ব্রহ্মসংগীত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
১৮৮৬ থেকে একটি সংরক্ষণাগার

ব্রহ্মসংগীত হল ব্রাহ্মসমাজের উপাসনার নিমিত্ত রচিত ও গেয় আধ্যাত্মিক সঙ্গীত পদাবলি। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ কর্তৃক প্রকাশিত আধ্যাত্মিক সংগীত সংগ্রহ। [১] ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত সময় ব্রহ্মসঙ্গীতের রচনাকাল। ‘ব্রহ্মসংগীত’ নামটি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম ব্রহ্মসঙ্গীত রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় প্রদত্ত।[২] ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন তার ও তার কয়েকজন বন্ধুর রচিত গান নিয়ে প্রথম ‘ব্রহ্মসঙ্গীত’ নামক এক সঙ্গীত সংকলন প্রকাশনা শুরু হয়। [৩] রাজনারায়ণ বসুআনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ সম্পাদিত রাজা রামমোহন রায় প্রণীত গ্রন্থাবলীর অন্তর্গত ব্রহ্মসঙ্গীত-এ গানের সংখ্যা ১১৬। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রকাশিত রামমোহন গ্রন্থাবলীতে ১২টি গান রামমোহনের রচনা বলে সন্নিবিষ্ট। এর মধ্যে প্রথম ও শেষটি ব্রহ্মসঙ্গীতের মূল সংস্করণে নেই। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গীত প্রকাশ কমিটির সম্পাদক সতীশচন্দ্র চক্রবর্তী সম্পাদিত ব্রহ্মসঙ্গীত-এর একাদশ সংস্করণে ২১৫০ এর কিঞ্চিদধিক গান স্থান পেয়েছে। এই সংস্করণে প্রায় ৩৮০ টি নূতন সঙ্গীত গ্রহণ ও প্রায় ৩০টি পুরাতন সঙ্গীত পরিত্যাগ করা হয়েছে। বৈদিক ঝষি,মধ্যযুগের ভক্ত-কবি কবীর,গুরু নানক,মীরাবাঈ,তুলসীদাস ও ঊনবিংশ শতকের বহু লেখকের গানে সমৃদ্ধ সংকলনটি।

সংকলনের অধ্যায় সমূহ[সম্পাদনা]

গানগুলির ধরনের উপর বিচার করে সংকলনে চোদ্দটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলি হল -

  • ১) উদ্বোধন
  • ২) আরাধনা, ধ্যান,বন্দনা
  • ৩) বিশ্বজগতের স্পর্শ অসীম ও অসীম
  • ৪) কৃতজ্ঞতা, সমগ্র জীবনের অনুভূতি ও নিবেদন
  • ৫) সংকল্প,আশঙ্কা, নির্ভয় নির্ভর
  • ৬) বেদনা,অন্ধকার অনুতাপ কবির নিবেদন
  • ৭) মৃত্যু,শোক,পরলোক
  • ৮) দৈনিক জীবন,পরিবার,মানব পরিবার,দেশ, জগতের দুঃখ, জগতের সঙ্গে মিলন
  • ৯) উৎসব অনুষ্ঠান
  • ১০) বালক-বালিকার সঙ্গীত
  • ১১) উপদেশ লোকশিক্ষা নামমহিমা
  • ১২) কীর্তন
  • ১৩) বেদগানের সংস্কৃত সঙ্গীত ও স্ত্রোত্র,হিন্দী ও উর্দু সঙ্গীত
  • ১৪) পরিশিষ্ট

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ব্রহ্মসঙ্গীতের দ্বাদশ সংস্করণে গানের সংখ্যা ১১৯৯ টি। [১]

ব্রহ্মসঙ্গীত রচয়িতাগণ[সম্পাদনা]

রাজা রামমোহন ছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ব্রহ্মসংগীতকার হলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল, শিবনাথ শাস্ত্রী, রজনীকান্ত সেন, অতুলপ্রসাদ সেন, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায়, প্রতাপচন্দ্র মজুমদার, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ। এছাড়া মীরাবাই, গুরু নানক ও কবীর রচিত কিছু ভজন ও বেদউপনিষদ থেকে বিভিন্ন স্তোত্রও সুরসহযোগে ব্রহ্মসঙ্গীত রূপে গীত হয়।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. শিশিরকুমার দাশ সংকলিত ও সম্পাদিত, সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৯, পৃষ্ঠা ১৫৬ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-০০৭-৯ আইএসবিএন বৈধ নয়
  2. পৃ. ৪৯৫, ব্রহ্মসঙ্গীত (১৫শ সংস্করণ), সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ, কলকাতা, ১৯৯৩
  3. পৃ. ৹ ০৯ তদেব