বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
Bogra Cantonment Public School & College
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ.png
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এর অফিসিয়াল মনোগ্রাম
ধরনক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
স্থাপিত১৯৭৯
অধ্যক্ষকর্নেল মোঃ বদরুল আহসান পিএসসি
শিক্ষার্থী৫৮৮২+ (২০১৫ সালের হিসাবানুসারে)
অবস্থান
বগুড়া সেনানিবাস, মাঝিড়া, বগুড়া
ওয়েবসাইটbcpsc.edu.bd

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে শাজাহানপুর উপজেলা বগুড়া সেনানিবাস এর অভ্যান্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

পটভুমি ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

সেনানিবাসে কর্মরত সেনাসদস্যদের সন্তান-সন্ততি ও পোষ্যদের যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের জন্য অন্যান্য সেনানিবাসের মতো বগুড়া সেনানিবাসে ‘ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেনানিবাসমূহ মূল শহর হতে দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যদের এই মৌলিক প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি সেনানিবাস সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজসমূহ বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ‘বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অন্যতম। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল তুলনামূলক পশ্চাৎপদ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি তার সূচনালগ্ন থেকে সক্রিয় রয়েছে।[১]

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিভিন্ন শ্রেণিকে প্রভাতি ও দিবা দুই শাখায় বিভক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণিকে প্রভাতি শাখায় এবং পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণিকে দিবা শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৪০ পর্যন্ত প্রভাতি শাখা এবং ১১.০০ থেকে ৩.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত দিবা শাখার ক্লাস পরিচালিত হয়। এছাড়া কলেজ শাখায় একটি শিফটেই ৮.৩০ থেকে ২.০০ পর্যন্ত ক্লাস পরিচালিত হয়। এছাড়া প্রতি শ্রেণিতে বহু ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বিবেচনা করে প্রত্যেক শ্রেণিকে বিভিন্ন ফরমে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি শাখা, শ্রেণি ও ফরম যথাক্রমে উপাধ্যক্ষ, ইনচার্জ ও শ্রেণিশিক্ষকের তত্ত্বাবধাননে পরিচালিত হয়। তারা কর্মনিষ্ঠার সহিত স্বীয় কার্যক্ষেত্রের কর্মসম্পাদনসহ বিভিন্ন সমন্বয় সাধনে কাজ করেন। সমগ্র প্রতিষ্ঠানে ১৭৮ জন শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে ৭৭ জন প্রভাতি শাখায়, ৬০ জন দিবা শাখায় এবং ৪১ জন কলেজ শাখায় দায়িত্বরত রয়েছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক বিভাগে ১৬১ জন স্টাফ-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া সমগ্র প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে পরিচালনা পর্ষদ ও সম্পাদনা পর্ষদ। ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও বগুড়া এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ মোশফেকুর রহমান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সম্পাদনা পর্ষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এছাড়া ১১১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ইহতেশামুস সামাদ চৌধুরী প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং কর্নেল মোঃ বদরুল আহসান অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এঁদের পাশাপাশি দুজন অভিভাবক প্রতিনিধি ও দুজন শিক্ষক প্রতিনিধির সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ, স্কুল ও কলেজ শাখার কয়েকজন শিক্ষকবৃন্দ ও স্কুল ও কলেজ শাখার ক্যাপ্টেনদের সমন্বয়ে সম্পাদনা পর্ষদ গঠিত। একুশ শতকের সময়োপযোগী শিক্ষা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমে সবসময়ই আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষণ নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিবছর অভিজ্ঞ বিষয় শিক্ষকগণ নিজ বিষয়ের মানসম্পন্ন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করেন এবং সমগ্র শিক্ষাবছরে বিভিন্ন অভীক্ষার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই পাঠ্যসূচী সমাপ্ত হয়। শ্রেণিকক্ষে গতানুগতিক পাঠদানের পরিবর্তে প্রতি ক্লাসে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক পাঠ কার্যক্রম গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাঠপদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতা দূরীকরণের পাশাপাশি দ্রুত ও কার্যকরী পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। প্রতিদিন স্কুল শাখায় ছয়টি এবং কলেজ শাখায় সাতটি নিয়মিত পিরিয়ডে শিক্ষকমণ্ডলী যথাসম্ভব শ্রেণিতেই পাঠ আদায় করেন, শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চা অব্যাহত রাখতে বাড়িতেও কাজ প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ মূল্যায়ণের অংশ হিসেবে সকল শ্রেণিতেই বছরে দুইটি শ্রেণি অভীক্ষা এবং দুইটি ষাণ্মাষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং এসবের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল নির্ধারিত হয়। তবে ৫ম, ৮ম, ১০ম ও ১২শ শ্রেণির ক্ষেত্রে উল্লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি সার্বিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বেশকিছু মডেল টেস্ট ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবকদের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং মত বিনিময়ের জন্য প্রতিটি ক্লাসের জন্য নির্দিষ্ট দিনগুলিতে অভিভাবক দিবস পালিত হয়। দুর্বল ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীগণের পাঠোন্নতির জন্য বিশেষ ক্লাস আয়জিত হয় এবং বিষয় শিক্ষকগণ নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা পালন করেন।

বিভাগ সমূহ[সম্পাদনা]

বর্তমানে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এর স্কুল ও কলেজ শাখায় ৩ টি বিভাগ রয়েছে।[১] শাখাগুলো হল,

  1. বিজ্ঞান
  2. মানবিক
  3. ব্যবসায় শিক্ষা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]