দোয়ারাবাজার উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দোয়ারাবাজার
উপজেলা
দোয়ারাবাজার
বাংলাদেশে দোয়ারাবাজার উপজেলার অবস্থান
বাংলাদেশে দোয়ারাবাজার উপজেলার অবস্থান
দোয়ারাবাজার সিলেট বিভাগ-এ অবস্থিত
দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার
বাংলাদেশে দোয়ারাবাজার উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৩′০″ উত্তর ৯১°৩৪′০″ পূর্ব / ২৫.০৫০০০° উত্তর ৯১.৫৬৬৬৭° পূর্ব / 25.05000; 91.56667স্থানাঙ্ক: ২৫°৩′০″ উত্তর ৯১°৩৪′০″ পূর্ব / ২৫.০৫০০০° উত্তর ৯১.৫৬৬৬৭° পূর্ব / 25.05000; 91.56667 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগসিলেট বিভাগ
জেলাসুনামগঞ্জ জেলা
আসনসুনামগঞ্জ-৫
আয়তন
 • মোট২৬১.৫০ কিমি (১০০.৯৭ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৩৭,১৮০
 • জনঘনত্ব৯১০/কিমি (২৩০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫৫.৪%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৩০৭০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৬০ ৯০ ৩৩
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

দোয়ারাবাজার বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

দোয়ারাবাজার উপজেলার উত্তরে ভারতের চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় রাজ্য। পূর্বে ছাতক উপজেলা, দক্ষিণ ও পশ্চিমে সুনামগঞ্জ জেলা। সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাযারের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিঃমিঃ । সিলেট থেকে প্রায় ৬৫ কিঃমিঃ। দোয়ারাবাজার সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে হওয়ায় সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ নেই। ভারত সীমান্তের কাছে হওয়ায় খুব শীত পড়ে এখানে।

ইউনিয়ন পরিষদ[সম্পাদনা]

এই উপজেলার ইউনিয়ন সমূহঃ-

  1. বাংলাবাজার ইউনিয়ন
  2. নরসিংপুর ইউনিয়ন
  3. দোয়ারাবাজার ইউনিয়ন
  4. মান্নারগাঁও ইউনিয়ন
  5. পাণ্ডারগাঁও ইউনিয়ন
  6. দোহালিয়া ইউনিয়ন
  7. লক্ষীপুর ইউনিয়ন
  8. বোগলাবাজার ইউনিয়ন এবং
  9. সুরমা ইউনিয়ন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দোয়ারাবাজার নামটা এসেছে মূলত উপজেলার বাজারটি দুইবার স্থানান্তর করা থেকে। সুরমা নদীর নদীভাঙনের ফলে বাজারটিকে দুইবার স্থানান্তর করতে হয় যা সিলেটি "দুই আরা" বা দুই বার থেকে দুয়ারা বা দোয়ারা শব্দটি এসেছে। এই উপজেলা ১৯৮৫ সালে ছাতক উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়। বর্তমানে নতুন তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ইউনিয়ন নয়টি।

দোয়ারাবাজার উপজেলার ইতিহাস এবং ছাতক উপজেলার ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ছাতকের ইতিহাস পাঠ করলেই এই উপজেলার ইতিহাসেরও পাঠ নেওয়া হয়ে যায়।

নদনদী[সম্পাদনা]

দোয়ারাবাজার উপজেলায় রয়েছে ছয়টি নদী। সেগুলো হচ্ছে খাসিয়ামারা নদী, বগরা নদী, যাদুকাটা নদী, সুরমা নদী, নয়াগাঙ নদী এবং চিলাই নদী[২]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

১। বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৫ নাম্বার সেক্টরের সাবসেক্টর। এখানে রয়েছে একটি কবরস্থান যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীর সন্তানেরা । বাঁশতলার প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর । উত্তরে ভারতের সীমান্তবর্তী সবুজ পাহাড় আর পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সর্পিল নদী যে কারো মনে দাগ কাটবে ।

২। জুমগাওঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত জুমগাও বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ এর সামান্য পশ্চিমে অবস্থিত একটি জনপদ যা সম্পুর্ণভাবে পাহাড়ের উপর গড়ে ঊঠেছে । গারো নৃগোষ্ঠীর মাধ্যমেয় সেখানে জনবসতি শুরু হয় । সাম্প্রতিক সময়ে এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে ।

৩। কাজল হাওরঃ দোয়ারাবাজার সদরের একেবারেই গা ঘেষে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন কাজল হাওর । এর স্বচ্ছ কাজল বর্ণের ছলছল জলের দুর্বার আকর্ষন যে কাউকে মোহময় করে তুলবে । বর্ষায় এর জলরাশি প্রবল শক্তিতে আছড়ে পড়ে উপজেলা সদরের উত্তর পশিম অংশে আর শীতকালে হয়ে উঠে ফসলের চাদরে আবৃত ভূসর্গ ।

৪। পান্ডারখালের বাধঃ কৃত্রিমভাবে তৈরি এ বাঁধটি যে কারো নজর কাড়বে। দোয়ারাবাজার সদর ও পান্ডারগাও ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগকারী এই বাঁধটি পান্ডারখালকে দুইভাগে বিভিক্ত করে নিজের বুকে গড়ে তোলেছে সবুজের ছায়াঘেরা নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষাক্ষেত্রে এককালে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলটি বর্তমান সময়ে অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছে । দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যয়ন করা ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যাংক অফিসারসহ নিজ নিজ অবস্থানে যোগ্যতার সাথে দেশে-বিদেশে দায়িত্ব পালন করছেন ।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষি, ও মৎস্য, নির্ভর অর্থনীতির এ এলাকাটি বর্তমানে কিছুটা উন্নত হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ব্যাপক সম্ভবনাময় উপজেলাটি অবকাঠামোগত উন্নয়নহীনতা ও জনপ্রতিনিধিদের সুপরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে এখনো বাংলাদেশের পশ্চাৎ পদ উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।উল্লেখ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্ধ গ্যাসক্ষেত্র টেংরাটিলা এখানেই অবস্থিত। সর্বশেষ নাইকো দূর্নীতি মামলায় ইহা বন্ধ হয়।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ - ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক., সাহিত্যিক ও সমালোচক। জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে সম্মাণিত হয়েছিলেন এবং একুশে পদকস্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন, বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন সমর্থক ছিলেন, কায়কোবাদ সাহিত্য মজলিসের (১৯৭২–৯৯) সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
  • কাকন বিবি, ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্দা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর।
  • কফিল উদ্দীন, বাউল সংগীতশিল্পী
  • বীরপ্রতীক অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ।
  • মোঃ আবদুর রশীদ - সমাজসেবক, পল্লী চিকিৎসক ও শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও চিকিৎসা প্রদান এবং নব বাংলাদেশের দোয়ারাবাজারের প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষাবিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
  • এডভোকেট মোঃচাঁন মিয়া(প্রতাপ পুর) সভাপতি সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি।

সভাপতি হাজী নূর উল্লাহ তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়।

বিবিধ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের প্রাণের জনপদ দোয়ারাবাজার যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হয়ে আসছে । এই অঞ্চলের মানুষজন অত্যন্ত সামাজিক ও বন্ধুসুলভ কিন্তু যথার্থ ঐক্যের অভাবে যোগাযোগ, শিক্ষা ও অবকাঠামোগতভাবে মারাত্বকভাবে পিছিয়ে পড়া এক জনপদ। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পাড় হয়ে গেলেও এর উপজেলা সদর এখনো দেশের মূল ভূখন্ডের সাথে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হতে পারে নাই । এছাড়া উপজেলার আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক । উপজেলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যাক সুন্দর এই জনপদ; এই প্রত্যাশা সকলের ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে দোয়ারাবাজার"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯৩।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]