জাতীয় রক্ষীবাহিনী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
জাতীয় রক্ষী বাহিনী
সক্রিয় ৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৭২ - ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
দেশ  বাংলাদেশ
আনুগত্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
ধরন রাজনৈতিক সৈন্যবাহিনী
ভূমিকা বিদ্রোহ দমন, সন্ত্রাসবাদ দমন,[১] সাম্যবাদ বিরোধী, রাজনৈতিক প্রয়োগকারী
আকার ২,০০০ নিয়োগপ্রাপ্তসহ প্রায় ৮,০০০ জন
সদর দপ্তর শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা
ডাকনাম রক্ষীবাহিনী
পৃষ্ঠপোষক শেখ মুজিবুর রহমান
মাস্কট শেখ মুজিবুর রহমানের তর্জনী
বিযুক্ত আগস্ট, ১৯৭৫

জাতীয় রক্ষীবাহিনী একটি নিয়মিত আধা-সামরিক বাহিনী যা নবপ্রতিষ্ঠ বাংলাদেশে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে গঠন করা হয়। শুরুতে মুজিব বাহিনীকাদেরিয়া বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এই বাহিনীর পত্তন করা হয়৤ ঢাকার শেরেবাংলা নগরে এই বাহিনীর সদরদপ্তর স্থাপন করা হয়। ক্যাপ্টেন এ. এন. এম. নুরুজ্জামানকে রক্ষীবাহিনীর প্রধান করা হয়৤ আনুষ্ঠানিক নাম জাতীয় রক্ষীবাহিনী হলেও সাধারণত এই বাহিনীকে ‘রক্ষীবাহিনী’ বা সংক্ষেপে জেআরবি (JRB) বলে অভিহিত হতো৤ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে এই বাহিনী অবলুপ্ত করা হয়। অবলুপ্ত হওয়ার পর রক্ষীবাহিনীর অনেক সদস্য নিয়মিত সামরিক বাহিনীতে আত্মীকৃত হন। [২][৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রাম চরম লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। কয়েক দিন পর ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বাহিনী ও ভূতপূর্ব ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর সদস্যদের নিয়ে একটি জাতীয় মিলিশিয়া গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।৤এই লক্ষ্যে একটি জাতীয় মিলিশিয়া বোর্ডও গঠন করা হয়। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সহ রাজনৈতিক নেতারা এই বোর্ডের সদস্য ছিলেন। অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ২৪ জানুয়ারি তারিখে এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার একটি আদেশ জারি করে।৤মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার এ. এন. এম. নূরুজ্জামানকে জাতীয় মিলিশিয়ার পরিচালক নির্বাচন করা হয়। এই মিলিশিয়ার গোড়াপত্তনকালে পিলখানা গোলযোগ এর কারণে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের সদস্যদের বাদ দিয়ে বিশেষ বাহিনী গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই অবস্থায় ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ তারিখে জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠনের সরকারি আদেশ জারি করা হয়। এ. এন. এম. নূরুজ্জামানকে এই বাহিনীর পরিচালক নিয়োগ করা হয়।৤এছাড়া সহকারী পরিচালক হিসেবে আনোয়ারুল আলম এবং সরোয়ার হোসেন মোল্লাকে নিযুক্ত করা হয়।

কাঠামো[সম্পাদনা]

রক্ষীয়বাহিনীর অধিনায়কদের “লিডার” পদবীতে আখ্যায়িত করা হতো।

দায়িত্ব ও কার্যকলাপ[সম্পাদনা]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

অবলুপ্তি[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব নিহত হন। এতে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পটভূমিতে মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। এই অভ্যুত্থানের পরবর্তী কয়েক মাস ছিল অস্থিতিশীল এবং নাটকীয় পরিবর্তনে ভরপুর।৤এ রকম একটি জায়মান অবস্থায় নতুন সরকার জাতীয় রক্ষীবাহিনীকে অবলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত সামরিক বাহিনীতে আত্মীকরণ করা হয়। এই অবলুপ্তির লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৯ অক্টোবর তারিখে সরকারি আদেশ প্রকাশ করা হয়। এই আদেশে বলা ছিল যে ১৯৭৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় রক্ষীবাহিনী অবলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে৤ [৪]

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় সামরিক অভ্যুত্থানে রক্ষীবাহিনীর কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. History of Bangladesh, Banglapedia
  2. আনোয়ার-উল আলম: রক্ষবিাহিনীর সত্য-মিথ্যা, প্রথমা প্রকাশণী, ঢাকা, ২০১৩৤
  3. মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (অব:) বীরবিক্রম : এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, ২০০০ খ্রি. পৃষ্ঠা: ৩৬-৩৭৤
  4. Bangladesh Gazette, 9th October 1975: "The Jatiyo Rakkhi (Absorption in the Army) Ordinance , 1975.

আরো দেখুন[সম্পাদনা]