মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের অন্যতম মুসলমান বাঙালী চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক। তার রচিত গ্রন্থ পারস্য প্রতিভা,বিদায় হজ্জ্ব,নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মোহাম্মদ। শেষ উল্লেখিত গ্রন্থের জন্য তিনি দাউদ পুরস্কার,সিতারা-ই- ইমতিয়াজ এবং প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড পদক পান।

প্রাথমিক জীবনী[সম্পাদনা]

তার জন্ম : ২ মার্চ, ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দ। জন্মস্থান : ঘোড়াশাল গ্রাম, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জকবিরাজি চিকিৎসক হাজী আজম আলী তার পিতা। স্ত্রী জোবেদা খাতুন। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে শাহজাদপুর হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। অতঃপর রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে আই,এ পাশ করেন। তিনি ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে দর্শনে অনার্সসহ দ্বিতীয় বিভাগে বি,এ পাস করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম,এ ডিগ্রি লাভ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আয়কর কমকর্তা হিসাবে সরকারী চাকুরিতে যোগ দেন। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ১৯৩০ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে সাবডিভিশনাল অফিসার পদে উন্নীত হন। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সমবায় ও ঋণ সালিশি বিভাগে সহকারী সেক্রেটারি পদে যোগদান করেন। একই পদমর্যাদায় ১৯৪৫ সালে সিভিল সাপ্লাই বিভাগে বদলি হয়েছিলেন। দেশ বিভাগের (১৯৪৭) পর ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে দায়িত্ব লাভ করেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (১৯৪৮-১৯৪৯) এবং ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (১৯৫০-১৯৫১) পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে যোগদান।

১৯৫৫ সালে এ পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর একই বছর ৩ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হলে এর বিশেষ কর্মকর্তা (পরিচালক) তথা প্রধান নির্বাহ হিসাবে দায়িত্বভার প্রাপ্ত হন। ১৯৫৭ খ্রি. পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। "রবীন্দ্রসঙ্গীত পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী" - এরূপ মত প্রকাশ করে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ২২ জুন জাতীয় পরিষদে বা পার্লামেন্টে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন রেডিও টেলিভিশন থেকে এই সঙ্গীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন আরো অনেকের সাথে।

সাহিত্যচর্চা[সম্পাদনা]

সরকারী চাকুরীতে নিয়োজিত থাকলেও তিনি একজন সৃজনশীল গদ্যশিল্পী। বাংলা ভাষায় দার্শনিক ও চিন্তামূলক প্রবন্ধ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। পারস্য প্রতিভা (প্রথম খণ্ড ১৯২৪ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৩২) এবং মানুষের ধর্ম (১৯৩৪) তার বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ। পারস্য প্রতিভায় ইরানের খ্যাতনামা কবিদের জীবনী ও তাদের সাহিত্যকর্ম, ফার্সি সাহিত্যের প্রেক্ষাপট, সুফিমত ও বেদান্ত দর্শন এবং মানুষের ধর্মে জগৎ ও জীবন, ইহলোক ও পরলোক, জড়প্রকৃতি ও মনোজগৎ, জীবনপ্রবাহ ও আত্মা ইত্যাদি দুরূহ তত্ত্ব ক্লাসিক্যাল বাংলা গদ্যে উপস্খাপিত করে গেছেন। তার বিরচিত অপরাপর গ্রন্থ : কারবালা ও ইমাম বংশের ইতিবৃত্ত (১৯৫৭), নবীগৃহ সংবাদ (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হজরত মোহাম্মদ (১৯৬৩), হজরত ওসমান (১৯৬৯), বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা (১৯৬৯)। প্রবন্ধে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০) এবং নয়াজাতির স্রষ্টা হজরত মোহাম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক "সিতারা-ই-ইমতিয়াজ" উপাধিতে ভূষিত (১৯৬২) হন ও "প্রেসিডেন্ট পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড" পদক লাভ (১৯৭০) করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ২ নভেম্বর, ১৯৭৪ ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]