ডেভিড গাওয়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডেভিড গাওয়ার
David Gower.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডেভিড আইভন গাওয়ার
জন্ম (1957-04-01) ১ এপ্রিল ১৯৫৭ (বয়স ৬২)
টানব্রিজ ওয়েলস, কেন্ট, ইংল্যান্ড
ডাকনামলুবো, লু, স্টোট, স্নুটার্স, লর্ড গাওয়ার
উচ্চতা৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান, মাঝেমধ্যে উইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৭৯)
১ জুন ১৯৭৮ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট৯ আগস্ট ১৯৯২ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৪৬)
২৪ মে ১৯৭৮ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৫-১৯৮৯লিচেস্টারশায়ার
১৯৭৭-১৯৮৭এমসিসি
১৯৯০-১৯৯৩হ্যাম্পশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১১৭ ১১৪ ৪৪৮ ৪৩০
রানের সংখ্যা ৮২৩১ ৩১৭০ ২৬৩৩৯ ১২২৫৫
ব্যাটিং গড় ৪৪.২৫ ৩০.৭৭ ৪০.০৮ ৩৩.৩০
১০০/৫০ ১৮/৩৯ ৭/১২ ৫৩/১৩৬ ১৯/৫৬
সর্বোচ্চ রান ২১৫ ১৫৮ ২২৮ ১৫৮
বল করেছে ৩৬ ২৬০ ২০
উইকেট
বোলিং গড় ২০.০০ ৫৬.৭৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ১/১ ০/৫ ৩/৪৭ ০/৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭৪/– ৪৪/– ২৮০/১ ১৬২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১১ জানুয়ারি ২০১৩

ডেভিড আইভন গাওয়ার, ওবিই (ইংরেজি: David Gower; জন্ম: ১ এপ্রিল, ১৯৫৭) কেন্টের টানব্রিজ ওয়েলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। পরবর্তীকালে তিনি স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আধুনিককালের অন্যতম সেরা বামহাতি ব্যাটসম্যানরূপে পরিগণিত হয়ে আছেন। নিজ দলের পক্ষে একসময় সর্বাধিক টেস্ট ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণসহ তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন। ১১৭টি টেস্টে অংশগ্রহণ করে ৮,২৩১ রান করেন তিনি। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের পক্ষ হয়ে সবচেয়ে বেশী ১১৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছিলেন ‘লুবো’ ডাকনামে পরিচিত ডেভিড গাওয়ার

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৫৭ সালে টানব্রিজ ওয়েলসে জন্মগ্রহণ করেন। ঐ সময়ে রিচার্ড গাওয়ার, ওবিই নামীয় পিতা তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন উপনিবেশ ট্যাঙ্গানিকার রাজধানী দার এস সালামে ঔপনিবেশিক চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন। সেখানেই তিনি তাঁর শৈশবকাল অতিবাহিত করেন।[১][২] ট্যাঙ্গানিকা স্বাধীনতা লাভ করলে তাদের পরিবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসে। ছয় বছর বয়সে তিনি কেন্টে চলে আসেন। সেখান থেকে তাদের পরিবার পুণরায় লাফবরায় স্থানান্তরিত হয়।[২] গাওয়ার হকহার্স্ট এলাকার মার্লবরা হাউজ স্কুলে ৮ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ক্রীড়ারূপে ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে অংশ নেন।[৩]

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে লিচেস্টারশায়ারের সদস্য ছিলেন। তুলনামূলকভাবে দূর্বলমানের লিচেস্টারশায়ার দলে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যহতি দেয়া হয় ও নাইজেল ব্রায়ার্সকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরপর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ারের সদস্য হন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

গাওয়ার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ১৯৮৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্ব দেন। এতে দল জয়লাভ করলেও ১৯৮৪ ও ১৯৮৫-৮৬ সালে অনুষ্ঠিত টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫-০ ব্যবধানে ব্ল্যাকওয়াশ হয়। এতে তাঁর দূর্বল অধিনায়কত্বের প্রমাণ মিলে। এরফলে তিনি সংক্ষিপ্তকালের জন্যে অধিনায়কত্ব হারান। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে গ্রাহাম গুচের হাতে অধিনায়কত্ব প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত স্বপদে বহাল ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ১১৯টি টেস্টে কোন শূন্য রানের নজির স্থাপন করেননি যা বিশ্বরেকর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।[৪]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটি ওডিআই শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, ১১ জুন, ১৯৮৩ তারিখে ক্রিকেট বিশ্বকাপের গ্রুপ-পর্বের খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২০ বলে ১৩০ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। এটিই টনটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডের প্রথম আন্তর্জাতিক শতরানের ইনিংস ছিল ও সর্বমোট তিনটি শতরানের একটি।[৫] টনটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল ৪৭ রানে জয় পেয়েছিল।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ডেভিড গাওয়ার ১৯৯২ সালে দ্য মোস্ট এক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পদকে ভূষিত হন। ক্রিকেট জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর গাওয়ার সফলতম ক্রিকেট ধারাভাষ্যকাররূপে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৬ জুলাই, ২০০৯ সালে তিনি আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্ত হন।[৬][৭] এছাড়াও, ১৯৭৯ সালে উইজডেনের অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার লাভ করেন গাওয়ার।[৮]

ডেভিড শেফার্ড ফাউন্ডেশন এবং ওয়ার্ল্ড ল্যান্ড ট্রাস্টের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ডেভিড গাওয়ার। নেচার ইন আর্ট ট্রাস্ট নামীয় সংস্থার সহ-সভাপতি[৯] এবং একটি ইন্টারনেট ওয়াইন কোম্পানীর পরিচালক পদে রয়েছেন তিনি।[১০] ১৯৯৩ সালে ওলদাই সাময়িকীর পক্ষ থেকে 'ওলদাই অব দি ইয়ার' পুরস্কারে ভূষিত হন।[১১][১২] তিনি ক্রিকেট সম্বন্ধে অনেকগুলো পুস্তক রচনা করেছেন। তন্মধ্যে ১৯৯২ সালে দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের সংবাদদাতা মার্টিন জনসনের সাথে ও ১৯৯৫ সালে অ্যালেন লি'র সাথে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ লেখেন। এছাড়াও জনসনের সাথে কান্ট ব্যাট, কান্ট বোল, কান্ট ফিল্ড নামে এ পুস্তক প্রকাশ করেন।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Player Profile: David Gower"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০০৯ 
  2. Gower, pp. 42–43.
  3. Gower, p. 44
  4. Frindall, Bill (2009). Ask Bearders. BBC Books. p. 106. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৬০৭-৮৮০-৪.
  5. "The Cooper Associates County Ground, Taunton / Records / One-Day Internationals / High scores"। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৭ 
  6. "Border, Harvey, Gower, Underwood inducted into Hall of Fame". The Sports Campus. 17 July 2009. Retrieved 16 July 2009.
  7. ""ICC Hall of Fame". ICC. Retrieved 3 April 2009."। ১৬ জুলাই ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০১৩ 
  8. "Wisden's Five Cricketers of the Year"। ESPNcricinfo - Wisden। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০০৯ 
  9. ""Nature in Art - Trust". Nature in Art Trsut. Retrieved 23 March 2010."। ৯ মে ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  10. "The class of '81". BBC News. 14 August 2001. Retrieved 11 March 2009.
  11. "Eric Sykes wins Oldie award". BBC News. 5 February 2002. Retrieved 2 April 2009.
  12. "The Oldie Website Retrieved 2 April 2009"। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  13. "Amazon.co.uk written works by David Gower". Amazon.co.uk. Retrieved 4 April 2009.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
বব উইলিস
মাইক গ্যাটিং
ইংল্যান্ড ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮৩/৮৪-১৯৮৬
১৯৮৯
উত্তরসূরী
মাইক গ্যাটিং
গ্রাহাম গুচ