অধিনায়ক (ক্রিকেট)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিং ধারাবাহিকভাবে দু’টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট শিরোপা জয়ে দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অধিনায়ক, স্কিপার বা দলনেতা (ইংরেজি: Captain, Skipper) ক্রিকেট খেলার একটি পরিভাষাবিশেষ। দলের নেতৃত্ব প্রদানে একজন ক্রিকেটারকে অনেকগুলো অতিরিক্ত দায়িত্ব ও গুণাবলীর প্রয়োজন পড়ে। তিনি নিয়মিত খেলোয়াড়রূপে সবচেয়ে ভালো ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। অন্যান্য ক্রীড়ার ন্যায় তিনি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হিসেবে সকলের সাথে সুন্দর আচার-আচরণ, বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবেশ সৃষ্টি করে দলের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করেন। দলের সদস্য নির্বাচনে প্রায়শঃই তাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। খেলার পূর্বে টস করাসহ ব্যাটিং অর্ডার নির্ধারণ, বোলিং করার অধিকার, ফিল্ডারদের অবস্থান নির্ধারণে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে দলকে জয়লাভের প্রচেষ্টা চালান। খেলা চলাকালীন দলপতির কৌশল নির্ধারণ ক্রিকেটে জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

টেস্টখেলুড়ে বিভিন্ন দেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তন্মধ্যে মাইকেল ক্লার্ক ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সফলতম অধিনায়ক রিকি পন্টিং পদত্যাগ করলে তিনি স্থায়ীভাবে অধিনায়ক হন।[১] বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম। তিনি সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে দলের দায়িত্ব পালন করেছেন।[২] এছাড়াও নভেম্বর, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে ৩য় টেস্টে অবসরগ্রহণকারী বিখ্যাত স্পিনার অনিল কুম্বলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন উইকেট-রক্ষক মহেন্দ্র সিং ধোনি[৩]

দায়িত্বাবলী[সম্পাদনা]

খেলা চলাকালীন[সম্পাদনা]

খেলা শুরুর পূর্বে স্বাগতিক দলের অধিনায়ক আম্পায়ারদ্বয়ের সম্মুখে টস বা মুদ্রা নিক্ষেপ করেন। সেজন্যে তিনি প্রতিপক্ষীয় দলনেতাকে মুদ্রার সম্মুখ কিংবা নিচের অংশ নির্ধারণের জন্যে আহ্বান জানান। যদি টসে জয়ী হয়ে ফিল্ডিং গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি বোলিংয়ের সময় ফিল্ডারদের অবস্থান নির্ধারণ করেন। সেজন্যে তিনি সহঃ অধিনায়ক, বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় কিংবা সংশ্লিষ্ট বোলারের সাথে আলাপ-আলোচনায়ও অংশ নিয়ে থাকেন। বোলিং কিংবা ব্যাটিং পাওয়ারপ্লে সম্পর্কে সচেতন থাকেন। কোন বোলার, কোন সময়ে বোলিং করবেন তা-ও নির্ধারণ করেন তিনি। যদি কোন কারণে ব্যাটসম্যান বোলারের উপর চড়াও হয়ে রান করতে থাকেন, তাহলে তিনি বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন অথবা বোলার পরিবর্তন করেন। সেজন্যে বোলার কর্তৃক ব্যাটসম্যান আউট হতে অথবা রানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে আহ্বান জানান।

ব্যাটিংয়ের সময় তিনি ব্যাটিং অর্ডার সাজান। পেশাদারী পর্যায়ে সচরাচর কোন কারণ ছাড়া ব্যাটিংয়ের তেমন কোন পরিবর্তন ঘটানো হয় না। কারণ, ব্যাটসম্যানগণ নির্ধারিত অবস্থানে থেকেই ব্যাটিং করতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক যে-কোন সময় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারেন।

সাধারণতঃ আক্রমণাত্মক খেলা উপহার, ফলো-অনসহ জয়ের লক্ষ্যে তিনি এ পদক্ষেপ নেন। এছাড়াও, আঘাতপ্রাপ্ত খেলোয়াড়কে সহযোগিতা করার জন্যে রানারের ব্যবস্থা করেন।

অন্যান্য দায়িত্ব[সম্পাদনা]

অধিনায়ক ক্রিকেট দলকে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের স্বার্থে খেলার বাইরেও অংশ নিয়ে থাকেন। কখন অনুশীলন হবে, কতক্ষণ হবে তা-ও নির্ধারণ করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা নির্ধারণ করেন এবং মূল একাদশে ঠাঁই দেন। নতুন খেলোয়াড়ের উদ্যমতাও তিনি লক্ষ্য করেন ও তার উন্নতি ঘটছে কি-না পরখ করেন। যারা দলে অনিয়মিত, তাদের সক্ষমতায় অনুশীলন-পর্বে অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করেন।

সহঃ অধিনায়ক[সম্পাদনা]

অধিনায়ক প্রয়োজনে সহঃ অধিনায়কের কাছ থেকে পরামর্শ, সহযোগিতা নিতে পারেন। কোন কারণে ফিল্ডিংরত অবস্থায় অধিনায়কের আঘাতপ্রাপ্তি কিংবা অসুস্থতাজনিত কারণে মাঠের বাইরে গেলে, তার পরিবর্তে তিনি অস্থায়ীভাবে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিছু দলে সহঃ অধিনায়ককে দল নির্বাচনে সহায়তা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মাঠে ফিল্ডারদের অবস্থান ইত্যাদি দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়। পরবর্তী খেলায় যে সহঃ অধিনায়ককে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করতে হবে, এমন কোন ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই।

দলীয় সক্ষমতা ও শক্তিমত্তাকে বিবেচনা এনে অধিনায়কের সাথে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের জন্যও সুপারিশ করে থাকেন। একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বৃষ্টিবিঘ্নিত পরিবেশ সৃষ্টি হলে কিংবা অপর্যাপ্ত আলোকের ফলে খেলায় প্রভাব পড়লে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বিতীয় ইনিংসে দলের জয়ের জন্য নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়। এরফলে ফিল্ডিংয়ে দায়িত্বরত অধিনায়ক ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতির হিসাব-নিকাশকল্পে এক টুকরো কাগজ সহঃ অধিনায়ক কিংবা অন্য কোন খেলোয়াড়ের কাছে গুঁজে দেন যাতে করে অধিনায়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পরে।

বর্তমান অধিনায়ক[সম্পাদনা]

আইসিসি পূর্ণ সদস্য[সম্পাদনা]

দল অধিনায়ক সহ-অধিনায়ক
 অস্ট্রেলিয়া মাইকেল ক্লার্ক (টেস্টওডিআই), অ্যারন ফিঞ্চ (টি২০) ব্র্যাড হাড্ডিন (টেস্ট) ও জর্জ বেইলি (ওডিআই)
 বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিম (টেস্ট), মাশরাফি বিন মর্তুজা ওডিআই) ও (টি২০) তামিম ইকবাল (টেস্ট), সাকিব আল হাসান (ওডিআই)ও (টি২০)
 ইংল্যান্ড অ্যালাস্টেয়ার কুক (টেস্টওডিআই), স্টুয়ার্ট ব্রড (টি২০) ইয়ান বেল (টেস্ট), ইয়ন মর্গ্যান (ওডিআই ও টি২০)
 ভারত মহেন্দ্র সিং ধোনি বিরাট কোহলি
 নিউজিল্যান্ড ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম কেন উইলিয়ামসন ওডিআই) ও (টি২০)
 পাকিস্তান মিসবাহ-উল-হক (টেস্টওডিআই), শহীদ আফ্রিদি (টি২০)
 দক্ষিণ আফ্রিকা হাসিম আমলা (টেস্ট), এবি ডি ভিলিয়ার্স (ওডিআই), ফাফ দু প্লেসিস (টি২০) এবি ডি ভিলিয়ার্স (টেস্ট) ও হাশিম আমলা (ওডিআই)
 শ্রীলঙ্কা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (টেস্টওডিআই), লাসিথ মালিঙ্গা (টি২০) লাহিরু থিরিমানে
 ওয়েস্ট ইন্ডিজ দীনেশ রামদিন (টেস্ট, ডোয়েন ব্র্যাভো ওডিআই) ও ড্যারেন স্যামি টি২০) ডোয়েন ব্র্যাভো (টেস্ট ও (টি২০), কিরণ পোলার্ড (ওডিআই)
 জিম্বাবুয়ে ব্রেন্ডন টেলর (টেস্ট), এল্টন চিগুম্বুরা ( ওডিআইটি২০ ) হ্যামিল্টন মাসাকাদজা

সহযোগী সদস্য[সম্পাদনা]

দল অধিনায়ক সহ-অধিনায়ক
 আফগানিস্তান মোহাম্মাদ নবী মোহাম্মদ শাহজাদ
 আর্জেন্টিনা এস্তবেন ম্যাকডারমট
 বেলজিয়াম ব্রাইটন ওয়াটাম্বো
 বারমুদা জেনেইরো টাকার
 বতসোয়ানা কারাবো মোদিসে
 কানাডা জিমি হংস্র রিজওয়ান চীমা
 কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ রায়েন বোভেল সহীদ মোহামেদ
 ডেনমার্ক মাইকেল পেডারসন থমাস হ্যানসেন
 ফ্রান্স ওয়াসিম ভাট্টি শাব্বির হুসাইন
 জার্মানি আসিফ খান
 জিব্রাল্টার ক্রিস্টিয়ান রোকা
 গেনসি স্টুয়ার্ট লি প্রিভোস্ট
 হংকং জেমস অ্যাটকিনসন ওয়াকাস বরকত
 আয়ারল্যান্ড উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড কেভিন ও’ব্রায়ান
 ইসরায়েল হার্শেল গাটম্যান
 ইতালি আলেজান্দ্রো বোনোরা জো শুদেরি
 জাপান ততসুরো চিনো
 জার্সি রায়ান ড্রাইভার ম্যাট হগ
 কেনিয়া রাকিপ প্যাটেল
 কুয়েত হিশাম মির্জা স্যান্যাল গোবিন্দ
 মালয়েশিয়া আহমেদ ফয়েজ শফিক শরীফ
 নামিবিয়া সারেল বার্গার রেমন্ড ফন শুর
   নেপাল পারস খডকা জ্ঞানেন্দ্র মল্ল
 নেদারল্যান্ডস পিটার বোরেন মাইকেল সোয়ার্ট
 নাইজেরিয়া ওয়ালে অ্যাডিওয়ে এ্যান্ডুর‌্যানেক অফেম
 পাপুয়া নিউ গিনি ক্রিস আমিনি
 স্কটল্যান্ড কাইল কোয়েতজার প্রিস্টন মমসেন
 সিঙ্গাপুর সাদ জাঞ্জুয়া চেতন সূর্যবংশী
 তানজানিয়া হামিসি আবদল্লাহ
 থাইল্যান্ড জিশান খান
 উগান্ডা ডেভিস অ্যারিনাইতু জুনিয়র কুইবিহা
 সংযুক্ত আরব আমিরাত খুররম খান আমজাদ আলী
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্টিভ মাসিয়া সুশীল নাদকার্নি
 জাম্বিয়া সরফাজ প্যাটেল ইমরান প্যাটেল

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]