কুলাউড়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুলাউড়া
উপজেলা
কুলাউড়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কুলাউড়া
কুলাউড়া
বাংলাদেশে কুলাউড়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৩১′০০″উত্তর ৯২°০২′০০″পূর্ব / ২৪.৫১৬৭° উত্তর ৯২.০৩৩৩° পূর্ব / 24.5167; 92.0333স্থানাঙ্ক: ২৪°৩১′০০″উত্তর ৯২°০২′০০″পূর্ব / ২৪.৫১৬৭° উত্তর ৯২.০৩৩৩° পূর্ব / 24.5167; 92.0333
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ সিলেট বিভাগ
জেলা মৌলভীবাজার জেলা
আয়তন
 • মোট ৫৪৫.৭৩ কিমি (২১০.৭১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৩,৬০,১৯৫
 • ঘনত্ব ৬৬০/কিমি (১৭০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৬.২%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট kulaura.moulvibazar.gov.bd/


কুলাউড়া উপজেলা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। ১৯৮২ সালে কুলাউড়া উপজেলায় উন্নীত হয়।[২][৩]

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

কুলাউড়া উপজেলার অবস্থান ২৪.৫১৬৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৯২.০৩৩৩ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত। আয়তন ৬৭৯.২৫ বর্গ কিলোমিটার (২৬২ বর্গ মাইল)। কুলাউড়ার উত্তরে বড়লেখা, জুড়ি ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে রাজনগরকমলগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরাআসাম রয়েছে।[৩]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

২০০১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলা শহর ৪টি মৌজা, ৯টি ওয়ার্ড এবং ২৬টি মহল্লার সমন্বয়ে গঠিত।[৩] ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কুলাউড়াকে ১৭টি ইউনিয়নে আলাদা করা হয়[২]:

নামকরনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

শাহা হেলিম উদ্দিন কোরেশী নামক গ্রন্থ থেকে জানা যায় মনসুর গ্রামের প্রখ্যাত দেওয়ান মামন্দ মনসুরের পিতামহ মামন্দ মনোহরের ভ্রাতা মামন্তদ কুলাঅর কুমার থাকাবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মামন্দ মনোহর ভ্রাতার স্মৃতি রক্ষার্থে নিজ জমিদারির পূর্বাংশে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করে নাম রাখেন কুলঅরার বাজার’’। কালক্রমে ‍‍"কুলঅরার বাজার থেকে কুলাউড়া’’নামকরণ করা হয়েছে।

ভূপ্রকৃতি[সম্পাদনা]

হাওর আর নদী ছাড়া এই অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থানই সমতল। তাছাড়া উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে পাহাড়ি বন বিস্তৃত যা কুলাউড়া পাহাড় নামে পরিচিত ।পাহাড়ী জনপদ রয়েছে যার বৈচিত্রতা পরিলক্ষিত হয় ।[২]

অধিবাসী[সম্পাদনা]

১১ মার্চ ১৯৯১ ২২ জানুয়ারি ২০০১ ১৫ মার্চ ২০১১
৩,৩৯,৬৭৩ জন[৩][৪] ৩,৯৫,৮৭৮ জন[৪] ৩,৬০,১৮৫ জন[৪]

২০০১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৩৯,৬৭৩ জন (২০১১-তে তা হয় ৩,৬০,১৮৫ জন)। তন্মধ্যে ২০০১-এ পুরুষ ৫১.০৯ শতাংশ, এবং নারী ৪৯.৯১ শতাংশ। এলাকার জনসংখ্যার সিংহভাগ মুসলমান (৭৪.২১ শতাংশ); এছাড়াও রয়েছেন হিন্দু (২৪.৫৮ শতাংশ), খ্রিস্টান (১.১২ শতাংশ) ধর্মাবলম্বী। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী রয়েছেন ০.০৯ শতাংশ। আদিবাসীদের মধ্যে অন্যতম খাসিয়া, মণিপুরি এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়, এদের সংখ্যা ৬,১৯৪ জন।[৩]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

উপজেলায় শিক্ষার হার ৪৬.২ শতাংশ।

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান[সম্পাদনা]

কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে কুলাউড়া ডিগ্রী কলেজ উপজেলার মধ্যে সর্ব বৃহৎ এবং একমাএ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ যেখানে স্নাতক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ. এছাড়াও কুলাউড়া মহিলা কলেজ,ইউসুফ গুণী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ ও লংলা আধুনিক ডিগ্রী কলেজ রয়েছে.উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নবীনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় অতি সুপ্রাচীন যা পাকিস্তান আমলেরও বেশ আগে গঠিত হয়.তাছাড়াও বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলার মধ্যে একটি স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ. এছাড়াও কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,মাহতাব ছায়েরা,দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম ।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মূলত কৃষি নির্ভর। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়ী, জেলে, কাঠুরে, কসাই, নাপিত, ছুতার, কুমার, কামার, চাঁড়াল, মেথর, চা শ্রমিক, মোদক প্রভৃতি পেশাজীবি সম্প্রদায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য। মনু সবচেয়ে বড় ও প্রধান নদী। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকির বেশিরভাগ অংশ কুলাউড়ার অধীনে। এছাড়াও লংলিয়া, গোয়ালজোর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য হাওর। এসব নদী ও হাওর শুধু কুলাউড়া নয় সমগ্র বাংলাদেশের মৎস্য চাষের প্রধান উৎস। এছাড়া হাওরগুলোতে বিভিন্ন মৌসুমে প্রচুর বোরো, আউশ, আমন, শাইল ধান উৎপাদিত হয়। এছাড়া কুলাউড়া, চা শিল্পের জন্য বিখ্যাত। মৌলভীবাজার জেলায় চা বাগানের সংখ্যা অনুপাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পরে কুলাউড়ার অবস্থান। কুলাউড়ায় রাবার, কমলা, আনারস, আম, কাঁঠাল এবং বাঁশ উৎপাদিত হয়।

অর্থকরি ফসল[সম্পাদনা]

এই উপজেলার অর্থকরি ফসলের মধ্যে চা অন্যতম। এছাড়া রাবারেরও উৎপাদন হয়।[২]

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কুলাউড়াতে স্থলপথে যাতায়াতের জন্য বাস ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য সকল প্রকার আধুনিক যানবাহন। সড়ক পথে রয়েছে পাকা সড়ক এবং পাকা সেতু। সড়ক পথে মৌলভীবাজার এবং ওপর দিক থেকে বড়লেখা হয়ে রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে রেল যোগাযোগ; কুলাউড়া রেল জংশন সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় জংশন।[২][তথ্যসূত্র প্রয়োজন] যোগাযোগের সর্বপ্রকার আধুনিক মাধ্যম যেমন: রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, কুরিয়ার সার্ভিস, ডাক বিভাগের ডাক ব্যবস্থা সবই রয়েছে এই জেলায়। প্রায় সব ধরণেরই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক এখানে সহজলভ্য।

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন, ২০১৪। সংগৃহীত : ৫ জুলাই ২০১৫ 
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ ২.৪ Kulaura Upazila, Moulvibazar.com। পরিদর্শনের তারিখ: জানুয়ারি ২১, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ ৩.৪ কুলাউড়া উপজেলা, ছমির উদ্দিন আহমেদ; বাংলাপিডিয়া, সিডি সংস্করণ ২.০.০, ফেব্রুয়ারি ২০০২। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত। পরিদর্শনের তারিখ: জানুয়ারি ২১, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ Bangladesh (Statistics of Population), GeoHive.com। পরিদর্শনের তারিখ: ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]