জন এডরিচ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জন এডরিচ
এমবিই
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন হিউ এডরিচ
জন্ম (1937-06-21) ২১ জুন ১৯৩৭ (বয়স ৮২)
ব্লোফিল্ড, নরফোক, ইংল্যান্ড, যুক্তরাজ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪১৫)
৬ জুন ১৯৬৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট৮ জুলাই ১৯৭৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ )
৫ জানুয়ারি ১৯৭১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই৯ মার্চ ১৯৭৫ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৮-১৯৭৮সারে
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৭৭ ৫৬৪ ১৬০
রানের সংখ্যা ৫,১৩৮ ২২৩ ৩৯,৭৯০ ৪,৭৯২
ব্যাটিং গড় ৪৩.৫৪ ৩৭.১৬ ৪৫.৪৭ ৩৫.২৩
১০০/৫০ ১২/২৪ –/২ ১০৩/১৮৮ ১/৩৯
সর্বোচ্চ রান ৩১০* ৯০ ৩১০* ১০৮*
বল করেছে ৯১
উইকেট
বোলিং গড় - - -
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪৩/– –/– ৩১০/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১১ মে ২০১৫

জন হিউ এডরিচ, এমবিই (ইংরেজি: John Edrich; জন্ম: ২১ জুন, ১৯৩৭) নরফোকের ব্লোফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এ সময়ে জন এডরিচ বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হন।[১] কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

এক ক্রিকেট পরিবার থেকে উত্থান ঘটেছে এডরিচের। তাঁর চার কাকাতো ভাই - এরিক এডরিচ, বিল এডরিচ, জিওফ এডরিচ এবং ব্রায়ান এডরিচ প্রত্যেকেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। আট থেকে সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত ব্রাকনডেল প্রাইভেট স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ঐ সময়েই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতেন তিনি। সাবেক ক্রিকেটার সিএসআর বসওয়েল তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন।

১৯৫৬ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সরকারী চাকুরীতে থাকা অবস্থায় ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে কম্বাইন্ড সার্ভিসেস দলের পক্ষে চারটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। ১৯৫৮ মৌসুমে সারে দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। পরের বছর ৫২.৯১ গড়ে ১,৭৯৯ রান সংগ্রহ করেন। পরবর্তী চার বছর মিকি স্টুয়ার্টের সাথে কার্যকরী উদ্বোধনী জুটি গড়েন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

কাউন্টি ক্রিকেটে সফলতার কারণে স্টুয়ার্ট ও এডরিচ ইংল্যান্ড দলের পক্ষে টেস্ট খেলার জন্য মনোনীত হন। কিন্তু কাউন্টিতে সফলকাম হলেও তৎকালীন সময়ে ক্রিকেট বিশ্বে প্রভাববিস্তারকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মোটেই সফলতা পাননি। ওয়েস হল, গারফিল্ড সোবার্সচার্লি গ্রিফিথের ন্যায় বিশ্বমানের বোলারদের মোকাবেলা করে তিনি ছয় ইনিংসে মাত্র ১০৮ রান তুলেছিলেন। এরফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু ১৯৬৪ সালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া জিওফ্রে বয়কট আঘাত পেলে দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। লর্ডসে অনুষ্ঠিত খেলায় তিনি ১২০ রান করেন। তবে বৃষ্টির কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।[২] তা স্বত্ত্বেও ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য মনোনীত হননি তিনি।

নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি, ১৯৬৫[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়দের আঘাতের কারণে জুলাই, ১৯৬৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে পুণরায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে অপরাজিত ৩১০* রানের ইনিংস খেলেন।[১] ৮ ঘন্টারও অধিক সময়ে ৫২ চার ও ৫ ছক্কা সহযোগে এ রান তোলেন।[৩] কিন্তু, ইংরেজ অধিনায়ক এম. জে. কে. স্মিথ দলের ইনিংস ঘোষণা করলে গ্যারি সোবার্সের তৎকালীন অপরাজিত ৩৬৫* রানের বিশ্বরেকর্ড ভঙ্গের সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে যায়। খেলায় ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১৮৭ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে।[৪]

কিন্তু, এক সপ্তাহ পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে পিটার পোলকের শর্ট-পিচের একটি বল তাঁর মাথায় লাগলে গুরুতর আহত হন। ফলে অপরাজিত ৭* রান থাকা অবস্থায় রিটায়ার্ড হার্ট হতে বাধ্য হন।[৫]

কাট, কভার ড্রাইভে বল ফেলে রান সংগ্রহের কারণে তিনি পরিচিত হয়ে আছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, তিনি তাঁর সময়কালে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি ৭৭ টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে ১৯৬৫ সালে একটি ত্রি-শতকও হাঁকান এডরিচ। তাঁর ত্রি-শতকটি ইংল্যান্ডের পক্ষে পঞ্চম সর্বোচ্চ সংগ্রহ।[৬]

টেস্টে ধারাবাহিকভাবে অর্ধ-শতক লাভকারী ক্রিকেটার
দক্ষিণ আফ্রিকা এবি ডি ভিলিয়ার্স
১২
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভিভ রিচার্ডস
১১
ভারত গৌতম গম্ভীর
১১
ভারত বীরেন্দ্র শেওয়াগ
১১
বাংলাদেশ মমিনুল হক
১১
ইংল্যান্ড জন এডরিচ
১১
ভারত শচীন তেন্ডুলকর
১০

উৎস: ক্রিকইনফো
যোগ্যতা: খেলোয়াড়ী জীবনে ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ অর্ধ-শতক

একদিনের আন্তর্জাতিকের ঊষালগ্নে অর্থাৎ প্রথম ওডিআইয়ে তিনি সর্বোচ্চ রান তোলেন এডরিচ।[৭] তৃতীয় টেস্টে বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দাড়ানোর কারণে আম্পায়ারদ্বয় অনির্ধারিত খেলা পরিচালনা করেন যা একদিনের আন্তর্জাতিকের প্রথম খেলা হিসেবে স্বীকৃত। ৮ বলের সমন্বয়ে গড়া ৪০ ওভারের খেলায় এডরিচ সর্বোচ্চ ৮২ রান তোলেন। এরফলে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

অবসর[সম্পাদনা]

অবসর পরবর্তীকালে ১৯৮১ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দল নির্বাচক মনোনীত হন। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন।[৮] ২০০৬-০৭ মৌসুমে সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি অ্যাবরদিনশায়ারে বসবাস করছেন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে গড়া তাঁর ত্রি-শতক লাভের কারণে উইজডেন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে মনোনীত করে।[৯] ১৯৭৭ সালে ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রাখার প্রেক্ষিতে এমবিই পদবীতে ভূষিত হন এডরিচ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 60–61। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Cricketer of the Year, CricInfo. Retrieved on 10 August 2007.
  3. Edrich's epoch CricInfo. Retrieved on 8 August 2007
  4. "The Home of CricketArchive"। Cricketarchive.com। ১৩ জুলাই ১৯৬৫। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৩ 
  5. John Edrich's Cricket profile CricInfo. Retrieved on 29 July 2007
  6. "Records / England / Test matches / High scores"। ESPN CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  7. "Records / One-Day Internationals / Batting records / Most runs in an innings (progressive record holder)"। ESPN CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  8. Edrich diagnosed with incurable leukemia, BBC News. Retrieved 7 August 2007.
  9. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৬ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
মাইক ডেনিস
ইংল্যান্ডের ওডিআই অধিনায়ক
১৯৭৪-৭৫
উত্তরসূরী
অ্যালান নট