বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
 বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
ক্যান্ট, পাবলিক স্কুল
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ.png
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এর অফিসিয়াল মনোগ্রাম
নীতিবাক্য" হে প্রভু, আমাকে জ্ঞান দাও "
ধরনক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
স্থাপিত১৯৭৯
অধ্যক্ষকর্নেল মোঃ হাবিবুর রহমান,পিএসসি
শিক্ষার্থী৫৯৭৬ (ডিসেম্বর,২০২০-এর হিসাবানুসারে)
অবস্থান
বগুড়া সেনানিবাস, মাঝিড়া, বগুড়া,বাংলাদেশ।
ওয়েবসাইটbcpsc.edu.bd
প্রতিষ্ঠাতা: শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে শাজাহানপুর উপজেলা বগুড়া সেনানিবাস এর অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সেনানিবাসে কর্মরত সেনাসদস্যদের সন্তান-সন্ততি ও পোষ্যদের যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের জন্য অন্যান্য সেনানিবাসের মতো বগুড়া সেনানিবাসে ১৯৭৯ সালে ‘ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেনানিবাসসমূহ মূল শহর হতে দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। ‘বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অন্যতম এবং উত্তরবঙ্গের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। [১]

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিভিন্ন শ্রেণিকে প্রভাতি ও দিবা দুই শাখায় বিভক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণিকে প্রভাতি শাখায় এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিকে দিবা শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৪০ পর্যন্ত প্রভাতি শাখা এবং ১১.০০ থেকে ৩.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত দিবা শাখার ক্লাস পরিচালিত হয়। এছাড়া কলেজ শাখায় একটি শিফটেই ৮.৩০ থেকে ২.০০ পর্যন্ত ক্লাস পরিচালিত হয়। এছাড়া প্রতি শ্রেণিতে বহু ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বিবেচনা করে প্রত্যেক শ্রেণিকে ৮টি থেকে ১০টি ফরমে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি শাখা, শ্রেণি ও ফরম যথাক্রমে উপাধ্যক্ষ, ইনচার্জ ও শ্রেণিশিক্ষকের তত্ত্বাবধাননে পরিচালিত হয়।

সমগ্র প্রতিষ্ঠানে ১৮৬ জন শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে ৭৯ জন প্রভাতি শাখায়, ৬০ জন দিবা শাখায় এবং ৪৯ জন কলেজ শাখায় দায়িত্বরত রয়েছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক বিভাগে ১৬১ জন স্টাফ-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া সমগ্র প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে পরিচালনা পর্ষদ ও সম্পাদনা পর্ষদ। ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও বগুড়া এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান, এনডিসি, পিএসসি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সম্পাদনা পর্ষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এছাড়া ১১১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম খায়ের উদ্দি্ন,‌ এএফডব্লিউসি, পিএসসি‌ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং কর্নেল মোঃ হাবিবুর রহমান, পিএসসি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এঁদের পাশাপাশি দুজন অভিভাবক প্রতিনিধি ও দুজন শিক্ষক প্রতিনিধির সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ, স্কুল ও কলেজ শাখার কয়েকজন শিক্ষকবৃন্দ ও স্কুল ও কলেজ শাখার ক্যাপ্টেনদের সমন্বয়ে সম্পাদনা পর্ষদ গঠিত।

বিভাগসমূহ[সম্পাদনা]

বর্তমানে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এর কলেজ শাখায় (একাদশ ও দ্বাদশ) ৩টি বিভাগ রয়েছে। যথা-

১. বিজ্ঞান

২. ব্যবসায় শিক্ষা

৩. মানবিক

বর্তমানে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এর স্কুল শাখায় ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে ২টি বিভাগ রয়েছে।[১] শাখাগুলো হল,

  1. বিজ্ঞান
  2. ব্যবসায় শিক্ষা

সাফল্য[সম্পাদনা]

২০২০ সালে সার্বিক মান বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজসমূহের মধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখা ‘শ্রেষ্ঠ স্কুল’ হিসেবে ১ম স্থান অর্জন করে ও কলেজ শাখা ‘দ্বিতীয় রানারআপ’ হিসেবে ৩য় স্থান অর্জন করে। ২০১৯ সালে স্কুল শাখা ‘শ্রেষ্ঠ স্কুল’ হিসেবে ১ম স্থান অর্জন করে ও কলেজ শাখা ‘প্রথম রানারআপ’ হিসেবে ২য় স্থান অর্জন করে। এছাড়াও স্কুল শাখা ২০০৬ সালে ২য় স্থান, ২০০৭ সালে ১ম স্থান, ২০১১ সালে ১ম স্থান, ২০১২ সালে ২য় স্থান, ২০১৩ সালে ১ম স্থান, ২০১৪ সালে ২য় স্থান, ২০১৫ সালে ৩য় স্থান, ২০১৬ সালে ২য় স্থান, ২০১৭ সালে ২য় স্থান, ২০১৮ সালে ২য় স্থান । কলেজ শাখা ২০১০ সালে ২য় স্থান, ২০১১ সালে ১ম স্থান, ২০১২ সালে ২য় স্থান, ২০১৩ সালে ৩য় স্থান অর্জন করে। বর্তমানে আন্তঃক্যান্টনমেন্ট সহ উপজেলা, জেলা, বিভাগ এমনকি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চ্যানেল আই-এ প্রচারিত ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ প্রতিযোগিতায় ‘সেরা বাংলাবিদ’ নির্বাচিত সাজেদুর রহমান শাহেদ অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এক উজ্জ্বল নাম। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েক বার ‘রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড’-এ প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বিগত ২০১৯ সালের পিইসি, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় যথাক্রমে ৯১.৮৮%, ৮০.২৯% ও ৫০.৩৩% এবং ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৯৬.৮৬% A+ সহ শতভাগ পাস করেছে। এছাড়া প্রতিবছর অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষার্থী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বুয়েট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইত্যাদি ক্ষেত্রে পড়াশোনা ও চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]