শ্রীমঙ্গল উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
শ্রীমঙ্গল
ꠍ꠆ꠞꠤꠝꠋꠉꠟ
উপজেলা
শ্রীমঙ্গলের চা বাগান
শ্রীমঙ্গলের চা বাগান
নাম: চায়ের রাজধানী, শীতের শহর, বৃষ্টিপাতের অঞ্চল, পর্যটন শহর
শ্রীমঙ্গলের অবস্থান
শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গল
বাংলাদেশে শ্রীমঙ্গলের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°১৭′৩০″ উত্তর ৯১°৪৪′০″ পূর্ব / ২৪.২৯১৬৭° উত্তর ৯১.৭৩৩৩৩° পূর্ব / 24.29167; 91.73333স্থানাঙ্ক: ২৪°১৭′৩০″ উত্তর ৯১°৪৪′০″ পূর্ব / ২৪.২৯১৬৭° উত্তর ৯১.৭৩৩৩৩° পূর্ব / 24.29167; 91.73333
দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ
বিভাগ সিলেট বিভাগ
জেলা মৌলভীবাজার জেলা
ইউনিয়ন ৯ টি
প্রতিষ্ঠাকাল ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে (শ্রীমঙ্গল থানা)
উপজেলায় রূপান্তর ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
পৌরসভা গঠন ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ
সরকার
 • ধরন সংসদীয় আসন
 • শাসক (মৌলভীবাজার-৪)
 • সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুস শহীদ
আয়তন
 • মোট ৪২৫.১৫ কিমি (১৬৪.১৫ বর্গমাইল)
 • চা বাগান (৪৩.৩৪%) ১৮৪.২৯ কিমি (৭১.১৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৩,১৮,০২৫
 • ঘনত্ব ৭৪৮/কিমি (১৯৩৭.৪/বর্গমাইল)
 • স্বাক্ষরতার হার ৩৯.৮১
বিশেষণ শ্রীমঙ্গলি
সময় অঞ্চল বাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড 3210, 3210-14
দেশের টেলিফোন কোড +৮৮০
ওয়েবসাইট http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/

শ্রীমঙ্গল (সিলেটি: ꠍ꠆ꠞꠤꠝꠋꠉꠟ) চায়ের রাজধানী খ্যাত এই অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি উপজেলা যা সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের অন্তর্গত হাইল-হাওরের পাশে ৪২৫.১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থান করছে ।[৩][৪][৫][৬][৭][৮][৯][১০]

এর ১৮৪.২৯ বর্গকিলোমিটার (৭১.১৫ বর্গমাইল) অঞ্চল অর্থাৎ ৪৩.৩৪% ই চা-বাগান অধ্যুষিত অঞ্চল। পাহাড়, রেইন ফরেস্ট, হাওর আর সবুজ চা বাগান রয়েছে এ অঞ্চলে। এজন্য এ স্থানে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকের সমাগম থাকে।  আর এ কারণে শ্রীমঙ্গলে গড়ে ওঠেছে পাঁচ তারকা হোটেল অনেক আবাসিক হোটেলরেস্তোরা। শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে চা বাগান। দেশের ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে এ উপজেলায় ৪০ টি চা বাগান।[১১][১২]

তাছাড়াও রাবার, লেবু, পান, আনারস ও মূল্যবান কাঠ ইত্যাদি নানা কারণে শ্রীমঙ্গলের উল্লেখযোগ্যতা রয়েছে ।[৯][১৩][১২] শ্রীমঙ্গলের পাশে অবস্থিত এককালে বৃহত্তর সিলেটের মৎস্যভান্ডার বলে খ্যাত হাইল হাওরের বাইক্কা বিল দেশের বৃহৎ মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোর মধ্যে একটি। পাহারী ও ঘন বনাঞ্চল এলাকায় বৃষ্টিপাত বেশি হয় আর শ্রীমঙ্গলে পাহাড় ও ঘন বনাঞ্চল থাকায় এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতশীত পড়ে।[১৪][১৫][১৬][১৭] এত বৃষ্টিপাতের পরেও শ্রীমঙ্গলে বন্যা না হওয়ার কারন কাছাকাছি অবস্থিত (২০ কিলোমিটার দূরে) বড় নদী মনু থেকে শ্রীমঙ্গলে আসার পথে অনেক নিচুভূমি, শ্রীমঙ্গল শহরের গড় উচ্চতা আশেপাশে অবস্থিত অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশি এবং শ্রীমঙ্গল পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত হওয়ায় অন্যান্য বড় নদীর পানি পাহাড় টপকে এ অঞ্চলে আসতে পারে না।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২শত কি.মি. দূরত্বে ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে হাইল-হাওরের পাশে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, ২০৫ টি গ্রামসহ ৪২৫.১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থান করছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা।[৩][৬][৮][১১][১৩] উপজেলাটির উত্তরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা তারও উত্তরে রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য (খাসিয়া ও জয়ন্তীয়া পাহাড়), দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে কমলগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটবাহুবল উপজেলা অবস্থিত।[৩][৪][৬][৭][৮][৯][১১][১২][১৩] এ অঞ্চলে অত্যাধিক বৃষ্টিপাতের পরেও বন্যা না হওয়ার কারন এখানে যেসকল ছোটছোট উপনদী(বিলাস নদী, গোপলা নদী) রয়েছে তা বন্যায় ভাসানোর জন্য যথেষ্ট নয়  আর কাছাকাছি অবস্থিত(২০ কিলোমিটার দূরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায়) বড় নদী মনু থেকে শ্রীমঙ্গলে আসার পথে অনেক নিচুভূমি, শ্রীমঙ্গল শহরের গড় উচ্চতা আশেপাশে অবস্থিত অন্যান্য অঞ্চল(মৌলভীবাজার সদর,রাজনগর উপজেলা) থেকে বেশি এবং শমসের নগরে যাওয়ার পথে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে শ্রীমঙ্গল পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত হওয়ায় অন্যান্য বড় নদীর পানি পাহাড় টপকে এ অঞ্চলে আসতে পারে না।

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত চা-কন্যা স্থাপত্য

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে ষ্টেশন

৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১ টি পৌরসভা, ৯ টি ইউনিয়ন, ১১০ টি মৌজা, ২০৫ টি গ্রাম নিয়ে এই উপজেলা গঠিত।[১৮][১৯][৬] শ্রীমঙ্গলের একমাত্র পৌরসভার প্রশাসনিক ইতিহাস :

১৯৩৫ সালের ১ অক্টোবর, ১৯২৩ এর আসাম মিউনিসিপ্যাল এ্যাক্ট এর বিধান মূলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আত্নপ্রকাশ ঘটে। ২.৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার রূপসপুর ও সুইনগড় মৌজার সমন্বয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা গঠিত হয়। স্বাধীনতা লাভ করার পর পৌরসভা শ্রেনী বিন্যাস করনে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ‘গ’ শ্রেনীর পৌরসভায় রূপান্তর হয়।[১৮] পরবর্তীকালে ১ লা জুলাই ১৯৯৪ তে ‘খ’ শ্রেনীতে ও ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ২০০২ এ ‘ক’ শ্রেনীতে উন্নীত হয়।[১৮] শ্রীমঙ্গল পৌরসভা এলাকার উত্তরে রয়েছে শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন, দক্ষিনে আশিদ্রোন ইউনিয়ন, পূর্বে কালীঘাট ইউনিয়ন। শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকায় কোন নদী নেই তবে শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকা চা বাগান দ্বারা আচ্ছাদিত।  শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার ২ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মধ্যদিয়ে ঢাকা - সিলেট রেল লাইনএবং ৭ নং এবং ৮ নং ওয়ার্ডের মধ্যদিয়ে ঢাকা - সিলেট মহাসড়ক অতিক্রম করেছে । বাংলাদেশের চা শিল্পের জন্য শ্রীমঙ্গল বিখ্যাত। এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ(বন্যা, খরা) সচরাচর পরিলক্ষিত হয় না তবে পাহাড় দ্বারা ঘেরার কারণে অতিবৃষ্টি, প্রচন্ডশীতও পরিলক্ষিত হয়।[১৮]

শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকায় মোট ৯ টি ওয়ার্ড এ ৮০০০ পরিবারের ৪৫০০০০ জনগণের জন্য শ্রীমঙ্গল পৌরসভা থেকে দৈনিক ১৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৪৬২ লিটার পানি সরবরাহ করা হয় (২০০৮ এর তথ্যানুযায়ী)।[১৮]


শ্রীমঙ্গল পৌরসভা (২০০৮)  

প্রতিষ্ঠা কাল:১৯৩৫ সলের ১লা অক্টোবর, ১৯৩২ এর আসাম মিউনিসিপ্যাল এ্যাক্ট এর বিধান মুলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আত্নপ্রকাশ করে।

জনসংখ্যা:  প্রায় ৪৫০০০

পরিবারের সংখ্যা: প্রায় ৮০০০|

এলাকা:      মৌলভীবাজার জেলার রূপসপুর ও সুইনগড় মৌজার সমন্বয়ে ২.৫৮ বর্গ কিমি।

ওয়ার্ডের সংখ্যা:৯ টি

ওয়ার্ড কমিশনার সংখ্যা:৯ জন

ধরন:‘ক’ শ্রেণী

নারী ওয়ার্ড কমিশনার সংখ্যা: ৩ জন

মোট স্টাফ সংখ্যা:৩৫ জন

মোট সড়ক:৩১ কি. মি (পাকা ২১ কি.মি,আধা পাকা ০৩ কি.মি ও কাঁচা ০৭ কি.মি)

পানি সরবরাহ:দৈনিক ১৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৪৬২ লি:

ড্রেন:৩১ কি. মি (পাকা৩০কি.মি ও কাঁচা ১  কি.মি)

পানির পাইপ লাইন:১৪ কি.মি

লাইসেন্স:১০০০টি(রিক্সা ও ভ্যান)

ট্রেড লাইসেন্স:১৮১৩ টি




শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইউনিয়নসমুহঃ-

  1. মির্জাপুর ইউনিয়ন
  2. ভূনবির ইউনিয়ন
  3. শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন
  4. সিন্দুরখান ইউনিয়ন
  5. কালাপুর ইউনিয়ন
  6. আশিদ্রোন ইউনিয়ন
  7. রাজঘাট ইউনিয়ন
  8. কালিঘাট ইউনিয়ন এবং
  9. সাতগাঁও ইউনিয়ন

নামকরণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন শ্রীমঙ্গল শহরের নামকরণ সম্পর্কে  বিভিন্ন মত ও জনশ্রুতি শোনা যায়। তবে সবথেকে নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে-

প্রথমত :বাবু প্রকৃত রঞ্জন দত্ত (এডভোকেট হাই কোর্ট ডিভিশন সিলেট) বিরচিত ‘সাতগাঁও এর ইতিহাস’ নিবন্ধনে বিভিন্ন লেখকের মত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, সাতগাঁও এর পাহাড়ে অধিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল চন্ডি মন্দিরকে কেন্দ্র করে এককালে মঙ্গল চন্ডির হাটের প্রতিষ্ঠা হয়। সেই মঙ্গল চন্ডির হাটই পরবর্তী কালে শ্রীমঙ্গল বাজারে রূপান্তরিত হওয়ার পর এ অঞ্চলে অধিক লোক সমাগম ঘটে এবং লোকমুখে শ্রীমঙ্গল বাজার হিসেবে এ অঞ্চল পরিচিতি লাভ করে। এখানে উল্লেখ যোগ্য যে, শ্রীমঙ্গল চন্ডির মন্দিরের বিলুপ্ত প্রায় ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বর্তমান শ্রীমঙ্গল পৌরসভা হতে কয়েক ক্রোশ উত্তর পশ্চিমে।[৩][৪][১৮][১৯]


দ্বিতীয়ত: ‘শ্রীদাস’ ও ‘মঙ্গলদাস’ নামে প্রতাপশালী বিত্তবান দুই ভাই প্রথমে এসে এখানে হাইল-হাওরের তীরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে শ্রীদাস, মঙ্গলদাসের এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং এক সময়  এ দু’ভাইয়ের নামানুসারে শ্রীমঙ্গল নামকরণ করা হয় এ এলাকার।[৩][৪][১৮][১৯]


ইতিহাস[সম্পাদনা]

বধ্যভূমি-৭১
সাধু বাবার_বটতলা

শ্রীমঙ্গলের ইতিহাস কয়েকটি পর্বে ভাগ করা যেতে পারে; যেমন;  প্রাচীন রাজ্য সমুহ, আর্য যুগ, মুসলিম শাসিত আমল, মোগল আমল, ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তানে অর্ন্তভুক্তি, মুক্তিযুদ্ধবাংলাদেশ

বর্ণিত আছে যে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল  , পৌরাণিক যুগে প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ঐ যুগে সিলেটের লাউড় পর্বতে কামরূপ রাজ্যের উপরাজধানী ছিল বলে জানা যায়। ধারণা করা হয় প্রাচীনকালে দ্রাবিড়মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। দশম শতাব্দিতে এ অঞ্চলের কিছু অংশ বিক্রমপুরের চন্দ্রবংশীয় রাজাদের দ্বারা শাসিত হয় বলে জানা যায়। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়ের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চল মুসলমানদের দ্বারা অধিকৃত হয় এবং ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে আউলিয়া শাহ জালাল (রহ:) দ্বারা গৌড় রাজ্য বিজিত হলে, দিল্লীর সুলতানদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দিতে বালিশিরা (শ্রীমঙ্গল)  অঞ্চলের ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। অর্থাৎ ঐ সময় শ্রীমঙ্গল ছিলো ত্রিপুরার রাজধানী। প্রবল শক্তিশালী এ রাজার বিরুদ্ধে কুকি সামন্ত রাজা প্রায়ই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন। এরকম এক যুদ্ধে ১৪৫৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগনার শংকরসেনা গ্রামে মহারাজের প্রধান সেনাপতি  (মহারাজের দামান) নিহত হলে মহারাজের মেয়ে  সতীদাহে রাজি না হয়ে আরাধনা শুরু করেন। ঐ যুদ্ধের স্থানেই নিম্মাই শিববাড়ি নির্মিত হয়। উল্লেখ্য বর্তমানে নিম্মাই শিববাড়ি শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগনার শংকরসেনা গ্রামে রয়েছে। ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ভাগ্যচন্দ্রের শাসনামলে মনিপুর রাজপুরুষ মোয়ারাংথেম গোবিন্দের নেত্বত্বে একদল মণিপুরী মণিপুর রাজ্য ছেড়ে শ্রীমঙ্গলের খাসপুরে এসে আবাস গড়েন। এই খাসপুরে রয়েছে মোয়ারাংথেম গোবিন্দের স্মৃতিস্তম্ভের ধ্বংসাবশেষ ।

১৮৫৪ সালে সিলেট শহরের মালনিছড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম চা-বাগান[২০] এরপর শ্রীমঙ্গলে বিপুল পরিমানে  চা-বাগান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বৃহত্তর সিলেটচট্রগ্রাম এলাকায় বিস্তৃত হয় চায়ের ভূবন। বৃটিশ আমলের প্রথম দিকে বৃহত্তর সিলেট জেলা সহ শ্রীমঙ্গল ঢাকা বিভাগের অধীনে ছিল। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চল ভারতের আসাম প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর শ্রীমঙ্গলসহ বৃহত্তর সিলেট জেলাকে আবার ঢাকা বিভাগের অধীনে নিয়ে যাওয়া হয়।[২১] ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর পুনরায় বৃহত্তর সিলেটসহ শ্রীমঙ্গল আসামের অর্ন্তভুক্ত করা হয়।[২২] অর্থাৎ টানা দুইবার ঢাকা বিভাগ ও দুইবার আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮৮২ সালে মৌলভীবাজারকে সাউথ সিলেট মহকুমা ঘোষণা করা হয় এবং ১৯১২ সালে শ্রীমঙ্গলকে থানা ঘোষণা করা হয়।[২৩][২৪] ১৯১৫ সালে আসাম সরকারের এক নির্দেশে লোকাল বোর্ড চালু হলে শ্রীমঙ্গলকে মৌলভীবাজার লোকাল বোর্ড এর অধীনে ন্যাস্ত করা হয়।[২৫] এই এলাকায় চা-চাষের উপযোগী ভূমি থাকায় এখানে চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। চা-পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এই অঞ্চলে রেল লাইন স্থাপিত হয়। প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা দিয়ে শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশনের গোড়াপত্তন করা হয়। শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশন প্রতিষ্ঠা করার পূর্বে থানা সদর দপ্তর শ্রীমঙ্গলে স্থানান্তরিত হয়।১৯২৯ সালে শ্রীমঙ্গল বাজার এলাকাকে আরবান এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  ১৯৩৫ সালের ১ লা অক্টোবর, ১৯২৩ এর আসাম মিউনিসিপ্যাল এ্যাক্ট এর বিধান মূলে ১৯২৯ সালে ঘোষিত আরবান এলাকা নিয়ে ‘শ্রীমঙ্গল স্মল টাউন কমিটি’ গঠিত হওয়ার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আত্নপ্রকাশ ঘটে। ১৯৬০ সালে এটি ‘মিউনিসিপ্যালিটিতে’ রূপান্তরিত হয়। [২৬]

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর অসহযোগ আন্দোলন শ্রীমঙ্গলে তীব্র রূপ নেয়। ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিলের পর থেকে পাকিস্তান হানাদারবাহিনী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে হত্যা করেছিল ৫০ এরও অধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নারী-পুরুষদের।[২৭] শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি  কোম্পানির ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকায় বধ্যভূমিতে ৪৭ জন চা-শ্রমিককে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করেছিল হানাদার বাহিনী।[২৮][২৯] তারপর থেকে শ্রীমঙ্গলের চা শিল্পসহ অফিস আদালতে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। ভাড়াউড়া চা বাগানে কলেজ রোডের পাশে নির্মিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ এখও সেই করুন ইতিহাস নিয়ে দন্ডায়মান রয়েছে। পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শ্রীমঙ্গলে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মুকিত লস্কর। এরপর একে একে শহীদ আনিস মিয়া (রিক্সা চালক), ছাত্রলীগ নেতা শহীদ মইনউদ্দিন, শহীদ শম্ভু ভূমিজ, শহীদ সমীর সোম, শহীদ আব্দুস শহীদ, শহীদ সুখময় পাল, শহীদ সুদর্শন, শহীদ আলতাফুর রহমান আরোও অনেকেই ।[৩০] এছাড়া পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে তাদের শেষ নির্যাতনের শিকার হন চা-শ্রমিক নেতা ও চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট পবন কুমার তাঁতী। পাক-হানাদার বাহিনী পবনকে হত্যা করে ওয়াবদার পাশে ভুরভুরিয়া ছড়ায় তার লাশ ফেলে যায়।[৩১] এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের হবিগঞ্জ রোডের ওয়াবদার অফিসের পিছনে একটি ছড়ায় ও বর্তমান বিজিবি সেক্টরের সাধু বাবার বটতলা খ্যাত (বর্তমান নাম : বধ্যভূমি-৭১) বেশ কয়েকটি স্থানে পাক বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল। আর সেখানে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নিকুঞ্জ সেন, সমীর সোম ও অর্জুন দাসসহ বহু বীরসেনানীকে। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মরনপন লড়াই ও ভারতের সীমান্ত থেকে মুক্তি বাহিনী ক্রমশ ক্যাম্প অভিমুখে এগিয়ে আসার খবরে পাক বাহিনী ভীত হয়ে পড়ে। অবস্থার বেগতিক দেখে ৬ ডিসেন্বর ভোরবেলা তারা পালিয়ে মৌলভীবাজরে আশ্রয় গ্রহন করে।  এর মাধ্যমেই মুক্ত হয় শ্রীমঙ্গল শহর।[৩২][৩৩]

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শ্রীমঙ্গলে সাধু বাবার বটতলার পাশে (বিজিবি ক্যাম্পের পাশে) ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ করা হয় বধ্যভূমি-৭১ নামের একটি স্মৃতিস্তম্ভ। [৩৪][৩৫] ১৯৭২ সালের ৫ মে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতির ঘোষণা বলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা গঠিত হয়। ১৯৯৪ সালের ১ জুলাই পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে এবং ২০০২ সালের ১ জুলাই প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়

চা শিল্পের ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের বর্তমান ভৌগোলিক সীমানায় চায়ের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয় আজ থেকে ১৫০ বছর আগে। ১৮৫৪ সালে সিলেট শহরের মালনিছড়ায় বাংলাদেশের প্রথম চা-বাগান প্রতিষ্ঠিত হয় ।[৩৬] তারপর শ্রীমঙ্গলের বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে চা বাগান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে ধীরে ধীরে বৃহত্তর সিলেটচট্রগ্রাম এলাকায় বিস্তৃত হয় চায়ের ভূবন। একশত বছরেরও পুরোন  এই চা শিল্পকে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থন দেয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান (পিটিআরএস) স্থাপন করে।[৩৭] তবে তা খুব একটা কার্যকরী হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময়কালে শীর্ণকায় এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অফিসার ও সাধারণ কর্মচারীদের সংখ্যা  ছিল অত্যন্ত সীমিত। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পূর্বকালে ৪২৬৮৮ হেক্টর জমি চা আবাদী এলাকার আওতায় চলে আসে।[৩৮]

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীন হওয়ার প্রায় দেড় বছরের মধ্যে রাষ্ট্রের চা শিল্পকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর উত্তরোত্তর উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ইনষ্টিটিউটএ রূপান্তর করে।[৩৯] এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই)।[৪০] বিটিআরআই এর মাধ্যমে অধিক ফলন ও মানসম্মত চা পাওয়ার লক্ষ্যে ছাঁটাই, চয়ন, রোপণ দূরত্ব ইত্যাদির উন্নতকরণ সম্ভব হয়েছে। এছাড়া চা প্রক্রিয়াজাত করণ পদ্ধতির আধুনিকায়ন, চায়ের বিকল্প ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে এখানে পবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত এই বাংলাদেশ চা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে প্রস্তুত চায়ে বালাইনাশক বা অন্য কোন ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি নিরূপণের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে রেসিডিউ এনালাইটিক্যাল গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো বাংলাদেশের এই প্রাকৃতিক পরিবেশসমৃদ্ধ চা শিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যাতে নতুন প্রজন্ম ধরে রাখতে পারে সে লক্ষ্যে টি মিউজিয়াম বা চা জাদুঘর স্থাপন করেছে চা বোর্ড। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ এ বাংলাদেশ চা বোর্ড এই চা জাদুঘর  উদ্বোধন করা হয়। [৪১][৪২] ব্রিটিশ আমলে চা-বাগানগুলোতে ব্যবহূত বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে এ শিল্পের ঐতিহ্যের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য দেশের চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে স্থাপিত হয়েছে চা জাদুঘর। জাদুঘরের জন্য এ পর্যন্ত ব্রিটিশ আমলে চা-বাগানে ব্যবহৃত প্রায় শতাধিক আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতার আগে চা বোর্ডের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যবহূত চেয়ার-টেবিলও। এখনে থাকবে চায়ের উপকারিতা, চায়ের আবিষ্কার কাহিনীসহ চায়ের এ পর্যন্ত বাংলাদেশে উদ্ভাবিত সকল প্রকার বিটি ক্লোনের উপস্থিতি।  শ্রীমঙ্গল উপজেলার টি রিসোর্টের তিনটি কক্ষে এখন চা জাদুঘর করা হয়েছে। প্রথম দিকে রিসোর্টের একটি ভবনের তিনটি ঘর নির্ধারণ করে সে ঘরগুলোয় সংগৃহীত প্রাচীন এসব জিনিসপত্র আনার কাজ চলে। পরবর্তীতে চা শ্রমিকদের জন্য ব্যবহূত বিশেষ কয়েন,  ঘড়ি, ১৯৫৭-৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর সেই সুবাদে তিনি এসেছিলেন শ্রীমঙ্গলের নন্দবানী চা বাগানে।[৪৩] তৎকালিন সময়ে বঙ্গবন্ধু যে চেয়ারে বসে মিটিং করেছিলেন সেই চেয়ার ও টেবিল[৪৪], পাথর হয়ে যাওয়া আওয়াল গাছের খণ্ড, ব্রিটিশ আমলের ফিলটার, ফসিল, কম্পাস, চা গাছের মোড়া ও টেবিল, তীর-ধনুকসহ নাম না-জানা আরও কিছু সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এখনো সংগ্রহের কাজ বন্ধ হয়নি। এই অঞ্চলের গৌরবান্বিত চা শিল্পের ইতিহাস ধরে রাখার জন্যই এত সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কারন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চা উৎপাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে ।[৪৫][৪৬]

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৪০ টি চা-বাগান। যা ৪৫,৫৩৮ একর ( ১৮৪.২৯ বর্গ কিলোমিটার) এলাকা জুড়ে অবস্থান করছে। [৪৭]

আবহাওয়া ও জলবায়ু[সম্পাদনা]

শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডের আলিয়া মাদ্রাসার পাশের মেঘাচ্ছন্ন দিন

শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের সবথেকে শীতল ও বৃষ্টিপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।[১৪][১৫][১৬][১৭] এরপরও এ অঞ্চল শীতকাল ছাড়া সারা বছরই নাতিশীতোষ্ণ থাকে। শ্রীমঙ্গলে শীত মৌসুম (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) খুবই শুষ্ক থাকে। এসময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাৎসরিক সর্বমোট বৃষ্টিপাতের ৪ শতাংশেরও নিচে থাকে। ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পশ্চিমা বায়ু শীত মৌসুমে বাংলাদেশের এই অঞ্চলে ৪০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে।[৪৮] নভেম্বরের শুরুর দিকে শীতের এ আগমনের সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে আসতে থাকে হাজার-হাজার পরিযায়ী পাখি[৪৯][৫০][৫১] এখানকার বাইক্কা বিলের মৎস্য অভয়ারণ্যে সুদূর সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ অঞ্চলসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে অতিথি পাখিরা আসতে শুরু করে। [৫২][৫৩] এদের মধ্যে রয়েছে ল্যাঞ্জা হাঁস, বেগুনি কালেম, পাতি সরালি ইত্যাদি। [৫৪][৫৫]

শীত মৌসুমে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথি পাখি
শ্রীমঙ্গল চা বাগানে বৃষ্টি মুখর একটি দিন

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত আরহাওয়ার রেকর্ড রয়েছে।[৫৬]  তারমধ্যে ২০১৮ সালে পঞ্চগড়ের  তেঁতুলিয়ায় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস  তাপমাত্রার আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।[৫৭][৫৮] যা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।   যদিও বাংলাদেশে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সংঘটিত হয় বর্ষা মৌসুমে (জুন থেকে অক্টোবর)।[৫৯] তবে শ্রীমঙ্গলে মার্চ এর মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ শীতকাল বাদে সারাবছরই বৃষ্টিপাত হয়। তবে জুন থেকে অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকে। এ মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের মূল কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট দুর্বল নিম্নচাপসমূহ এবং সমুদ্র থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড অভিমুখী আর্দ্র মৌসুমি বায়ুবর্ষা মৌসুমেও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (শ্রীমঙ্গল এই অবস্থানে) অধিক মাত্রায় বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে মেঘালয় পর্বতের প্রভাব রয়েছে। সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর আর্দ্র মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ স্তিমিত হয়ে গেলে দ্রুত বৃষ্টিপাত হ্রাস পেতে থাকে।[৬০] ২০১৭ এর  এপ্রিল মাসে যখন বাংলাদেশে  ১১৯.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল তখন শ্রীমঙ্গলে অস্বাভাবিক ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়।[৬১][৬২] যা এর আগের ৩৪ বছরে দেখা যায়নি।[৬৩][৬৪]

শ্রীমঙ্গল-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) গড় ২৫٫৯
(৭৯)
২৭٫৯
(৮২)
৩২٫০
(৯০)
৩৩٫৩
(৯২)
৩২٫৬
(৯১)
৩১٫৯
(৮৯)
৩১٫৮
(৮৯)
৩১٫৮
(৮৯)
৩২٫০
(৯০)
৩০٫৯
(৮৮)
২৯٫১
(৮৪)
২৬٫৬
(৮০)
৩০٫৪৮
(৮৬٫৯)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) গড় ৮٫৯
(৪৮)
১১٫৪
(৫৩)
১৬٫৯
(৬২)
২১٫১
(৭০)
২৩٫২
(৭৪)
২৪٫৫
(৭৬)
২৪٫৯
(৭৭)
২৪٫৮
(৭৭)
২৪٫৫
(৭৬)
২১٫৮
(৭১)
১৫٫৮
(৬০)
১০٫৭
(৫১)
১৯٫০৪
(৬৬٫৩)
গড় অধঃক্ষেপণ মিমি (ইঞ্চি) ১২
(০٫৪৭)
২৮
(১٫১)
৯৩
(৩٫৬৬)
২১৯
(৮٫৬২)
৩৬৬
(১৪٫৪১)
৪৯৮
(১৯٫৬১)
৩৮০
(১৪٫৯৬)
৩৩১
(১৩٫০৩)
২৬০
(১০٫২৪)
১৯২
(৭٫৫৬)
৩৫
(১٫৩৮)

(০٫২৪)
২,৪২০
(৯৫٫২৮)
উৎস: Climate-data.org

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৭৮৩২৩ জন। যার মধ্যে ১৪৩০৩৩ জন পুরুষ ও ১৩৫১৯৯ জন নারী।[৬৫]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

বতর্মান শিক্ষার হার ৩৯.৮১%। শ্রীমঙ্গল রয়েছে চারটি কলেজ। একটি সরকারি (শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ), তিনটি বেসরকারি (দ্বারিকাপাল মহিলা ডিগ্রী কলেজ, দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ কলেজ)।

অর্থকরী ফসল[সম্পাদনা]

শ্রীমঙ্গলে পাহাড় ও ঘন বনাঞ্চল থাকায় এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ও শীত পড়ে; ফলে চা চাষ উপযোগী হওয়ায় এখানে ৩৮টি চা বাগান গড়ে উঠেছে।[৬৬] এছাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে আনারস ও লেবুর চাষ হয়।

অন্যান্য তথ্য[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশের একমাত্র চা গবেষণা কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত।
  • বাংলাদেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে চালু করা হয়।
  • শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের শীতলতম স্থান।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ পরিসখ্যান ব্যুরো (জুন, ২০১৪)। "Population Census 2011, Sylhet" (PDF)http://bbs.gov.bd/। বাংলাদেশ পরিসখ্যান ব্যুরো । সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য); |website= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  2. http://www.thedailystar.net/2005/01/19/d501192501107.htm
  3. "শ্রীমঙ্গল উপজেলার পটভূমি"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  4. "শ্রীমঙ্গল উপজেলা"। Offroad Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  5. "চা বাগানের ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন শ্রীমঙ্গলের চা যাদুঘর"। এইবেলা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১৩ 
  6. "ঘুরে আসুন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল"। jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১১ 
  7. "বাংলাদেশের ভূ-স্বর্গ ভূমি : শ্রীমঙ্গল"। shiletiritihash24। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  8. "বাংলাদেশের ভূ-স্বর্গ ভূমি : শ্রীমঙ্গল"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  9. "উপজেলার ঐতিহ্য"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  10. "শ্রীমঙ্গলের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র বধ্যভূমি'৭১ পার্ক"। Banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  11. "ভাষা ও সংস্কৃতি"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  12. "উলেস্নখযোগ্য স্থান বা স্থাপনা"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  13. "চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল"। PORJOTONLIPI। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১০ 
  14. "৩৫ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত"। সিলেটটুডে24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১১ 
  15. "৩৫ বছরের মধ্যে বৃষ্টিবহুল এপ্রিল"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১৪ 
  16. "সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড: জেনে নিন আজকের তাপমাত্রা কোথায় কত"। বাংলা টেলিগ্রাফ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১৪ 
  17. "শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস"। Daily sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১৪ 
  18. "এক নজরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১১ 
  19. "এক নজরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-১১ 
  20. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/34209b4a-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A7%8C%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%AD%E0%A6%BE
  21. http://sylheteritihas24.blogspot.com/2011/12/f-m.html?m=1
  22. http://sylheteritihas24.blogspot.com/2011/12/f-m.html?m=1
  23. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/34209b4a-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A7%8C%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%AD%E0%A6%BE
  24. http://sylheteritihas24.blogspot.com/2011/12/f-m.html?m=1
  25. http://sylheteritihas24.blogspot.com/2011/12/f-m.html?m=1
  26. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/34209b4a-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A7%8C%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%AD%E0%A6%BE
  27. http://www.sylhetview24.net/news/details/Sylhet/75368
  28. http://m.banglanews24.com/tourism/news/bd/502546.details
  29. http://www.sylhetview24.net/news/details/Sylhet/75368
  30. http://www.sylhetview24.net/news/details/Sylhet/75368
  31. http://www.sylhetview24.net/news/details/Sylhet/75368
  32. http://m.banglanews24.com/tourism/news/bd/502546.details
  33. http://www.sylhetview24.net/news/details/Sylhet/75368
  34. http://m.banglanews24.com/tourism/news/bd/502546.details
  35. http://www.sylhetview24.net/news/details/Sylhet/75368
  36. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32868303-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  37. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32868303-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  38. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32868303-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  39. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32868303-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  40. http://porjotonlipi.com/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2/
  41. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32868303-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  42. http://eibela.net/?p=24409
  43. http://eibela.net/?p=24409
  44. http://eibela.net/?p=24409
  45. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32868303-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  46. http://eibela.net/?p=24409
  47. http://sreemangal.moulvibazar.gov.bd/site/page/32a2378a-0757-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2
  48. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4
  49. http://bajroshakti.com/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%A4-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87/
  50. http://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/Anuzbest/29303396
  51. http://surmanews24.com/2016/12/32505
  52. http://bajroshakti.com/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%A4-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87/
  53. http://surmanews24.com/2016/12/32505
  54. http://bajroshakti.com/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%A4-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87/
  55. http://surmanews24.com/2016/12/32505
  56. https://www.banglatelegraph.com/article/66482
  57. https://www.banglatelegraph.com/article/66482
  58. http://www.dailysangram.com/post/217243-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A7%AC-%E0%A6%A6%E0%A6%B6%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A7%A9-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8
  59. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4
  60. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4
  61. https://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1325097?
  62. http://www.sylhettoday24.news/news/details/National/40650
  63. https://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1325097?
  64. http://www.sylhettoday24.news/news/details/National/40650
  65. Bangladesh Bureau of Statistics, 2001
  66. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা শিল্প

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]