১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বাংলাদেশে অভ্যুত্থান
| ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বাংলাদেশে অভ্যুত্থান | |||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের সমাধি, বনানী কবরস্থান, ঢাকা | |||||||
| |||||||
| বিবাদমান পক্ষ | |||||||
|
|
সমর্থনকারী: | ||||||
| সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী | |||||||
|
|
| ||||||
| জড়িত ইউনিট | |||||||
| |||||||
| হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি | |||||||
|
নিহত : ৪৭+[৬] আহত : ৪৮+[৭] |
নিহত : ৩ আহত : ১ | ||||||
|
বিচার অভিযুক্ত : ২৪ মৃত্যুদণ্ড : ১২ | |||||||
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে অভ্যুত্থান হলো মধ্য সারির সশস্ত্র অফিসারদের দ্বারা সংগঠিত একটি সামরিক অভ্যুত্থান। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে অপসারণের পরিকল্পনা করেছিলেন এক দল সামরিক কর্মকর্তা।[৩][৪] শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য এ অভ্যুত্থানে নিহত হন।[৮][৯][১০]
১৯৭৫ সাল থেকে, বাংলাদেশ বিভিন্ন সামরিক সরকারের অধীনে ছিল, গণতন্ত্রকে কয়েকবার আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল যা ১৯৯০ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ছিল।[১১] শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা [১২] ১৯৭৫ সালের আগস্টে জার্মানিতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।[১২] শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।[১৩]
পটভূমি
[সম্পাদনা]এই নিবন্ধটি অন্য একটি ভাষা থেকে আনাড়িভাবে অনুবাদ করা হয়েছে। এটি কোনও কম্পিউটার কর্তৃক অথবা দ্বিভাষিক দক্ষতাহীন কোনো অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত হয়ে থাকতে পারে। |
শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।[১২] বাংলাদেশ ৯ মাসের একটি মুক্তিযুদ্ধের লড়াই করে যা বাংলাদেশি ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি মিত্র বাহিনীর কাছে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।[১৪] স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুজিবের শাসন ক্রমাগত দুর্নীতিগ্রস্থ এবং কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলো।[৪] ১৯৭৩ সালে তার দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে জয়লাভ করে।[১১] ১৯৭৫ সালের ৭ জুন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল যা সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করে বাংলাদেশে একটি একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা গঠিত হয় এবং মুজিব রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হন।[১৫]
১৯৭৩ সালে মেজর শরিফুল হক ডালিম ও তার স্ত্রী, গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেদের সাথে ঢাকা লেডিজ ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ল্যান্সার ইউনিট এবং ২ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের কিছু কর্মকর্তা ও সৈন্যরা গোলাম মোস্তফার বাসায় হামলা চালায়। [তথ্যসূত্র প্রয়োজন] গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। মেজর ডালিম, মেজর এসএইচএমবি নূর চৌধুরী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] মেজর ডালিম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন তবে তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কমিশন হারানো অফিসারদের মধ্যে মেজর ডালিম ও মেজর নূরও ছিলেন।[১৬] ১৯৭৪ সালে মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তিনি প্রায়শই মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাথে তার অসন্তুষ্টি নিয়ে আলোচনা করতেন যিনি ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ ছিলেন। পরবর্তীতে অভিযোগ উঠে জিয়াউর রহমান ফারুককে এ জাতীয় একটি সভায় পরিস্থিতি সম্পর্কে "কিছু করার" পরামর্শ দিয়েছিলেন।[১৭]
মেজর খন্দকার আবদুর রশিদ দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদকে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। মেজর খন্দকার রশিদ,এবং মেজর ডালিম এবং খন্দকার মোশতাক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তাদের অবশ্যই বাকশাল বাতিল করতে হবে এবং শেখ মুজিবকে অপসারণ করতে হবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] খন্দকার রশিদ এই পরিকল্পনার সাথে একমত হওয়া মেজর ফারুক রহমানকে অবহিত করেছিলেন এবং তাকে আরও বলা হয়েছিল যে মেজর জেনারেল জিয়া তাদের সমর্থন করবেন।[১৭]
অভ্যুত্থান কার্যকর
[সম্পাদনা]এই নিবন্ধটি অন্য একটি ভাষা থেকে আনাড়িভাবে অনুবাদ করা হয়েছে। এটি কোনও কম্পিউটার কর্তৃক অথবা দ্বিভাষিক দক্ষতাহীন কোনো অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত হয়ে থাকতে পারে। |
সেনানিবাস
[সম্পাদনা]১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সকালে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল।[১৮] ১৪ই আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনা ঘটলে এটিকে জাসদের কাজ বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। এদিন রাতে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালসহ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।[১৮] একই দিনে নোয়াখালীর কাছে একটি ভারতীয় সামরিক হেলিকপ্টার পাখির সাথে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হলে পাইলটসহ কিছু বিমান আরোহী নিহত হন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজমান থাকলেও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পরিস্থিতি স্বাভাবিক লক্ষ্য করা গিয়েছিল।[১৮]
১৫ আগস্ট ভোরে বিদ্রোহীরা ৪টি দলে বিভক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রতিটি দলকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং লক্ষ্য প্রদান করা হয়েছিল।[১৬] তারা নির্ধারিত লক্ষ্যের আশেপাশের সড়কে ট্যাংক ব্যবহার করে রোডব্লক তৈরি করে।[১৮] ভোর ৫:৩০টায় রাষ্ট্রপতির বাসভবন আক্রান্ত হয়।[১৮] মধ্যরাতে অভ্যুত্থান ঘটতে যাচ্ছে সোর্স মারফত এরকম একটি আভাস সর্বপ্রথম জানতে পারেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান ব্রিগেডিয়ার রউফ রাত অনুমান ২টা থেকে ৩টার দিকে। কিন্তু তিনি কাউকে জানাননি।[১৮] সেনাপ্রধান কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ দাবি করেন, অজানা আশঙ্কায় ব্রিগেডিয়ার রউফ তৎক্ষণাৎ তার বাসা ত্যাগ করে পরিবার নিয়ে বাসার পেছনে একটি গাছের নিচে লুকিয়ে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন ও সকালে বেরিয়ে এসে ব্যর্থতা ঢাকতে বিভিন্ন অসংলগ্ন গল্পের অবতারণা করেন এবং পত্রপত্রিকায় বিবৃতি দেন।[১৮] সেনাগোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাউদ্দিন সৈন্য ও ট্যাংক চলাচলের সংবাদ পান ৪:৩০ থেকে ভোর ৫ টার মধ্যে। এরপর তিনি ছুটে আসেন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর বাসায় এবং তাকে অবস্থা অবহিত করেন।[১৮] সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ রাষ্ট্রপতিকে পাওয়ার জন্য ক্রমাগত ফোন করতে থাকেন, কিন্তু পান না। এরপর তিনি চতুর্দিকে ফোন করতে থাকেন। সেনাপ্রধান ৫:৩০ টায় ব্রিগেড কমান্ডার শাফায়াত জামিলকে ফোনে পান। তিনি শাফায়াত জামিলকে প্রথম বেঙ্গল ও চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্ট মুভ করতে বললেও শাফায়াত জামিল নিষ্ক্রিয় থাকেন এবং দাবি করেন যে সেনাপ্রধান তাকে কোনো নির্দেশনা দেননি।[১৮] এরপর সেনাপ্রধান ডিজিএফআই প্রধান জামিল উদ্দিন আহমেদের সাথে ফোনে কথা বলেন। ডিজিএফআই প্রধান রাষ্ট্রপতির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভ্যুত্থানকারীদের হাতে নিহত হন।[১৮] সেনাপ্রধান ৫:৫০ টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে ফোনে পেলেন। রাষ্ট্রপতি তাকে বাসা আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ দেন। তখন আনুমানিক ৫:৫৫ টা। এরপর তার ফোনে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। শফিউল্লাহ ফোনে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান ও পরক্ষণেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।[১৮] এরপর সফিউল্লাহ উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ও বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে ফোন করে বাসায় আসতে বলেন। তিনি বিমানবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান এবং ঢাকার স্টেশন কমান্ডার এম এ হামিদকেও ফোন করেন। তারপর অফিসে ছুটে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। ভোর ৬ টার দিকে রাষ্ট্রপতি আক্রান্ত হয়ে নিহত হন।[১৮]
কর্ণেল হামিদ লেখেন, আক্রমণের আকস্মিকতা ও ব্যাপকতায় রক্ষীবাহিনী, পুলিশ, বিডিআরসহ সকল বাহিনী হতবুদ্ধি ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।[১৮] সবাই ধরে নেয় যে, এটা সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান। পরিস্থিতি ভালোভাবে পরখ না করেই কেউ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। এছাড়াও 'গোলাবিহীন' ট্যাঙ্কগুলি মূলত প্রতিরোধকারীদের মনে ভয় জাগানো বা মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে সেনাপ্রধান দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলেন। তিনি চরম মুহূর্তে টেলিফোন ও কথাবার্তায় অযথা সময় নষ্ট করলেন। মোট কথা, তিনি সবকিছুই করলেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতির সাহায্যার্থে একটি সৈন্যও মুভ করাতে পারলেন না।[১৮] তবে সঙ্গত কারণেই বোঝা যায়, ঘটনার ভয়াবহতায় তিনি দারুণ টেনশনে ভুগছিলেন। সম্ভবত উত্তেজিত হয়ে কিছুটা নার্ভাসও হয়ে পড়েন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নিরাপত্তাহীনতা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের প্রাণনাশের জন্য বহুলাংশে দায়ী ছিল।[১৮] মুজিব হত্যার রেডিও ঘোষণা ঢাকা ও দেশের সর্বত্র ভয়ঙ্কর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। এতে সবাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ঘোষণাও দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর নামে। সেটা ছিল একটা বড় 'ব্লাফ'। অংশগ্রহণকারী সৈনিকরা অভ্যুত্থান সম্পর্কে অবগত না থেকেই কেবল তাদের অফিসারদের নির্দেশ পালন করে।[১৮]
বঙ্গবন্ধু ভবন
[সম্পাদনা]রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন মেজর একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ। মেজর বজলুল হুদা রাষ্ট্রপতির বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রথম ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের অ্যাডজুট্যান্ট থাকায় তাকে দলে রাখা হয়েছিল। দলে মেজর এসএইচএমবি নূর চৌধুরীও ছিলেন । [১৭] রক্ষীদের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন আবুল বাশার মেজর ডালিমের অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১৯]
বাসা লক্ষ্য করে বাইরে থেকে আক্রমণকারী সৈন্যরা গুলিবর্ষণ শুরু করে দেয়।[১৮] বিদ্রোহীরা জোর করে বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাসভবন রক্ষা করতে যেয়ে কিছু রক্ষী নিহত হয়েছিল।[২০] বাসা আক্রান্ত হয়েছে দেখে কর্তব্যরত পুলিশরাও পাল্টা গুলি চালাতে থাকে। ওই সময় ছাদের ওপর থেকেও গুলির প্রতি-উত্তর দেয়া হয়।[১৮] গোলাগুলির মধ্যে শেখ মুজিব সশরীরে নিচে নেমে আসেন এবং কর্তব্যরত পুলিশের সাথে কথা বলতে থাকেন। সবাই ধরে নেয় এগুলো জাসদ ও সর্বহারা দলের চোরাগুপ্তা আক্রমণ।[১৮] ডিউটিরত পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু মনে করেছিলেন এবার হয়তো তার সাহায্যার্থে আর্মির লোকজন এসে গেছে। তাই তিনি 'সেইম রেইড' হয়ে যাবেন বলে মনে করে পুলিশকে ফায়ারিং বন্ধ করতে বলেন।[১৮] এরপর উপরে চলে যান। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে পুলিশ ফায়ারিং বন্ধ করলে আক্রমণকারীরা সহজেই বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে।[১৮] শেখ কামাল নিবাসকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন, আক্রমণকারীরা কমপ্লেক্সে প্রবেশের পরে তাকে ক্যাপ্টেন হুদা হত্যা করেছিলেন। শেখ মুজিব বিদ্রোহীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন "তোরা কী চাস?"। শেখ মুজিবকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মেজর নূর ও ক্যাপ্টেন হুদা তাঁকে গুলি করেন। শেখ মুজিবের ছেলে শেখ জামাল, জামালের স্ত্রী রোজী, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ মুজিবের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছাকে দ্বিতীয় তলায় মেজর আবদুল আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেমুদ্দিন গুলি করে তাদের সবাইকে গুলি করে হত্যা করে। মেজর ফারুক ঘটনাস্থলে ক্যাপ্টেন হুদাকে মেজর এবং সুবেদার মেজর আবদুল ওহাব জোয়ারদারকে লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি দেন। ফারুক এসে পৌঁছে গেলেন একটি ট্যাঙ্কে।[১৯][২১][২২] শেখ মুজিবের ডাক পেয়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধুর আবাসে যাওয়ার পথে নিহত হন। [২৩]
রক্ষীবাহিনী একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পরে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁদের বাড়ির বাইরে সারিবদ্ধ করা হয়। মেজর নূর অভ্যর্থনা এলাকার বাথরুমে শেখ মুজিবের ভাই শেখ নাসেরকে গুলি করেছিলেন। মেজর পাশা একজন হ্যাভিল্ডারকে মায়ের কাছে কাঁদতে থাকা শেখ রাসেলকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা সৈন্যদের বাড়ি লুটপাটের করতে দেখেছিল। প্রবেশ পথে একটি মৃত পুলিশের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেজর হুদা মোহাম্মদপুরের শেরশাহ রাস্তায় গিয়ে কার্পেটরদেরকে ১০ টি কফিনের অর্ডার করেন। মেজর হুদা পরের দিন সেনাবাহিনীর একজন সহচরের মাধ্যমে লাশগুলি সরিয়ে নিয়েছিল।[১৯]
শেখ ফজলুল হক মণির বাসভবন
[সম্পাদনা]শেখ ফজলুল হক মণি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ছিলেন এবং সম্ভবত একজন উত্তরসূরি হিসাবে দেখা হত। তিনি তার স্ত্রী বেগম আরজু মনির সাথে তার বাড়িতে মারা গিয়েছিলেন, যাকে সে সময় গর্ভবতী বলে বিশ্বাস করা হয়। তাঁর ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ ফজলে শামস পরশ বেঁচে গিয়েছিলেন।[২৪] ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে ১৩/১১ রোডে তাঁর বাড়িটি ২০-২৫ সেনা সদস্য দ্বারা ঘিরে ছিল।[২৫][২৬]
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবন
[সম্পাদনা]আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রাক্তন পানি সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের শ্যালক মিন্টু রোডে তার বাসায় ভোর ৫ টা ৫০ মিনিটে নিহত হন। তার বাড়িতে মেজর আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন মাজেদ, মেজর শাহরিয়ার রশিদ এবং ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন একটি দল আক্রমণ করেছিল। এই হামলায় সেরনিয়াবাতের ভাগ্নে শহীদ সেরনিয়াবাত, কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্তো আবদুল্লাহ বাবু এবং ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাতও মারা গিয়েছিলেন। এই হামলায় তিনজন গৃহকর্মীও মারা গিয়েছিলেন। তার ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ হামলায় বেঁচে গিয়েছিলেন এবং ওই বাড়িতে আরও ৯ জন আহত হন।[২৫][২৬]
আর্টিলারি সমর্থন
[সম্পাদনা]ফৌজের কমান্ডে আর্টিলারিরা ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের দিকে মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। মোহাম্মদপুরে শের শাহ সুরি রোডের কাছে মর্টার আগুনে ১৪ জন মারা গেছেন। [২৫]
রক্ষী বাহিনী শিবির
[সম্পাদনা]মেজর ফারুক তার অধীনে ২টি ট্যাঙ্ক নিয়ে রক্ষী বাহিনী শিবিরে আক্রমণ করেছিলেন। রক্ষী বাহিনী কোনও ঘটনা ছাড়াই আত্মসমর্পণ করেছিল, রক্ষী বাহিনীর আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হওয়ার পর ফারুক শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনের দিকে অগ্রসর হন।[২৭]
বাংলাদেশ বেতার
[সম্পাদনা]ঢাকার বাংলাদেশ বেতারের প্রধান রেডিও (রেডিও) সকালে বিদ্রোহীরা আক্রমণ করে। তারা দ্রুত সেখানে থানা পুলিশ নিরস্ত্র করে রেডিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যায়। মেজর ডালিম ও মেজর শাহরিয়ার রেডিও স্টেশনে অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন। তারা সেখান থেকে তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।[২৮]
ভবিষ্যৎ ফল, পাল্টা-অভ্যুত্থান ও বিদ্রোহ
[সম্পাদনা]এই নিবন্ধটি অন্য একটি ভাষা থেকে আনাড়িভাবে অনুবাদ করা হয়েছে। এটি কোনও কম্পিউটার কর্তৃক অথবা দ্বিভাষিক দক্ষতাহীন কোনো অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত হয়ে থাকতে পারে। |
শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার খবর বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত হওয়ার পর কারফিউ জারি করা হয়।[২৯] বরগুনা, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, খুলনা, যশোর, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যার প্রতিবাদ হয়।[১] এসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ঢাকা অঞ্চলের গেরিলা বাহিনীর অধিনায়ক ও চিত্রনায়ক খসরু গুলিবিদ্ধ হন।[২] খন্দকার মোশতাক রেডিও স্টেশন থেকে জাতিকে সম্বোধন করেছিলেন, তার ভাষণ তাহেরউদ্দিন ঠাকুর লিখেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার অনুসরণে, সেনাবাহিনী প্রধান, তার উপ-উপ-নৌ-সেনা প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, পুলিশ প্রধান এবং বাংলাদেশ রাইফেলস নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিলেন। খন্দকার মোশতাক জেনারেল এমএজি ওসমানী তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসাবে। জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট সেনাবাহিনী প্রধান এবং খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ করা হয়।[১৬]
১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোশতাক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ঘোষণা করেন যা অভ্যুত্থানের আইনগত সুরক্ষায় জড়িতদের নিরাপত্তা দেয়। এই অধ্যাদেশটি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি আইন অনুসারে সংশোধন করে যা মেজর জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সংসদ বিতর্কিত আইনটি সরিয়ে দিয়ে বিচার শুরু করার পথ তৈরি করে।[৩০] ১৯৭৫ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় রক্ষী বাহিনী (সেনাবাহিনীতে শোষণ) অধ্যাদেশ পাস হয়; যা রক্ষী বাহিনীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।[৩১]
পাল্টা-অভ্যুত্থান
[সম্পাদনা]১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফাত জামিলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিদ্রোহীদের অপসারণ এবং সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য অভ্যুত্থান শুরু করার কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম খন্দকার মোশতাকের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি এবং মোশাররফকে সেনাপ্রধান করা হয়। সকালে বিদ্রোহীদের ছিল নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং মন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার যেখানে তারা ১৫ আগস্ট বিডিআর বিদ্রোহের পর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। জিয়াকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। ৪ নভেম্বর বিদ্রোহীদের ব্যাংককে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ প্রদান করা হয়েছিল।[৩২][৩৩] ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ আরেক সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন যা জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধানের কাছে ফিরিয়ে দেয়। এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন বিপ্লবী সৈনিক সংগঠন ও কর্নেল আবু তাহের ।[৩৪] সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আরও কোনও অভ্যুত্থান রোধ করতে ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই মেজর জেনারেল জিয়ার গঠিত সরকারের অধীনে খালেদ হত্যার দায়ে তাহেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।[৩৫][৩৬]
বিদ্রোহ
[সম্পাদনা]আবদুল কাদের সিদ্দিকী ১৭ হাজার সৈন্যকে ৭টি ফ্রন্টে ভাগ করে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ২২ মাস বিদ্রোহ করেন। এর মাঝে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার ৫০০ তরুণের ‘শেরপুরের ৫০০ প্রতিবাদী’র বিদ্রোহ ও লড়াই আলোচিত ছিল।[১][৩৭]
বিদ্রোহ চলাকালে পুলিশ এবং বিডিআর এর উপর অতর্কিত হামলা করে অস্ত্র সংগ্রহ শুরু হয়।[৩৮] এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতারের খবর আসতে থাকে। বিদ্রোহীরা ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একাংশ দখল করে নেয়।[৩৮] সীমান্তবর্তী এলাকার ৫ টি বিডিআর ক্যাম্প এবং ২টি থানা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্রোহীরা।[৩৮] মেঘালয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ঘন বনাঞ্চল ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল চান্দুভূঁইতে গড়ে তোলা হয় সদর দপ্তর।[৩৮] সর্বাধিনায়কের নেতৃত্ব দেন কাদের সিদ্দিকী। প্রধান অর্থ নির্বাহী ছিলেন গারো আদিবাসী চিত্ত রঞ্জন সাংমা। প্রধান নিয়োগ কর্মকর্তা ছিলেন কামারখালীর অধিবাসী আব্দুল হক।[৩৮] একই সময় বিদ্রোহীদের সেক্টর হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়, নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপূর থানার ভবানীপুরে।[৩৮] সেক্টর জিওসি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন টাঙ্গাইলের সেলিম তালুকদার ও সেকেন্ড ইন কমান্ড প্রশান্ত কুমার সরকার। কোয়ার্টার গার্ডের অধিনায়ক ছিলেন শরীফুল ইসলাম খান, ডিফেন্স কমান্ডার সাইদুর রহমান। উক্ত হেড কোয়ার্টারের অধীনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেশ কিছু সাব সেক্টর স্থাপন করা হয়।[৩৮]
১৯৭৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বিদ্রোহীরা দুর্গাপুর থানায় আক্রমণ করলে থানার ওসি তোফায়েলসহ ৮ জন পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালিয়ে যায়।[৩৮] ২৩ জানুয়ারি কলমান্দা থানায় আক্রমণ করে দখলে নেয়ার পরে পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফ আলী এবং তার স্ত্রী সুলতানা আশরাফকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।[৩৮] ২০শে জানুয়ারি রংরা এর সেক্টর কমান্ডার জিতেন্দ্র ভৌমিকের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা বারোমারি এবং ফারাংপাড়া বিডিআর ক্যাম্প আক্রমণ করে দুটি ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়।[৩৮] কংশ নদীর উত্তরাংশের ৩০০ বর্গমাইল এলাকা বিদ্রোহীরা দখলে নেয়। এসময় বিদ্রোহীদের সাথে সেনাবাহিনীর একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।[৩৮] ১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট মুক্তাগাছার ৫ মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ আলী, নিখিল দত্ত, সুবোধ ধর, দিপাল দাস, মফিজ উদ্দিনকে সেনা অভিযানে হত্যা করা হয়। বেঁচে যাওয়া বিশ্বজিৎ নন্দী নামে কিশোর যোদ্ধাকে আটক করে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে সামরিক আদালতে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধীসহ প্রভাবশালী বিশ্বনেতার প্রভাবে তাকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয় এবং তিনি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পান।[৩৯] বিদ্রোহ ১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৯৭৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে ১০৪ জন থেকে মতান্তরে চার শতাধিক নিহত এবং কয়েকশ আহত হন।[১][৩৮] সামরিক সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করেন।[৩৮] তবে বিদ্রোহীদের অনেকেই গুমের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিদ্রোহীদের শেষ দলটি অস্ত্র ত্যাগ করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিল মাসে।[৩৮]
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের সামরিক সরকার অভ্যুত্থানকারীদের কূটনৈতিক চাকরি দিয়েছিল। একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ার দূতাবাসের দ্বিতীয় সেক্রেটারি করা হয়, এএম রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবের জেদ্দায় কনসুলেট জেনারেল করা হয়, এসএইচএমবি নূর চৌধুরীকে তেহরানের দূতাবাসে দ্বিতীয় সচিব করা হয়, শরিফুল হক ডালিমকে প্রথম সচিব করা হয় বেইজিংয়ের দূতাবাসে এবং আবদুল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে দূতাবাসের প্রথম সচিব করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সময় পর্যন্ত তারা এই পদে অধিষ্ঠিত ছিল। তারা তা মানতে অস্বীকার করেছিল এবং ফলস্বরূপ তাদের অবস্থান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ২০০১ সালে, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় ফিরেছিল, তারা শেষ আদেশ বাতিল করে এবং কর্মকর্তাদের তাদের কূটনৈতিক পদে পুনর্বহাল করে।[৪০]
বিচার
[সম্পাদনা]মেজর ফারুক, মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, একই বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত সহকারী এএফএম মহিতুল ইসলাম বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। অপরাধ তদন্ত বিভাগ পরদিন মামলাটি তদন্ত শুরু করে। সিআইডি ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারী ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ চাপায়।[৩০]
১৯৯৭ সালের ১২ মার্চ কারাগারে থাকা ৬ বন্দি ও দেশের বাইরে থাকা ১৪ জনকে নিয়ে বিচার শুরু হয়েছিল। খন্দকার আবদুর রশিদের স্ত্রী জোবাইদা রশিদ অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন, তিনি অভিযোগ গঠনের পরে অভিযুক্তকে কমিয়ে ১৯-এ নামিয়েছিলেন। হাইকোর্টে দায়ের করা অন্যান্য মামলাগুলি ট্রায়াল আদালতের বৈধতা এবং এর অবস্থান, ক্ষতিপূরণ আইনের দণ্ডকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, যা বিচারকে বিলম্ব করেছিল। মেজর হুদা ১৯৯৮ সালে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনা হয়েছিল। ঢাকা জেলা জজ কোর্টের বিচারপতি কাজী গোলাম রসুল ১৯৮৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৯৯৮ সালে ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বাংলাদেশ হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের ১৪ নভেম্বর হাই কোর্ট বিচারপতি মো. রুহুল আমিনের সাথে বিভক্ত রায় প্রদান করে দোষীদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক সকল ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। মামলাটি তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে প্রেরণ করা হয়েছিল, যিনি অভিযুক্তদের ১২ জনকে সাজা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় প্রদান করেন।[৩০]
এরপরে প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিন ৫ জন বিচারপতি সমন্বয়ে আপিল আদালত গঠন করেন, তারা হলেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মোঃ আবদুল আজিজ, বিচারপতি মোঃ তাফাজুল ইসলাম, বিচারপতি বি কে দাস, এবং বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন । ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগের রায় ১২ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে। যার মধ্যে তিন জন রাষ্ট্রপতি ক্ষমা চেয়েছিলেন কিন্তু তাদের প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। ২৭ জানুয়ারি ২০১০-তে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দণ্ডপ্রাপ্তদের পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ২৮ শে জানুয়ারী, ২০১০, হেফাজতে দোষীদের মধ্যে পাঁচজনকে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল।[৩০] ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ ফারুক রহমান, এবং বজলুল হুদা । ঠিক তার ১০ বছর পর ২০২০ সালের ৭ই এপ্রিল পলাতক ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১২ই এপ্রিল তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় [৪১]
মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]লরেন্স লিফশুলৎজ উক্ত সামগ্রিক ঘটনাবলিকে মার্কিন-পাকিস্তানপন্থী ও ভারত-সোভিয়েতপন্থী দুই অক্ষশক্তির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্নায়ুযুদ্ধের সহিংস বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যায়িত করেন।[৪২]
তৎকালীন সেনাপ্রধান কে. এম. শফিউল্লাহর মতে,
পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের ঘটনাবলীকে আমি সামরিক অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করতে চাই না। যদিও পরবর্তীতে এটি সামরিক অভ্যুত্থান বলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আসলে সামরিক বাহিনীর একটি একটি ছোট গ্রুপ, সেনাবাহিনীর ভেতরে এবং বাইরে যাদের অবস্থান ছিল তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।…এটা সামরিক অভ্যুত্থান নয়; একটা সন্ত্রাসী কাজ।[৪৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 Com, Jagonews24। শোকাবহ আগস্ট ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ। Jago News 24। ১৯ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০১৯।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 সউদ, মুজতবা (২ জুলাই ২০২২)। "কামরুল আলম খান খসরু'র জন্মদিনে শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা"। বিনোদন বিচিত্রা। ১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৩।
- 1 2 3 Maniruzzaman, Talukder (আগস্ট ১৯৭৫)। "Bangladesh: An Unfinished Revolution?"। The Journal of Asian Studies। ৩৪: ৮৯১–৯১১। ডিওআই:https://doi.org/10.2307%2F2054506।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|ডিওআই=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য);-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)|ডিওআই= - ↑ লিফশুলজ, লরেন্স (১৫ আগস্ট ২০১৮)। "১৫ আগস্ট ১৯৭৫: সত্যের সন্ধানে এক সুদীর্ঘ যাত্রা"। Bangla Tribune। ১০ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২১।
- ↑ "No justice yet in 3 other Aug 15 cases"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ১৯ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ জাহিদ, সুমন। "শোকাবহ আগস্টে কিছু সরল জিজ্ঞাসা"। চ্যানেল আই।
- ↑ Liton, Shakhawat (১৫ আগস্ট ২০১৬)। "Shame darker than the night"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Aug 15 in world media"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ টেলিভিশন, Ekushey TV | একুশে। "১৫ আগষ্ট যারা শহীদ হয়েছিলেন"। Ekushey TV (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 "Bangladesh country profile"। BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 3 "Tragedy of 15 August 1975"। The Independent। Dhaka। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ হেলাল উদ্দিন আহমেদ (২০১২)। "হাসিনা, শেখ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ মাসুদ হাসান চৌধুরী (২০১২)। "বাংলাদেশ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ সিরাজুল ইসলাম (২০১২)। "বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 3 Sarkar, Ashutosh (১৯ নভেম্বর ২০০৯)। "Shahriar's confession"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 3 "Farooq's confession"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 Hamid, M. A. (১৯৯৩)। Tinti sena-obhyutththan ō kichhu na bola kotha তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা। Dhaka: Mohona prokashoni। ওসিএলসি 84136970।
- 1 2 3 "Major Noor, Capt Bazlul Huda shot Bangabandhu dead"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ জুলাই ১৯৯৭। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Assassinating Bangabandhu ... murdering history"। The Daily Observer। ১২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Pasha shot dead Begum Mujib, Jamal, 2 in-laws"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "'Huda, Mohiuddin, Pasha, Noor were directly involved'"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Brig. Gen. Jamil"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Bangladeshi MP gets birthday justice for parents' killing"। The Daily Telegraph (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 3 "No justice yet in 3 other Aug 15 cases"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 "FACTBOX: Aug 15 victims"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৮।
- ↑ Mascarenhas, Anthony (১৯৮৬)। Bangladesh : a legacy of blood। Hodder and Stoughton। পৃ. ৭২। আইএসবিএন ০৩৪০৩৯৪২০X। ওসিএলসি 16583315।
- ↑ "Bangladesh Betar used as propaganda machine"। ঢাকা ট্রিবিউন (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "সেদিন ঢাকা বেতারে যা ঘটেছিলো"। banglanews24.com। ১৫ আগস্ট ২০২১। ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৪।
- 1 2 3 4 "Long road to justice"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Myth, reality and Rakkhi Bahini"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Jail killing: An attempt to cripple Bangladesh"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ নভেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Remembering the four national leaders on Jail Killing Day"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "A matter of national interest"। ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "5th amendment verdict paves way for justice"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "What really happened in 1975?"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (Opinion)। ৮ নভেম্বর ২০১০। ১২ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "শেরপুরের ৫০০ প্রতিবাদীর লড়াই"। ২২ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২০।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 "The War of Resistance after the Assassination of Bangabandhu" বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী প্রতিরোধ যুদ্ধ। Channel i। ৫ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৬।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;jnewsনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Govt to recover money spent on 7 killers"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ জুন ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "5 Bangabandhu killers hanged"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ) (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ লিফশুলৎজ, লরেন্স; হোসেন, মুনীর (ডিসেম্বর ২০১৪)। অসমাপ্ত বিপ্লব - তাহেরের শেষকথা (দ্বিতীয় সংস্করণ)। বাংলাবাজার, ঢাকা: নওরোজ কিতাবিস্তান। পৃ. ৪৯–৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৪০০-০৬১-২। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ সাইয়িদ, অধ্যাপক আবু। ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড।