টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই
টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই.jpg
পরিচালকসেলিম খান
শামীম আহমেদ রনি
প্রযোজকপিংকি আক্তার
চিত্রনাট্যকারশামীম আহমেদ রনি
কাহিনিকারশামীম আহমেদ রনি
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারইমন সাহা
চিত্রগ্রাহকসাইফুল ইসলাম শাহীন
সম্পাদকতৌহিদ হোসেন চৌধুরী
প্রযোজনা
কোম্পানি
স্টোরি স্প্ল্যাশ মিডিয়া
পরিবেশকশাপলা মিডিয়া
মুক্তি
  • ৩০ মার্চ ২০২১ (2021-03-30) (প্রথম প্রদর্শনী)
  • ২ এপ্রিল ২০২১ (2021-04-02) (বাংলাদেশ)
দৈর্ঘ্য১২৮ মিনিট
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
নির্মাণব্যয় ৮৩ লাখ[১]

টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই ২০২১ সালের বাংলাদেশী আত্মজীবনীমূলক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। স্টোরি স্প্ল্যাশ মিডিয়ার ব্যানারে পিংকি আক্তার প্রযোজনায় ছায়াচিত্রটি পরিচালনা করেছেন সেলিম খান।[২] এটির চিত্রনাট্য রচনা ও সহ-পরিচালনা করেছেন শামীম আহমেদ রনি। চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশবকৈশোরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত। এই ছায়াচিত্রের দুইটি মূলচরিত্র শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পত্নী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রেণু'র চরিত্রে অভিনয় করেছেন শান্ত খান ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। এছাড়াও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, শিবা শানু, দিলারা জামান, সুব্রত সহ একদল মঞ্চ নাটকের অভিনয়শিল্পীরা এই চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রসমূহ রূপদান করেন।

ছায়াছবিটি ২০২০ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের অভ্যন্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে এটির মূখ্য চিত্রগ্রহণ করা হয়।[৩] ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মাণের কারণে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটিকে প্রদর্শনের ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করেছিল। প্রদর্শনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র অর্জনের পর, ২০২১ সালের ৩০ মার্চ প্রথম প্রদর্শনী এবং ২ এপ্রিল বাংলাদেশের ৫৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এছাড়াও বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্রটি সকল বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল।[৪]

গল্পসূত্র[সম্পাদনা]

টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় ১৯৩০ পর হতে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত, তার শৈশব ও কৈশোরের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে চিত্রায়িত।[৩] চলচ্চিত্রে তার শিক্ষা জীবন, ১৯৩৯ সালে মিশনারী স্কুলে পড়ার সময় তার নেতৃত্ব গুণের বিকাশ; ১৯৩৪ সালে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিবাহ, বিয়ের ৯ বছর ১৯৪২ হতে শুরু হওয়া দাম্পত্য সময়, ছাত্রজীবনে ব্রিটিশ ভারতে রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও পরবর্তীতে পাকিস্তান আন্দোলন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকআবদুল হামিদ খান ভাসানী'র সাথে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক; যুক্তবঙ্গ ও দেশভাগের সময়ে কলকাতা দাঙ্গার তার রাজনৈতিক ভূমিকা; বিভিন্ন কারণে গ্রেফতার, জেল জীবন ও কারামুক্তি প্রাধান্য পেয়েছে।

শ্রেষ্ঠাংশে[সম্পাদনা]

টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রসমূহের পাশাপাশি বিভিন্ন পার্শ্ব চরিত্রে মঞ্চ নাটকের নিয়মিত শিল্পীরা অভিনয় করেছেন।[৩] ছায়াছবির মূল চরিত্রের অভিনয়শিল্পীদের তালিকা-

এছাড়াও দারোগার চরিত্রে হারুনুর রশীদ ও শরীফুল ইসলাম শরীফ, অন্যান্য পুলিশের চরিত্রে সোহেল উদ্দিন ও সুলতান আহমেদ, বিভিন্ন কর্মকর্তার চরিত্রে গোবিন্দ মন্ডল ও রাজিব দাস, কর্মচারীর চরিত্রে সৈয়দ মোশারফ, ছাত্র ও ছাত্রীর চরিত্রে তাজুদ্দিন তাজু ও স্বর্ণা আক্তার, গ্রামবাসীদের চরিত্রে মোহাম্মদ ইসহাক, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মিতুল খান, চমক খান, সুইডেন আসলাম ও রকিব হাসান অভিনয় করেছেন।

প্রযোজনা[সম্পাদনা]

শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে একই পরিচালকদ্বয়ের নির্মিত রাজনৈতিক থ্রিলার আগস্ট ১৯৭৫-এর পর হতে টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের প্রাক-নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়।[৫] মুখ্য চিত্রগ্রহণ শুরুর পূর্বে, শেখ মুজিব নিয়ে ছয়মাস গবেষণা[৬] ও সংশ্লিষ্ঠ চরিত্রসমূহের বাস্তব রূপায়নের জন্য দুইমাস অভিনয়শিল্পীদের অনুশীলন চলে।[৩] চলচ্চিত্রের বেশীরভাগ চিত্রায়ন করা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি), চাঁদপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাসমূহে। ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট হতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ৩২ দিনে চলচ্চিত্রটির পূর্ণ চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়।[৩][৭] এটি বিএফডিসি হতে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র।[৪] চলচ্চিত্রের সঙ্গীতের সুরারোপ সঞ্চালন ও পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা। ছায়াছবিতে একটিমাত্র গান ব্যবহার করা হয়েছে; সুদীপ কুমার দ্বীপ রচিত গানটি বাপ্পা মজুমদারের কন্ঠে ধারণকৃত।[৩] ৮৩ লাখ বাংলাদেশি টাকা ব্যয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।[১] স্টোরি স্প্ল্যাশ মিডিয়ার ব্যানারে নির্মাণের পর শাপলা মিডিয়া পরিবেশক হিসেবে যুক্ত হয়।[২]

মুক্তি[সম্পাদনা]

সেন্সরশিপ ও প্রচারণা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই-এর প্রদর্শনের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সঠিকতা যাচাই করে।[৮][৯] ২০২১ সালের ১৪ মার্চ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেলেও পুনরায় নিরীক্ষার জন্য প্রদর্শনের অনুমতি একদফা স্থগিত করা হয়। সংশোধন সাপেক্ষে চলচ্চিত্রটি ২৩ মার্চ চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়।[১০] টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই-এর প্রচারণার জন্য শাপলা মিডিয়া ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক পোস্টার প্রকাশ করে।[১১] সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই শাপলা মিডিয়া ২০২১ সালের ১২ মার্চ মুক্তির জন্য প্রচারণা চালায়।[১২]

মুক্তি[সম্পাদনা]

টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই মুক্তির তারিখ বেশ কয়েকবার ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে চলচ্চিত্রটি ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর মুক্তির জন্য পরিকল্পিত ছিল।[২] পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১২ মার্চ[১৩] এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তির তারিখ নির্ধারিত ছিল।[১০]অবশেষে চলচ্চিত্রটি ২০২১ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম প্রদর্শনীর পর[১৪] ২ এপ্রিল বাংলাদেশের ৫৪টি প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পায়।[১৫] প্রেক্ষাগৃহ ছাড়াও চলচ্চিত্রটি চাহিদা ভিডিও সেবা সিনেবাজ-এ উম্মুক্ত করা হয়।[৪]

বিনোদন মাধ্যমে মুক্তির বাইরে, চলচ্চিত্রটি শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত হওয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সকল বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা পেয়েছিল।[৪] ২০২১ সালের ৮ আগস্ট ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রদর্শনী হয়েছিল।[১৬]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাবার ১০০ সিনেমার ঘোষণা, একটিতেও নেই ছেলে"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০২১-০২-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই'"ভয়েস টেলিভিশন। ২০২০-১২-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "'বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় হাজারগুণ কঠিন কাজ'"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০২০-১০-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-১৬ 
  4. "স্কুল-কলেজে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই' প্রদর্শনে সরকারি নির্দেশনা"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০২১-০৭-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২৯ 
  5. "'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই' চলচ্চিত্রের শুটিং ইউনিট চাঁদপুরে"ভয়েস টেলিভিশন। ২০২০-০৯-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে জানাতে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই'"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২০২১-০৩-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৪ 
  7. "আজ থেকে টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২০২০-০৮-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-১৬ 
  8. "বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শাপলা মিডিয়ার ছবি: সিদ্ধান্ত নেয়নি সেন্সর বোর্ড"সারাবাংলা.নেট। ২০২০-১২-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৩-০২ 
  9. "'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই' : সেন্সর ছাড়পত্র স্থগিত"এনটিভি অনলাইন। ২০২১-০৩-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৩-২০ 
  10. "'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই' আসছে ২ এপ্রিল"দৈনিক ইত্তেফাক। ২০২১-০৩-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৩ 
  11. "'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই' ফাস্ট লুক প্রকাশ,মুক্তি ১৬ ডিসেম্বর"প্রতিঘণ্টা। ২০২০-১০-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-১৬ 
  12. "টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই: ছাড়পত্রই মেলেনি, মুক্তির তারিখ ঘোষণা"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২০২১-০৩-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৩ 
  13. "পর্দায় আসছে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই'"রাইজিংবিডি.কম। ২০২১-০৩-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৩-০২ 
  14. মোর্শেদ, ফয়সাল (২০২১-০৩-৩১)। "মুক্তি পাচ্ছে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই'"সময় টিভি। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৩ 
  15. "উল্টো হল কমলো শান্ত-দীঘির!"বাংলা ট্রিবিউন। ২০২১-০৪-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৩ 
  16. "দিল্লি হাইকমিশন বাংলাদেশের আয়োজনে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই'"কালের কণ্ঠ। ২০২১-০৮-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]