সমরেশ বসু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সমরেশ বসু
জন্ম ১১ ডিসেম্বর, ১৯২৪
বিক্রমপুর, ঢাকা
মৃত্যু ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮(১৯৮৮-০২-১২) (৬৩ বছর)
জীবিকা লেখক, ঔপন্যাসিক
জাতীয়তা ভারতীয়
ধরন উপন্যাস, ছোট গল্প
উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ গঙ্গা, প্রজাপতি,দেখি নাই ফিরে
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার সাহিত্য একাডেমী

সমরেশ বসু (১৯২৪-১৯৮৮) প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক। কালকূটভ্রমর তার ছদ্মনাম।তার রচনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুনিপুণ বর্ণনা ফুটে ওঠে। ১৯৮০ সালে তিনি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।

বিক্রমপুরে বাল্যকাল[উৎস সম্পাদনা]

নৈহাটীতে কৈশোর[উৎস সম্পাদনা]

তার শৈশব কাটে বাংলাদেশের বিক্রমপুরে আর কৈশোর কাটে কলকাতার উপকণ্ঠ নৈহাটিতে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় তার জীবন ছিল পরিপূর্ণ। এক সময় মাথায় ফেরি করে ডিম বেচতেন।

কর্মজীবন[উৎস সম্পাদনা]

বিচিত্র বিষয় এবং আঙ্গিকে নিত্য ও আমৃত্যু ক্রিয়াশীল লেখকের নাম সমরেশ বসু। দেবেশ রায় তাঁর মৃত্যুতে লেখা রচনাটির শিরোনামই দিয়েছিলেন, 'জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি লেখক এবং পেশাদার লেখক' (প্রতিক্ষণ, ৫ম বর্ষ, ১৭ সংখ্যা, ২-১৬ এপ্রিল ১৯৮৮)। লিখেছিলেন, 'তিনি আমাদের মতো অফিস-পালানো কেরানি লেখক ছিলেন না যাঁদের সাহস নেই লেখাকে জীবিকা করার অথচ ষোল আনার ওপর আঠারো আনা শখ আছে লেখক হওয়ার।'

রাজনৈতিক জীবন ও কারাবাস[উৎস সম্পাদনা]

১৯৪৩ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইছাপুরের গান ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। ট্রেড ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। এ কারণে তাকে ১৯৪৯-৫০ সালে জেলও খাটতে হয়, জেলখানায় তিনি তার প্রথম উপন্যাস ‘উত্তরঙ্গ’ রচনা করেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

কালকূট ছদ্মনাম[উৎস সম্পাদনা]

কালকূট মানে তীব্র বিষ। এটি তাঁর ছদ্মনাম। 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে', 'কোথায় পাব তারে' সহ অনেক উপন্যাস তিনি এ নামে লিখেছেন। বহমান সমাজ থেকে বাইরে গিয়ে একান্তে বেড়াতে ঘুরে বেরিয়েছেন আর সে অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ভ্রমণধরমী উপন্যাস । হিংসা, মারামারি আর লোলুপতার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে যে জীবন দুর্বিসহ হ্যে উঠেছিল, সেখান থেকে বেড়িয়ে এসে অমৃতের সন্ধান করেছেন । তাই কালকূট নাম ধারণ করে হৃদ্যের তীব্র বিষ্কে স্রিয়ে রেখে অমৃত মন্থন করেছেন উপ্নযাসের মধযদিয়ে ।“অমৃত বিষের পাত্রে”, “মন মেরামতের আশায়”, 'হারায়ে সেই মানুষে', 'তুষার শৃঙ্গের পদতলে' ইত্যাদি এই ধারার উপ্নযাস ।

ভ্রমর ছদ্মনাম[উৎস সম্পাদনা]

পুরস্কার ও পদক সমূহ[উৎস সম্পাদনা]

ছদ্ম নামে লেখা শাম্ব উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৮০ সালের আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

তাঁর কিছু লেখা[উৎস সম্পাদনা]

লেখক হিসেবে সমরেশ আমৃত্যু যে লড়াই করেছেন তার কোনো তুলনা নেই। তাঁর নিজের জীবনই আরেক মহাকাব্যিক উপন্যাস। 'চিরসখা' নামের প্রায় ৫ লাখ শব্দের বিশাল উপন্যাসে সেই লড়াইকে স্মরণীয় করে রেখেছেন তারই পুত্র নবকুমার বসু। ছোটদের জন্যে গোয়েন্দা গোগলের বহু ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখেছেন যা শিশুসাহিত্য হিসেবে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

উপন্যাস[উৎস সম্পাদনা]

তার লেখা ছোট গল্পের সংখ্যা ২০০ এবং উপন্যাসের সংখ্যা ১০০।

  • উত্তরঙ্গ
  • গঙ্গা
  • বিবর
  • প্রজাপতি
  • দেখি নাই ফিরে
  • সওদাগর
  • কোথায় পাবো তারে
  • নয়নপুরের মাটি
  • বাঘিনী
  • চলো মন রুপনগরে
  • পাতক
  • মুক্তবেণীর উজানে
  • টানাপোড়েন
  • স্বীকারোক্তি
  • অপদার্থ
  • সুচাঁদের স্বদেশযাত্রা
  • যুগ যুগ জীয়ে
  • মহাকালের রথের ঘোড়া
  • শেকল ছেঁড়া হাতের খোঁজে
  • বাঘিনী
  • বিপর্যস্ত
  • শাম্ব
  • বিটি রোডের ধারে
  • শ্রীমতি কাফে
  • অবশেষে
  • আম মাহাতো
  • কামনা বাসনা
  • কে নেবে মোরে
  • খন্ডিতা
  • গোগোল চিক্কুস নাগাল্যান্ড
  • ছায়া ঢাকা মন
  • জঙ্গল মহলের গোগোল
  • জবাব
  • তিন পুরুষ
  • দাহ
  • নাটের গুরু
  • নিঠুর দরদী
  • পথিক
  • প্রাণ প্রতিমা
  • বাঘিনী
  • বিদেশী গাড়িতে বিপদ
  • বিবেকবান/ভীরু
  • ভানুমতী ও ভানুমতীর নবরঙ্গ
  • মহাকালের রথের ঘোড়া
  • রক্তিম বসন্ত
  • শিমুলগড়ের খুনে ভূত
  • শেখল ছেঁড়া হাতের খোঁজে
  • সেই গাড়ির খোঁজে
  • স্বর্ণচঞ্চু
  • হৃদয়ের মুখ

গল্পগ্রন্থ[উৎস সম্পাদনা]

  • মনোমুকুর

পুরস্কার[উৎস সম্পাদনা]

তিনি আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।

মৃত্যু[উৎস সম্পাদনা]

সমরেশ বসু ১৯৮৮-এর ১২ মার্চ মারা যান। মৃত্যুকালে ও তার লেখার টেবিলে ছিল ১০ বছরের অমানুষিক শ্রমের অসমাপ্ত ফসল শিল্পী রামকিংকর বেইজের জীবনী অবলম্বনে উপন্যাস দেখি নাই ফিরে

বহিঃসংযোগ[উৎস সম্পাদনা]