টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে দুইবার ৫ উইকেট লাভকারী ক্রিকেটারদের তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেডরিক মার্টিন তাঁর অভিষেক টেস্টের উভয় ইনিংসেই পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন।

যখন একজন বোলার কোন একটি ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক ব্যাটসম্যানকে আউট করতে সক্ষম হন, তখন ক্রিকেটের পরিভাষায় তা ‘পাঁচ-উইকেট অর্জন’ নামে পরিচিতি পায়। পাঁচ-উইকেট অর্জনকে ‘ফাইভ-ফর’ বা ‘ফিফার’ নামেও ডাকা হয়ে থাকে।[১] টেস্ট ক্রিকেট খেলায় এটি একটি অন্যতম সম্পর্কযুক্ত বিষয় কিন্তু অসাধারণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।[২] আগস্ট, ২০১৭ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে বিশ্বের ১৪৭জন ক্রিকেটার পাঁচ-উইকেট অর্জন করতে পেরেছেন।[৩] তন্মধ্যে নয়জন ক্রিকেটার টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে দুইবার ৫ উইকেট লাভ করেছেন। ইংল্যান্ডের চারজন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের দুইজন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের একজন এ সম্মাননার অধিকারী।

ইংল্যান্ডের বামহাতি মিডিয়াম পেস বোলার ফ্রেডরিক মার্টিন প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর অভিষেক টেস্টে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভের বিরল কীর্তিগাথা রচনা করেন। ১৮৯০ সালের অ্যাশেজ সিরিজে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ৬/৫০ ও ৬/৫২ পান।[৪] মার্টিনের এ অর্জনের তিন বছর পর একই দলের বিপক্ষে অভিষেক দুইবার পাঁচ-উইকেট তুলে নেন টম রিচার্ডসন। ১৮৯৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তিনি ৫/৪৯ ও ৫/১০৭ লাভ করেন।

প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে ক্ল্যারি গ্রিমেট তাঁর অভিষেক টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পাঁচ-উইকেট পান। ১৯২৪-২৫ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত পঞ্চম টেস্টে তিনি ৫/৪৫ ও ৬/৩৭ পান।[৫] তৃতীয় ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে চার্লস ম্যারিয়ট অভিষেক টেস্টে জোড়া ফিফার লাভ করেন। ১৯৩৩ সালে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১/৯৬ (৫/৩৭ ও ৬/৫৯) পেয়েছিলেন তিনি।[৬] তাঁর এ অবিস্মরণীয় সাফল্য স্বত্ত্বেও আর কখনো টেস্ট ক্রিকেটে তাঁকে দেখা যায়নি।[৭]

১৯৩৪ সালের অ্যাশেজ সিরিজে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেন ফার্নেস দুইবার পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। তাস্বত্ত্বেও ইংল্যান্ড দল পরাজিত হয়েছিল।[৮] ১৯৪৮ সালে অ্যাশেজ প্রতিযোগিতার বাইরে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডানহাতি ফাস্ট বোলার হাইঞ্জ জনসন এ কৃতিত্বের অধিকারী। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাবিনা পার্কে ৫/৪১ ও ৫/৫৫ পেয়েছিলেন তিনি।[৯][১০] দক্ষিণ আফ্রিকান মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার সিডনি বার্ক সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে জোড়া পাঁচ-উইকেট তুলেন নেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে তিনি এ সফলতা পান।[১১][১২]

সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতের স্পিন বোলার নরেন্দ্র হিরওয়ানি সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে অভিষেকে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভের কীর্তিগাথা রচনা করেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টেস্টে ৮/৬১ ও ৮/৭৫ বোলিং পরিসংখ্যান করেন।[১৩] এছাড়াও তাঁর এ বোলিং পরিসংখ্যান অদ্যাবধি টেস্টে অভিষেকে সেরা বোলিং পরিসংখ্যানরূপে বিবেচিত হয়ে আসছে।[১৪]

নির্দেশিকা[সম্পাদনা]

প্রতীক অর্থ
তারিখ টেস্ট খেলা আয়োজন বা শুরুর তারিখ
ওভার ঐ ইনিংসে বোলিংকৃত ওভার সংখ্যা
রান রান প্রদান
উইকেট উইকেট লাভের সংখ্যা
ইকোনোমি বোলিং ইকোনোমি রেট (ওভারপ্রতি গড় রান)
ব্যাটসম্যান পাঁচ-উইকেট লাভে ব্যাটসম্যানদের তালিকা
ফলাফল ঐ খেলায় বোলারের দলের ফলাফল
MoM বোলারকে প্রদেয় "ম্যান অব দ্য ম্যাচ"
ড্র খেলাটি ড্র হয়েছিল

টীকা: নীচের পরিসংখ্যানে শীর্ষে প্রথম ও নীচে দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিং পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে।

অভিষেক টেস্টে দুইবার পাঁচ-উইকেট প্রাপ্তি[সম্পাদনা]

নং বোলার তারিখ মাঠ প্রতিপক্ষ ওভার রান উইকেট ইকো. ব্যাটসম্যান ফলাফল
Flag of England.svg ফ্রেডরিক মার্টিন 01890-08-11আগস্ট ১১, ১৮৯০ দি ওভাল, লন্ডন, যুক্তরাজ্য Flag of None.svg অস্ট্রেলিয়া ২৭[ক] ৫০ ২.২২ জয়[৪]
৩০.২[ক] ৫২ ২.০৫
Flag of England.svg টম রিচার্ডসন 01893-08-24আগস্ট ২৪, ১৮৯৩ ওল্ড ট্রাফোর্ড, ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্য Flag of None.svg অস্ট্রেলিয়া ২৩.৪[ক] ৪৯ ২.৪৭ ড্র[১৫]
৪৪[ক] ১০৭ ২.৯১
Flag of Australia.svg ক্ল্যারি গ্রিমেট 01925-02-07ফেব্রুয়ারি ৭, ১৯২৫ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া  ইংল্যান্ড ১১.৭[খ] ৪৫ ২.৮৪ জয়[৫]
১৯.৪[খ] ৩৭ ১.৪২
Flag of England.svg চার্লস ম্যারিয়ট 01933-08-12আগস্ট ১২, ১৯৩৩ দি ওভাল, লন্ডন, যুক্তরাজ্য  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১.৫ ৩৭ ৩.১২ জয়[৬]
২৯.২ ৫৯ ২.০১
Flag of England.svg কেন ফার্নেস 01934-06-08জুন ৮, ১৯৩৪ ট্রেন্ট ব্রিজ, নটিংহাম, যুক্তরাজ্য  অস্ট্রেলিয়া ৪০.২ ১০২ ২.৫২ পরাজয়[৮]
২৫ ৭৭ ৩.০৮
WestIndiesCricketFlagPre1999.svg হাইঞ্জ জনসন 01948-03-27মার্চ ২৭, ১৯৪৮ সাবিনা পার্ক, কিংস্টন, জ্যামাইকা  ইংল্যান্ড ৩৪.৫ ৪১ ২.৫২ জয়[৯]
৩১ ৫৫ ১.৭৭
Flag of South Africa (1928–1994).svg সিডনি বার্ক 01962-01-01জানুয়ারি ১, ১৯৬২ নিউল্যান্ডস, কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা  নিউজিল্যান্ড ৫৩.৫ ১২৮ ২.৩৭ পরাজয়[১১]
২৭.১ ৬৮ ২.৫৫
Flag of Australia.svg বব ম্যাসি 01972-06-22জুন ২২, ১৯৭২ লর্ড’স, লন্ডন, যুক্তরাজ্য  ইংল্যান্ড ৩২.৫ ৮৪ ২.৫৫ জয়[১৬]
২৭.২ ৫৩ ২.৩৮
Flag of India.svg নরেন্দ্র হিরওয়ানি 01988-01-11জানুয়ারি ১১, ১৯৮৮ এম. এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, মাদ্রাজ, ভারত  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮.৩ ৬১ ৩.২৯ জয়[১৩]
১৫.২ ৭৫ ৪.৮৯
উৎস:[১৭] ২২ মার্চ, ২০১৭ পর্যন্ত

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. খেলায় ৫-বলের ওভার ছিল
  2. খেলায় ৮-বলের সমন্বয়ে ওভার ব্যবহার করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Swinging it for the Auld Enemy – An interview with Ryan Sidebottom"The Scotsman। ১৭ আগস্ট ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০০৯... I'd rather take fifers (five wickets) for England ... 
  2. Pervez, M. A. (২০০১)। A Dictionary of CricketOrient Blackswan। পৃষ্ঠা 31। আইএসবিএন 978-81-7370-184-9 
  3. "Statistics / Statsguru / Test matches / Bowling records / Overall figures"ESPNcricinfo। ৫ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৫ 
  4. "Australia tour of England, 2nd Test: England v Australia at The Oval, Aug 11–12, 1890"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  5. "England tour of Australia, 5th Test: Australia v England at Sydney, Feb 27 – Mar 4, 1925"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  6. "West Indies tour of England, 3rd Test: England v West Indies at The Oval, Aug 12–15, 1933"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  7. "Charles Marriott"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৫ 
  8. "Australia tour of England, 1st Test: England v Australia at Nottingham, Jun 8–12, 1934"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  9. "England tour of West Indies, 4th Test: West Indies v England at Kingston, Mar 27 – Apr 1, 1948"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  10. "Hines Johnson"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৫ 
  11. "New Zealand tour of South Africa, 3rd Test: South Africa v New Zealand at Cape Town, Jan 1–4, 1962"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  12. "Sydney Burke"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৫ 
  13. "West Indies tour of India, 1987/88 – 4th Test"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  14. "Statistics/Statsguru/Test matches/Bowling records/Overall figures (best bowling performance in a match on Test debut)"ESPNcricinfo। ২৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  15. "Australia tour of England, 3rd Test: England v Australia at Manchester, Aug 24–26, 1893"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  16. "Australia tour of England and Scotland, 2nd Test: England v Australia at Lord's, Jun 22–26, 1972"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  17. "Players Taking 5 Wickets in Innings in Debut Match"। HowSTAT!। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]