নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
NSTU (নোবিপ্রবি)
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো.gif
ধরনসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত২০০৬
আচার্যরাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্যপ্রফেসর ডঃ এম আহিদুজ্জামান
শিক্ষার্থী৪৫০০ জন
ঠিকানানোয়াখালী
শিক্ষাঙ্গন১০১ একর
সংক্ষিপ্ত নামNSTU (নোবিপ্রবি)
অধিভুক্তিবিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইটnstu.edu.bd

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত একটি সরকারী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নোয়াখালী জেলার সোনাপুরে ১০১ একর জায়গা ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত।[১] এটি বাংলাদেশের ২৭ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে ২০০৬ সালে।

অবস্থান[সম্পাদনা]

নোবিপ্রবিতে কাশফুল বন
নোবিপ্রবির শহীদ মিনার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালী জেলা শহর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কের পশ্চিম পাশে একশ এক একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।[২] ২০১৫ সালে নোবিপ্রবিতে ১০ হাজার স্কোয়ার ফিটের নতুন লাইব্রেরি ভবন স্থাপন করা হয়। এর নির্মান খরচ প্রায় দুই কোটি বিশ লাখ টাকা।[৩] এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, ৫ তলা ও ১০ তলা বিশিষ্ট দুইটি একাডেমিক ভবন এবং অডিটোরিয়াম ভবন রয়েছে ।[৪] ২০১৮ এর জানুয়ারিতে আরেকটি একাডেমিক কাম ল্যাব ভবনের কাজ শুরু হয়েছে যার আয়তন ৪ লক্ষ ৩২ হাজার বর্গফুট যা ২০২০ সালে উদ্বোধন হবে এবং তখন এটিই হবে বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ একাডেমিক ভবন ।[৫][৬] বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি আবাসিক হল যথাক্রমে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল, বিবি খাদিজা হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল যার মধ্যে একটি বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৃহত্তম ছাত্রী হল।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের ১২টি জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-২০০১ কার্যকর হয়।[২] ২০০৩ সালের অক্টোবরে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। ২০০৫ সালের ২৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।[৭] ২৩ জুন ২০০৬ ইং প্রথম একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে এই বিশ্ববিদ্যালয় ৪টি বিভাগ নিয়ে এর কার্যক্রম আরম্ভ করে। এগুলো হলো: কম্পিউটার বিজ্ঞান ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল, মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান, ফার্মেসী, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ টি বিভাগ চালু আছে।[২]

উপাচার্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক আবুল খায়ের। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান।

নাম স্থিতিকাল
অধ্যাপক আবুল খায়ের (২০০৫-২০০৮)[৮]
অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার অধিকারী[৯] (২০০৮-২০১০)
অধ্যাপক এ কে এম সায়েদুল হক চৌধুরী[১০] (২০১০-২০১৪)
অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান[১১] (২০১৪-বর্তমান)

অনুষদ সমূহ[সম্পাদনা]

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে।[১২]

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ[সম্পাদনা]

  • কম্পিউটার বিজ্ঞান ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ
  • তড়িৎ ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগ
  • ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগ

বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগ
  • ফার্মেসী বিভাগ
  • অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ
  • ফলিত গণিত বিভাগ
  • খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ
  • পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
  • জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগ
  • প্রাণরসায়ন বিভাগ
  • কৃষি বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজ কল্যাণ বিভাগ
  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিক্ষা বিভাগ
  • অর্থনীতি বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ
  • ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

শিক্ষা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • শিক্ষা বিভাগ
  • শিক্ষা প্রসাশন বিভাগ

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

  • আইন বিভাগ

ইনস্টিটিউট সমূহ[সম্পাদনা]

তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট[সম্পাদনা]

  • সফটওয়্যার প্রকৌশল বিভাগ

তথ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট[সম্পাদনা]

  • তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ

আবাসিক হল সমূহ[সম্পাদনা]

ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল
  • ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল
  • জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (নির্মাণাধীন)
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক স্পিকার জনাব আবদুল মালেক উকিল হল
  • হযরত বিবি খাদিজা হল
  • বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (নির্মাণাধীন)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "যেখানে স্বপ্নেরা বেড়ে ওঠে"। দ্যা ডেইলি সান। ৫ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  2. "নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়"noakhali.gov.bd 
  3. "নোবিপ্রবিতে নতুন লাইব্রেরি ভবন উদ্বোধন"। education24.net। সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  4. "নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আজকের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ"। বর্ণমালা টেলিভিশন। ১৮ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  5. "নোবিপ্রবি ৩য় একাডেমিক ভবন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন"nstu.edu.bd। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  6. "যে কারণে ভর্তিচ্ছুদের পছন্দের শীর্ষে নোবিপ্রবি"। দৈনিক অধিকার। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  7. "আরেকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু"। দ্যা ডেইলি স্টার। জুন ১৩, ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  8. "আরো তিনজন উপাচার্যকে সরানো হল"। bdnews24.com। মে ২০, ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 
  9. "গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন ছাড় নয়"। The Daily Star। মে ২২, ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 
  10. "নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-নোবিপ্রবি"educarnival.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 
  11. "নোবিপ্রবির উপাচার্য নিয়োগ বৈধঃ হাই কমিশনার"। The Daily Star। আগস্ট ৯, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 
  12. "অনুষদসমূহ"nstu.edu.bd। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]