বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(উদীচী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
নীতিবাক্যএ যুগের চারণ মোরা, মানুষের গান শুনিয়ে যাই যেখানে মতের বিভেদ, মিলনেরই মন্ত্র শোনাই…
গঠিত২৮ অক্টোবর ১৯৬৮; ৫৭ বছর আগে (1968-10-28)
প্রতিষ্ঠাতাসত্যেন সেন
রণেশ দাশগুপ্ত
ধরনসাংস্কৃতিক সংগঠন
সদরদপ্তরঢাকা
অবস্থান
  • ১৪/২ তোপখানা সড়ক
যে অঞ্চলে
বাংলাদেশ
ক্ষেত্রসমূহসঙ্গীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি, চারুকলা ও সাহিত্য
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা, ইংরেজি
সভাপতি
হাবিবুল আলম (ভারপ্রাপ্ত)
সাধারণ সম্পাদক
জামশেদ আনোয়ার তপন
ওয়েবসাইটudichi.org.bd

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (সংক্ষেপে - উদীচী) হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন।[] ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন উদীচী গঠন করেন।[] পরবর্তী সময়ে রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার সহ একঝাঁক তরুণ উদীচীর সাথে সম্পৃক্ত হন।[] জন্মলগ্ন থেকে উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম করে আসছে। উদীচী ’৬৮, ’৬৯, ’৭০, ’৭১ সালে বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে গড়ে তোলে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। এ সংগ্রাম গ্রাম-বাংলার পথে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে উদীচীর কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। দেশের সকল গণতান্ত্রিক, মৌলবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে এ সংগঠন বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে সারাদেশে উদীচীর তিন শতাধিক শাখা রয়েছে। দেশের বাইরেও ছয়টি দেশে শাখা রয়েছে উদীচীর। ২০১৩ সালে এই সংঠনটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক লাভ করে।[]

বিভাগ ও শাখা

[সম্পাদনা]

উদীচীর অধীনে সঙ্গীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি, চারুকলা, চলচ্চিত্র ও সাহিত্য বিভাগ কাজ করছে। বর্তমানে ৯১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সংসদের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী উদীচীর কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রকে ভিত্তি করে ৭১টি জেলা সংসদ এবং জেলা সংসদের অধীনে ৩১৫টি শাখা রয়েছে।[] জেলা কমিটি সমূহ ৪৭ সদস্য বিশিষ্ট এবং শাখা কমিটি সমূহ ২৫ সদস্য বিশিষ্ট। বর্তমানে উদীচীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকার ১৪/২ তোপখানা সড়ক (দোতলায়) অবস্থিত। এছাড়াও প্রবাসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ফ্রান্স, ও অস্ট্রেলিয়ায় উদীচীর ৬টি শাখা রয়েছে।[]

কার্যক্রম

[সম্পাদনা]
নাটক

উদীচী প্রযোজিত মঞ্চনাটক সমূহের মধ্যে নরক গুলজার, মিছিল, ধলা গেরামের নাম, অভিশপ্ত নগরী, চিরকুমার সভা, বিবাহ উৎসব,বৌ বসন্তি, শুভ্র তিমির, চিলেকোঠার সেপাই, বৌ বসন্তি ও হাফ আখড়াই প্রধান। পথনাটকগুলির মধ্যে রয়েছে আরও মানুষ চাই, দিন বদলের পালা, রাজা রাজা খেল, মাদারীর খেল, তেভাগার পালা, রাজাকারের প্যাঁচালী, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ইতিহাস কথা কও, তাঁতাল, সংগ্রামই সুন্দর ইত্যাদি। এর মধ্যে “ইতিহাস কথা কও” গীতি আলেখ্যটি বাংলাদেশের হাটে মাঠে ঘাটে শত সহস্রবার পরিবেশিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে বিরোধ

[সম্পাদনা]

২০২৫ সালের ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি উদীচীর ২৩তম জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল।[] সম্মেলনের শেষ দিনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষ তৈরি হয়। দুটি পক্ষই আলাদা করে দুটি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে। উভয় পক্ষে অধ্যাপক বদিউর রহমানকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে এক পক্ষে জামসেদ আনোয়ার তপন এবং আরেক পক্ষে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দের নাম ঘোষণা করা হয়।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. উদীচী (৩ জুলাই ২০২০)। "গঠনতন্ত্র: একবিংশ জাতীয় সম্মেলনে সংশোধিত"বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫
  2. উদীচী (৫ নভেম্বর ২০২৪)। "উদীচীর ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী"বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫
  3. উদীচীই পারে চ্যালেঞ্জ নিতে, দৈনিক সমকাল]
  4. "Udichi's anniversary celebration across the country"দ্য ডেইলি স্টার। ৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১৭
  5. 1 2 "উদীচী পরিচিতি"বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫
  6. প্রতিবেদক, নিজস্ব (২১ জুন ২০২৫)। "উদীচীর এক পক্ষের উদ্যোগে কাউন্সিল অধিবেশন করে নতুন কমিটি ঘোষণা"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫
  7. জনকণ্ঠ, দৈনিক। "উদীচীতে শিল্পীগোষ্ঠীতে ভাঙন, কাউন্সিল শেষে দুই কমিটি ঘোষণা"দৈনিক জনকণ্ঠ || Daily Janakantha (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]