দিরাই উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
দিরাই
উপজেলা
দিরাই
দিরাই সিলেট বিভাগ-এ অবস্থিত
দিরাই
দিরাই
দিরাই বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দিরাই
দিরাই
বাংলাদেশে দিরাই উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৭′০″ উত্তর ৯১°২১′০″ পূর্ব / ২৪.৭৮৩৩৩° উত্তর ৯১.৩৫০০০° পূর্ব / 24.78333; 91.35000স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৭′০″ উত্তর ৯১°২১′০″ পূর্ব / ২৪.৭৮৩৩৩° উত্তর ৯১.৩৫০০০° পূর্ব / 24.78333; 91.35000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ সিলেট বিভাগ
জেলা সুনামগঞ্জ জেলা
আসন সুনামগঞ্জ-২ (জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা)
সরকার
আয়তন
 • মোট ৪২০.৯৩ কিমি (১৬২.৫২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,৪৩,৬৯০
 • ঘনত্ব ৫৮০/কিমি (১৫০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩৭.১০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৩০৪০-৪১ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
কালনী নদী

দিরাই উপজেলা (ইংরেজি: Derai Upazila, সিলেটি: ꠖꠤꠞꠣꠁ ꠃꠙꠎꠦꠟꠣ) বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। দিরাই অঞ্চলটি বয়ে গেছে সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে। এই অঞ্চলটি সিলেটের ভাটি অঞ্চল নামেও পরিচিত। এক মনোরম পরিবেশে কালনীর তীরে অবস্থিত এই দিরাই উপজেলাটি সিলেটের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

দিরাই উপজেলার মান চিত্র

উপজেলা পরিচিতি[সম্পাদনা]

ভৌগলিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

দিরাই উপজেলা ২৪°৩৯' থেকে ২৪°৫৩' উত্তর অক্ষাংশ এবং  ৯১°১০' থেকে ৯১°২৮'পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর আয়তন ৪২০.৯৩ বর্গ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে প্রায় ৪২০.৯৩ বর্গ কি.মি. এলাকা জুড়ে উপজেলাটি বিস্তৃত। এর উত্তরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জজামালগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে শাল্লানবীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে জগন্নাথপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে শাল্লা­, খালিয়াজুড়িজামালগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত।

দিরাই উপজেলার পটভূমি[সম্পাদনা]

কালনী নদীর তীরে অবস্থিত এই উপজেলার নাম দিরাই। অতীতে দিরাইয়ের নাম ছিল বাবাগঞ্জ বাজার। জিৎরাম ও দ্বিদরাম নামক দু’জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই এলাকায় প্রথমদিকে বসবাস করতেন, তাঁদের নামের উপর ভিত্তি করে বাবাগঞ্জ বাজারের নাম ‘‘দিরাই বাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর তারিখে প্রকাশিত আসাম গেজেট নোটিফিকেশন নং-৫৯৫৪ মূলে এই উপজেলার নামকরণ করা হয় ‘দিরাই’।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

দিরাই উপজেলা ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নগুলো হল যথাক্রমে ১নং রফিনগর ইউনিয়ন, ২নং ভাটিপাড়া ইউনিয়ন, ৩নং রাজানগর ইউনিয়ন, ৪নং চরনারচর ইউনিয়ন, ৫নং দিরাই সরমঙ্গল ইউনিয়ন, ৬নং করিমপুর ইউনিয়ন, ৭নং জগদল ইউনিয়ন, ৮নং তাড়ল ইউনিয়ন এবং ৯নং কুলঞ্জ ইউনিয়ন।

ইতিহাস-ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

ভাষা ও সংষ্কৃতি[সম্পাদনা]

হাওরবেষ্টিত ভাটি অঞ্চলের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য এখানে বিদ্যমান। এই জনপদের অধিকাংশ মানুষ সুদীর্ঘ সময় ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তাই এদের দৈনন্দিন জীবন ও কৃষ্টি ওতপ্রোতভাবে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। অত্র এলাকার জনগণ সাধারণত সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। যেসব সরকারি সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা দিরাইয়ে কাজ করছে সেগুলো হল: (১) উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, দিরাই ও (২) গণগ্রন্থাগার, দিরাই। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পসংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

দিরাইয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে: (১) রাজানগর নারকেল বাগান, (২) পীর আকিল শাহের মাজার শরীফ, (৩) বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বাড়ি, (৪) কল্যাণী কালীমন্দির, (৫) ভাটিপাড়া জমিদার বাড়ি, (৬) খাগাউড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, (৭) বাংলাবাজার রফিনগর উচ্চবিদ্যালয়, (৮) চিতলিয়া ছায়ামন্দির, (৯) জগদল ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, (১০) রজনীগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী বাগানবাড়ি।

খেলাধুলা ও বিনোদন[সম্পাদনা]

প্রচলিত সকল খেলাধুলাই এখানে হয়ে থাকে। বিনোদনের মধ্যে যাত্রা, নাটক ও বাউলগান অন্যতম।

ভূগোল ও অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রাকৃতিক সম্পদ[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। তবে হাওরবেষ্টিত অঞ্চল হওয়াতে এখানে প্রচুর পরিমাণ ধান উৎপন্ন হয়, যা অত্র এলাকার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাগুলোর ঘাটতি পূরণেও ভূমিকা রাখে। জলমহাল বেশি হওয়াতে এখানে প্রচুর পরিমাণ মৎস্য সম্পদ রয়েছে।

নদ-নদী[সম্পাদনা]

দিরাই উপজেলায় মোট নদ-নদীর সংখ্যা ২৪টি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কালনী, কুশিয়ারা, পিয়াইন, মরা সুরমা, ডাহুক ইত্যাদি। এছাড়াও দিরাই উপজেলা হাওরবেষ্টিত। এখানকার উল্লেখযোগ্য হাওড়সমূহ হল চাপতি, বরাম, কালিয়াকোটা ইত্যাদি। সুরমা ও কুশিয়ারার মধ্যে সংযোগস্থাপনকারী যে নদীটি, তার নাম কালনী। দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের মার্কুলি নামক স্থান থেকে কুশিয়ারার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে কালনী নদী উত্তরে অবস্থিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কিছু অংশ ঘেঁষে সুরমায় পতিত হয়েছে। তবে দিরাই উপজেলার মার্কুলি থেকে রজনীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত নদীকে মূলত কালনী বলে, আর রজনীগঞ্জ থেকে সদর উপজেলার পাঁচহাত ধনপুর গ্রাম হয়ে সুরমায় পতিত হওয়া অংশকে শাখা সুরমা বলে।

ব্যবসা-বাণিজ্য[সম্পাদনা]

দিরাই উপজেলায় অনেক রকমের ব্যবসা রয়েছে। তম্মধ্যে  মাছ, ধান-চাল, বালু-পাথর ও কাঠের ব্যবসা অন্যতম।

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

দিরাই উপজেলার উল্লেখযোগ্য বাজারগুলো হল শ্যামারচর বাজার, আকিলশাহ বাজার, মধুপুর নয়া বাজার, গচিয়া বাজার, চক বাজার, রাজানগর বাজার, শাহজালাল বাজার, জগদল বাজার, রতনগঞ্জ বাজার, ছয়হারা নগদিপুর বাজার, বড়নগদিপুর বসুন্ধরা বাজার, বাংলা বাজার, চরনারচর বাজার, কল্যানী বাজার ইত্যাদি।

হোটেল ও আবাসন[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল জাকারিয়া, হোটেল আলী ব্রাদার্স, হোটেল রাজ এবং হোটেল নাদের রিয়াজ।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দিরাইয়ের জনসংখ্যা ১,৮৫,২৮৪। তন্মধ্যে পুরুষ ৫১.৩৮% ও নারী ৪৮.৬২%। দিরাইয়ের গড় সাক্ষরতার হার ২৫.৩% ও সাক্ষরতার জাতীয় গড় ৩২.৪%।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • অক্ষয় কুমার দাস, রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী
  • শাহ আবদুল করিম, বাউল সংগীতশিল্পী
  • সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাবেক রেলমন্ত্রী
  • নাসির উদ্দিন চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য
  • তালেব উদ্দিন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা
  • ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি, সাংসদ
  • মোঃ সিরাজুল ইসলাম,মুক্তিযোদ্ধা
  • রামকানাই দাশ, শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতশিল্পী
  • সুষমা দাস, লোকসংগীতশিল্পী
  • শফিকুন নূর, বাউল সংগীতশিল্পী
  • সমীরণ দাস, বাউল সংগীতশিল্পী
  • কামাল পাশা, বাউল সংগীতশিল্পী
  • ফারুকুর রহমান চৌধুরী
  • নৃপেন্দ্র চন্দ্র, কাব্য ব্যাকরণ তীর্থ, স্বর্ণ ও রৌপ্য রৌপ্য পদকপ্রাপ্ত, পণ্ডিত
  • আনোয়ার চৌধুরী, লেখক

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দিরাই"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]