মুদ্রা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মুদ্রা পণ্য বা সেবা আদানপ্রদানের জন্য একটি বিনিময় মাধ্যম। এটি অর্থের একটি ধরন। অর্থ হচ্ছে সেই সকল বস্তু যা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারেন্সি জোন বা মুদ্রা এলাকা হচ্ছে একটি দেশ বা এলাকা যেখানে একটি নির্দিষ্ট মুদ্রাই অর্থনীতির প্রধান বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অধিকাংশ দেশেই একটি নির্দিষ্ট মুদ্রা যোগান ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্যরা আবার নিজেদের মাঝে অভিন্ন মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করে থাকে।

সাধারণত একটি নির্দ্দিষ্ট সরকারের প্রচলিত মুদ্রা এবং কাগজের টাকা রাষ্ট্রটির অর্থমুদ্রার যোগানের কায়িক দিকটি সামলায়। একটি রাষ্ট্রের অর্থমুদ্রার যোগানের অন্য অংশটি ব্যাঙ্ক জমা (কখনও জমা অর্থমুদ্রা বলা হয়) দ্বারা গঠিত হয়, যার মালিকানা ধনাদেশ (চেক), ডেবিট কার্ড, বা অর্থমুদ্রা হস্তান্তরের অন্য মাধ্যমে হস্তান্তর করা যায়। জমা অর্থমুদ্রা এবং প্রচলিত মুদ্রা দুটিই আদায়ের উপায় হিসাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য একে অর্থমুদ্রা বলে গণ্য করা হয়।

মুদ্রা বিনিময়ের প্রতীক

প্রচলিত মুদ্রা রূপে অর্থমুদ্রাই মানব সভ্যতায় প্রায় ১০,০০০ BCE থেকেই প্রভুত্ব বিস্তার করতে শুরু করে। সাধারণত, নিহিত মূল্যের মোহর (সোনা বা রূপা) প্রমান ছিল। প্রায় সকল আধুনিক অর্থমুদ্রাতন্ত্রই রাজ-আজ্ঞা অর্থমুদ্রা (fiat money)র ওপর ভিত্তিশীল — সরকারী আজ্ঞা (রাজ-আজ্ঞা) বলতে আধুনিক প্রচলিত মুদ্রাই মূল্য লাভ করে। সাধারণত, সরকার 'রাজ-আজ্ঞা প্রচলিত মুদ্রা'কে বিধিসম্মত মূল্যবেদন পত্র হিসাবে ঘোষণা করে (নিদর্শনস্বরূপ, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ছাপানো কাগজী মুদ্রা ও মোহর/মুদ্রা)। ফলস্বরূপ, 'রাজ-আজ্ঞা প্রচলিত মুদ্রা'কে সরকারি বা ব্যক্তিগত সকল ঋণ পরিশোধের উপায় হিসাবে গ্রহণ না করাটা আইন বিরুদ্ধ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আদিম প্রচলিত মুদ্রা

প্রচলিত মুদ্রা 2000 BC র আশে-পাশে সংঘটিত হওয়া দুটি মৌলিক অভিযোজন থেকে ক্রমবিকাশ লাভ করে। মূলত অর্থমুদ্রা প্রাপ্তির একটা প্রকার ছিল যা প্রাচীন কালের Mesopotamia(তখনকার প্রাচীন ইজিপ্টের Sumer)-এর দেবালয়ের ভাণ্ডারে সঞ্চিত রাখা শস্যকে প্রতিনিধিত্ব করত।

মজুত মূল্যকে প্রতিনিধিত্ব করতে বিভিন্ন ধাতু এবং পণ্যসমূহকে প্রতিনিধিত্ব করবার জন্য বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহৃত হওয়া প্রচলিত মুদ্রার এই প্রথম পর্যাযটি Fertile Crescentতে ১৫০০ বছরেরও অধিককাল ব্যবসা-বাণিজ্যর ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।

টঙ্কন

এই পর্যায়ে প্রচলিত মুদ্রা হিসাবে ব্যবহৃত ধাতু নিজেই মূল্যের ভাণ্ডার হিসাবে পরিগণিত হত প্রথমে রূপা, পরবর্তী পর্যায়ে রূপা এবং সোনা দুটিই, এবং এক সময়ে তামার মিশ্রিত ধাতুর ব্যবহার হত। আজকাল আমরা তামা এবং অন্যান্য পরিশোধিত ধাতুর মুদ্রা ব্যবহার করি।

টঙ্কন ব্যবহৃত হওয়া অধিকসংখ্যক বৃহত্তর অর্থনীতিতে তামা, রূপা এবং সোনার মুদ্রার তিনটি স্তর গঠন করত। সোনার মুদ্রাসমূহকে বাজারি পরিমাণের ক্রয়-বিক্রয়, সামরিক খরচ আদায় এবং রাষ্ট্রের কার্যপ্রণালীতে সহায়তা করার জন্যে ব্যবহার করা হত। রূপার মুদ্রাসমূহকে মধ্যম আকারের লেনদেন সমূহের কারণে ব্যবহার করা হত। তাছাড়া, রূপার মুদ্রাসমূহ করের জন্য হিসাবের একক, দেয়, চুক্তি এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আনুগত্য আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হত। ঠিক সেইমত তামার মুদ্রাসমূহে সাধারণ লেনদেনের টঙ্কনকে প্রতিনিধিত্ব করা হত। এই ব্যবস্থা মহাজনপদ-এর সময় থেকে প্রাচীন ভারতে প্রচলিত ছিল।

কাগজী অর্থমুদ্রা

প্রাক্-আধুনিক চীনে ধার এবং হাজারটি তাম্র মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া অসুবিধা দূরীকরণের জন্য একটা সুবিধাজনক বিনিময়ের মাধ্যম প্রচারের প্রয়োজনীয়তাই কাগজী অর্থমুদ্রার সূচনা করেছিল। এই কাগজী অর্থমুদ্রা আজকের দিনে সমস্ত ব্যাঙ্ক নোট বা কাগজী টাকা হিসাবে পরিচিত।

ব্যাঙ্ক নোট বা অধিকোষ-পত্রের যুগ

একটি অধিকোষ-পত্র (যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় সাধারণত মূল্য-পত্র(bill) বলে পরিচিত) হল প্রচলিত মুদ্রার একটা প্রকার, এবং সাধারণত বিভিন্ন অধিকার-ক্ষেত্রে বিধিসম্মত মূল্যবেদন পত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়। মুদ্রার সাথে অধিকোষ-পত্রই সমস্ত অর্থমুদ্রার নগদ রূপটি গঠন করে। অষ্ট্রেলিয়ার Commonwealth Scientific and Industrial Research Organisation ১৯৮০ সালে বিশ্বর প্রথম polymer currency সৃষ্টি করে এবং একে ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রের দ্বিশতবার্ষিকী উত্সবে প্রচালনের কারণে গ্রহণ করা হয়। এখন ২২ টি দেশে ব্যবহৃত polymer currency অধিকোষ-পত্রের আয়ুস নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর সসাথে জালিয়াতিও রোধ করে।

আধুনিক প্রচলিত মুদ্রা[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিকভাবে, International Organization for Standardization প্রচলিত মুদ্রাকে ব্যাখ্যা করতে একটা ত্রি-বর্ণের সাংকেতিক পদ্ধতি (ISO 4217)র সূচনা করে যার দ্বারা ডলার বা ফ্রাঙ্ক বলে পরিচিত বহুসংখ্যক ভিন্ন মূল্যের প্রচলিত মুদ্রার ক্ষেত্রে দেখা দেয়া বিভ্রান্তি দূর হয়। উদাহরণস্বরূপ, এই পদ্ধতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত মুদ্রাকে বিশ্বব্যাপী USD দ্বারা বোঝানো হয়।

নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রণ[সম্পাদনা]

বহুলভাবে, নিজ প্রচলন ক্ষেত্রটিতে মুদ্রা এবং কাগজী টাকা (রাজ-আজ্ঞা অর্থমুদ্রা)-র নির্গমনে একটা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের একচেটীয়া নিয়ন্ত্রণ থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ব্যাঙ্কের (credit) দ্বারা প্রচলিত মুদ্রার প্রকাশন বা সৃষ্টি বিত্তীয়/আর্থিক নীতি (monetary policy)-র মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ^ Bernstein, Peter (2008) [1965]. "Chapters 4–5". A Primer on Money, Banking and Gold (3rd ed.). Hoboken, NJ: Wiley. ISBN 978-0-470-28758-3. OCLC 233484849
  2. ^ Deardorff, Prof. Alan V. (2008). "Deardorff's Glossary of International Economics". Department of Economics, University of Michigan. Retrieved 2008-07-12.
  3. ^ Black, Henry Campbell (1910). "A Law Dictionary Containing Definitions Of The Terms And Phrases Of American And English Jurisprudence, Ancient And Modern", page 494. West Publishing Co. Black’s Law Dictionary defines the word "fiat" to mean "a short order or warrant of a Judge or magistrate directing some act to be done; an authority issuing from some competent source for the doing of some legal act"
  4. ^ Banaji, Jairus (2007). "Islam, the Mediterranean and the Rise of Capitalism". Historical Materialism (Brill Publishers) 15 (1): 47–74. doi:10.1163/156920607X171591. ISSN 1465-4466. OCLC 440360743. Retrieved August 28, 2010.
  5. ^ Lopez, Robert Sabatino; Raymond, Irving Woodworth; Constable, Olivia Remie (2001) [1955]. Medieval trade in the Mediterranean world: Illustrative documents. Records of Western civilization.; Records of civilization, sources and studies, no. 52. New York: Columbia University Press. ISBN 0231123574. OCLC 466877309
  6. ^ Turk, James; Rubino, John (2007) [2004]. The collapse of the dollar and how to profit from it: Make a fortune by investing in gold and other hard assets. (Paperback ed.). New York: Doubleday. pp. 43 of 252. ISBN 9780385512244. OCLC 192055959
  7. ^ "CARICOM Single Market (CSM) ratified! – Caribbean leaders sign formal document". Jamaica Gleaner (Kingston, Jamaica: The