লিওনেল টেনিসন, তৃতীয় ব্যারন টেনিসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
লিওনেল টেনিসন
চিত্র:লিওনেল টেনিসন.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম লিওনেল হালামনটেনিসন
জন্ম (১৮৮৯-১১-০৭)৭ নভেম্বর ১৮৮৯
ওয়েস্টমিনস্টার, লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু ৬ জুন ১৯৫১(১৯৫১-০৬-০৬) (৬১ বছর)
বেক্সহিল-অন-সী, সাসেক্স, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৮০)
১৩ ডিসেম্বর ১৯১৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট ১৬ আগস্ট ১৯২১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯১৩–১৯৩৫ হ্যাম্পশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৭৭
রানের সংখ্যা ৩৪৫ ১৬,৮২৮
ব্যাটিং গড় ৩১.৩৬ ২৩.৩৩
১০০/৫০ –/৪ ১৯/৬৬
সর্বোচ্চ রান ৭৪* ২১৭
বল করেছে ৩,৭৫৬
উইকেট ৫৫
বোলিং গড় ৫৪.১০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৫০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬/– ১৭২/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ২২ নভেম্বর ২০১৭

লিওনেল হালাম টেনিসন, তৃতীয় ব্যারন টেনিসন (ইংরেজি: Lionel Tennyson; জন্ম: ৭ নভেম্বর, ১৮৮৯ - মৃত্যু: ৬ জুন, ১৯৫১) লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি দলে প্রয়োজনে ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন লিওনেল টেনিসন। এছাড়াও, হ্যাম্পশায়ার ও ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

বিখ্যাত কবি আলফ্রেড লর্ড টেনিসনের নাতি ছিলেন লিওনেল টেনিসন। ১৯২৮ সালে পিতার কাছ থেকে পদবীধারী হন। এরপূর্বে সম্মানীয় লিওনেল টেনিসন নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর কাকার নামও তাঁর নামের।[১]

এটন কলেজে অধ্যয়নকালীন তিনি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। নিয়মিতভাবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার জন্য ১৯১৩ সালে হ্যাম্পশায়ার ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। সেখানে তিনি খুব কমই বোলিং করতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে রাইফেল ব্রিগেডে কাজ করেন ও ফ্রান্সে নিযুক্ত হন। দুইবার তাঁকে ফেরৎ পাঠানো হয় ও তিনবার আহত হন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের পক্ষে নয় টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে তাঁর। তন্মধ্যে, ১৯১৩-১৪ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে পাঁচটিতে অংশ নেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর।

১৯২১ সালে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে পূর্বেকার ছয় টেস্টে পরাজিত হয় ইংল্যান্ড দল। লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্য তাঁকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ খেলাটিতে ইংল্যান্ড পরাজিত হলেও জ্যাক গ্রিগরিটেড ম্যাকডোনাল্ডের ন্যায় ক্ষিপ্রগতির বোলারদেরকে মোকাবেলা করে অপরাজিত ৭৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। এ ইনিংসের প্রভাবে সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোর জন্য নিয়মিত অধিনায়ক ডগলাসের পরিবর্তে তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।

পরবর্তী খেলায়ও তারা হেরে যায়। চূড়ান্ত দুই টেস্টও ড্রয়ে পর্যবসিত হয়। অধিনায়ক হিসেবে তিন খেলার প্রথমটি হেডিংলিতে দল পরিচালনা করেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস চলাকালে ফিল্ডিং হাত গুটিয়ে রাখেন কিন্তু পরবর্তীতে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ায় ব্যস্ত রাখেন যা উইজডেনের ভাষায় ঝুড়ি রক্ষাকারী। তিনি ৬৩ ও ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন।

ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে বেশ কয়েকবার টেস্টবিহীন খেলায় অংশগ্রহণের জন্য সফর করেন। ১৯১৪ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হন।[২]

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯১৯ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ার ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন লিওনেল টেনিসন। তন্মধ্যে, ১৯২২ সালে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণীয় খেলাটিতেও দলকে পরিচালনা করেছেন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫ রানে গুটিয়ে যায় হ্যাম্পশায়ার দল। ফলো-অনের কবলে পরে তারা ৫২১ রান তুলে ও শেষ পর্যন্ত ১৫৫ রানে জয় পায় হ্যাম্পশায়ার।[৩]

সামরিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৩৩ সালে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ফ্রম ভার্স ও ওর্স’ প্রকাশ করেন। যুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো পশ্চিম রণাঙ্গন থেকে তাঁর ফিরে আসাকে ঘিরে এ গ্রন্থে তুলে ধরেন তিনি।

৯ আগস্ট, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের চেলসীভিত্তিক আঞ্চলিক সেনা ইউনিট রয়্যাল আর্টিলারির ৫১তম হেভি এন্টি-এয়ারক্রাফ্ট রেজিমেন্টের সম্মানীয় কর্নেল হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এ পদে নিযুক্ত ছিলেন লিওনেল টেনিসন।[৪][৫]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্লেয়ার টেনান্ট নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির তিন পুত্রসন্তান ছিল। তবে ১৯২৮ সালে তাঁদের সম্পর্ক বিবাহ-বিচ্ছেদে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৪ সালে ক্যারল এণ্টিংকে আবারও বিয়ে করেন। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত এ বিয়ে টিকে।[৬]

৬ জুন, ১৯৫১ তারিখে ৬১ বছর বয়সে পূর্ব সাসেক্সের বেক্সহিল-অন-সী এলাকায় তাঁর দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Tennyson, Lionel (TNY873L)"A Cambridge Alumni Databaseকেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় 
  2. "Wisden Cricketers of the Year" (English ভাষায়)। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-২১ 
  3. "Warwickshire v Hampshire 1922"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৭ 
  4. Monthly Army List 1931–39.
  5. Burke's Peerage.
  6. "Major Lionel Hallam Tennyson, 3rd Baron Tennyson"The Peerage। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]