কুমোর



কুম্ভকার বা কুমোর বা কুমার একটি পেশা। এই পেশার মানুষ মৃৎশিল্পী - মাটি দিয়ে নানা রকম পাত্র, খেলনা, মূর্তি ইত্যাদি তৈরি করে। কুম্ভকার শব্দটির অর্থই হল কুম্ভ অর্থাৎ কলসি গড়ে যে শিল্পী। কুমোররা মিলে যে পাড়ায় থাকে তাকে বলে কুমোরপাড়া বা কুমোরটুলি।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিকগণ মনে করেন মানুষ আর মৃৎশিল্প প্রায় সমবয়সী। মাটির পাত্র তৈরির মাধ্যমে মানব সভ্যতার এক কারিগরি বিপ্লব ঘটে।[১] প্রাচীনকালে কেবল মাটির সাথে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি মিশিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করা হতো, অতিরিক্ত কোনো উপাদান ব্যবহার না করেই। এক ধরনের নিখাদ কাদামাটিকে ছোট ছোট খন্ড করে গোলাকার পাত্র বানানো হতো। অনেক সময় কাদামাটিকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বস্তুতে রেখে আকৃতি প্রদান করা হতো। কুমারের চাকা তুলনামূলকভাবে অনেক পরের আবিষ্কার। আজকের দিনের কুমারেরা প্রায় সবাই চাকা ব্যবহার করে থাকে। অনেক এলাকায় এ চাকাকে বলা হয় চাক। চাকের মাধ্যমে তারা মাটির পাত্রাদির বিভিন্ন আকার দিয়ে থাকে।[২]
অবমূল্যায়ন
[সম্পাদনা]অতীতে আমাদের সমাজে মাটির তৈরি বাসন থেকে আরম্ভ করে প্রদীপ ইত্যাদি বিভিন্ন ঘরকন্নার জিনিস ব্যবহৃত হোত। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে ধাতুর তৈরি বাসনপত্র ব্যবহার হতে শুরু করার পর মাটির জিনিসের কদর ক্রমশ কমতে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, বর্তমানে আলোর উৎসব দীপাবলিতে মাটির প্রদীপের জায়গা নিয়েছে টুনি বাল্ব অর্থাৎ বিজলি বাতি। এর ফলে সেই চিরাচরিত মাটির প্রদীপ প্রস্তুতকারী কুমোরদের অবস্থা আজ খুবই শোচনীয়। দু-চার জন কুমোর বাপ-ঠাকুরদার পুরোনো পেশা আঁকড়ে পড়ে থাকেলও নবীন কুমোর সমাজ আজ অন্য পেশার দিকেই পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।[৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ শেকড়। রাজশাহী: শাহ্ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর। ২০২২। পৃ. ৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৩৫-৩১০৮-৭।
- ↑ "কুমার বা কুম্ভকার - বাংলাপিডিয়া"। bn.banglapedia.org। ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "এলইডির কাছে হারছে মাটির প্রদীপ » CALCUTTA NEWS Kolkata Live News Channel, Bengali News"। CALCUTTA NEWS (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২০।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |