১৯৭১ : ভেতরে বাইরে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
১৯৭১ : ভেতরে বাইরে
১৯৭১ ভেতরে বাইরে বইয়ের প্রচ্ছদ.jpg
১ম সংস্করণের কভার
লেখকএ কে খন্দকার
প্রচ্ছদ শিল্পীকাইয়ুম চৌধুরী
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
বিষয়স্মৃতিচারণ
ধরনসত্য ঘটনা
প্রকাশকপ্রথমা প্রকাশন
প্রকাশনার তারিখ
আগস্ট ২০১৪
পৃষ্ঠাসংখ্যা২৩২
আইএসবিএন[[বিশেষ:বইয়ের_উৎস/আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৯০৭৪৭ ৪ ৮|আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৯০৭৪৭ ৪ ৮]] আইএসবিএন বৈধ নয়

১৯৭১ : ভেতরে বাইরে হল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকার রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।[১] বইটিতে লেখক স্বাধীনতা যুদ্ধে ডেপুটি চীফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালনকালে প্রতক্ষ্যভাবে দেখা মুক্তিযুদ্ধের কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে। প্রকাশিত হওয়ার পর বইটিকে অনেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি বিকৃত ইতিহাস হিসাবে উল্লেখ করেছেন।[২]

সারসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

এ কে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ বাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ ছিলেন। ফলে তিনি যুদ্ধের নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ করেছেন, সফলতা ও ব্যর্থতাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং অনুভব করেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বইটিতে তিনি তার দেখা মুক্তিযুদ্ধের কিছু সফলতা, ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতার মূল্যায়ন চিত্র ১৫টি অধ্যায়ে তুলে ধরেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে প্রকাশের পরপরই বইটির কিছু তথ্যের কারণে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে কেউ কেউ তার সমালোচনা করেন।[৩] উক্ত গ্রন্থে তিনি লেখেন, শেখ মুজিব ৭ই মার্চ থেকে শুরু করে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত স্বাধীনতার কোন ঘোষণা দিয়ে যান নি, কোন লিখিত চিরকুট বা রেকর্ডকৃত কণ্ঠবার্তাও রেখে যান নি এবং পূর্বনির্ধারিত কোন দিকনির্দেশনাও দিয়ে যান নি।[৪][৫]

এদিন (৭ই মার্চ) বঙ্গবন্ধু যে ভাষণটি দিলেন, তা খুবই তির্যক ছিল। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বাঙালিরা ভাবতে আরম্ভ করল, সত্যিই কি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, আমরা কি যুদ্ধে নামব, নাকি গ্রামে চলে যাব। .. বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কিন্তু আমার মনে হয়েছে, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে, তা তিনি পরিষ্কার করেননি। তা ছাড়া জনগণকে যুদ্ধ করার জন্য যেভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন, তা করা হয়নি। ভাষণে চূড়ান্ত কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া গেল না। ভাষণটির পর মানুষজন ভাবতে শুরু করল--এরপর কী হবে?... বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণেই যে মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিল, তা আমি মনে করি না। এই ভাষণের শেষ শব্দগুলো ছিল "জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান"। তিনি যুদ্ধের ডাক দিয়ে বললেন, "জয় পাকিস্তান"! এটি যে যুদ্ধের ডাক বা স্বাধীনতার আহ্বান, তা প্রচণ্ডভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং তর্কাতীতও নয়।... একদিন আমি তাকে (তাজউদ্দীনকে) জিজ্ঞেস করেছিলাম, “স্যার, বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আপনি কি তার কাছ থেকে কোনো নির্দেশ পেয়েছিলেন?' উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'না, আমি কোনো নির্দেশ পাইনি।' ওই রাতে বঙ্গবন্ধু সবাইকে আত্মগোপন করার কথা বলেন, অথচ তিনি কোথায় যাবেন, সে কথা কাউকে বলেননি। যদি তিনি গ্রেপ্তার হন, তাহলে দলের নেতৃত্ব কী হবে, তা-ও তিনি কাউকে বলেননি। ... ২৫-২৬ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমান যে পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী হবেন, তিনি যে বাড়িতেই থাকবেন--এই সিদ্ধান্তটা তিনি দলের নেতৃস্থানীয় কারও সঙ্গে আলাপ করেননি । তেমনি বলে যাননি যে তিনি না থাকলে কে বা কারা নেতৃত্ব দেবেন এবং কোন লক্ষ্যে কাজ করবেন। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কি কোনো আলাদা কমিটি করতে হবে? তাদের কৌশলটা কী হবে? এঁদের কি কোনো কর্মসূচি থাকবে? সেখানে দলের প্রবীণদের কী ভূমিকা হবে, তরুণদেরই বা কী ভূমিকা হবে-এসব কোনো প্রশ্নের উত্তরই কারও জানা ছিল না।..... তাজউদ্দীন আহমদ স্বীকার করেছিলেন, সেই খসড়া ঘোষণাটি (২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা) তার নিজের লেখা ছিল এবং তিনি বঙ্গবন্ধুকে খসড়া ঘোষণাটি পাঠ করার প্রস্তাব করেছিলেন। .... তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “মুজিব ভাই, এটা আপনাকে বলে যেতেই হবে। ...' বঙ্গবন্ধু তখন প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, 'এটা আমার বিরুদ্ধে একটা দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের বিচার করতে পারবে।'[৪]

কিন্তু প্রকাশের পরপর সমসাময়িক আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দর মাঝে এবং সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং লেখক ও বইটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তথ্য বিকৃতির অভিযোগে মামলা করা হয়[৬], এবং লেখক বইটির উক্ত অংশ ও তৎসংশ্লিষ্ট আরও কিছু অংশ প্রত্যাহার করেন[৭] ও ২০১৯ সালের ১১ই আগস্ট এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ মুজিবের ব্যপারে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য জাতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ঘোষণা করেন।[৮]

এই প্রসঙ্গে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন,

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘‘জয় পাকিস্তান’’ বলেছিলেন বলে এ কে খন্দকারের প্রকাশিত বইয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। ১৯৭১ সালের ৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের সদস্যপদের শপথ নেওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। তবে ৭ মার্চের ভাষণে নয়। এমনকি ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যেখানে ‘‘পাকিস্তান’’ শব্দটি ব্যবহারের দরকার ছিল, সেখানে ‘‘পূর্ব পাকিস্তান’’ অথবা ‘‘বাংলাদেশ’’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। এ কে খন্দকারকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

[৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "খন্দকারের বই ১৯৭১ : ভেতরে বাইরে"। যুগান্তর। 
  2. "কারো না কারো প্ররোচনায় তথ্য বিকৃতিতে এ কে খন্দকার"। বিডি নিউজ২৪। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "এ কে খন্দকারের '১৯৭১: ভেতরে বাইরে': আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিক্রিয়া"। ২০১৪-০৯-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-০২ 
  4. খন্দকার, এ কে (২০১৪)। ১৯৭১: ভেতরে বাইরে। প্রথমা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ৩১–৫৬। আইএসবিএন 978-984-90747-4-8। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২০ 
  5. Chowdhury, Mukhlesur Rahman (২০১৯)। Crisis in Governance: Military Rule in Bangladesh during 2007–2008 (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge Scholars Publishing। পৃষ্ঠা 40। আইএসবিএন 978-1-5275-4393-5। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০২০ 
  6. "Court summons AK Khandaker"banglanews24.com। ১১ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২০ 
  7. "AK Khandker revises his book"Dhaka Tribune। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২০ 
  8. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন এ কে খন্দকার"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২০ 
  9. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন এ কে খন্দকার"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]