বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়.png
নীতিবাক্য Learn. Think. Innovate
ধরন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত ২০১১
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিন
শিক্ষার্থী ৮০০০ জন (প্রায়) [১]
অবস্থান গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ
শিক্ষাঙ্গন ৫৫ একর
সংক্ষিপ্ত নাম বশেমুরবিপ্রবি (BSMRSTU)
অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট www.bsmrstu.edu.bd

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি নব্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দেশের ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। ২০১১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্ম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। বাংলাদেশের যেসব জেলায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই তেমন ১২টি বৃহত্তর জেলায় ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়। এই ৬টির মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি ছিল একটি। ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. এম. খায়রুল আলম খানকে প্রকল্প পরিচালক নিযুক্ত করে গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়। প্রকল্প পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণ (প্রায় ৫৫একর) এবং জমি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করেন। ইতোমধ্যে ২০০১ সালের ৮ জুলাই মহান জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয়। ২০০১ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৪ জুলাই তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর ড. এম. খায়রুল আলম খানকে নিয়োগের সুপারিশ করেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ১৯ জুলাই ২০০১ উক্ত নিয়োগ অনুমোদন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষে ১৫ জুলাই ২০০১ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তত্তাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বিচারপতি লতিফুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণ করেই প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান গোপালগঞ্জ, রংপুর ও রাঙ্গামাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়। ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. খায়রুল আলম খানের নিয়োগ বাতিল করে এবং তাঁকে তাঁর পূর্বতন প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হয়। ২০০৯ সালের নভেম্বরে স্থগিত প্রকল্পটি পুনর্জীবিত হয় এবং ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রফেসর ড. এম. খায়রুল আলম খানকে আবারও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করে এবং ২০ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ আইন-২০০১ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসআরও জারী করে। পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান প্রফেসর ড. এম. খায়রুল আলম খানকে পুনরায় ৪ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন এবং ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মেয়াদ শেষ করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিনকে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে ৪ বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা[সম্পাদনা]

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন-২০২১ কে টার্গেট করে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাত্র ০৫টি বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও আগামি ১০ বছরে পর্যায়ক্রমে ৩২ বিষয় খোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে আরও দুটি গবেষণা ইনস্টিটিউট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ইনস্টিটিউট দুটি বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

প্রায় ৫৫ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় । বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর একনেকে ৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশ হয়। অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক ভবন, ছাত্র হল ০২টি, ছাত্রী হল ০১ টি, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, ক্যাফেটারিয়া, মসজিদ, ভিসির বাসভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডরমিটরি ২টি, কর্মচারীদের কোয়ার্টার, পানি শোধনাগার, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদি। শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে ছাত্রদের ৫০০ আসন বিশিষ্ট ০২টি এবং ছাত্রীদের ২৫০ আসন বিশিষ্ট ০১টি হলে ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ৩টি হল, একাডেমিক ভবন ও লাইব্রেরি ভবনের নামকরণ করেছে। হল তিনটির নাম যথাক্রমে "স্বাধীনতা দিবস হল", "বিজয় দিবস হল" এবং "বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল।" একাডেমিক ভবনের নাম- আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন এবং লাইব্রেরি ভবনের নাম- একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরি ভবন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ০২টি ডরমিটরি, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী কোয়ার্টার, লাইব্রেরি ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়া, সীমানা প্রাচীর এবং প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ রয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে বাস ২টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি । দেওয়া হয়েছে দ্রুত গতির ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড ও ওয়াই ফাই) সংযোগ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করতে গড়ে তোলা হয়েছে ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ল্যাব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সম্প্রতি একনেকের সভায় ১০৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক ভবন-২, ছাত্র ও ছাত্রীদের ২টি হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, কর্মচারীদের কোয়ার্টার, বঙ্গবন্ধুর মুরাল, মেইন গেট, অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরি ভবনের সম্প্রসারণ, দৃষ্টিনন্দন জলাধার, জিমনেশিয়াম নির্মাণ, পুকুর খনন ইত্যাদি।

শিক্ষা পদ্ধতি[সম্পাদনা]

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকার কোর্স ক্রেডিট সিস্টেম পদ্ধতি চালু রয়েছে। সেমিস্টার পদ্ধতির এ শিক্ষা ব্যবস্থায় কোর্স যথাসময়ে শেষ হয় বিধায় কোনো সেশনজট থাকে না৷ আটটি সেমিস্টারে শিক্ষাপর্ব শেষ হয় ৷ হাতে-কলমে শিক্ষা দানের জন্য এখানে রয়েছে সমৃদ্ধ গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরি ৷

একাডেমিক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

প্রথম পর্যায়ে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে চারটি অনুষদ; ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিস এবং হিউমেনিটিজ অনুষদে পাঁচটি বিভাগ যথাক্রমে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স, গণিত, ব্যবস্থাপনা এবং ইংরেজি বিভাগ খোলা হয় এবং প্রতি বিভাগে ৩২ জন করে মোট ১৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে আরও নতুন ২টি অনুষদ (জীব বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান) ও ৬টি বিভাগ চালু হয়। বিভাগগুলো হলো- ফার্মেসি, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয় এবং ১১ বিভাগে মোট ৫২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে আরও ৩টি বিভাগ ও একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট চালু হয়েছে। বিভাগগুলো হলো বাংলা, লোক প্রশাসন ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস। গবেষণা ইনস্টিটিউটটির নাম হলো "Bangabandhu Institute of Liberation War and Bangladesh Studies"। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ১৪ বিভাগে সর্বমোট ৬৭০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। ২০১১-১২,২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ১৪টি বিভাগে ৭৪৭ জন এবং উক্ত ইনস্টিটিউটে পিএইচডি'র ২জন ও এম ফিল কোর্সে ৫জন শিাক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।[২]

আবাসিক হল[সম্পাদনা]

ছাত্রঃ

  1. বিজয় দিবস হল
  2. স্বাধীনতা দিবস হল

ছাত্রীঃ

  1. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল
  2. নতুন ছাত্রী হল [৩]

লাইব্রেরি[সম্পাদনা]

একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরি

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

সূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]