রানীশংকাইল উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রানীশংকাইল
উপজেলা
রানীশংকাইল বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
রানীশংকাইল
রানীশংকাইল
বাংলাদেশে রানীশংকাইল উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৩′২৯″উত্তর ৮৮°১৫′২৯″পূর্ব / ২৫.৮৯১৫° উত্তর ৮৮.২৫৮০° পূর্ব / 25.8915; 88.2580স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৩′২৯″উত্তর ৮৮°১৫′২৯″পূর্ব / ২৫.৮৯১৫° উত্তর ৮৮.২৫৮০° পূর্ব / 25.8915; 88.2580
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রংপুর বিভাগ
জেলা ঠাকুরগাঁও জেলা
আয়তন
 • মোট ২৮৭.৭৪ কিমি (১১১.১০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,২২,২৮৪
 • ঘনত্ব ৭৭০/কিমি (২০০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট ranisankail.thakurgaon.gov.bd

রানীশংকাইল উপজেলা বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান[সম্পাদনা]

রানীশংকাইল উপজেলা শহরে শিবদীঘি তেমাথা, বামে জেড৫০০৪ সড়কের আরম্ভ।

রানীশংকৈল উপজেলাটি হলো ঠাকুরগাঁও জেলা এবং রংপুর বিভাগের অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম কর্ণরে অবস্থিত। এর আয়তন ২৮৭.৫৯ বর্গকিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা থেকে রানীশংকৈলের দুরত্ব প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার। এই উপজেলার উত্তর দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা, পূর্বে পীরগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে হরিপুর উপজেলা এবং দক্ষিণে ভারতের পশ্চিম বঙ্গ অবস্থতি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীনকালে এই অঞ্চল বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ১৭৯৩ সালে রানীশংকৈল অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[২] পরর্বতীতে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় পূর্ব পাকিস্তান এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্গত হয়। ১৯৮৪ সালের আগ পর্যন্ত রানীশংকৈল উপজেলাটি দিনাজপুর জেলার অধীনেই ছিলো ৮৪ সালে ঠাকুরগাঁও কে নতুন জেলা করা হলে রানীশংকৈল ঠাকুরগাঁও জেলার মধ্যে আসে।

১৯৪৬ সালে রানীশংকৈল উপজেলায় তেভাগা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় কৃষক নারীরা লাঠি, ঝাঁটা, দা-বটি, কুড়াল যে যা হাতের কাছে পায় তাই দিয়ে পুলিশকে বাঁধা দেয়। একজন বন্দুকধারী পুলিস নারী ভলান্টিয়ারদের প্রতি অসম্মানজনক উক্তি করে গালি দেয়। কৃষক নেতা ও রাজবংশী নারী ভাণ্ডনীর নেতৃত্বে কৃষক নারীরা পুলিসটিকে গ্রেপ্তার করে সারারাত আটক রাখে। ভাণ্ডনী সারারাত বন্দুক কাঁধে করে তাকে পাহারা দেয়।[৩]

নদনদী[সম্পাদনা]

রানীশংকাইল উপজেলার পূর্ব পাশ থেকে কুলিক নদীর দৃশ্য।

রানীশংকাইল উপজেলায় চারটি নদী রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে নাগর নদী, কুলিক নদী, নোনা নদী এবং তীরনই নদী[৪][৫] এর মধ্যে কুলিক এবং নোনা হলো বাংলাদেশের দুটি নদী যেগুলো বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারতে পৌছেছে। এছাড়া সারা দেশে অন্য যে নদীগুলো আছে সেগুলো ভারত থেকে এসেছে। অথবা ভারতে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে এসেছে আবার ভারতে গেছে।

কৃষি[সম্পাদনা]

২২ হাজার ৪০৫ দশমিক ০৯ হেক্টর জমি চাষ যোগ্য, ৬ হাজার ১১৫ দশমিক ৭৪ হেক্টর জমি পতিত অবস্থায় আছে। চাষ যোগ্য জমিগুলোর মধ্যে বছরে একবার ফসল উৎপন্ন হয় ৩০% জমিতে, দুই বার উৎপন্ন হয় ৫৫% জমিতে আর তিনবার বার তার বেশি ফসল উৎপন্ন হয় ১৫% জমিতে। চাষ যোগ্য জমির মধ্যে ৬৯% জমিতে সেচ ব্যবস্থ্যা আছে।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

রানীশংকাইল উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইউনিয়ন সমূহ হচ্ছে- * ধর্মগড় ইউনিয়ন; * নেকমরদ ইউনিয়ন; * হোসেনগাঁও ইউনিয়ন; * লেহেম্বা ইউনিয়ন; * বাচোর ইউনিয়ন; * কাশিপুর ইউনিয়ন; * রাতোর ইউনিয়ন এবং * নন্দুয়ার ইউনিয়ন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

রানিশনকৈল উপজেলার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক কৃষি কাজের সাথে জড়িত, আর বাকি অর্ধেক বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। এই উপজেলার অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী দেশর বিভিন্ন জেলা হতে এসেছেন।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • আলী আকবর, রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য
  • ইয়াসিন আলী, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য[৬]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে রাণীশংকৈল"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫ 
  2. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর জেলার ইতিহাস, কে পি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ২০০৬, পৃষ্ঠা ২১১
  3. সুপ্রকাশ রায়, তেভাগা সংগ্রাম; র‍্যাডিক্যাল কলকাতা, সংশোধিত দ্বিতীয় প্রকাশ, জানুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ১১-১২
  4. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৪০৫, ISBN 978-984-8945-17-9
  5. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১৭, ISBN 984-70120-0436-4.
  6. "নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা"। জাতীয় সংসদ। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ঠাকুরগাঁও জেলা Flag of Bangladesh.svg
উপজেলা: রানীশংকৈল  • বালিয়াডাঙ্গী  • হরিপুর  • পীরগঞ্জ  • ঠাকুরগাঁও সদর