বর্ধমান হাউস
| বর্ধমান হাউস | |
|---|---|
২০০৬ সালে বর্ধমান হাউস | |
![]() | |
| প্রাক্তন নাম | সুজাতপুর প্যালেস |
| সাধারণ তথ্যাবলী | |
| ধরন | জাদুঘর |
| স্থাপত্যশৈলী | মুঘল ও ইউরোপীয় শৈলীর সংমিশ্রণ[১] |
| ঠিকানা | কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| স্থানাঙ্ক | ২৩°৪৩′৪৬″ উত্তর ৯০°২৩′৫০″ পূর্ব / ২৩.৭২৯৪৪° উত্তর ৯০.৩৯৭২২° পূর্ব |
| সম্পূর্ণ | ১৯০৬[১] মতান্তরে ১৯১১[২] |
| স্বত্বাধিকারী | বাংলা একাডেমি |
| কারিগরি বিবরণ | |
| তলার সংখ্যা | ৩ |
বর্ধমান হাউস, বর্ধমান হাউজ বা বর্ধমান ভবন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর একটি। এটি বর্তমানে বাংলা একাডেমির জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে জড়িত এই ভবন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৯০৬ অথবা ১৯১১ সালে মুঘল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন। এই ভবনে অতিথি হিসেবে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে।[১]
নামকরণ
[সম্পাদনা]বর্ধমান হাউসের পূর্বনাম সুজাতপুর প্যালেস বলে ধারণা করা হয়।[৩][৪][৫] রমনা অঞ্চলে ইসলাম খাঁয়ের আমলে দুটি বসতি গড়ে উঠেছিল—সুজাতপুর এবং মহল্লা কিশ্চিয়ান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন এলাকা সুজাতপুর বলে পরিচিত ছিল।[৬] তৎকালীন সুজাতপুর এলাকার নামানুসারে সুজাতপুর প্যালেস নামকরণ করা হয়। ১৯১৯ থেকে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত বর্ধমানের মহারাজা স্যার বিজয় চাঁদ মহতাব অবিভক্ত বাংলার গভর্নরের শাসন-পরিষদের তিন সদস্যের একজন হিসেবে ঢাকায় বছরে একবার আসতেন। তিনি সেসময় এ বাড়িতে রাজকীয় অতিথি হিসেবে বাস করতেন। কালক্রমে এই ভবনের নাম বর্ধমান হাউস নামে পরিচিতি লাভ করে।[১][২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]নির্মাণ ও ঔপনিবেশিক আমল
[সম্পাদনা]বর্ধমান হাউস ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্মিত হয়।[১] কিন্তু বর্ধমান হাউস নির্মাণের নির্দিষ্ট সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এটি ১৯০৬, মতান্তরে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। এই সময় নতুন রাজধানীতে পুরাতন হাইকোর্ট ভবন, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, কার্জন হল এবং দেশি-বিদেশি উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ও অফিস নির্মাণ শুরু হয় হয়। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ঢাকা কোষ গ্রন্থের মতে, এই ধারাবাহিকতায় ১৯০৬ সালে এই ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।[১]
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয় এবং ফলস্বরূপ ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা হারায়। পূর্ব বাংলার প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের, বিশেষশত ঢাকার নবাবদের, বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে সৃষ্ট অসন্তুষ্টি দূর করার লক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন ইংরেজ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এর পাশাপাশি বাংলার গভর্নরের তিন সদস্যের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সভা বছরে একবার ঢাকায় করার ব্যবস্থা করে।[১] ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বাস শুরু করেন। তার মতে, গভর্নর কাউন্সিলের এই তিনজন সদস্য ঢাকায় এলে যাতে থাকতে পারেন সেজন্য সরকারিভাবে তাদের জন্য তিনটি বাড়ি নির্মাণ করা হয় এবং এদের মধ্যে ১৯১১ সালে বর্ধমান রাজের বসবাসের জন্যে নির্মিত হয় বর্ধমান হাউস।[২]
তৎকালীন এই দ্বিতল ভবনটির পেছনে কর্মচারী-আবাস ছিল। ১৯৪৭ পর্যন্ত মূলত এটি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের অতিথিশালা রূপে ব্যবহৃত হতো। ১৯১৯ থেকে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বর্ধমানের মহারাজা স্যার বিজয় চাঁদ মহতাব বছরে একবার এসে এই ভবনে রাজকীয় অতিথি হিসেবে বাস করতেন[১][২]
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা জুলাই রমনা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময় বর্ধমান হাউস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভিতরে পড়ে। এই সূত্রে কিছুটা সময় এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস এবং শিক্ষকদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।[১]
১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে ভবনটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো।[৭] ১৯৪৭ পর্যন্ত এটি অতিথিশালা রূপে ব্যবহৃত হতে থাকে।[৮]
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও ভাষা আন্দোলন
[সম্পাদনা]বর্ধমান হাউজ ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ আগস্ট হতে ১৯৫৪ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।[১][৯][১০] পূর্ব বাংলার প্রথম দুই মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ও নুরুল আমিন এই ভবনে বাস করেছেন। ফলে পূর্ব বাংলার সরকারি কর্মপন্থা ও নীতি এই বর্ধমান হাউস থেকে পরিচালিত হতো। এই সময় উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও বৈদেশিক সভা এই ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে বর্ধমান হাউস রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম স্মারক। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে এই ভবনে উপস্থিত হন এবং মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সাথে বৈঠকে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পেশ করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি এবং ভাষা কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালের ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ভাষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বর্ধমান হাউসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ রাষ্ট্রভাষা চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে, এখানে আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ বর্ধমান হাউসেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে খাজা নাজিমুদ্দিনের ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।[১১] ১৬ জানুয়ারি এই চুক্তি বাতিলের দাবি নিয়ে বর্ধমান হাউস অভিমুখে মিছিল বের হয়। এদিন পুলিশের নির্যাতনে কিছুসংখ্যক ছাত্র আহত হয়।[১০]
১৯৪৮ সালের ১৩ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ বর্ধমান হাউসের সামনে ৩ টাকা মূল্যের "পূর্ব্ব পাকিস্তানের দুর্ভাগা জনসাধারণ, কৈফিয়ত দিতে হবে আমাদের দাবী" বুকলেট বিতরণ করে। প্রায় ৩০০ জনের মতো লোক বর্ধমান হাউসের সামনে জমায়েত হয়েছিল। প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সাথে দেখা করা ছিল তাদের অধিকাংশের আগ্রহ। হাউসের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় জমায়েতটি বিক্ষিপ্তভাবে শেষ হয়; কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।[১২] ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি এই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্র জনতা।[১৩] মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন হওয়ায় তৎকালীন আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের অন্যতম স্থান ছিল বর্ধমান হাউস।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন এই ভবনেই বাস করতেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকালে মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনার উপর ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি টমাস হোবার্ট এলিসের ২৭ এপ্রিল ১৯৫২ তারিখের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী বর্ধমান হাউস থেকে মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন ভাষা আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্ধমান হাউস থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পুলিশের কাছে গুলি চালানোর জন্য একটি লিখিত আদেশ হস্তান্তর করা হয়েছিল। এর সাথে একটি চিঠিও সংযুক্ত ছিল, যেখানে তদন্তের সীমিত সুযোগ নিয়ে ছাত্রদের অসন্তোষ উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়তো সম্ভব হবে না বা ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হবে।[১৪] ফলে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বর্ধমান হাউস জনতার রোষের মুখে পড়ে এবং একে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে রূপান্তরিত করার দাবি প্রবল হতে থাকে।
ভাষা আন্দোলন পরবর্তী সময়
[সম্পাদনা]১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট জোট গঠিত হয়। ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের একটি জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি এনে একুশ দফা ঘোষণা করা হয়। এই একুশ দফার ১৬তম দফা ছিল:[১৫]
“বর্ধমান হাউসের পরিবর্তে কম বিলাসের বাড়িতে যুক্তফ্রন্টের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থান করা এবং বর্ধমান হাউসকে প্রথমে ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা।”
— যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হয় এবং নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন তার সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউস ত্যাগ করেন।[১৬]
১৯৫৪-এর পর থেকে বর্ধমান হাউসে ঢাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো। এখানে তখন আর্ট কাউন্সিলের কার্যালয় খোলা হয়। ১৯৫৪ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এখানে কয়েক মাস বাস করেন।[১][৯]
১৯৫৪ সালের এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে বর্ধমান হাউসে ভাষা আন্দোলন চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন; এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই।[১৭] ১৯৫৫ সালের শীতকালে বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে ঢাকায় সঙ্গীত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, শিল্পী কামরুল হাসান, ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, আব্বাসউদ্দীন আহমদ, সাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীনসহ প্রমুখ।[১৮][১৯]
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী ও জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের কার্যালয়ও এখানে ছিল এসময়।[৭]
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা
[সম্পাদনা]
বাংলা ভাষা গবেষণার উদ্দেশ্যে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবি অনেক আগে থেকেই এসেছিল। ভাষা আন্দোলনের ফলে এই দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠে। ২১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথমে ১৯৫৪ সালের ৫ই এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প দফতরের মন্ত্রী সৈয়দ আজিজুল হক (নান্না মিয়া) সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি বর্ধমান হাউসকে একটি বাংলা ভাষা গবেষণাগার হিসেবে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারিকে একটি পরিকল্পনা তৈরির করার নির্দেশনা দিয়েছেন।[২০] ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর বর্ধমান হাউসের চত্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার বাংলা একাডেমির উদ্বোধনের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন ঘটান।[২১] ৮ই ডিসেম্বর একাডেমির প্রথম কার্যালয় হিসেবে ভবনের একতলার পূর্বদিকের তিনটি কক্ষে বাংলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে সমগ্র ভবন বাংলা একাডেমির অধিকারে আসে।[২২] ভাষাশহীদদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান এই বাংলা একাডেমি।
বাংলা একাডেমিতে গবেষণা ও দাপ্তরিক কাজ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, ড. কাজী দীন মুহাম্মদ, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, আবু জাফর শামসুদ্দীন, ড. মযহারুল ইসলামসহ অনেকে।[২২] ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বর্ধমান হাউসে ১৯৬০ - ৬৩ সময়ে বাংলা একাডেমির 'পূর্ব পাকিস্তানী আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এবং ১৯৬৩-৬৭ সময়ে 'ইসলামী বিশ্বকোষ'-এর সম্পাদনার কাজ করেন।[২৩]
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে বাড়ির মূল কাঠামোর সাথে মিল রেখে ভবনের তৃতীয় তলা নির্মাণ করা হয়।[১]
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর শেল নিক্ষেপে এ ভবনের সংস্কৃতি বিভাগ ও লোকসাহিত্য সংগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[২২]
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড
[সম্পাদনা]
১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভবনটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো।[৭]
১৯৫৪ সালে সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে বর্ধমান হাউসে ভাষা আন্দোলন চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ১৯৫৫ বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে ঢাকায় সঙ্গীত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।[১৭][১৮]
১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের প্রথম কার্যক্রম হিসেবে বর্ধমান হাউসের একাধিক বারান্দায় সন্জীদা খাতুনের উদ্যোগে প্রথম সঙ্গীত শিক্ষা ক্লাস শুরু হয়। এই সময় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষক ছিলেন সন্জীদা খাতুন ও ফরিদা বারী মালিক। সোহরাব হোসেন শেখাতেন নজরুল সঙ্গীত; বজলুল করিম তবলা শেখাতেন; বেহালা, সেতার, খেয়াল ও প্রাচীন বাংলা গান শেখাতেন ওস্তাদ মতিউর রহমান খান (মতি মিয়া)। এই বছরেই ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।[২৪][২৫]
মুনীর চৌধুরীর নাট্যচক্র বর্ধমান হাউসে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী নাটকের মহড়া করেছিলেন। কিন্তু নাটকে মুসলিমদের যবন[ক] বলায় তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের বিরোধিতায় তা মঞ্চস্থ করা হয়নি।[৭][২৬]
- বর্ধমান হাউসে শিল্পীবর্গ
- ১৯৫৪ সালে ভাষা আন্দোলন চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পাশে অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই।
- ১৯৫৫ সালের শীতকালে ঢাকায় সঙ্গীত সম্মেলনে আগত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁয়ের সঙ্গে (বাম থেকে) বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে শিল্পী কামরুল হাসান, ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীনসহ প্রমুখ।
- ১৯৫৫ সালের শীতকালে বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন।
উল্লেখযোগ্য অতিথি ও বাসিন্দা
[সম্পাদনা]- ১৯২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান হাউসের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে রমেশচন্দ্র মজুমদার এবং অপূর্ব চন্দ।
বর্ধমান হাউস নির্মাণ করা হয়েছিল অতিথিশালারূপে। তৎকালে বর্ধমানের রাজা এখানে এসে থেকেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসভবন হিসেবে ব্যবহারকালে অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদার ও কাজী মোতাহার হোসেন এখানে বাস করেন। তাদের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে।[৯] পরে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম দুই মুখ্যমন্ত্রী এখানে বাস করেন। নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রমুখ ব্যক্তি এই ভবনে আসেন। নিম্নে এদের তালিকা ও বর্ণনা দেওয়া হলো:
| প্রতিকৃতি | অতিথি / বাসিন্দা | সন | অবস্থানপ্রকৃতি | বর্ণনা |
|---|---|---|---|---|
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ১৯২৬ | অতিথি | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি হিসেবে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয়বার ঢাকায় আসেন। ঢাবির তৎকালীন উপাচার্য জর্জ হ্যারি ল্যাংলি বাঙালি আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে নিজ বাসভবনের বিকল্পে অধ্যাপক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের তৎকালীন বাসভবন বর্ধমান হাউসে রাখার প্রস্তাব করেন।[৯] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দোতলার পশ্চিমাংশে কয়েক দিন অবস্থান করেন।
রমেশচন্দ্র মজুমদার তার আত্মজীবনীতে লিখছেন,
বর্ধমান হাউস সেসময় দোতলা ছিল। উল্লেখ্যকৃত আমগাছ ও পুষ্করিণীটি এখনো আছে।[৯] | |
| কাজী নজরুল ইসলাম | ১৯২৮ | অতিথি | মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবি কাজী নজরুল তৃতীয়বার ঢাকায় আসেন।[২৮] এ সময় তিনি কাজী মোতাহার হোসেনের সাথে বর্ধমান হাউসের নিচতলায় একটি ছোট কামরায় মাসাধিক অবস্থান করেন। তিনি মোতাহার হোসেনের মেয়েকে গান শেখাতেন এ ভবনে। ঢাকার টিকাটুলির বনগ্রাম লেনে রাণু সোমকে গান শিখিয়ে রাতে ১০-১১টার দিকে ফেরার পথে মুসলিম হয়ে হিন্দু মেয়েকে গান শিখানোর জন্যে নজরুল অন্ধকারে ৫-৭ জন আততায়ীর হামলার শিকার হয়ে বর্ধমান হাউসে পালিয়ে আসেন।[২৮] এ ভবনে থাকাকালীন হাউসের পশ্চিম দিকের পুকুরে কবি সাঁতার কাটতেন, স্নান করতেন এবং মাঝে মাঝে পুকুর পাড়ে বসে বাঁশি বাজাতেন।[২৯][৩০] | |
| শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | ১৯৩৬ | অতিথি | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ সরকারকে ডক্টর অব লেটার্স (ডি. লিট) উপাধি দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় এবং তারা দুজন ঢাকায় এসে রমেশচন্দ্র মজুমদারের অতিথি হিসেবে বর্ধমান হাউসে থাকেন।[৩১] | |
| যদুনাথ সরকার | ||||
| রমেশচন্দ্র মজুমদার | ১৯২১–১৯৩৬ | আবাসন | ১৯২১ সালে রমেশচন্দ্র মজুমদার নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আবাসনের উদ্দেশ্যে তাকে বর্ধমান হাউসের দোতলায় আবাসন বাবস্থা করে।[২] এসময় তার আতেথেয়তা গ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যদুনাথ সরকারসহ অনেকেই।[৩১] | |
| কাজী মোতাহার হোসেন | ১৯২১–১৯৩৬ | সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের হাউস টিউটর হিসেবে কাজী মোতাহার হোসেন এই ভবনের নিচতলার এক অংশে বাস করতেন। তার অফিস ছিল বর্ধমান হাউসের সিঁড়ি বেয়ে উঠে দোতলার ল্যান্ডিংয়ের বাম দিকের ঘরটি। তার আমন্ত্রতিত অতিথি হিসেবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম মাসাধিক এখানে অবস্থান করেন।[২৮] | ||
| বিজয় চাঁদ মহতাব | ১৯১৯, ১৯২০, ১৯২১, ১৯২২, ১৯২৩, ১৯২৪ | অতিথি | ১৯১৯ থেকে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত বর্ধমানের মহারাজা স্যার বিজয় চাঁদ মহতাব অবিভক্ত বাংলার গভর্নরের শাসন-পরিষদের তিন সদস্যের একজন হিসেবে ঢাকায় বছরে একবার আসতেন। তিনি সেসময় এ বাড়িতে রাজকীয় অতিথি হিসেবে বাস করতেন।[১][২] | |
| খাজা নাজিমুদ্দিন | ১৯৪৭–১৯৪৮ | আবাসন | পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৭–১৯৪৮ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউসে তিনি বাস করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি এবং ভাষা আন্দোলন কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে ১৯৪৮ সালের ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বর্ধমান হাউসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের নেতারা সাক্ষাৎ করেন। আবার ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ সম্পাদিত রাষ্ট্রভাষা চুক্তির আগে এখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এই ভবনে। | |
| নুরুল আমিন | ১৯৪৮–১৯৫৪ | পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৮–১৯৫৪ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউসে তিনি বাস করেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই ভবন থেকে তিনি ভাষা আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। | ||
| ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ | ১৯৫৪ | আবাসন | ১৯৫৪ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এখানে কয়েক মাস বাস করেন।[১] ১৯৫৫ সালের শীতকালে বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে ঢাকায় সঙ্গীত সম্মেলনে অংশ নেন তিনি।[১৮] | |
| আবু হোসেন সরকার | ১৯৫৫ | উদ্বোধনকারী | যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর বর্ধমান হাউসের চত্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার বাংলা একাডেমি উদ্বোধন করেন।[২১] | |
| অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই | ১৯৫৪ | উদ্বোধনকারী | ১৯৫৪ সালের এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে বর্ধমান হাউসে ভাষা আন্দোলন চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই।[১৭] | |
| শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন | ১৯৫৪, ১৯৫৫ | উদ্বোধনকারী, সম্মেলনে যোগদানকারী | ১৯৫৪ সালের এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে বর্ধমান হাউসে ভাষা আন্দোলন চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।[১৭] ১৯৫৫ সালের শীতকালে বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে ঢাকায় সঙ্গীত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তিনি।[১৮] | |
| শিল্পী কামরুল হাসান | ১৯৫৫ | সম্মেলনে যোগদানকারী | ১৯৫৫ সালের শীতকালে বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঢাকা সঙ্গীত সম্মেলনে অংগ্রহণ করেন তারা।[১৮] | |
| ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান | ||||
| সরদার জয়েনউদ্দীনসহ | ||||
| আব্বাসউদ্দীন আহমদ | ||||
| মুনীর চৌধুরী | ১৯৬৫ | সাংস্কৃতিক চর্চা | মুনীর চৌধুরীর নাট্যচক্র বর্ধমান হাউসে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী নাটকের মহড়া করেছিলেন। কিন্তু নাটকে মুসলিমদের যবন[ক] বলায় তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের বিরোধিতায় তা মঞ্চস্থ করা হয়নি।[৭][২৬] | |
| ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | বাংলা একাডেমিতে কার্যকালে | কর্মক্ষেত্র | বাংলা একাডেমির গবেষণা ও দাপ্তরিক কাজ করেন।[২২] | |
| মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ | ||||
| ড. মুহম্মদ এনামুল হক | ||||
| অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান | ||||
| ড. কাজী দীন মুহাম্মদ | ||||
| অধ্যাপক কবীর চৌধুরী | ||||
| সরদার ফজলুল করিম | ||||
| আবু জাফর শামসুদ্দীন | ||||
| ড. মযহারুল ইসলাম | ||||
| সন্জীদা খাতুন | ১৯৬৩ | সাংস্কৃতিক চর্চা | ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের কার্যক্রম হিসেবে প্রথম বর্ধমান হাউসের একাধিক বারান্দায় সন্জীদা খাতুনের উদ্যোগে সঙ্গীত শিক্ষা ক্লাস শুরু হয়। এই সময় ফরিদা বারী মালিকের সাথে রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখাতেন সন্জীদা খাতুন।[২৪][২৫] | |
| ফরিদা বারী মালিক | ফরিদা বারী মালিক তৎকালীন বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের কার্যক্রম হিসেবে বর্ধমান হাউসের একাধিক বারান্দায় ফরিদা বারী মালিক সন্জীদা খাতুনের সাথে রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখাতেন।[২৪][২৫] | |||
| সোহরাব হোসেন | ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের কার্যক্রম হিসেবে বর্ধমান হাউসের একাধিক বারান্দায় নজরুল সঙ্গীত শেখাতেন সোহরাব হোসেন।[২৪][২৫] | |||
| বজলুল করিম | ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের কার্যক্রম হিসেবে বর্ধমান হাউসের একাধিক বারান্দায় তবলা শেখাতেন বজলুল করিম।[২৪][২৫] | |||
| ওস্তাদ মতিউর রহমান খান (মতি মিয়া) | ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের কার্যক্রম হিসেবে বর্ধমান হাউসের একাধিক বারান্দায় বেহালা, সেতার, খেয়াল ও প্রাচীন বাংলা গান শেখাতেন ওস্তাদ মতিউর রহমান খান (মতি মিয়া)।[২৪][২৫] | |||
| এস. এম. আহসান মুর্শেদ | ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ছায়ানটের কার্যক্রমের ছাত্র ছিলেন এস. এম. আহসান মুর্শেদ।[২৪][২৫] | |||
| শেখ হাসিনা | ২০১০, ২০১১ | উদ্বোধনকারী | বর্ধমান হাউসের ভাষা আন্দোলন জাদুঘর উদ্বোধন করতে ২০১০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি এবং জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর উদ্বোধন করতে ২০১১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি এই ভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভবনে আসেন।[৩২] | |
| অমর্ত্য সেন | ২০১১ | উদ্বোধনকারী | ২০১১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি বর্ধমান হাউসের জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।[৩৩] |
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]বর্ধমান হাউস ইট দ্বারা নির্মিত এবং ধবধবে সাদা রঙে রঞ্জিত। ভবনটিতে ভিক্টোরীয় রীতির খানকিটা ছাপ রয়েছে। ভবনের স্থাপত্যে মুঘল ও ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রণ দেখা যায়। উনিশ শতকে ভারতে নির্মিত ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর একটি উদাহরণ এই ভবন। বর্ধমানে হাউসের মূল ভবনটি দ্বিতলবিশিষ্ট ও আয়তাকার। বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের ফলে বর্ধমান হাউস তার আদিরূপ অনেকটা হারিয়েছে। ১৯৬২ সালে সংস্কারের আদি নকশার সঙ্গে সংগতি রেখে এই ভবনের তৃতীয়তলা নির্মিত হয়।[১]
বর্তমানে ভবনটির প্রবেশদ্বারের সম্মুখে পূর্ব দিকে একটি অর্ধবৃত্তাকার সিঁড়িওয়ালা প্রশস্ত গাড়ি-বারান্দা রয়েছে, তার নিকটে পশ্চিম দিকে রয়েছে আরেকটি আলাদা অর্ধবৃত্তাকার সিঁড়িওয়ালা বারান্দা। এই বারান্দাটি সমদূরত্বে অবস্থিত বলিষ্ঠ স্তম্ভরাজির ওপর অবস্থিত। দোতলায় এই বারান্দা দুটিতে মানসম্পন্ন একটি ঘের দিয়ে রাখা হয়েছে যেন সে ঘেরটিতে সকাল ও বিকেলের রৌদ্র উপভোগ করা যায়। তিন তলায় নবনির্মিত অংশে এরূপ কোনো বারান্দা নির্মিত হয়নি। তবে রাস্তার দিকে এই তলার উত্তরদিকে খোলা আছে।[৭] ভবনের পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত একটি লম্বা, প্রশস্ত ও খোলা বারান্দা ভবনের তিনটি তলাতেই রয়েছে। এই বারান্দা দিয়ে আলাদাভাবে ভবনের প্রতিটি কক্ষে যাওয়া যায়। সমগ্র ভবনের খিলানসমূহ অর্ধচন্দ্রকার ছিল। বর্তমানে প্রধান প্রবেশপথের সম্মুখের টানা বারান্দাটির অভ্যন্তরে গ্যালারি সদৃশ কাচের কক্ষের মধ্যে রাইফেল হাতে মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের প্রতীক। ভবনের পশ্চিম দিকে একটি পুকুর, পশ্চিম দিকে একটি আম গাছ রয়েছে।[৮] এর পেছনে একসময় কর্মচারী-আবাস ছিল।[১]
ভবনটির মূল প্রবেশপথের কাছে রয়েছে দোতলায় ওঠার মেহগনি কাঠের সোপান, যার আয়রন কাস্ট রেলিংয়ের সূক্ষ্ম ও দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তিন তলায় যাওয়ার সিঁড়িটিও কাঠের তৈরি। দোতলায় ফায়ারপ্লেস ও অন্যান্য সুবিধা ছিলো।[৩৪]
আদিতে ভবনটির কাঠের দরজা-জানালার পাল্লাগুলিতে উপনিবেশ-ধাঁচের খড়খড়ি ছিল, যার কিছু নমুনা এখনও বিদ্যমান। নির্মাণের প্রথম দিকে ভবনের সবগুলো দরজা-জানালা এক প্রস্থবিশিষ্ট কাঠের তৈরি ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তীতে কাঠের দরজা এবং জানালার ভেতরের দিকে আরও একটি কাঁচ ও কাঠের দরজা-জানালা বসানো হয়েছে।[৭] প্রায় সব জানালার উপরিভাগে আলো-বাতাস নির্গমনের জন্য ইউরোপীয় গ্রেকো-রোমান শৈলীর ওরিয়েল জানালা দেখা যায়।[১]
বর্ধমান হাউসের নিচতলার দক্ষিণ দিকে একটি কক্ষের মেঝে ও দেওয়ালের বেশ কিছু অংশ মূল্যবান কাঠ দ্বারা আচ্ছাদিত। কক্ষটি ভবনের নাচের বলরুম বা নাচঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয়তলার পূর্ব দিকে একটি পূজা ঘরের অস্তিত্ব রয়েছে।[৭]
- বর্ধমান হাউসের স্থাপত্য
- বর্ধমান হাউসের সামনের অর্ধবৃত্তাকার সিঁড়িওয়ালা প্রশস্ত গাড়ি-বারান্দা
- বর্ধমান হাউসের মেহগনি কাঠের সিঁড়ি
- বর্ধমান হাউসের মেহগনি কাঠের সিঁড়ির কারুকর্ম
- বর্ধমান হাউসের ইউরোপীয় গ্রেকো-রোমান শৈলীর ওরিয়েল জানালা
- বর্ধমান হাউসের করিডর
- উপনিবেশিক ধাঁচের দরজার পিছে কাঁচের কক্ষের মধ্যে রাইফেল হাতে মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য
- বর্ধমান হাউসের উপনিবেশিক ধাঁচের কাঠের দরজা
- বর্ধমান হাউসের খিলান
বর্তমান ব্যবহার
[সম্পাদনা]১৯৭৮ সাল থেকে প্রতিবছর বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে এই বর্ধমান হাউসকে ঘিরে ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী একুশের গ্রন্থমেলার আয়োজন হয়ে আসছে।[৩৪]
বর্ধমান হাউসে দাপ্তরিক কাজ না হলেও বাংলা একাডেমির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। জুলাই ২০২৫-এ বর্ধমান হাউসের[৩৫] —
- নিচতলায় রয়েছে:
- জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর
- বাংলা একাডেমি জাদুঘর ও মহাফেজখানা উপবিভাগ
- বাংলা একাডেমি উপ-ডাকঘর
- দ্বিতীয় তলায় রয়েছে:
- ভাষা আন্দোলন জাদুঘর
- শহীদুল্লাহ গবেষণাকক্ষ
- নজরুল স্মৃতিকক্ষ
- পুঁথি সংগ্রহশালা
- বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট (অস্থায়ী কার্যালয়)
- তৃতীয় তলায় রয়েছে:
- লোক ঐতিহ্য জাদুঘর
- বাংলা একাডেমি মহাফেজখানা (আর্কাইভস)
- বর্ধমান হাউসের তলা নির্দেশিকা
- পুঁথি সংগ্রহশালা
- বাংলা একাডেমি উপ-ডাকঘর
জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর
[সম্পাদনা]জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর হলো বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের নিচতলার ছয়টি কক্ষে স্থাপিত একটি জাদুঘর। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিচতলার চারটি কক্ষে এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।[৩] উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন উপস্থিত ছিলেন। এই জাদুঘরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্রমবিকাশের ইতিহাস, নিদর্শন, বিখ্যাত লেখক ও কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিকৃতি, তাদের ব্যবহৃত সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি এবং বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম প্রদর্শন করা হয়। এখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মীর মশাররফ হোসেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, লালন শাহ, হাসন রাজা, জসীম উদ্দীন, সুকান্ত ভট্টাচার্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল প্রমুখ মনীষীর প্রতিকৃতি এবং তাদের সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।[৩২][৩৩]
প্রথম কক্ষ
[সম্পাদনা]জাদুঘরের প্রথম কক্ষে বাংলা ভাষার প্রাচীন উৎস, বিকাশধারার মানচিত্র, ভাষাপরিবারের পরিচিতি এবং বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ উপস্থাপন করা হয়েছে। কক্ষটির ওপরের দিকে বৃহৎ কাঠের ফ্রেমে বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ ও সংখ্যার ক্রমবিবর্তনের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। এর নিম্নাংশে শিলালিপি এবং তাম্রলিপির মূল নিদর্শনের অনুলিপি এবং বাংলা লিপির উৎস থেকে আধুনিক বাংলা লিপির ক্রমবির্বতন তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম কক্ষে বাংলা পুঁথির দৃষ্টান্ত হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের একটি অনুলিপি সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও মীর মশাররফ হোসেন কর্তৃক লিখিত কাগজ, কবি শামসুর রাহমানের ব্যবহৃত চশমা, মানিব্যাগ, হাতঘড়ি ও নোটবই এবং কবি সুফিয়া কামালের কিছু স্মারক সামগ্রী এই কক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।[৩২][৩৩]
দ্বিতীয় কক্ষ
[সম্পাদনা]দ্বিতীয় কক্ষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, জসীম উদ্দীন, শেখ মুজিবুর রহমান ও সুফিয়া কামালের নিদর্শনসমূহ সংরক্ষিত আছে। মূলত এই কক্ষটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের নিদর্শনে সমৃদ্ধ। কক্ষের একাংশে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল, যৌবন, শুশ্রূষা, সংগীত চর্চা, অভিনয়, লেখালেখি, চিত্রাঙ্কন এবং বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে তোলা আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। এখানে আরও রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়ের সনদ ও মেডেলের প্রতিলিপি, ১৯১৩ সালের ১৫ই নভেম্বর দ্য স্টেটসম্যানে প্রকাশিত তার নোবেল বিজয়ের সংবাদ, মানসী কাব্যগ্রন্থ ও গোরা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির একটি করে পৃষ্ঠা। কক্ষের এক কোণে রবীন্দ্রনাথের সচিত্র কবিতা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন কবিতার পাণ্ডুলিপি স্থান পেয়েছে।
অপরদিকে, এই কক্ষে কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম, তার হাতের লেখা এবং বিভিন্ন বয়সের আলোকচিত্র রয়েছে। নজরুলের সম্পাদিত ১২ই ভাদ্র ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (২৯ আগস্ট ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ) প্রকাশিত ধূমকেতু পত্রিকার একটি পাতা এবং মানভূষণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ২৩ ডিসেম্বর ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত লাঙল পত্রিকার একটি পাতা এখানে সংরক্ষিত আছে।[৩২][৩৩]
তৃতীয় কক্ষ
[সম্পাদনা]তৃতীয় কক্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য, জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সুফিয়া কামাল এবং শামসুর রাহমান সম্পর্কিত নিদর্শন স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্বহস্তে লিখিত কবিতা ‘কনভয়’ ও তার ছবি; সহধর্মিণীসহ জীবনানন্দের ছবি ও তার হাতে লেখা কবিতা; মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছবি এবং তার উদ্দেশ্যে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি চিঠি। এছাড়াও কন্যা মীনাক্ষীকে লেখা বুদ্ধদেব বসুর চিঠি, বুদ্ধদেব রচিত ‘যাওয়া আসা’ কবিতা, এবং ‘ঢাকায় তরুণ লেখকগোষ্ঠী: জগদীশ ঘোষ, বুদ্ধদেব বসু, অমলেন্দু বসু, পরিমল রায় ও অজিত দত্ত’-এর আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। কবি সুফিয়া কামালের রঙিন ছবি ও কবিতা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পোস্টার এবং তার শতবার্ষিকী উদ্যাপনের দুটি বিশাল রঙিন আলোকচিত্র এই কক্ষে রয়েছে। বাংলা একাডেমির সামনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে লেখকদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতি, একুশ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রদত্ত তার ভাষণ এবং নজরুল পরিবারের সঙ্গে শেখ মুজিবের একটি ছবিও এই কক্ষে স্থান পেয়েছে।[৩২][৩৩]
চতুর্থ কক্ষ
[সম্পাদনা]চতুর্থ কক্ষে রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিকৃতি এবং লন্ডনে তার বাসভবনের ছবি সংরক্ষিত আছে, যেখানে লেখা রয়েছে “Indian scholar and reformer lived here.”। কাশীধামে তারকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্বহস্তে লিখিত চিঠি—যা থেকে বিদ্যাসাগরের মাসিক আর্থিক অনুদানের প্রমাণ পাওয়া যায়—এবং বিদ্যাসাগরকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বহস্তে লেখা মন্তব্য এ কক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্বহস্তে লিখিত ছয়টি চতুর্দশপদী কবিতা, যার মধ্যে একটি তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে লিখেছিলেন। মাইকেল মধুসূদনের ছবি এবং তার সমাধির ছবিও এখানে রয়েছে। কক্ষটিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, লালন ও হাসন রাজার প্রতিকৃতিসহ তাদের কীর্তি ও জীবন সম্পর্কিত নানাবিধ তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলা লিপি ও ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের কয়েকটি পঙ্ক্তিও এই কক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।[৩২][৩৩]
পঞ্চম ও ষষ্ঠ কক্ষ
[সম্পাদনা]২০১২ সালে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘরে আরও দুটি কক্ষ সম্প্রসারিত হয়। এই দুটি কক্ষের প্রথমটিতে (পঞ্চম কক্ষ) স্থান পেয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, প্যারীচাঁদ মিত্র, নবীনচন্দ্র সেন, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, দীনেশচন্দ্র সেন, কায়কোবাদ, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও প্রমথ চৌধুরী। এছাড়াও আছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ফররুখ আহমদ, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী, বেগম রোকেয়া, শামসুন নাহার মাহমুদ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এবং রশীদ করীম। এই কক্ষে একটি প্যানেলে 'পঞ্চকবি'-কে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক কবির স্বকীয় বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। পঞ্চকবিরা হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রজনীকান্ত সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও কাজী নজরুল ইসলাম। অপর একটি প্যানেলে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের অগ্রণী ব্যক্তিত্বদের উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, আবদুল কাদির এবং আবুল ফজল। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকাও এই কক্ষে তুলে ধরা হয়েছে।[৩২][৩৩]
পরিদর্শন সময়সূচি
[সম্পাদনা]জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১১:০০টা থেকে দুপুর ১:০০টা পর্যন্ত এবং দুপুর ২:৩০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
ভাষা আন্দোলন জাদুঘর
[সম্পাদনা]বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলার পূর্বাংশে চারটি কক্ষ নিয়ে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। ২০১০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।
এই জাদুঘরে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলি বিষয়ক বিভিন্ন লেখকের গ্রন্থের প্রচ্ছদ;
- "পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা—না উর্দু?" শীর্ষক পুস্তিকার প্রচ্ছদ;
- বাংলা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত বিভিন্ন রচনা ও পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ;
- ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র;
- ১৯৫২ সালে প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন বিষয়ক বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন;
- মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের "নূরনামা" কাব্যের পঙ্ক্তিমালা;
- বাংলা ভাষার সপক্ষে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এবং অতুলপ্রসাদ সেনের রচিত কবিতা;
- ১৯৫৬ সালে চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান কর্তৃক অঙ্কিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আদি নকশা;
- বর্তমান কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আলোকচিত্র;
- পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি উত্থাপনকারী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ছবি;
- ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহের ছবি;
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি;
- ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা;
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের চত্বরে ছাত্রদের ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রস্তুতির দৃশ্য;
- ভাষা আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মিছিলের আলোকচিত্র;
- ধর্মঘট চলাকালে পুলিশের লাঠিপেটায় গুরুতর আহত ছাত্রনেতা শওকত আলীকে রিকশযোগে শেখ মুজিব কর্তৃক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য;
- ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রীদের নির্মিত শহিদ মিনারের ছবি; এবং
- আন্দোলনের আরও নানা দুর্লভ আলোকচিত্র।
জাদুঘরের একটি কক্ষে ভাষাশহিদ শফিউর রহমানের ব্যবহৃত কোট ও তাঁর পরিবারের কিছু আলোকচিত্র এবং শহিদ আবুল বরকতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও একুশে পদক প্রাপ্তির সনদপত্র সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও এখানে ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাংলা ভাষা নিয়ে বাঙালি মুসলিমদের দ্বন্দ্বের ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। প্রদর্শনীর অন্যান্যের মধ্যে আছে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর "কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি" কবিতার হস্তলিখিত অনুলিপি, ১৯৫২ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি পুলিশ কর্তৃক শহিদ মিনার গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের লেখা "স্মৃতি স্তম্ভ" কবিতার পাণ্ডুলিপি এবং ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত প্রথম গান।[৩২][৩৬]
পরিদর্শনের সময়সূচি
[সম্পাদনা]সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত জাদুঘরটি প্রতিদিন সকাল ১১:০০টা থেকে দুপুর ১:০০টা এবং দুপুর ২:৩০টা থেকে বিকাল ৪:০০টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
লোকঐতিহ্য জাদুঘর
[সম্পাদনা]বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশে লোকঐতিহ্য জাদুঘর অবস্থিত। একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর ফোকলোরের উপাদান সংগ্রহের পাশাপাশি লোকশিল্প সংগ্রহের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত লোকশিল্পের উপাদানসমূহ পুরাতন প্রেস ভবনের দোতলায় একটি কক্ষে 'লোকঐতিহ্য সংগ্রহশালা' নামে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ফোকলোর ও লোকশিল্প গবেষকগণ বিভিন্ন সময়ে এই সংগ্রহশালা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।
পরবর্তীতে এই সংগ্রহশালার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ ঘটিয়ে একে লোকঐতিহ্য জাদুঘরে রূপান্তর করা হয় এবং বর্ধমান হাউসে স্থানান্তর করা হয়। অর্থ বিভাগের অনুমোদনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৪-১৭ অর্থবছরে ‘বর্ধমান হাউসে লোকঐতিহ্য জাদুঘর সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ কর্মসূচীর আওতায় জাদুঘরটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। একটি বিষয়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই জাদুঘর বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির সৃষ্টিশীলতাকে উপস্থাপন করে, যার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক নিদর্শনসমূহ পরিচিতি লাভ করবে।
জাদুঘরটিতে লোকজীবনে ব্যবহৃত লোকশিল্পের প্রায় ৫০০টি নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গাজীর পট, শতরঞ্জি, রিকশাচিত্র, নকশি কাঁথা, জামদানি, লোকঅলঙ্কার, বাদ্যযন্ত্র এবং কাঠ, মাটি, ধাতু ও শোলা নির্মিত বিভিন্ন সামগ্রী। ২০২০ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী জাদুঘরটি পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করেন। বর্তমানে লোকশিল্প গবেষক, ফোকলোর বিশেষজ্ঞ ও অনুরাগীদের বিশেষ চাহিদার প্রেক্ষিতে এই বিশেষায়িত জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়। এছাড়া, ভবনের তৃতীয় তলার পূর্বাংশে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে গ্রামবাংলা থেকে সংগৃহীত লোকসাহিত্যের উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে।[৩২]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- বর্ধমান হাউস
- বর্ধমান হাউসের সম্মুখ
- বর্ধমান হাউসের সামনের অর্ধবৃত্তাকার সিঁড়িওয়ালা প্রশস্ত গাড়ি-বারান্দা
- বর্ধমান হাউসের পার্শ্বভাগ
- বর্ধমান হাউসের পিছন দরজা
- বর্ধমান হাউসের করিডর
- বর্ধমান হাউসের ফলক
- বর্ধমান হাউসের তৃতীয় তলার জানালা
- বর্ধমান হাউসের বারান্দার ছাদ
- বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয়তলার ঘের
- নজরুল স্মৃতিকক্ষ
- শহীদুল্লাহ গবেষণাকক্ষ
- বাংলা একাডেমি পুকুর
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]টীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 মজলিশ, নাজমা খান (২০১২)। আহমেদ, শরিফ উদ্দিন; হাসান, দেলওয়ার; মজলিশ, নাজমা খান; রব্বানী, এ কে এম গোলাম (সম্পাদকগণ)। ঢাকা কোষ। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। পৃ. ২৭৫, ২৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৫১২০১৯৭।
- 1 2 3 4 5 6 মজুমদার, রমেশচন্দ্র (১৯৫৯)। জীবনের স্মৃতিদীপে (পিডিএফ)। কলকাতা: শ্রীসূরজিৎচন্দ্র দাস, জেনারেল প্রিন্টারস অ্যান্ড পাবলিসার্স লিমিটেড। পৃ. ৫১। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯২১৩১৯২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - 1 2 হাসান, শরিফুল (১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "ব্রিটিশ আমলের বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমি"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ আলমগীর, মোহাম্মদ (১৬ মার্চ ২০১৫)। "শাহবাগ"। বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ জাহাঙ্গীর, সালাহউদ্দীন (২০১৫)। ইতিহাসের জানালা (পিডিএফ)। ঢাকা: নবপ্রকাশ। পৃ. ৩০। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯২৬৫৪৭৪। ২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - ↑ আরা, আনজুমান (১ এপ্রিল ২০২৩)। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিলো সুজাতপুর মহল্লা"। www.earki.co। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 আফ্রিন, সাবরিনা (৩০ মার্চ ২০১৭)। "বর্ধমান হাউজ ও আজকের বাংলা একাডেমির কিছু গল্প"। banglahub.com.bd। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 "বর্ধমান হাউস"। onushilon.org। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 খান, শামসুজ্জামান (৮ মে ২০১৫)। "বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি দিন"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 নন্দী, দীপন (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "বর্ধমান হাউস এখন জাদুঘর"। সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ উমর, বদরুদ্দীন। পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি। খণ্ড প্রথম (প্রথম ভারতীয় সংস্করণ সংস্করণ)। পৃ. ৮৪, ৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯৮১৩৭৯৮।
- ↑ পাকিস্তান সরকার (২০১৯)। Secret Documents of Intelligence Branch on Father of The Nation, Bangladesh: Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Volume I (1948-1950) [বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর গোয়েন্দা শাখার গোপন নথি প্রথম খণ্ড (১৯৪৮-১৯৫০)]। লন্ডন: রাউটলেজ।
- ↑ হক, গাজীউল (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪)। "পঞ্চাশ দশকে আমরা"। সাপ্তাহিক বিচিত্রা।
- ↑ এলিস, বিচারপতি স্যার টমাস হোবার্ট (২৭ এপ্রিল ১৯৫২)। "রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকালে মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনার উপর জাস্টিস এলিসের রিপোর্ট"। পাকিস্তান সরকার।
- ↑ "যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি | সংগ্রামের নোটবুক"। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২)। শেখ মুজিবুর রহমান। ৬১ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ. ২৯১। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৫০৬১৯৫৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থান (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 ইসলাম, প্রফেসর রফিকুল (১৯৫৫)। Author's Album: Bordhoman House April 1954 [লেখকের অ্যালবাম: বর্ধোমান হাউস এপ্রিল ১৯৫৪]।
- 1 2 3 4 5 ইসলাম, প্রফেসর রফিকুল (১৯৫৫)। Author's Album: Music Conference Dhaka Group Photo 1955 [লেখকের অ্যালবাম: বর্ধোমান হাউস এপ্রিল ১৯৫৪]।
- ↑ ইসলাম, প্রফেসর রফিকুল (১৯৫৫)। Author's Album: Abbasuddin Alauddin Motahar at Bordhoman House 1955 [লেখকের অ্যালবাম: বর্ধোমান হাউস এপ্রিল ১৯৫৪]।
- ↑ "বাংলা গবেষণাগার রূপে বর্ধমান হাউস"। দৈনিক আজাদ। ৬ এপ্রিল ১৯৫৪।
- 1 2 চৌধুরী, আশরাফ উদ্দীন (৪ ডিসেম্বর ১৯৫৫)। "জাতীয় সভ্যতা ও তমদ্দনের বাহনরূপে বাংলা ভাষা বিশ্বে মর্যাদার আসন লাভ করিবে"। দৈনিক আজাদ।
- 1 2 3 4 বাংলা একাডেমি (৩ ডিসেম্বর ২০০৭)। বর্ধমান হাউস।
- ↑ শহীদুল্লাহ গবেষণাকক্ষের ফলক। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- 1 2 3 4 5 6 7 হক, ওয়াহিদুল। "ছায়ানটের জন্মকথা"। onushilon.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 খাতুন, সন্জীদা (ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "স্থির প্রত্যয়ে যাত্রা"। ছায়ানটের ৫০ বছর।
- 1 2 আহসান, সৈয়দ আলী। নির্বাচিত প্রবন্ধ। ঢাকা: সময় প্রকাশন। পৃ. ৬৮। আইএসবিএন ৯৮৪৪৫৮৪৯০৬।
- ↑ মজুমদার, রমেশচন্দ্র (১৯৫৯)। জীবনের স্মৃতিদীপে (পিডিএফ)। কলকাতা: শ্রীসূরজিৎচন্দ্র দাস, জেনারেল প্রিন্টারস অ্যান্ড পাবলিসার্স লিমিটেড। পৃ. ৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯২১৩১৯২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - 1 2 3 হোসেন, কাজী মোতাহার (২০০৪) [১৯৬৯]। "স্মৃতিপটে নজরুল, আমার বন্ধু নজরুল: তার গান"। স্মৃতিকথা (পিডিএফ)। ঢাকা: নবযুগ প্রকাশনী, অশোক রায় নন্দী। পৃ. ৯৬, ৯৭, ৯৮, ১০৭, ১০৮। আইএসবিএন ৯৮৪৮২০০১১৮। ২৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - ↑ জামান, বিপুল (২৫ মে ২০২১)। "ঢাকায় নজরুল, নজরুলের ঢাকা"। দেশ রূপান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৫।
- ↑ কেকা, জান্নাতুল বাকেয়া (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "বর্ধমান হাউসে কবি নজরুলের মধুর স্মৃতি | চ্যানেল আই অনলাইন"। চ্যানেল আই (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 মজুমদার, রমেশচন্দ্র (১৯৫৯)। জীবনের স্মৃতিদীপে (পিডিএফ)। কলকাতা: শ্রীসূরজিৎচন্দ্র দাস, জেনারেল প্রিন্টারস অ্যান্ড পাবলিসার্স লিমিটেড। পৃ. ৯০। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯২১৩১৯২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - 1 2 3 4 5 6 7 8 9 বাগচী, ড. তপন কুমার (২৪ আগস্ট ২০২৪)। "জাদুঘর - বাংলা একাডেমি"। banglaacademy.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 তরফদার, অনিক (২০১৪)। "বাংলা একাডেমীতে জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট"। উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ। ৩০ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২৫।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - 1 2 আশিক, তানভীর (১৪ আগস্ট ২০১৪)। "ইতিহাসের ধূলোজমা বর্ধমান হাউস"। প্রিয়.কম। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ বর্ধমান ভবন। ২৪ জুলাই ২০২৫।
- ↑ আজিজ, গাজী মুনছুর (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "বাংলা একাডেমিতে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর"। সাম্প্রতিক দিনকাল। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
