কমলগঞ্জ উপজেলা
| কমলগঞ্জ | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে কমলগঞ্জ উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°২০′২৪″ উত্তর ৯১°৫০′২৪″ পূর্ব / ২৪.৩৪০০০° উত্তর ৯১.৮৪০০০° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | সিলেট বিভাগ |
| জেলা | মৌলভীবাজার জেলা |
| সংসদীয় আসন | মৌলভীবাজার-৪ |
| সরকার | |
| • সংসদ সদস্য | মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) |
| • উপজেলা চেয়ারম্যান | পদশূন্য[১] |
| আয়তন | |
| • মোট | ৪২৬.৭২ বর্গকিমি (১৬৪.৭৬ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১)[২] | |
| • মোট | ২,৫৯,১৩০ |
| • জনঘনত্ব | ৬১০/বর্গকিমি (১,৬০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৭৪.৮৮% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| পোস্ট কোড | ৩২২০ |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৬০ ৫৮ ৫৬ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
কমলগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। রাজধানী ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। কমলগঞ্জ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি। এখানে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, সিপাহী বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান এর স্মৃতিসৌধ, মণিপুরি গ্রাম, ক্যামেলিয়া চা বাগান, মো. কেরামত আলী জামে মসজিদ ও নয়নাভিরাম চা বাগান। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য কমলগঞ্জ একটি চমৎকার জায়গা।
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জ উপজেলার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ২৪°২২′০০″ উত্তর ৯১°৫২′০০″ পূর্ব / ২৪.৩৬৬৭° উত্তর ৯১.৮৬৬৭° পূর্ব। এই উপজেলার উত্তরে রাজনগর উপজেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা, পূর্বে কুলাউড়া উপজেলা ও ভারতের আসাম, পশ্চিমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা। জেলা সদর থেকে দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। উপজেলার আয়তন ৪২৬.৭২ বর্গ কিলোমিটার।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জ থানা ১৯২২ সালে গঠিত হয় এবং উপজেলার মর্যাদা পায় ১৯৮৩ সালে। কমলগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় ২০০০ সালে।
ভানুবিল কৃষকপ্রজা আন্দোলন কমলগঞ্জের সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলা ১৩০৭ সনে সংঘটিত এই ঘটনায় মণিপুরী কৃষকরা ব্রিটিশ ও তাদের পোষ্য জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
১৯৪৭ সালের পূর্ব অবধি ভানুগাছ সিলেট ও কমলপুরের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসাবে কাজ করতো। আসাম থেকে ত্রিপুরা যাবার মূল রাস্তাটি ছিলো এই ভানুগাছ পরগনার বুক চিড়ে।যুগ যুগ ধরে এলাকা পূর্ব ভারতের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিতি ছিল, এলাকায় উৎপাদিত চায়ের কদর ছিলো মহারানী ভিক্টোরিয়ারও রন্ধন শালা পর্যন্ত।
জনশ্রুতি আছে কিংকরনাথ রায় একজন জমিদার ছিলেন। তিনি কমলনারায়ন নামে এক ভদ্রলোককে তাঁর নায়েব নিযুক্ত করেন। কমলনারায়ন এ এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন এবং তাঁর নামে একটি বাজার সৃষ্টি করেন। সে অনুযায়ী কমলগঞ্জ নামটি এসেছে।[৩]
৪৭-এ দেশ ভাগের সময় তৎকালীন দক্ষিণ সিলেট মহকুমা পূর্ববঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলে স্বাভাবিক নিয়মেই সেই সময়ের ভানুগাছ পরগনা তথা কমলগঞ্জ থানা পূর্ববঙ্গের একটি সীমান্ত এলাকায় পরিণত হয়। আসাম থেকে ত্রিপুরা যাবার মূল রাস্তাটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সময়ের শিল্প শহর ভানুগাছ অতি দ্রুত একটি অবহেলিত ও অনুন্নত এলাকা হয়ে উঠে। ৪৭ উত্তর সময়ে এই এলাকাটি নিষ্প্রভ হয়ে গেলে জন মানসে তীব্র একটা অসন্তোষ দানা বাধে আর এই সময়ে উক্ত এলাকার মানুষের অধিকার আদায় ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে এগিয়ে আসেন আলহাজ্ব মো. কেরামত আলী।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]
কমলগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম কমলগঞ্জ থানার আওতাধীন।[৪]
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের আদমশুমারি ২০২২ অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলার জনসংখ্যা জনসংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৫ জন ও মহিলা ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৫৮ জন। হিজড়া ১৫ জন। লোক সংখ্যার ঘনত্ব ৬৮০ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)। উপজেলার ৯.৭৮ শতাংশ মানুষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
জনজাতি
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জ উপজেলায় বাঙালি ছাড়াও নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সাথে বাস করে আসছেন।
মণিপুরী: কমলগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মণিপুরীরা। ধর্মীয় ও ভাষাগত ভিন্নতার কারণে এখানকার মণিপুরীরা মূলত তিনটি শাখায় বিভক্ত: মণিপুরী (মৈতৈ), বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, এবং মণিপুরী মুসলিম (পাঙাল)। তারা নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী নৃত্য ও তাঁত শিল্পের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁদের প্রধান উৎসব হলো 'মহারাসলীলা', যা দেশ-বিদেশে অত্যন্ত সমাদৃত।
উপজেলার আলীনগর, আদমপুর, ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নে মণিপুরীদের বসবাস বেশি। এর মধ্যে বেশিরভাগ মণিপুরী মুসলিম (পাঙাল) সম্প্রদায়ের বাস আদমপুর ইউনিয়নে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা’র (এস কে সিনহা) গ্রামের বাড়ি আলীনগর ইউনিয়নের তিলকপুরে।
চা জনগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়: কমলগঞ্জ উপজেলাটি চা বাগান অধ্যুষিত। তাই এখানকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চা জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। চা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তেলেগু, রবিদাস, কৈরী, সাঁওতাল, এবং মুন্ডাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আছেন। পুরো উপজেলা ঘিরে রেখেছে ১৪টি চা বাগান।
খাসিয়া জনগোষ্ঠী: তারা মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের পাদদেশে 'পুঞ্জি' বা গ্রামে বাস করেন। খাসিয়াদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থা, ভাষা ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রয়েছে। তাদের প্রধান উৎসবের মধ্যে 'খাসি সেং কুটস্লেম' অন্যতম। লাউয়াছড়া পুঞ্জি, মাগুরছড়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জি পুঞ্জিতে তাদের বসবাস।
ত্রিপুরা (তিপরা) ও গারো জনগোষ্ঠী: কমলগঞ্জের বিভিন্ন পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এলাকায় ত্রিপুরা এবং গারো সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।তারা নিজেদের ভাষা, পোশাক এবং নিজস্ব জীবনাচরণ ধরে রেখেছেন।
পর্যটন স্পট
[সম্পাদনা]লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: কমলগঞ্জ উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই জাতীয় উদ্যান। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে গেলে উপজেলায় গেলে এই উদ্যান আপনাকে স্বাগত জানাবে।
মাধবপুর লেক: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত মাধবপুর লেক দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। এটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখলা চা বাগানে অবস্থিত। মৌলভীবাজার সদর থেকে থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার ও শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লেকটি।
হামহাম জলপ্রপাত: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দন স্থান কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটের শেষ প্রান্তে থাকা হামহাম জলপ্রপাত। এটি অরণ্যঘেরা গহিন দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত। কুরমা বনবিটের পাহাড়ের পশ্চিমদিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। হামহাম যেতে হলে কমলগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ১ঘন্টার পথ লোকাল বাস, জিপ, প্রাইভেট কার নিয়ে কলাবনপাড়া যেতে হবে। সেখান থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হেঁটে পাড়ি দিলে দেখা মিলবে অনিন্দ্য সুন্দর এই ঝর্ণার।
এছাড়া ঘুরে দেখার জন্য ১৪টি চা বাগান, বেশ কয়েকটি রাবার বাগান, ধলই সীমান্তে চা বাগান ঘেরা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ, শমসেরনগরের ক্যামেলিয়া লেক রয়েছে। আদমপুরের ভানুবিলে রয়েছে কমিউনিটি ট্যুরিজম। আছে বেশ কয়েকটি খাসিয়াপুঞ্জি।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার হার ৭৪.৮৮%। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪৭টি, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৮টি, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ০১টি, উচ্চ বিদ্যালয় (সহ-শিক্ষা) ২১টি, উচ্চ বিদ্যালয় (বালিকা) ০২ টি, দাখিল মাদ্রাসা ০৫টি ও ফাজিল মাদ্রাসা ০১টি।
উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]- কমলগঞ্জ সরকারি গণ-মহাবিদ্যালয়
- জামেয়া হুসাইনিয়া সোনারগাঁও বলরামপুর টাইটেল মাদরাসা
- এম. এ. ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়,আদমপুর
- সুজা মেমোরিয়াল কলেজ
- আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ
- বিএএফ শাহীন কলেজ শমশেরনগর
- পতনঊষার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
- কমলগঞ্জ বহুমুখী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
- কমলগঞ্জ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- আহমেদ ইকবাল মেমোরিয়াল হাই স্কুল, বনগাঁ
- তেতইগাও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়
- দয়াময় সিংহ উচ্চ বিদ্যালয়, তিলকপুর
- মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- ভান্ডারীগাওঁ উচ্চ বিদ্যালয়
- পদ্মা মেমোরিয়াল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়
- এ. এ. টি. এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, শমশেরনগর
- কমলগঞ্জ আইডিয়াল হাই স্কুল
- আব্দুল মছব্বির একাডেমী, শমশেরনগর
- হাজী মুহাম্মদ ওস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- কামদপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- ডালুয়াছড়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়
- ইউনিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
- কালী প্রাসাদ উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীবাজার
- বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্কুল এন্ড কলেজ
- মকবুল আলী উচ্চ বিদ্যালয়
- সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা
- জামেয়া আরাবিয়া মুন্সিবাজার দারুল হাদীস টাইটেল মাদরাসা
- ইসলামপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা
- উসমান আলী দাখিল মাদ্রাসা
- আহমদ নগর দাখিল মাদ্রাসা
- চিতলীয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়
- নাজির হাসান ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, চিতলীয়া
- বড়চেগ সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা, শমশেরনগর
- কমলগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা
- মবশ্বির আলী চৌধুরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়,ছলিমগঞ্জ
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জের অর্থনীতির মূলত কৃষি নির্ভর। তবে চা শিল্পও অর্থনীতির এক বিশাল চালিকা শক্তি। উপজেলার ১৪টি চা বাগানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান এবং দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করে।
পর্যটন: দেশের জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রের অবস্থান এই উপজেলায় (মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান)। এসব পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। ফলে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, এবং পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স): কমলগঞ্জ উপজেলা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিশাল ভূমিকা রাখে। এছাড়া মণিপুরীসহ অন্যান্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর হস্তশিল্পও উপজেলার অর্থনীতিকে ব্যাপক শক্তিশালী করেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বৈচিত্রময় এক ভূখন্ড। উপজেলায় ১৪ টি চা বাগান ও বেশ কয়েকটি রাবার বাগান রয়েছে। [৫]
ভূপ্রকৃতিঃ এ উপজেলা ০৩ টি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল নিয়ে গঠিত। পাহাড়ী অঞ্চল -ছোট বড় মাঝারি উচু-নীচু পাহাড় রয়েছে যা উপজেলার পূর্বাংশে অবস্থিত। মধ্যাংশে সমতলভূমি ও পশ্চিমাংশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।[৬]
জলবায়ুঃ উপজেলার জলবায়ু ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে জাতীয় সার্বিক জলবায়ুর অনুরুপ। ভূমি বৈচিত্রের কারণে গ্রীষ্মকালে গরম এবং শীতকালে শীত একটু বেশী অনুভুত হয়। একই কারণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও দেশের অপরাপর অঞ্চল থেকে এখানে একটু বেশী।
বাঁশমহালঃ কমলগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে একাধিক প্রকৃতিক বাঁশমহাল যে গুলো বনবিভাগের মাধ্যমে তিন বছর অন্তর অন্তর প্রতি বছরের জন্য ইজারা হয়। কমলগঞ্জ সদর, আদমপুর, মুন্সিবাজার, ইসলামপুরে রয়েছে বাঁশ ও গাছ মহাল।
কমলগঞ্জে দু’টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এর একটি পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন যা বর্তমানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান নামে পরিচিত। অন্যটি হলো- রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ইসলামপুর এই বনের পূর্বদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য অবস্থিত। বনে তিনটি বিট রয়েছে, আদমপুর, কুরমা ও কামারছড়া।[৭]
কমলগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য নদী ধলাই নদী। কমলগঞ্জ উপজেলা ধলই নদীর মাধ্যমে দ্বিখন্ডিত হয়েছে। ধলই’র উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকায়। ধলই নদীর দৈর্ঘ্য ১৩০ কিলোমিটার.১২২ মিটার। [৮]
যোগাযোগ ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]রাজধানী ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। চা বাগান বেষ্টিত কমলগঞ্জ উপজেলায় সড়ক ও রেল উভয় উপায়ে যাওয়া যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে যাওয়ার জন্য উপজেলায় দু’টি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন অন্যতম, অন্যটি হলো- শমসেরনগর রেলওয়ে স্টেশন। ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনটি কমলগঞ্জ পৌরসভার ‘ভানুগাছ বাজার’ এ অবস্থিত।
আন্তঃনগর ট্রেনে ঢাকা থেকে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন যেতে সময় প্রয়োজন প্রায় ৫ ঘন্টা, চট্টগ্রাম থেকে ৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট। এছাড়া ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন যাওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন ২ ঘন্টা।
সড়ক পথে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে শ্যামলী, হানিফ, এনাসহ বিভিন্ন পরিবহন রয়েছে। নন-এসি ভাড়া ৫৭০ টাকা। এসব বাসে শ্রীমঙ্গল নেমে কমলগঞ্জে বাস, সিএনজি, প্রাইভেট কারে যেতে হয়। দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জে যাওয়ার পথে চা বাগান ও পাহাড়ি পথের দেখা পাওয়া যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সড়ক এবং রেলপথে কমলগঞ্জ উপজেলার যাওয়ার প্রবেশমুখ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। যা দেশের অন্যতম সুন্দর সড়ক ও রেলপথ হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]- মো. কেরামত আলী, রাজনীতিবিদ
- মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান, রাজনীতিবিদ
- মোহাম্মদ ইলিয়াস, ভাষাসৈনিক ও সাবেক সাংসদ
- ইসহাক কাজল, সাংবাদিক
- এস কে সিনহা, সাবেক প্রধান বিচারপতি
- আব্দুস শহীদ, সাবেক চিফ হুইপ, সাবেক কৃষিমন্ত্রী
- আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র সিলেট সিটি কর্পোরেশন
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]- মণিপুরি ললিতকলা একাডেমী: ১টি
- মণিপুরি কালচারেল কমপ্লেক্স ১টি
- মণিপুরি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: ১টি
- পাবলিক লাইব্রেরী : ২টি
- সিনেমা হল : ৩টি
- ক্লাব: ৩৫টি
মেলা ও উৎসব
[সম্পাদনা]- ঐতিহ্যবাহী 'মহারাসলীলা' উৎসব (রাস মন্ডপ, শিববাজার ও মনিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স, তেতইগাঁও)
- ’খাসি সেং কুটস্নেম’ (খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব)
- ’ওয়ানগালা’ (গারোদের প্রধান উৎসব)
- শারদীয় দূর্গোৎসব (সর্বজনীন দূর্গা মন্দির, আদমপুর)
- শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী মহোৎসব (পাত্রখোলা চা বাগান)
- বারুনির মেলা (ভানুগাছ বাজার, রানীবাজার, আদমপুর বাজার, পাত্রখোলা ইত্যাদি)
- শমশেরনগর মোকামবাজার বার্ষিক ওরস
- ছয়সিড়ি চরক পূজা
- মুন্সিবাজার ১০০ হাত বাসন্তি পূজা
- শমশেরনগর পিঠা মেলা
- রাজকান্দি হিল ম্যারাথন (রাজকান্দি রানার্স (Rajkandi Runners)
- লাউয়াছড়া ম্যারাথন (কমলগঞ্জ রানার্স)
বিবিধ
[সম্পাদনা]কমলগঞ্জ পোস্টকোড: ৩২২০
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "৪৯৫ উপজেলা চেয়ারম্যানকে অপসারণ (তালিকা)"। samakal.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ "এক নজরে কমলগঞ্জ"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "কমলগঞ্জ উপজেলার পটভূমি"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২৬।
- ↑ "ইউনিয়নসমূহ - কমলগঞ্জ উপজেলা"। kamolganj.moulvibazar.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ৯ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ"। বাংলাদেশের সরকারি বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬।
- ↑ "কমলগঞ্জের যে গ্রামের সবাই পর্যটকবান্ধব"। সরকারি তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬।
- ↑ "লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় উদ্যান"। শিক্ষক বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬।
- ↑ "নদ-নদী"। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬।
আরও তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় কমলগঞ্জ দৈনিক সময়ের আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬
- ঈদের ছুটিতে চা-বাগানের হাতছানি দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬
- পদ্মছড়ায় কেন পদ্ম নেই দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬
- ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় মুখরিত কমলগঞ্জের দর্শনীয় স্থান । দৈনিক নয়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৬
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |