ইয়ান বোথাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
স্যার ইয়ান বোথাম
Ian Botham headshot.jpg
২০১৩ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ১ম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর পূর্বে ইয়ান বোথাম
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম স্যার ইয়ান টেরেন্স বোথাম, ওবিই
জন্ম (১৯৫৫-১১-২৪) ২৪ নভেম্বর ১৯৫৫ (বয়স ৬২)
হেসওয়াল, চেশায়ার, যুক্তরাজ্য
ডাকনাম বিফি, বোথ, গাই[১]
উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকা অল-রাউন্ডার, অধিনায়ক
সম্পর্ক ক্যাথরিন ওয়ালার (স্ত্রী) (বর্তমানে - লেডি বোথাম)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৭৪)
২৮ জুলাই ১৯৭৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট ১৮ জুন ১৯৯২ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩৩)
২৬ আগস্ট ১৯৭৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই ২৪ আগস্ট ১৯৯২ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৭৪-৮৬ সমারসেট
১৯৮৭-৮৮ কুইন্সল্যান্ড
১৯৮৭-৯১ ওরচেস্টারশায়ার
১৯৯২-৯৩ ডারহাম
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১০২ ১১৬ ৪০২ ৪৭০
রানের সংখ্যা ৫২০০ ২১১৩ ১৯৩৯৯ ১০৪৭৪
ব্যাটিং গড় ৩৩.৫৪ ২৩.২১ ৩৩.৯৭ ২৯.৫০
১০০/৫০ ১৪/২২ ০/৯ ৩৮/৯৭ ৭/৪৬
সর্বোচ্চ রান ২০৮ ৭৯ ২২৮ ১৭৫*
বল করেছে ২১৮১৫ ৬২৭১ ৬৩৫৪৭ ২২৮৯৯
উইকেট ৩৮৩ ১৪৫ ১১৭২ ৬১২
বোলিং গড় ২৮.৪০ ২৮.৫৪ ২৭.২২ ২৪.৯৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৭ ৫৯
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৮/৩৪ ৪/৩১ ৮/৩৪ ৫/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১২০/– ৩৬/– ৩৫৪/– ১৯৬/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ.কম, ৩০ মে ২০১৭
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম ইয়ান বোথাম
মাঠে অবস্থান মধ্যভাগ
বলিষ্ঠ কর্মজীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
১৯৭৮-৮০ ইয়োভিল টাউন ১৭ (১)
১৯৮০-৮৫ স্কানথর্প ইউনাইটেড ১১ (০)
* পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে।
† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

স্যার ইয়ান টেরেন্স বোথাম, ওবিই (ইংরেজি: Ian Terence Botham; জন্ম: ২৪ নভেম্বর, ১৯৫৫) চেশায়ারে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ক্রিকেট খেলায় ব্যাটিংবোলিং - উভয় বিভাগেই তিনি অসামান্য ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে বিশ্বের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রকৃত অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পেয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষ হয়ে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৩৮৩টি টেস্ট উইকেট লাভ করেন ইয়ান বোথামশতাধিক টেস্টে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালে অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে পরাভূত করতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছিলেন। এ সিরিজটি ‘বোথামের অ্যাসেজ’ নামে পরিচিতি বহন করে আসছে। বিফি ডাকনামেও তিনি সমান জনপ্রিয়।[২] মাঠ ও মাঠের বাইরে বিতর্কিত খেলোয়াড়রূপে তিনি একগুচ্ছ রেকর্ডের অধিকারী হিসেবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বোলারদের পক্ষে সর্বাধিক উইকেট লাভের রেকর্ডটিও ধরে রেখেছিলেন। বর্তমানে তিনি টেলিভিশনে কাজ করছেন। দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। ২০০৭ সালে নাইট পদবীতে ভূষিত হন। ডেনিস কম্পটন, জিম কাম্বসআর্নল্ড সাইডবটমের ন্যায় তিনিও ফুটবল লীগের অন্যতম ফুটবলার হিসেবে ১১টি খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

উইর‌্যাল উপত্যকার হেসওয়াল এলাকায় বোথাম জন্মগ্রহণ করেন। বাবা হার্বার্ট লেসলি বোথাম ওয়েস্টল্যান্ড এয়ারক্রাফটে কাজ করতেন। মা ভায়োলেট ম্যারি (বিবাহ-পূর্ব কোলেট) ছিলেন একজন নার্স।[৩] পিতা-মাতা উভয়েই ক্রিকেট খেলতেন। সমরাসেটের ইয়োভিলে মিলফোর্ড জুনিয়র স্কুলে অধ্যয়ন করেন। সমারসেটেই খেলার সাথে ভালোবাসা জন্মায় ও সমারসেট অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলে খেলেন।[৪] বাকলার্স মিড কমিউনিটি স্কুল থেকে ১৫ বছর বয়সে জিসিএসই লেভেল শেষ না করেই সমারসেট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবে খেলতে যান। এসময়ে তিনি ক্রিস্টাল প্যালেস ফুটবল ক্লাব থেকেও খেলার জন্যে প্রস্তাব পান।[৫] শৈশবকাল থেকেই তিনি একাকী চলতে পছন্দ করতেন। যখন জানা যায় যে বোথাম ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হতে চান, তখন তাঁর স্কুলের ক্যারিয়ার মিসট্রেস বলেন, ‘চমৎকার, প্রত্যেকেই খেলতে চায়, কিন্তু আসলেই তুমি কি হতে চাচ্ছ?’

সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৬ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৮৩ উইকেট নিয়ে রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু, ১৭ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দিনেশ রামদিনকে আউট করে জেমস অ্যান্ডারসন বোথামের গড়া সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট লাভের রেকর্ডটি ভেঙ্গে ফেলেন।[৬]

বোথামকে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এছাড়া তারকা মর্যাদাও পেয়েছেন তিনি। দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অনন্য সাধারণ অবদান রাখায় তাঁকে নাইটহুড পদকে ভূষিত করা হয়।[৭] ৮ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে বোথামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৮]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালে ডনকাস্টার বোরায় ক্যাথরিন ওয়ালার (বর্তমানে - লেডি বোথাম) নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। বিবাহের পূর্বে জুন, ১৯৭৪ সালে তাঁদের প্রথম স্বাক্ষাৎ হয়। বিয়ের পর ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত স্কানথর্পের কাছাকাছি এপওয়ার্থ এলাকায় বসবাস করতে থাকেন। তাঁদের এক পুত্র ও দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করে। আগস্ট, ১৯৭৭ সালে জন্মগ্রহণকারী পুত্র লিয়াম সাবেক পেশাদার ক্রিকেটার ও রাগবি খেলোয়াড়।[৯] বর্তমানে তিনি স্পেনের আলমেরিয়া এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে দুইটি বাড়ির মালিক তিনি। কন্যা সারাহ রেস্তোঁরা ব্যবসা ও শহরে মদের বার পরিচালনায় নিয়োজিত।[১০]

ফুটবলের দিকে প্রবল আসক্তি রয়েছে তাঁর এবং চেলসির সমর্থক তিনি।[১১] স্কানথর্প ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।[১২] এছাড়াও, গল্ফ খেলতে ভালোবাসেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Ian Botham"espncricinfo। সংগৃহীত ১৮ এপ্রিল ২০১২ 
  2. Adams, Christopher (১৬ জুন ২০০৭)। "'Sir Beefy' leads cast of nearly 1,000"Financial Times। সংগৃহীত ২৮ আগস্ট ২০০৯ 
  3. Barratt, Nick (১৫ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Family detective: Sir Ian Botham"Daily Telegraph (UK)। সংগৃহীত ২৮ আগস্ট ২০০৯ 
  4. Botham, Ian (১৯৯৪)। "A Bouncing Baby Botham"। Botham: My Autobiography। CollinsWillow। পৃ: 36–37। আইএসবিএন 0-00-218316-1 
  5. "Ian Botham quotes"। Brainy Quote। সংগৃহীত ২৭ আগস্ট ২০০৯ 
  6. "James Anderson breaks Sir Ian Botham's England wicket record"। BBC Sport (British Broadcasting Corporation)। ১৭ এপ্রিল ২০১৫। সংগৃহীত ১৮ এপ্রিল ২০১৫ 
  7. http://www.thenorthernecho.co.uk/archive/2004/08/06/The+North+East+Archive/6982046.Bothams_rocked_by_jewellery_break_in/
  8. "Botham, Boycott, Trueman inducted into ICC Hall of Fame"। The Times of India। ৯ আগস্ট ২০০৯। সংগৃহীত ৮ অক্টোবর ২০১১ 
  9. Cricket's Babe Ruth - Sports Illustrated. Article: Clive Gammon. Published 27 October 1986. Retrieved 19 June 2013.
  10. "A Second Spanish Property For The Bothams As Sir Ian’s Daughter Launches A New Restaurant Venture In Almeria" 
  11. "Botham Trains", The Times, 27 September 1988
  12. "CELEBRITY X FACTOR - Mirror Online"। People.co.uk। ২৮ মার্চ ২০১০। আসল থেকে ৫ মে ২০১০-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩ আগস্ট ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
ব্রায়ান রোজ
সমারসেট কাউন্টি ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮৪-১৯৮৫
উত্তরসূরী
পিটার রোবাক
পূর্বসূরী
মাইক ব্রিয়ারলি
ইংরেজ ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮০-১৯৮১
উত্তরসূরী
মাইক ব্রিয়ারলি
রেকর্ড
পূর্বসূরী
ডেনিস লিলি
বিশ্বরেকর্ড – টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেট
৩৭৩ উইকেট (২৭.৮৬)- ৯৪ টেস্টে
২১ আগস্ট, ১৯৮৬ - ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮
উত্তরসূরী
রিচার্ড হ্যাডলি