জুনায়েদ বাবুনগরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জুনায়েদ আহমদ বাবুনগরী
উপাধিআল্লামা, মুহাদ্দিস
জন্মফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
জাতিভুক্তবাংলাদেশী
মূল আগ্রহআকিদা, তাফসির, তাসাউফ, হাদিস, ফিকহ
লক্ষণীয় কাজ
শিক্ষায়তনদারুল উলূম করাচী
মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা

আল্লামা হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী হলেন বাংলাদেশের একজন ইসলামি চিন্তাবিদ, জনপ্রিয় একজন মুসলিম নেতা, প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে পরিচালিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব। আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা অন্যতম প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন তিনি।তিনি মাদরাসার সহকারী পরিচালক ছিলেন।[১] ১৭ জুন ২০২০ এ মাদরাসা কমিটি সহকারী পরিচালক দায়িত্ব থেকে বাবুনগরীকে অব্যাহতি দেয়।[২]

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

জুনাইদ বাবুনগরীর জন্ম ১৯৫৫ সালে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামে। ৫ বছর বয়সে তিনি জামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এরপর ১০ বছর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অতিবাহিত করেন। ২০ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানের দারুল উলূম করাচী মাদরাসায় ভর্তি হন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

শিক্ষকতা[সম্পাদনা]

জুনায়েদ আহমদ বাবুনগরী একাধারে চার বছর অধ্যয়ন ও বিশ্ববিখ্যাত ধর্মগুরুদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে হাদিস, তাফসির, ফিকাহশাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রামে আল্‌-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুহতামিম তথা সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[১] ১৭ জুন ২০২০ এ মাদরাসা কমিটি সহকারী পরিচালক দায়িত্ব থেকে বাবুনগরীকে অব্যাহতি দেয়। তাঁর স্থলে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।[২] তবে তার অনুসারীরা বলছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার, দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানে থাকায় সরকারি চাপে তাকে সরানো হয়েছে।[৩]

হেফাজতে ইসলাম[সম্পাদনা]

নাস্তিক বিরোধিতা[সম্পাদনা]

তিনি হেফাজতে ইসলামের মুখপাত্র হিসেবে বলেন, "এদেশে নাস্তিক মুরতাদরা থাকবে নয়তো হেফাজত থাকবে।" এছাড়াও তিনি নাস্তিকদের দেশ থেকে বিতারণের জন্য বিভিন্ন সময় কঠোর ভাষায় ঘোষণা দেন।[৪][৫]

গ্রেফতার[সম্পাদনা]

মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে ৭ই মে ২০১৩ পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।[৫]

প্রকাশিত গ্রন্থাবলি[সম্পাদনা]

তার লেখা বইগুলো[৬] হল-

  • বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ির কবলে শবে বরাত
  • ইসলামে দাড়ির বিধান
  • তাওহীদ ও শিরক প্রকার ও প্রকৃতি
  • মুকাদ্দিমাতুল ইলম : তাফসীর হাদীস ফিকাহ ফতোয়া

তার তত্ত্বাবধানে লিখিত[৭] বই সমূহ-

  • ইসলাম বনাম সমকালীন মতবাদ
  • প্রচলিত জাল হাদীস: একটি তাত্ত্বিক আলোচনা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী হাসপাতালে"দৈনিক সংগ্রাম। ২৮ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  2. "সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে বাবুনগরীকে অব্যাহতি"প্রথম আলো। ১৭ জুন ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  3. "বাবুনগরীর এই পরিণতি কেন?"বাংলা ট্রিবিউন। ১৯ জুন ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  4. "এদেশে নাস্তিক মুরতাদরা থাকবে নয়তো হেফাজত থাকবে : আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী"amardeshonline.com। ২৫ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৫ 
  5. "হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী ঢাকায় গ্রেফতার"ittefaq.com.bd 
  6. "মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী এর বই সমূহ"রকমারি। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  7. "মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী এর সকল বই"কিতাবঘর.কম। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০