কওমি মাদ্রাসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(কওমি মাদরাসা থেকে পুনর্নির্দেশিত)

কওমি মাদ্রাসা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতদারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ, মূলনীতি ও মতপথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষাকেন্দ্র। এই শিক্ষাকেন্দ্রগুলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত।[১] এ ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে "আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম দেওবন্দ" নামে। কওমি মাদ্রাসাগুলো সাধারণত সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে মুসলিম জনসাধারণের সহায়তায় পরিচালিত হয়।[২] ভারত, পাকিস্তানবাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা বহুল প্রচলিত। ভারত উপমহাদেশের পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। তবে উপমহাদেশের বাইরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সাধারণত দারুল উলুম বা "দেওবন্দি মাদ্রাসা" নামে পরিচিত। [৩][৪]

শব্দ বিশ্লেষণ[সম্পাদনা]

কওম আরবি শব্দ। এর অর্থ গোষ্ঠী, গোত্র,জাতি, সম্প্রদায়, জনগণ। কওমি অর্থ হলো গোত্রীয়, জাতীয়, জনগণ সম্পর্কিত। শব্দ দু'টি এই অর্থে ফার্সি এবং উর্দু ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়। মাদ্রাসাও আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো অধ্যয়নের স্থান , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল। একই অর্থে শব্দটি উর্দু ও ফার্সি ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ‘কওমি মাদ্রাসা’ এর মানে হলো জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা জাতীয় বিদ্যাপীঠ।[৫] যেহেতু কওমি মাদ্রাসা সাধারণত সরকারি অনুদানের পরিবর্তে পুরোপুরি জনসাধারণের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাই হয়তো এ ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কওমি মাদ্রাসা বলা হয়।

কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ এ কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা স্তর ভিত্তিক শিক্ষাবোর্ড সমূহের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে।

প্রাথমিক ও নিন্মমাধ্যমিক

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপজেলা ভিত্তিক প্রাথমিক ও নিন্ম-মাধ্যমিক আন্তঃউপজেলা কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড সমূহের পরোক্ষ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এ রয়েছে ৬টি সাধারণ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড। যথা :

উচ্চতর ডিগ্রী

উচ্চতর ডিগ্রী "দাওরায়ে হাদিস" এর সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও সনদপত্র বিতরণের জন্য রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত স্বতন্ত্র সংস্থা -

উক্ত সংস্থা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পক্ষে সরকার স্বীকৃত "'দাওরা-ই-হাদিসের"' মাস্টার্স (এম এ ইন ইসলামিক ষ্টাডিজ এন্ড এরাবিক) এর মান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম তত্বাবধান করে থাকে।

কওমি কুরআন শিক্ষাবোর্ড তালিকা

বাংলাদেশে সহিহ-শুদ্ধ কুরআন শিক্ষার জন্য বিভিন্ন বোর্ড রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কুরআন শিক্ষাবোর্ড :

নৈশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড তালিকা

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

২০০৮ সালের হিসাব অনুযায়ী শুধুমাত্র বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ নিন্মলিখিত পর্যায়ের প্রায় ৯০০০টি মাদ্রাসা তত্বাবধান করে থাকেন।:

কওমী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাদ্রাসাগুলি
ধরন অ্যানালগ / বিবরণ # বিদ্যালয়*
তাকমিল মাস্টার্স ডিগ্রী ৩০০
ফাযিল স্নাতক ২০০
সানুভিয়া আম্মাহ মাধ্যমিক ১০০০
মুতা্ওয়াছসিতাহ নিম্ন মাধ্যমিক ২০০০
ইবতিদাইয়্যা প্রাথমিক ৩০০০
তাহফিজুল কুরআন বা হিফজুল কুরআন কুরআন এর মেমোরাইজেশন বা কুরআর মুখস্থবিদ্যা ২০০০
*মাদ্রাসাগুলিকে কিছু একাধিক স্তরের প্রস্তাব করা হয়, যেহেতু সর্বোচ্চ শিক্ষা স্তর অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখযোগ্য কওমি মাদ্রাসা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

ভারত[সম্পাদনা]

পাকিস্তান[সম্পাদনা]

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

কানাডা[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আফ্রিকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "'আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ' এর অধীন 'কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮'"bdlaws.minlaw.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৩-০৬ 
  2. সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান: কওমী মাদরাসা বোর্ডের দায়িত্বশীলদেরকে ধন্যবাদ ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩-এ সংগৃহীত
  3. বিশ্বব্যাপী কওমি মাদরাসা[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সংগৃহীত
  4. "Darul Ulooms worldwide web links and addresses"। ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  5. কওমি কাহিনী[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সংগৃহীত