জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক.svg
ধরন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত ১৯৭০
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
প্রভোস্ট ১৬
উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম
অধ্যক্ষ ০১
ডীন
অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা
৭৫৫(২০১৪)
শিক্ষার্থী ১৬,৭৮১(২০১৪) [১]
স্নাতক ১০,৯৮৩(২০১৪)
স্নাতকোত্তর ৩,৫০১(২০১৪)
২,২৭৪(২০১৪)
ঠিকানা সাভার, ঢাকা, ঢাকা, বাংলাদেশ বাংলাদেশ
২৩°৫২′৫৭″ উত্তর ৯০°১৬′০২″ পূর্ব / ২৩.৮৮২৪° উত্তর ৯০.২৬৭১° পূর্ব / 23.8824; 90.2671স্থানাঙ্ক: ২৩°৫২′৫৭″ উত্তর ৯০°১৬′০২″ পূর্ব / ২৩.৮৮২৪° উত্তর ৯০.২৬৭১° পূর্ব / 23.8824; 90.2671
শিক্ষাঙ্গন ৬৯৭.৫৬ একর
সংক্ষিপ্ত নাম জাবি(JU)
অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট www.juniv.edu

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি অন্যতম এবং একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার অদূরে সাভার এলাকায় প্রায় ৬৯৭.৫৬ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। ১৯৭০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও সম্পূর্ণরূপে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ও মানবিকী, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক, সমাজ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও আইন অনুষদ এবং ৪ টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের নাম ড. ফারজানা ইসলাম। উপাচার্য ড.ফারজানা ইসলাম বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে ২০১৪ সালের ২ রা মার্চ থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ পথ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ
পরিযায়ী পাখি

১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।[২][৩] ১৯৭৩ সালে এটির নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।[২] ঢাকা শহরের মুঘল আমলের নাম "জাহাঙ্গীরনগর" থেকে এই নামকরণ করা হয়।[৪] প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন ছাত্র নিয়ে ৪ টি বিভাগ চালু হয়; বিভাগগুলো হচ্ছে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান।[৫] ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেন । তার আগে ১৯৭০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত কবি সৈয়দ আলী আহসান, লোকসাহিত্যবিদ মজহারুল ইসলাম, লেখক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আ ফ ম কামালউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েস, আলাউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ । এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো শিক্ষকতা করেছেন অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, লেখক হায়াত্‍ মামুদ, লেখক হুমায়ুন আজাদ, নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি মোহাম্মদ রফিক (সদ্য অবসরপ্রাপ্ত), অধ্যাপক মুস্তাফা নূরুল ইসলাম, আবু রুশদ মতিনউদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ইতিহাসবিদ বজলুর রহমান খান, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আনু মুহাম্মদ প্রমুখ।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে পুরোদমে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ক্রমে বিভাগের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের প্রথম নৃবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে দুইটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা করলেও পরের বছর কলা ও মানবিকী অনুষদ খোলা হয়। আইন অনুষদের অধীন আইন ও বিচার বিভাগ ২০১১ সালে পদচারনা শুরু করে। বিভাগের প্রথম সভাপতি ড. শাহাবুদ্দিন। ২০১৫ সালে আইন ও বিচার বিভাগের ১ম ব্যাচ এলএল.বি সম্পন্ন করে। বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যক্রম শুরু করে।[৬] বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অনুষদ সংখ্যা ৬ টি।

বাংলাদেশের স্বায়ত্বশাসিত প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছাত্রসংখ্যায় এটি ক্ষুদ্রতম। কিন্তু বিভিন্ন জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এরশাদ সরকারের আমলে শিক্ষা আন্দোলন ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে ছাত্ররা অংশগ্রহণ করে। ১৯৯৮ সালে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মানিক ও তার সঙ্গীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হয়। পূণরায় প্রত্যাবর্তন করলে ১৯৯৯ সালের ২রা আগস্ট তারিখে শিক্ষার্থীদের এক অভ্যুত্থানে ওই অভিযুক্তরা পূনরায় বিতাড়িত হয়। এই আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন বলে পরিচিত। পরে ২০০৫, ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় বেতন ও ডাইনিং চার্জ বৃদ্ধি বন্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, পানি সরবরাহ, আর্থিক স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন করে।

বিদ্যায়তনিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড উল্লেখযোগ্য। মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এছাড়া উয়ারী ও বটেশ্বরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননকার্য, দেশীয় নাট্যচর্চায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অবদান, বিদ্যায়তনিক নৃবিজ্ঞান চর্চায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের পথপ্রদর্শন সুবিদিত।

অবস্থান ও ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিমে অবস্থিত। এটি ৬৯৭.৫৬ একর (২.৮ বর্গকিলোমিটার) জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি উত্তরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, উত্তর-পূর্বে সাভার সেনানিবাস, দক্ষিণে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং পূর্বে একটি বৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদন খামার (ডেইরি ফার্ম) দ্বারা পরিবেষ্টিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির শ্যামল পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য জলাশয় একে পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে যার ফলে এটি পাখি পর্যবেক্ষকদের এক পছন্দের জায়গা। এটিই বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সার্বজনীন স্বীকৃত।

মীর মশাররফ হোসেন হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট সমূহ[সম্পাদনা]

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
রসায়ন বিভাগ

অনুষদসমূহ[সম্পাদনা]

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ৩৫ টি বিভাগ রয়েছে।[৭]

এগুলো হল -

সমাজবিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • অর্থনীতি বিভাগ
  • ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
  • সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ
  • লোকপ্রশাসন বিভাগ

গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ[সম্পাদনা]

  • গণিত বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
  • ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ
  • কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ

কলা ও মানবিকী অনুষদ[সম্পাদনা]

  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • ইতিহাস বিভাগ
  • দর্শন বিভাগ
  • নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ
  • প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
  • জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ‍বিভাগ
  • চারুকলা বিভাগ

জীববিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদ[সম্পাদনা]

  • উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
  • প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
  • ফার্মেসী বিভাগ
  • প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ
  • মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ
  • বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • পাবলিক হেলথ্ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
  • মার্কেটিং বিভাগ
  • একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

  • আইন ও বিচার বিভাগ

ইন্সটিটিউটসমূহ[সম্পাদনা]

  • ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ-জেইউ)[৮]
  • ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আই আই টি)
  • ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং
  • বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট

অন্যান্য[সম্পাদনা]

  • ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র
  • ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষনা কেন্দ্র
  • ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র
  • সেন্টার অব এক্সিলেনস ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ[সম্পাদনা]

শহীদ মিনার[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের উচ্চতম শহীদ মিনার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

স্থপতি রবিউল হুসাইনের তত্বাবধানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সম্মুখে ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের ও ১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসাবে ৫২ ফুট ব্যাস ও ৭১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনারটি অবস্থিত। ৮টি সিঁড়ি ও ৩টি স্তম্ভ বিশিষ্ট; দৃঢ়তার প্রতীক ত্রিভুজ আকৃতির ঋজু কাঠামোটিতে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য মহান বীর শহীদ-গণের আত্মত্যাগের মহিমা বিধৃত হয়েছে। ৮টি সিঁড়ি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৮টি তাৎপর্যপূর্ণ বছর ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সাল-গুলোর এবং তিনটি স্তম্ভের একটি বাংলাভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অপর দুইটি মাটি ও মানুষ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।

ভাস্কর্য[সম্পাদনা]

সংশপ্তক[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সংশপ্তক । এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার উর্ধে তুলে ধরেছেন । এর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান ।

অমর একুশ[সম্পাদনা]

সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে রয়েছে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ভাস্কর্য অমর একুশ । এর স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন ।

সরণিসমূহ[সম্পাদনা]

  • কবির সরণি

সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান কবিরের স্মরণে কবির সরণির নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সড়ক থেকে আ.ফ.ম কামালউদ্দিন হল পর্যন্ত এ সরণি বিস্তৃত ।

  • মুন্নী সরণি

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মুন্নীর স্মরণে আল বেরুনী হলের সামনে রয়েছে মুন্নী সরণি।

  • জুবায়ের সরণি

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসন্তোষ-কে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা ও ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান । বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল পর্যন্ত এ সরণি বিস্তৃত ।

  • স্বপ্না সরণি

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী স্বপ্নার স্মরণে মিহির চত্ত্বর থেকে নওয়াব ফয়েজুন্নেসা হল পর্যন্ত বিস্তৃত এ সরণি ।

আবাসিক হলসমূহ[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট হল সংখ্যা ১৬টি, এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ৮টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৮টি হল রয়েছে।

আল বেরুনী হল[সম্পাদনা]

আসন ৫০০+, স্থাপিত ১৯৭০। ১ঌ৬৮-৬ঌ সালে ১২৮ কক্ষ বিশিষ্ট ৪(চার) তলার এই ছাত্রাবাসটি নির্মিত হয়৷ ১ঌ৭ঌ সালে খ্যাতনামা জ্ঞানসাধক `আল-বেরুনী'র নামানুসারে এই হলের নামকরণ করা হয়৷এই হল এ একটি মূল ভবনের পাশাপাশি একটি সম্প্রসারিত ভবন ও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে মহিলাদের জন্য আলাদা কোন হল না থাকায় আল বেরুনী হলের সংগে সংযুক্ত করে ১ঌ৭১-৭২ শিক্ষাবর্ষে মোট (তেইশ) জন ছাত্রীর নামে হলে সিট বরাদ্দ করা হয়; ১ঌ৭৮ সনে ছাত্রীদের জন্য ১টি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হল (নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল) নির্মিত হলে আল বেরুনী হলের ছাত্রী ভর্তি বন্ধ করা হয়৷

মীর মশাররফ হোসেন হল[সম্পাদনা]

"মীর মশাররফ হোসেন হল" ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নির্মিত হয়েছে ১৯৭৩ সালে। ১ঌ৭৮ সালের ১৪ এপ্রিল অনষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে হলটির নাম করণ করা হয় “মীর মশাররফ হোসেন হল”৷ প্রজাপতির প্রতিকৃতিতে নকশাকৃত এই হলটির স্থপতি ছিলেন, মাজহারুল ইসলাম।

শহীদ সালাম-বরকত হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০, স্থাপিত ১৯৮৭। ১ঌ৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বৃহত্তম এই হলের যাত্রা শুরু হয় ও ১ঌ৮৫ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১০৬তম সভায় নাম রাখা হয় শহীদ সালাম-বরকত হল৷

আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০, স্থাপিত ১৯৮৬। ১ঌ৮৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এ হলেরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তত্‌কালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন; কাজ শেষ হয় ১ঌ৮ঌ সালের ৩১ ডিসেম্বর, কিন্তু হলের নির্মাণ কাজ শেষ হবার আগেই কর্মরত অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন মৃতু্বরণ করেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচিত উপাচার্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ঌ৮৮ সালের ১০ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় তাঁর নামে এই হলের নামকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷

মওলানা ভাসানী হল[সম্পাদনা]

আসন ৭৬৮, স্থাপিত ১৯৯২।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল[সম্পাদনা]

আসন ৭৮৪, স্থাপিত ২০০১ ।

ফজিলাতুন্নেসা হল[সম্পাদনা]

১ঌ৮৬ সালের অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি মহিলা হল নং-২ রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ও ১ঌ৮৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এই হলে ছাত্রীদের সিট বরাদ্দ করা হয়৷ ১ঌঌ০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৪৫ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফজিলাতুন্নেসা হল নামে নামকরণ করা হয়৷ ফজিলাতুন্নেসা বেগম প্রথম বাঙ্গালী স্নাতকধারী নারী ছিলেন ।

নওয়াব ফয়জুননেসা হল[সম্পাদনা]

আসন ২০০+, স্থাপিত ১৯৭৮। ১ঌ৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি স্বতন্ত্র হল ও ১৪ এপিল সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই ছাত্রী হলটির নামকরণ করা হয় নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল৷ হলটি এক নম্বর হল বলেও পরিচিত।

প্রীতিলতা হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০+, স্থাপিত ১৯৯৪। স্থাপতি ফয়সাল মাহবুব এর নকশাকার। ১ঌঌ৭ সালের ৩১ আগষ্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার এটি “প্রীতিলতা হল” নামে নামকরণ করা হয়৷ দুদিকে লেক বেষ্টিত এ হলে ৫০৪ জন ছাত্রীর আসন রয়েছে৷

জাহানারা ইমাম হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০+, ১ঌঌ৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়৷

বেগম খালেদা জিয়া হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০+, স্থাপিত ২০০৫

শহীদ রফিক-জব্বার হল[সম্পাদনা]

আসন- স্থাপিত 2010; seat 700+

শেখ হাসিনা হল[সম্পাদনা]

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ৬ষ্ঠ হল হিসেবে শেখ হাসিনা হল ২০১৪ সালের ১২ জুন থেকে যাত্রা শুরু করে।[৯]

বেগম সুফিয়া কামাল হল[সম্পাদনা]

বাংলা সাহিত্যে কবি বেগম সুফিয়া কামালের অবদানকে স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ৭ম হল হিসেবে ২০১৫ বেগম সুফিয়া কামাল হল যাত্রা শুরু করে।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হল[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব -এর নামে মেয়েদের ৮ম হল হিসেবে ২০১৭ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হল যাত্রা শুরু করে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল[সম্পাদনা]

১৯ আগষ্ট ২০১৭ সাল হতে হলটি ছাএদের বসবাসের জন‍্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৭০০ ছাএ হলটিতে বসবাস করতে পারে। হলটির বর্তমান প্রাধ্যক্ষ‍ হচ্ছেন ড.অতীশ বরণ পাল। সবচেয়ে সুন্দর ও নব্যতম হল। রয়েছে সবচেয়ে বেশি আধুনিক সুযোগ সুবিধা। হলে পিছনে রয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরর লীলাভূমি ছায়াময় শান্তিনিকেতন।

সংগঠন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছেঃ

রাজনৈতিক

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো হল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন

সাংস্কৃতিক

উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জলসিঁড়ি, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, আনন্দন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, উত্থানপাঠ, প্রপদ, জাহাঙ্গীরনগর স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি, কহনকথা, অস্তিত্ব প্রভৃতি।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও লেখক-শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বিত সামাজিক-রাজনৈতিক জোট বা সংগঠন। জোট ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে। পরে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় আন্দোলনে সংগঠনগুলো একইভাবে অংশগ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এক ছাত্রসভায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জোট ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে। এই সকল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একটি স্থায়ী কাঠামোর প্রয়োজন অনুভূত হয় । এভাবেই আটানব্বুই সালে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের ময়দানে যাত্রা করে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট। বর্তমানে এই জোটে ১২টি সংগঠন রয়েছেঃ জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জলসিঁড়ি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, আনন্দন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।

বিজ্ঞান সংঘ
বিবিধ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সেবামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন জেলার ছাত্র কল্যাণ সমিতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব, জাহাঙ্গীরনগর এডভেঞ্চার ক্লাব, লিও ক্লাব অব লিবার্টি, রোট্যারাক্ট ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর, বাঁধন, জাহাঙ্গীরনগর প্রোগ্রামারস ক্লাব, এক্সপ্লোরার্স, লিও ক্লাব, পিডিএফ, কাশফুল, বন্ধুসভা, স্বজন সমাবেশ, যাযাদি ফ্রেন্ডস ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, বি.এন.সি.সি. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কন্টিনজেন্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল সমিতি।[১০]

কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.ugc.gov.bd/uploads/2015/annualreport/Part-1-2.zip
  2. ৪০ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
  3. 'জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়' অধ্যাদেশ - ১৯৭০।
  4. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।
  5. সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
  6. Independent, The। "Jahangirnagar University to launch new institute"Jahangirnagar University to launch new institute | theindependentbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-০৫ 
  7. "Faculties" (ইংরেজি ভাষায়)। Jahangirnagar University। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  8. "About IBA-JU"Institute of Business Administration, Jahangirnagar University (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৬ 
  9. "Student's Accommodation - Jahangirnagar University" (ইংরেজি ভাষায়)। 
  10. http://www.bd24live.com/bangla/mobile/article/73499/index.html

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]