রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো
নীতিবাক্য "ঐশী জ্যোতিই আমাদের পথ প্রদর্শক"
ইংরেজিতে নীতিবাক্য
Heaven's Light is Our Guide
ধরন সরকারি
স্থাপিত ১৯৬৪
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বেগ
অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা
২৫৪[১]
শিক্ষার্থী ৩৬৪৬
অবস্থান রাজশাহী, বাংলাদেশ
শিক্ষাঙ্গন ১৫২ একর (০.৬১ বর্গ কিমি)
অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট www.ruet.ac.bd

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি ভাষায়: Rajshahi University of Engineering and Technology; সংক্ষেপেঃ রুয়েট) বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং উত্তরাঞ্চলের একমাত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

রুয়েট প্রশাসনিক ভবন

রুয়েট ক্যাম্পাস রাজশাহী শহর থেকে ৩ কি.মি. পূর্বে বহমান পদ্মার তীর ঘেষে অবস্থিত। তার পূর্বেই রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রুয়েট ক্যাম্পাসের আয়তন ১৫২ একর। এতে ডিপার্টমেন্ট ভবন, ল্যাবেরেটরি, ওয়ার্কশপ, লাইব্রেরী, জিমনেশিয়াম, কেন্দ্রীয় সাধারণ কক্ষ, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা অবস্থিত। রুয়েটগেট থেকে পাঁচ কিমি পশ্চিমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাঁটাখালী নর্দার্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এটি ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে ১২২ জন ছাত্র নিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখন এখানে যন্ত্রকৌশল, পুরকৌশল এবং তড়িৎকৌশল বিভাগের অধীনে সন্মান ডিগ্রী প্রদান করা হত। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারনে এর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। কারণ এর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করত শিক্ষা মন্ত্রনালয়; একাডেমিক ক্যারিকুলাম ঠিক করত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করত পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৭৩ সালে কয়েকটি কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিশন ও কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের চারটি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় কে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ডঃ ওয়াহিদ উদ্দীনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়।এই কমিটি দেশের চারটি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় কে একত্রে নিয়ে ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) গঠন করে। কিন্তু সীমিত স্বায়ত্তশাসন এবং বিআইটি অধ্যাদেশের কিছু সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারনে এই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছিল। তখনই বিআইটি গুলিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপন্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি পাশের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এটিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। মোট শিক্ষকের সংখ্যা দুই শতাধিক।

অনুষদ ও বিভাগ[সম্পাদনা]

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েটে বর্তমানে ৪ টি পূর্নাঙ্গ অনুষদের অধীনে মোট ১৮ টি ডিগ্রী প্রদানকারী বিভাগ আছে।

অনুষদের নাম বিভাগ সমূহ আসনসংখ্যা
তড়িৎ এবং কম্পিউটার কৌশল অনুষদ তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ
তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল বিভাগ
ইলেক্ট্রনিক ও টেলিকমিউনিকেশন কৌশল বিভাগ
১২০
১২০
৬০
৬০
যন্ত্রকৌশল অনুষদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন কৌশল বিভাগ
যন্ত্রকৌশল বিভাগ
গ্লাস ও সিরামিক কৌশল বিভাগ
মেকাট্রোনিক্স বিভাগ
ম্যাটেরিয়াল সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
৬০
১২০
৩০
৩০
৩০
পুরকৌশল অনুষদ পুরকৌশল বিভাগ
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ
স্থাপত্য বিভাগ
বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
১২০
৩০
৩০
৩০
অ্যপ্লাইড সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ কেমিক্যাল ও ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
পদার্থ বিভাগ
মানবিক বিভাগ
রসায়ন বিভাগ
গণিত বিভাগ
৩০





গবেষণাগারসমুহ[সম্পাদনা]

পুরকৌশল অনুষদ
  • সয়েল মেকানিক্স ল্যাব
  • স্ট্রেনথ অব মেটারিয়াল ল্যাব
  • ফ্লুইড ল্যাব
  • ইনভায়রেন্ট ল্যাব
  • পাবলিক হেলথ ল্যাব
  • ট্রানসপোর্টেশন ল্যাব
যন্ত্রকৌশল অনুষদ
  • মেট্রোলজি ল্যাব
  • হিট ইন্জিন ল্যাব
  • ফ্লুইড ল্যাব
  • উড শপ
  • মেশিন শপ
  • ফাউন্ড্রী শপ
  • বয়লার শপ
  • ওয়েল্ডিং শপ ও শিট মেটাল
  • কম্পিউটার ল্যাব
তড়িত ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল অনুষদ
  • ইলেক্ট্রনিক ল্যাব
  • ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিন ল্যাব
  • ইলেক্ট্রিক্যাল মেজারমেন্ট ল্যাব
  • টেলিকমিউনিকেশন ল্যাব
  • ন্যানোটেকনোলজি ল্যাব
কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • ডিজিটাল ও হার্ডওয়্যার ল্যাব
  • সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক ল্যাব
  • সফটওয়্যার ল্যাব #২
  • আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ও রোবটিক্স ল্যাব
  • এনালাইটিক্যাল প্রোগ্রামিং ল্যাব

সুযোগ-সুবিধাসমূহ[সম্পাদনা]

লাইব্রেরী[সম্পাদনা]

এখানে ২ তলা লাইব্রেরী আছে। র্বতমানে তা সম্প্রসারনের কাজ চলছে।

চিকিৎসা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের সম্মুখে মেডিক্যাল সেন্টারটি অবস্থিত। দুইজন এমবিবিএস ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে মেডিক্যাল অফিসার ও কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে উঠা মেডিক্যাল সেন্টারটি ছাত্রদের সকল শারীরিক অসুস্থতার আরোগ্যসাধন করে থাকে। এখানে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য মেডিক্যাল সেন্টারের নিজস্ব একটি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

কম্পিউটার সেন্টার[সম্পাদনা]

প্রত্যেক বিভাগীয় ভবনে একটি করে অত্যন্ত আধুনিক কম্পিউটার সেন্টার রয়েছে।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক[সম্পাদনা]

মিলনায়তন[সম্পাদনা]

রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের পাশেই ৭০০ আসনবিশিষ্ট শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি আধুনিক মিলনায়তন রয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব সেমিনার রুম ও কনফারেন্স হল রয়েছে।

আবাসিক হল[সম্পাদনা]

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ছাত্রদের জন্য ৬টি এবং ছাত্রীদের জন্য ১টি আবাসিক হল আছে। হলগুলোর নামকরনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যতীত সকলেই উক্ত প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদত বরন করেন।

হলের নাম বর্তমান প্রভোস্ট আসনসংখ্যা
শহীদ লেঃ সেলিম হল অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম ৩৫০
শহীদ প্রেসিডেণ্ট জিয়াউর রহমান হল অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান রিপন ৫০০
শহীদ শহিদুল ইসলাম হল অধ্যাপক বশির ২২০
শহীদ আব্দুল হামিদ হল অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ২২০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর হল। ছাত্র কল্যাণ উপদ্রেষ্টা, রুয়েট ২৫০
টিনশেড হল অধ্যাপক ড. মির্জা গোলাম রাব্বানী ১০০
দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল[২][৩] অধ্যাপক ড. নীরেন্দ্র নাথ মুস্তাফী ১৫০

এছাড়া ছাত্র/ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন ২ টি আবাসিক হল নির্মাণ করা হবে যা একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।

ব্যায়ামাগার[সম্পাদনা]

রুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ইনডোর গেম্‌স খেলার সুবিধার্থে শহীদ শহিদুল ইসলাম হলের সামনে একটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ব্যায়ামাগার রয়েছে।

মসজিদ[সম্পাদনা]

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সুদৃশ্য একটি জামে মসজিদ রয়েছে। রাজশাহী নগরীতে রুয়েটের এই মসজিদ বহুল আলোচিত। দুই ঈদেই এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পানি সংগ্রাহাগার ও ওয়াটার ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্ট[সম্পাদনা]

বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে রুয়েট ক্যাম্পাসে একটি বিশাল পানি সংগ্রাহাগার ও একটি ওয়াটার ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্ট স্থাপিত হয়েছে।

ক্যাফেটেরিয়া[সম্পাদনা]

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে চমৎকার একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। এখানে কমদামে বেশ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া যায়।

সংগঠন এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

  • আইইইই রুয়েট ছাত্র শাখা;
  • রোবোটিক সোসাইটি অফ রুয়েট;
  • ডিবেটিং সোসাইটি অফ রুয়েট;
  • রুয়েট সাহিত্য সংঘ (রুসাস);
  • ম্যাথেমেটিকাল সোসাইটি অফ রুয়েট;
  • ধ্রুবক;
  • রুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাব;
  • ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ রুয়েট
  • অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ক্লাব
  • রুয়েট চেস ক্লাব
  • রুয়েট সকার সোসাইটি
  • রুয়েট প্রোগ্রামিং এসোসিয়েশন
  • টেলিকমিউনিকেশন ক্লাব
  • ব্লগারস এসোসিয়েশন অফ রুয়েট
  • অ্যস্ট্রনমিকাল সোসাইটি অব রুয়েট
  • এন্ড্রয়েড ডেভেলপার অফ রুয়েট।

কৃতি শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

  • শহীদ মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট সেলিম মো. কামরুল হাসান, বীর প্রতীক - '৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী, ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি, পাকিস্তানি বাহিনীর স্থানীয় দোসরদের হাত থেকে অবরুদ্ধ মিরপুর মুক্ত করতে গিয়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেন;
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শহিদুল ইসলাম - '৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে হানাদার পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।

চিত্রমালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "UGC Annual Report 2008"। সংগৃহীত ২০১১-০১-১৭ 
  2. UK BD news
  3. বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:বাংলাদেশের সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়