রাহক।[৩][৪]

ডানহাতি পেস বোলার অ্যান্ডারসন ২০০২/০৩ মৌসুমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খেলা শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি দেড় শতাধিক টেস্ট এবং দুইশতের কাছাকাছি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।[৫] ইনজুরির কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ২০০৬ সালের অধিকাংশ সময় তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন, কিন্তু এর পর থেকে তিনি ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের ওপেনিং বোলার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি ইংল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিয়মিত ওপেনার ছিলেন, কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে তিনি এই ঘরানার খেলায় আর অংশগ্রহণ করেননি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

জেমস অ্যান্ডারসন বার্নলির সেন্ট ম্যারিস ও সেন্ট টিওডোর্স আরসি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কিশোর বয়সে বার্নলি ক্রিকেট ক্লাবে খেলতেন। অ্যান্ডারসন শৈশবে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং ১৭ বছর বয়সে তিনি ল্যাঙ্কাশায়ার লীগের দ্রুততম বোলারদের একজন ছিলেন।[৬] এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি সবসময় সিম বল করতাম, কিন্তু ১৭ বছর বয়সে জানি না কীভাবে হঠাৎ করেই আমি ফাস্ট বোলিং শুরু করলাম।"[৭]

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে অ্যান্ডারসন

ঠিক বিশ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে তার অভিষেক ঘটে। ২০০২-০৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে ইংল্যান্ড দলে অ্যান্ডারসন অন্তর্ভুক্ত হন। একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেকের সময় তিনি পাঁচজন জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তার উজ্জ্বল উপস্থিতি তুলে ধরেন। পরের বছরের গ্রীষ্মে জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে লর্ড’স ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অভিষেক ঘটে তার। সপ্তদশ ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকেই তিনি ইনিংসে পাঁচ উইকেট লাভ করেছিলেন।[৮] আগস্ট, ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে তিনি ইংল্যান্ডের সোনার ছেলে হিসেবে আবির্ভূত হন।[৯] ঐ সিরিজে ইংল্যান্ড পিছিয়ে থেকেও ২-২ ব্যবধানে ড্র করে। অ্যান্ডারসন পাঁচ টেস্টের সিরিজে ৩৯.৮৬ গড়ে ১৫ উইকেট লাভ করেছিলেন।[১০] এরপর জুনে অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওভালে হ্যাট্রিক করেন। প্রথম ইংরেজ হিসেবে তার শিকার ছিলেন আব্দুল রাজ্জাক, শোয়েব আখতার এবং মোহাম্মদ সামি[১১]

পিঠের আঘাতজনিত কারণে ২০০৬ সালের অধিকাংশ সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নিয়মিত হন। একদিনের আন্তর্জাতিকে নিয়মিত বোলার হিসেবেও দলে রয়েছেন তিনি।

১৩ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এন্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টে ত্রয়োদশ ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে অংশগ্রহণ করেন।[১২] দ্বিতীয় ইনিংসে দীনেশ রামদিনকে আউট করে তিনি ইয়ান বোথামের গড়া ৩৮৩ উইকেটের রেকর্ড অতিক্রম করেন। এরফলে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।[১৩] এ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে ক্রেগ ব্রাথওয়েটকে আউট করার মাধ্যমে তিনি প্রথম ইংলিশ বোলার হিসাবে ৫০০তম উইকেট লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে মোহাম্মদ শামিকে আউট করে তিনি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫৬৪ তম উইকেট লাভ করেন। যার মাধ্যমে তিনি গ্লেন ম্যাকগ্রাকে টপকে সর্বাধিক উইকেট পাওয়া পেস বোলারে পরিনত হন।

কীর্তিগাঁথা[সম্পাদনা]

মে, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত ৪র্থ ইংরেজ বোলার হিসেবে ১ম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের পিটার ফুলটনকে আউট করে জেমস অ্যান্ডারসন তিনশত উইকেট লাভ করেন।[১৪] বর্তমানে (১০.০৫.২০২০) তিনি আইসিসি কর্তৃক প্রণীত টেস্ট বোলার র‌্যাঙ্কিং প্রথায় ৭৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৮ম স্থানে অবস্থান করছেন।[১৫]

ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে অনুষ্ঠিত ১ম একদিনের আন্তর্জাতিকে ইংল্যান্ড দল হেরে গেলেও বিজে ওয়াটলিংয়ের উইকেট লাভ করে বিরল কীর্তিগাঁথা গড়েন। এরফলে তিনি ইয়ান বোথামকে পাশ কাটিয়ে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন।[১৬]

মে, ২০১৬ সালে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনবদ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। লিডসের মাঠে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন।[১৭] খেলায় তার সংগৃহীত ১০/৪৫ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে-কোন ইংরেজ বোলারের মধ্যে সর্বোত্তম।[১৮] ২য় টেস্টে নিজস্ব ৪৫০তম টেস্ট উইকেট পান।[১৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Simon Hughes (9 June 2008)। "James Anderson's search for perfection"। London: Telegraph.co.uk Online।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য) Retrieved on 27 June 2008.
  2. Rob Smyth (9 October 2009)। "Cricinfo James Anderson"। ESPN Cricinfo।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য) Retrieved on 1 August 2010.
  3. "Test matches | Most wickets in career"। ইএসপিএন ক্রিকইনফো। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  4. "England v Pakistan: James Anderson becomes first fast bowler to 600 Test wickets"বিবিসি স্পোর্টস। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; cricinfo player profile নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  6. জন, এমা (১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "Lessons in life"। ইএসপিএন ক্রিকইনফো। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  7. নারায়নন, দীপু (৫ আগস্ট ২০১৬)। "Anderson becomes first seamer to take 50-plus wickets against seven teams"। ক্রিকবাজ। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. "1st Test: England v Zimbabwe at Lord's, May 22-24, 2003"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 
  9. Freddie Auld (6 August 2003)। "Don't panic!"। Cricinfo.com।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য) Retrieved on 28 May 2008.
  10. "Statsguru – JM Anderson – ODI Batting – Career summary"। Cricinfo.com।  Retrieved on 28 May 2008.
  11. Andrew Miller (20 June 2003)। "Anderson and Trescothick batter Pakistan to defeat"। Cricinfo.com।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য) Retrieved on 4 September 2008.
  12. "England, Alastair Cook and Jonathan Trott face stern West Indies test"। The Guardian। ১২ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৫ 
  13. "James Anderson breaks Sir Ian Botham's England wicket record"। BBC Sport (British Broadcasting Corporation)। ১৭ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৫ 
  14. "James Anderson takes 300th Test wicket for England"BBC Sport। British Broadcasting Corporation। ১৭ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ 
  15. রিলায়েন্স র‌্যাঙ্কিং.কম, সংগ্রহ: ৩ মার্চ, ২০১৩ খ্রিঃ
  16. "James Anderson 'honoured' to overhaul Sir Ian Botham's England record"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৫-১৮ 
  17. Jayaraman, Shiva (২০ মে ২০১৬)। "Anderson passes Kapil; Bairstow's Leeds form"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৬ 
  18. Jayaraman, Shiva (২১ মে ২০১৬)। "First since Trueman; an average of 4.5"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৬ 
  19. Seervi, Bharath (৩০ মে ২০১৬)। "Cook's 10k, Anderson's 450, Sri Lanka's four defeats in a row"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৬ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]