বানিয়াচং উপজেলা
| বানিয়াচং | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে বানিয়াচং উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৩২′২৪″ উত্তর ৯১°২০′১২″ পূর্ব / ২৪.৫৪০০০° উত্তর ৯১.৩৩৬৬৭° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | সিলেট বিভাগ |
| জেলা | হবিগঞ্জ জেলা |
| আয়তন | |
| • মোট | ৪৮২.৪৬ বর্গকিমি (১৮৬.২৮ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২)[১] | |
| • মোট | ৩,৩৪,৬০৫ |
| • জনঘনত্ব | ৬৯৪/বর্গকিমি (১,৮০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৩৮% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| পোস্ট কোড | ৩৩৫০ |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৬০ ৩৬ ১১ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
বানিয়াচং উপজেলা বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে বানিয়াচং গ্রামের নামে যা বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম ও জনবহুল গ্রাম। এ উপজেলায় ১৫ টি ইউনিয়ন রয়েছে যার ভেতর ৪ টি ইউনিয়নই গঠিত বানিয়াচং গ্রামের বিভিন্ন অংশ নিয়ে। সাধারণত কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠিত হলেও বানিয়াচং এর ক্ষত্রে ভিন্নতা দেখা যায়। এই গ্রামটি এতোটাই বড়ো যে এক গ্রামেই ৪ টি ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।[২]
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]এই উপজেলার অবস্থান ২৪°৩২′৩০″ উত্তর ৯১°২০′০০″ পূর্ব / ২৪.৫৪১৭° উত্তর ৯১.৩৩৩৩° পূর্ব। উপজেলাটির আয়তন ৪৮২.৪৬ বর্গ কিলোমিটার। এই উপজেলার উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা, দিরাই উপজেলা ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও লাখাই উপজেলা, পূর্বে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা।[৩]
নামকরণ
[সম্পাদনা]বানিযাচঙ্গ নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পরিলক্ষিত হলেও অনেক ঐতিহাসিকগণ অনাদী চরণ বিশ্বাসে বানিয়াচঙ্গের কাহিনী গ্রন্থের মতবাদকে সার্বাধিক গ্রহণযোগ্য বলে প্রমাণ করেছেন। অনাদী চরণ বিশ্বাস তাঁর বানিয়াচঙ্গ কাহিনীতে লিখেছেন," বিনায়ে জঙ্গ থেকে বানিয়াচঙ্গ গ্রামের উৎপত্তি। ১২’শ শতাব্দির প্রথম ভাগে কৌনজ শহর হতে রাজা কেশব মিশ্র তার সমস্ত জমিরদারী বিক্রি করে আত্মীয় স্বজন, সৈন্য সামান্ত সহ পূর্ব বাংলায় আসার জন্য রওনা হয়ে বং শিপ্যা নামক এক ক্ষুদ্র পল্লীতে এসে উপস্থিত হন তখন বংয়ের রাজা গোঁপীচাঁদ তার সমস্ত সৈন্য সামান্ত নিয়ে কেশব মিশ্রের আগমনে বাধা দেন। তখন উভয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বাধে। যুদ্ধে গোপীচাঁদ পরাস্ত নিহিত হন, কেশব মিশ্র কুলি ব্রাক্ষন প্রথম যে স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং যে কারণে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল সেই স্থানের নাম বিনায়ে জঙ শব্দের ক্রমবিবর্তনে বানিয়াচঙ্গ রূপ লাভ করেছে।অনেক ঐতিহাসিকগণ এই মতামতকে সমর্থন করেছেন।নামকরণের আরেকটি মত অনুযায়ী বানিয়াচঙ্গ নামটি এসেছে বানইয়্যা এবং চাঙ্গ এ দুটো শব্দ থেকে। অনেকের মতে "বানিয়াচংয়ে পুটিয়াবিল নামে একটি প্রকান্ড বিল ছিল। এই বিলে নানা জাতীয় পাখি বসবাস করত। বানিয়া নামে এক শিকারী এই বিলে একটি চাঙ নির্মাণ করে পাখি শিকার করত। কালক্রমে এই বিলটি প্রাকৃতিক কারণে ভরাট হয়ে গেলে বহু উচ্চ বৃক্ষলতাদিপূর্ণ ভূমিতে পরিবর্তিত হয়। এ ‘বানিয়া’ ও ‘চাঙ’ শব্দ থেকে বানিয়াচং নামের উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন।৭
ইতিহাস
[সম্পাদনা]
চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি কর্তৃক সিলেট বিজয়ের পূর্বে সিলেটের ইতিহাসে লাউড়,গৌড়,জৈন্তা এই তিনটি রাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় জাতীয় অধ্যাপক দার্শনিক দেওয়ান আজরফ উল্লেখ করেছেন লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল বানিয়াচঙ্গ। বানিয়াচঙ্গের -অধীনেই তখন ২৮ টি পরগনা ও সুনাম জেলার প্রায় সমুদয় এলাকা বিস্তৃত ছিল। ঐতিহাসিকদের ধারণা এই লাউড় রাজ্য তখন ব্রষ্ম্পুত্রের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আইনই আকবরী ও বাহারীস্বানই গায়েবী গ্রন্থে এই রাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনশো ষাট আলিয়ার অন্যতম আরেফিন (রহঃ)ইসলাম প্রচারের জন্য এ রাজ্যে আগমন করেছিলেন।[ ৮][৪]
ব্রিটিশ আমল
[সম্পাদনা]বানিয়াচং গ্রাম ব্রিটিশ আমলে সিলেট জেলার অন্তর্গত ছিল। ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হবিগঞ্জ মহকুমা গঠিত হলে শাসনকার্যের সুবিধার জন্য বানিয়াচঙ্গ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ নিয়ে ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ আগস্ট ২৮৬৭ জি.জে. বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক বানিয়াচং থানা গঠন করা হয়। ব্রিটিশ আমলে বানিয়াচঙ্গে থানা গঠিত হলে থানার সদর দপ্তর বানিয়াচঙ্গ গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত নন্দীপাড়ার পূর্ব প্রান্তে স্থাপন করা হয়।
পাকিস্তান আমল
[সম্পাদনা]ব্রিটিশ আমল এবং পাকিস্তান আমলে (জেনারেল আইয়ুব খানের শাসন পূর্ববর্তী সময়ে) থানার প্রাঙ্গণ সকল সরকারি অনুষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল ছিল। সেখানে বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন করা হতো। ১৪ই আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচী এবং ঐ দিবস উপলক্ষে রাতের জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থানা প্রাঙ্গণেই অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে বানিয়াচঙ্গ থানাকে ’ভিলেজ এইড’ প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভিলেজ এইড প্রোগ্রামের সদর দপ্তর বড়বাজার সংলগ্ন ৩ নং কাঁচারী বাড়ীতে স্থাপন করা হয়। এ প্রোগ্রামের আয়ু বছর তিনেকেরও কম ছিল। তবে প্রোগ্রাম চলাকালীন ৩ নং কাঁচারী বাড়ী তথা প্রোগ্রামের সদর দপ্তর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ভিলেজ এইড প্রোগ্রাম পরিত্যক্ত হলে থানায় সার্কেল অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়। বানিয়াচঙ্গে সার্কেল অফিসারের দপ্তর প্রাথমিক ভাবে ডাক বাংলায় স্থাপন করা হয়। পরে কুমিল্লা সমবায় মডেলের বাস্তবায়নের কর্মসূচী হিসাবে থানা সদর গুলোতে থানা ট্রেনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স বা টি.টি.ডি.সি. স্থাপন করার সময় সার্কেল অফিসারে দপ্তর দত্তপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকে থানার পরিবর্তে টি.টি.ডি.সি. সকল সরকারি কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। পরে এই টি.টি.ডি.সি. উপজেলা সদরে পরিণত হয়।
মুক্তিযুদ্ধে বানিয়াচং
[সম্পাদনা]বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে হবিগঞ্জের নেতৃবৃন্দ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে এডভোকেট মোস্তফা আলী এমএনএ, কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী এমএনএ, লেঃ কর্ণেল (অব.) এম.এ. রব এমএনএ, গোপাল কৃষ্ণ মহারত্ন এমপি, এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এমপিএ, মৌলানা আসাদ আলী এমপিএ, ডা. আবুল হাসিম এমপিএ, আব্দুল আজিজ চৌধুরী এমপিএ, এডভোকেট আফছর আহমদ, এডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই, এডভোকেট সৈয়দ আফরোজ বখত, এডভোকেট মো. জনাব আলী, শ্রী কৃপেন্দ্র বর্মণ, মো. ইয়াকুত চৌধুরী প্রমুখের সমন্বয়ে গঠিত হয় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ। এই পরিষদের সমন্বয়ক হিসাবে গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
বাংলাদেশ আমল
[সম্পাদনা]১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ তারিখে বানিয়াচঙ্গ থানাকে দেশের অন্যান্য থানার মতো প্রথমে মান-উন্নীত থানা এবং পরে উপজেলায় পরিণত করা হয়। তদানীন্তন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও নৌবাহিনীর তদানীন্তন প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম. এ. খান হেলিকপ্টার যোগে বানিয়াচঙ্গ এসে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বানিয়াচঙ্গ থানার মান-উন্নয়নের সরকারি ঘোষণা প্রকাশ করেন এবং সরকারী আদেশটি বানিয়াচঙ্গের প্রথম টি.এন.ও. বাবু বিকাশ চৌধুরীর নিকট হস্তান্তর করেন।
প্রশাসনিক এলাকা ও কর্মকাণ্ড
[সম্পাদনা]বানিয়াচং থানা (বর্তমানে উপজেলা) ১৭৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৩৪ সালে একটি মহুকুমার (বর্তমান জেলার) একটি থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বানিয়াচং উপজেলা ২৩৭টি মৌজা এবং ৩৫৯টি গ্রামে বিভক্ত।[৫][৬]
- চেয়ারম্যান: মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী[৬]
- ভাইস চেয়ারম্যান: ফারুক আমিন তালুকদার
- মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান: হাসিনা আক্তার।[৬]
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার: পদ্মাসন সিংহ
বানিয়াচং উপজেলায় বর্তমানে ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম বানিয়াচং থানার আওতাধীন।[৭]
১নং বানিয়াচং উত্তর পূর্ব, ২নং বানিয়াচং উত্তর পশ্চিম, ৩নং বানিয়াচং দক্ষিন পূর্ব ও ৪নং বানিয়াচং দক্ষিন পশ্চিম ; এই চারটি ইউনিয়ন নিয়ে বানিয়াচং গ্রাম গঠিত।
ভৌগোলিক উপাত্ত
[সম্পাদনা]ভূপ্রকৃতি
[সম্পাদনা]১৯২ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট এই উপজেলাটি হাওর দ্বারা বেষ্টিত।
নদ-নদী
[সম্পাদনা]- সুটকি নদী
- জিংড়ি নদী
- শাহা বরাখ নদী
- রত্না নদী
সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]ভাষা
[সম্পাদনা]এই উপজেলার সাধারণ ভাষা বাংলা। তবে এই উপজেলায় বাংলা ভাষার দুটি কথ্য রূপ রয়েছে। একটি হল চওড়া ভাষা। যারা সাধারণত হাওড় এলাকায় বসবাস করেন এটি তাদের ভাষা। এটিকে সাধারণ ভাষা বলা যায়; যেমন- কিতাবা কেমন আছ।
আরেকটি হল মাওড়া ভাষা। যারা উপজেলার পাশাপাশি অবস্থান করে তাদের ভাষা। যেমন- খিতা খবর, ভালানি।
উৎসব
[সম্পাদনা]এই উপজেলা একটি কৃষি নির্ভর উপজেলা হওয়ায় এদের উৎসবও হয় কৃষি নির্ভর। যেমন: নবান্ন, পহেলা বৈশাখ, রথ মেলা ইত্যাদি।
খেলাধুলা
[সম্পাদনা]বানিয়াচং উপজেলা এশিয়া মহাদেশের সবচয়ে বড় গ্রাম হওয়ায় এই উপজেলায় গ্রামীণ খেলার প্রচলন বেশি রয়েছে; যেমন- সাতছাড়া, লাটিম, হা-ডু-ডু, ফুটবল, ইসিং বিসিং, মারবেল, ছোয়াছোয়ি, ক্রিকেট, লাঠি খেলা, রাখাল খেলা ইত্যাদি। বানিয়াচং এর প্রাচীন স্পোর্টিং ক্লাবদের মধ্যে এ পর্যন্ত যেসকল স্পোর্টিং ক্লাবের নাম উল্লেখযোগ্য সেগুলি হল: আমবাগান স্পোর্টিং ক্লাব (১৯২৯), নওজোয়ান স্পোর্টিং ক্লাব (১৯৩৪), গানপুর একতা স্পোর্টিং ক্লাব, গ্রীনগার্ডস স্পোর্টিং ক্লাব, ইলাভেন সোলজার্স (১৯৮৮), সূর্যসেনা ক্রীড়া চক্র (১৯৭৬), প্রগতি ক্রীড়া চক্র (১৯৭৪) প্রভৃতি। এছাড়াও অনেক ক্রীড়া সংগঠনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
এককালে বানিয়াচং ছিল বৃহত্তর সিলেট তথা আসাম ও বঙ্গদেশের খেলাধুলার এক উল্লেখযোগ্য পীঠস্থান। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় বি রায় চৌধুরী (ভূপেন্দ্র চৌধুরী, ১৯১৩-১৯৯২), এসকে চৌধুরী (১৯১৫-১৯৭৮)তোতা মিয়া চৌধুরী (১৯৫৪-২০০২৪) এই গ্রামের সন্তান। উল্লেখ্য বি রায় চৌধুরী ছিলেন ঢাকা একাদশের সেরা খেলোয়াড়, মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপমহাদেশের সেরা লেফট আউট। আগরতলা স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, আসাম প্রদেশ স্পোর্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, গৌহাটি মহারানা স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।বি রায় চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নামে আবুসালেহ আহমদ এর সম্পদনায়২০২২ সালে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]বানিয়াচং উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,৩৪,৬০৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ ১,৬৮,০১৯ জন এবং মহিলা ১,৬৬,৫৮৬ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬৯৪ জন।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]
বানিয়াচংয়ে ১টি সরকারি কলেজ সহ মোট ৩ টি কলেজ রয়েছে। ১টি সরকারি বালক ও ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ ২২ টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।
কলেজ
[সম্পাদনা]| কলেজের নাম | স্থান | স্থাপিত তারিখ |
|---|---|---|
| জনাব আলী সরকারি কলেজ | বানিয়াচং | ১৯৭৯ |
| শচীন্দ্র কলেজ | নাগুড়া, নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ রোড | ১৯৯৮ |
| সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ | যাত্রাপাশা | ২০০০ |
| বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজ | আদর্শ বাজার,বানিয়াচং | ২০১১ |
| শেখ শামসুল হক কলেজ | পুরান বাজার,উত্তর শাঙ্গর | |
| বক্তারপুর আবুল খায়ের উচ্ছ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ | বক্তারপুর | ১৯৮৯ |
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]বানিয়াচং উপজেলা হাওর এলাকা হওয়ায় এখানে ৯০% জমিতে এক ফসল জন্মে। তাই এই উপজেলার ৯০% লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাকিদের অধিকাংশই প্রবাসী।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]- সুশীল কুমার সেন (১৮৬৮ -১৯৫৫) ভারত মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক।
- মোহাম্মদ আব্দুল রব (১৯১৯ – ১৯৭৫), বীর উত্তম, চিফ অফ স্টাফ, মুক্তিবাহিনী (১৯৭১–১৯৭২)
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম সেনাপ্রধান (তালিকা সংযুক্তি)
- গোপাল কৃষ্ণ মহারত্ন - (মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক এম পি)
- সিরাজুল হোসেন খান (১৯২৬-২০১৭) সাবেক মন্ত্রী।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ, কেসিএমজি - ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা।
- রামনাথ বিশ্বাস - ভূপর্যটক ও ৪২ টি গ্রন্থের লেখক।
- ভূপেন্দ্র চৌধুরী (বি রায় চৌধুরী) (১৯১৩-১৯৯২) - উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড়
- এসকে চৌধুরী (১৯১৫-১৯৭৮) - উপমহাদেশের বিশিষ্ট ফুটবল খেলোয়াড়
- সুবীর নন্দী, সুরকার ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী
- তাপস কৃষ্ণ মহারত্ন - শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব
- আলহাজ্ব ফরিদ উল্লা সাহেব (ইসলামি রাজনীতিবিদ)
- দিব্যেন্দু মহারত্ন রবি - উপমহাদেশের স্বনামধন্য ফুটবল খেলোয়াড়
- সঞ্জীব চৌধুরী -বাংলাদেশি গায়ক ও সাংবাদিক
- পণ্ডিত সীতানাথ- ব্রিটিশ ভারতের একজন ব্রাহ্ম ধর্মপ্রচারক, শিক্ষাবিদ, তাত্ত্বিক, দার্শনিক ও লেখক।
- আবু সালেহ আহমদ, বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত লোকজসংস্কৃতির সংগ্রহমাল হবিগঞ্জ গ্রন্থের সংগ্রাহক ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা
- মোঃ নাঈম মিয়া (আনন্দ নীলয়)-লোককবি, গীতিকার এবং মুকাভিনয় শিল্পী।
- কবি এম আর ঠাকুর- একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা, স্কয়ার কবিতার জনক এবং নির্বাহী পরিচালক, আলোকিত মানুষ গবেষণা কেন্দ্র হবিগঞ্জ।
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]
- মহারত্ন বাড়ি,
- কমলারানীর সাগর দীঘি
- রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ
- বিথঙ্গল আখড়া
- দাড়া-গুটি।
- লক্ষী বাওর জলাবন
- বানিয়াচং রাজবাড়ি
- ভূপর্যটক রাম নাথের বাড়ি।
- মোঘল আমলের মসজিদ।
- স্যাম বাউল আখরা
- নীল সাহিত্যিক সাহিত্য কুটির
সংসদ সদস্য
[সম্পাদনা]| নাম | আসনের নাম | রাজনৈতিক দলের নাম |
|---|---|---|
| সাখাওয়াত হোসেন জীবন | হবিগঞ্জ-২ | বিএনপি |
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান
[সম্পাদনা]| নাম | পদবী | রাজনৈতিক দলের নাম |
|---|---|---|
| আবুল কাশেম চৌধুরী | উপজেলা চেয়ারম্যান | আওয়ামী লীগ |
| হাসিনা আক্তার | মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান | আওয়ামী লীগ |
| ফারুক আমীন | ভাইস চেয়ারম্যান | আওয়ামী লীগ |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে বানিয়াচং"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "এক নজরে বানিয়াচং - বানিয়াচং উপজেলা"। ৩ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Population Census Wing, BBS."। ২৭ মার্চ ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ আহমদ কবির (১ জুন ২০০২)। "আহমদ শরীফ : জীবন কথা"। সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka। ৪৪ (3): ১৭৯–২০২। ডিওআই:10.62328/sp.v44i3.377। আইএসএসএন 3006-886X।
- ↑ "List of Upazila Nirbahi Officers"। ২৮ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২।
- 1 2 3 "Archived copy"। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক) - ↑ "ইউনিয়নসমূহ - বানিয়াচং উপজেলা"। baniachong.habiganj.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ৩ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২০।
৭. ঐতিহাসিক বানিয়াচঙ্গ ও কিংবদন্তি - আবুসালেহ আহমদ।
৮. ঐতিহাসিক বানিয়াচঙ্গ ও কিংবদন্তি - আবুসালেহ আহমদ।[১]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বাংলাপিডিয়ায় বানিয়াচং উপজেলা
- বানিয়াচং উপজেলা - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- ↑ Debbarma, Ankur (৩০ নভেম্বর ২০২৪)। "ত্রিপুরার রাজাদের ইতিবৃত্তমূলক গ্রন্থের সত্যাসত্যতা অনুসন্ধান"। ATMADEEP। ১ (2): ১১১–১১৯। ডিওআই:10.69655/atmadeep.vol.1.issue.02w.015। আইএসএসএন 2454-1508।