২০১৪-১৫ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০১৪-১৫ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর
Flag of Bangladesh.svg
বাংলাদেশ
Flag of Zimbabwe.svg
জিম্বাবুয়ে
তারিখ ২৫ অক্টোবর, ২০১৪ – ১ ডিসেম্বর, ২০১৪
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা (ওডিআই)
মুশফিকুর রহিম (টেস্ট)
এলটন চিগুম্বুরা (ওডিআই)
ব্রেন্ডন টেলর (টেস্ট)
টেস্ট সিরিজ
ফলাফল ৩-ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ৩–০ তে জয়ী হয়
সর্বাধিক রান মমিনুল হক (৩২১) হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (৩৫৬)
সর্বাধিক উইকেট সাকিব আল হাসান (১৮) তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা (১৪)
সিরিজ সেরা সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)
একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ
ফলাফল ৫-ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ৫–০ তে জয়ী হয়
সর্বাধিক রান মুশফিকুর রহিম (২১৩) ব্রেন্ডন টেলর (১৬২)
সর্বাধিক উইকেট সাকিব আল হাসান (১১) তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা (৯)
সিরিজ সেরা মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)
২০১০-১১ (পূর্ববর্তী) (পরবর্তী) ২০১৫-১৬

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল পূর্ব-নির্ধারিত সময়সূচী মোতাবেক ২৫ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখ থেকে ১ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। সফরে জিম্বাবুয়ে দল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ৩টি টেস্ট ও ৫টি একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়।[১][২][৩] এছাড়া টেস্ট ও ওডিআইয়ের আগে একটি করে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেয়

সম্প্রচারস্বত্ত্বজনিত কারণে টেস্ট সিরিজটি বসুন্ধরা সিমেন্ট টেস্ট সিরিজ, ২০১৪ ও ওডিআই সিরিজটি বসুন্ধরা সিমেন্ট ওডিআই সিরিজ, ২০১৪ নামে পরিচিত।

দলের সদস্য[সম্পাদনা]

টেস্ট ওডিআই
 বাংলাদেশ[৪]  জিম্বাবুয়ে[৫]  বাংলাদেশ[৬]  জিম্বাবুয়ে[৫]

খেলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা[সম্পাদনা]

নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণ খেলা পরিচালনা করেছেন:-[৭][৮][৯]

আম্পায়ার টিভি আম্পায়ার সংরক্ষিত আম্পায়ার ম্যাচ রেফারী

প্রস্তুতিমূলক খেলা[সম্পাদনা]

৩ দিনের প্রথম-শ্রেণী:বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ ব জিম্বাবুয়ে একাদশ[সম্পাদনা]

২০-২২ অক্টোবর, ২০১৪
স্কোরকার্ড
২৪১ (৭৬.২ ওভার)
সিকান্দার রাজা ৪৪ (৭২)
মেহেদী হাসান ২/২২ (৭ ওভার)
২৯৭ (১০২.৫ ওভার)
শুভাগত হোম ৭৫* (১৭৬)
নাতসাই মুশাঙউই ৪/১০৯ (৩১ ওভার)
২০১/৫ (৫০ ওভার)
ক্রেগ আরভিন ৮৫* (৯৮)
দেওয়ান সাব্বির ২/১৭ (৬ ওভার)
  • জিম্বাবুইয়ান দল টসে জয়ী হয় এবং ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • প্রতি দলের খেলোয়াড় ১৪ (১১ জন ব্যাটিং, ১১ জন ফিল্ডিং)

প্রথম-শ্রেণী: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ ব জিম্বাবুয়ে একাদশ[সম্পাদনা]

১৯ নভেম্বর, ২০১৪
স্কোরকার্ড
 জিম্বাবুয়ে একাদশ
১৯৪ (৪৫.৩ ওভার)
নাসির হোসেন ৬১ (৬২)
ভুসি সিবান্দা ৪/৪৪ (৭ ওভার)
  • জিম্বাবুইয়ান দল টসে জয়ী হয় এবং ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • প্রতি দলের খেলোয়াড় ১৩ (১১ জন ব্যাটিং, ১১ জন ফিল্ডিং)

টেস্ট সিরিজ[সম্পাদনা]

১ম টেস্ট[সম্পাদনা]

২৫-২৯ অক্টোবর, ২০১৪
স্কোরকার্ড
টেস্ট ২১৪১
২৪০ (৭৫.৫ ওভার)
সিকান্দার রাজা ৫১ (১২২)
সাকিব আল হাসান ৬/৫৯ (২৪.৫ ওভার)
২৫৪ (৯৮ ওভার)
মুশফিকুর রহিম ৬৪ (১২৬)
তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা ৫/৫৯ (২৩ ওভার)
১১৪ (৩৫.৫ ওভার)
ব্রেন্ডন টেলর ৪৫* (৬০)
তাইজুল ইসলাম ৮/৩৯ (১৬.৫ ওভার)
১০১/৭ (৩৩.৩ ওভার)
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২৮ (৫০)
এলটন চিগুম্বুরা ৪/২১ (১০.৩ ওভার)
বাংলাদেশ ৩ উইকেটে বিজয়ী
শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর
আম্পায়ার: কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা) এবং এস. রবি (ভারত)
ম্যাচসেরা: তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ)
  • জিম্বাবুয়ে টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বাংলাদেশের পক্ষে জুবায়ের হোসেন ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে তাফাদজা কামুঙ্গোজি’র টেস্ট অভিষেক হয়।
  • প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে তাইজুল ইসলাম ৮-উইকেট লাভ করেন।
  • ৩-টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

সিরিজের শুরুতেই বাংলাদেশ দলকে সুসংগঠিত মনে করা হয়। ফাস্ট বোলার শাহাদাত হোসেন খেলার পঞ্চম বলেই ভুসি সিবান্দাকে আউট করেন। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা মিড-অফে জুবায়েরের হাতে ধরা পড়েন। ৩১ রানে ২ উইকেটের পতনের পর ব্রেন্ডন টেলর আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করেন। বিসিবি কর্তৃক আড়াই মাস নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবার পর মাঠে ফিরে আসা সাকিবের বলে ব্যাট-প্যাডের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আবেদন জানালেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজাও সাকিবের বলে রান ওঠাতে থাকেন। কিন্তু ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। মিরপুরের পিচের সুবিধা নিয়ে তিনি ছয় উইকেট পান। এনিয়ে তিনি দ্বাদশবারের মত ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব লাভ করেন। তার ক্রীড়ানৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ে দল প্রথম দিন শেষ হবার পূর্বেই স্বল্প রানে গুটিয়ে যায়।[১০] বাংলাদেশের ৭৪তম টেস্ট ক্রিকেটার ও প্রথম বিশেষজ্ঞ লেগস্পিনার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে আবির্ভূত জুবায়ের লাঞ্চের পরের ওভারে মিড-অফে টেলরকে আউট করলে তৃতীয় উইকেটে সংগৃহীত ৫২ রানের জুটি ভেঙ্গে যায় ও জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮৩/৩।[১১] মাত্র দু’টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণকারী জুবায়ের অফ স্ট্যাম্প বরাবর নিখুঁত বোলিং করতে থাকেন ও গুগলি সহযোগে মিশ্র লেগব্রেক বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। সিকান্দার রাজা লাঞ্চের পর তার দ্বিতীয় টেস্ট অর্ধ-শতক সংগ্রহ করেন সাকিবের বলে চার মেরে। লিখন ডাকনামে পরিচিত জুবায়েরের লেগব্রেক বোলিংয়ে রাজা আউট হন।[১১] সাকিবের বলে সিলি পয়েন্টে মমিনুল হকের হাতে ধরা পড়েন এলটন চিগুম্বুরা। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪২/৫। মার্চ, ২০১৩ সালের পর শীতকালীন চুক্তিতে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় খেলতে নামা ক্রেইগ আরভিন রেজিস চাকাভা’র সাথে ৫০ রানে জুটি গড়েন। কিন্তু উভয়েই দ্রুত আউট হন। দ্বিতীয় সেশনে তাইজুল বোলিং করেননি। চা-বিরতির পর আরভিনকে ব্যাট-প্যাডে কট করেন। সাকিব চাকাভাকে স্লিপ কট দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। প্যানিয়াঙ্গাকে স্কয়ার লেগে আউট করে সাকিব জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়া সকল টেস্টখেলুড়ে দলের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেটসহ দ্বাদশবারের মতো পাঁচ-উইকেট পান।[১১] প্রথম ইনিংসে অগ্রসর হবার জন্য মাঠে নামেন তামিম ইকবাল। নিয়মভঙ্গের কারণে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃতাদেশ থেকে ফিরে আসা তিনাশে প্যানিয়াঙ্গারা’র বলে আউট হন তামিম। শামসুর রহমানমমিনুল হক দ্বিতীয় উইকেটে অক্ষত অবস্থায় দিন শেষ করেন।

দ্বিতীয় দিনে মমিনুল হক ৫৩ রানে রান-আউটের শিকার হন। মাহমুদুল্লাহও ৬৩ রান করে এলবিডব্লিউ হন। মুশফিকুর রহিম একপ্রান্ত আগলে রেখে ৬৪ রান করে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন।[১২] এনিয়ে মমিনুল পাঁচটি অর্ধ-শতকের তিনটিতেই রান আউট হন। মাহমুদুল্লাহ ক্রিজের বাইরে এসে ছক্কা হাঁকান। পরবর্তীতেও তা করতে এসে ধরা পড়েন। মুশফিকুর সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার পর জিম্বাবুয়ে দল বাকীদেরকে আউট করতে সময় নেয়নি। গত তের বছরে মাত্র ১৩ সেঞ্চুরি হয়; এর বিপরীতে ৪৩টি অর্ধ-শতক করে বাংলাদেশ দল।[১২] দুইমাস পূর্বে তিনাশে প্যানিয়াঙ্গারা মিচেল জনসনের সাথে এক ভিডিও শেয়ার করার দায়ে অভিযুক্ত হন যা দলীয় কোচ স্টিফেন ম্যাঙ্গোঙ্গো’র ভাষায় বাচ্চাসূলভ আচরণ। এরফলে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করায় জরিমানা ধার্য্য করা হয় ও সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয় প্যানিয়াঙ্গাকে। খেলায় প্যানিয়াঙ্গা তার প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন।[১৩] দ্বিতীয় নতুন বল মাঠে নিয়ে আসার পূর্বে বাংলাদেশের চার উইকেট হাতে ছিল। মুশফিকুরকে প্যানিয়াঙ্গা আউট করলে বাংলাদেশ দল মাত্র ১৪ রানে এগিয়ে ছিল।[১৩] বাংলাদেশ দল ২১৩/৬ থেকে ২৫৪ রানে অল-আউট হয়ে যায়। মাহমুদুল্লাহ অফ স্পিনার সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন। ২৭ বলের ব্যবধানে লাঞ্চের সময়কালে মমিনুল ও সাকিব রান আউট হন। মাহমুদুল্লাহর সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে সাকিবের পতন হয়। তাফাদজা কামুঙ্গোজি’র বলে ধারাবাহিকভাবে চার মেরে অর্ধ-শতক করেন মাহমুদুল্লাহ। জিম্বাবুয়ের সেরা দুই ফাস্ট বোলার চাতারা ও প্যানিয়াঙ্গারা। পূর্বদিনের ১ উইকেটে ২৭ রানে সাথে মাত্র দুই রান যোগ করে শামসুর রহমান প্যানিয়াঙ্গার বলে মিড-অফে ধরা পড়েন।[১৪]

তৃতীয় দিনে মাত্র ১০১ রানে এগিয়ে থেকে জিম্বাবুয়ে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে। জিম্বাবুয়ে প্রথম তিন উইকেট পায় কোন রান না দিয়েই। সাকিব ও মাহমুদুল্লাহর ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জন নিয়াম্বু দলকে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেন। তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেটার অদম্য মানসিকতায় অবশেষে ৩ উইকেটের জয় পায়। প্রথম ইনিংসে মাত্র একজন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান অর্ধ-শতক করেন। তিনাশে প্যানিয়াঙ্গার পাঁচ-উইকেট লাভ স্বাগতিক দলকে মাত্র ১৪ রানে এগিয়ে রাখে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের প্রচেষ্টা বেশ ব্যর্থ হয়। সকালেই তাদের সাত উইকেটের পতন ঘটে ও মাত্র ৩৫.৫ ওভারে ১১৪ হয়। বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রথম ইনিংসে নয় উইকেট নেন।[১৫]

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে তাইজুল সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ও দলকে ৩ উইকেটের বিজয়ী সহায়তা করেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটংয়ে নেমে দলের বিপর্যয় রোধে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন তাইজুল। নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে চার মেরে দলে জয় নিশ্চিত করেন। এ জয়ের ফলে ক্রিকেটের সকল স্তরে ধারাবাহিকভাবে ১২ খেলায় পরাজয়ের রেকর্ড গড়া থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ দল। ২০১৪ সালে পূর্ণাঙ্গ দলের বিপক্ষে একমাত্র জয় হয়ে আছে। কেবলমাত্র টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে নেপাল ও আফগানিস্তানের বিপক্ষেই জয় পায় বাংলাদেশ দল। লক্ষ্যে পৌঁছতে তামিম, মমিনুল ও শামসুর তিনাশে প্যানিয়াঙ্গার শিকার হন। ক্রিজে নতুন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিবকে জন নিয়াম্বু ৮ বলের ব্যবধানে আউট করেন। সেকেন্ড স্লিপে নিয়াম্বু সাকিবকে ধরলে ৪৬/৪ হয়। চিগুম্বুরার ধীরগতির বলে উইকেট-কিপার রেজিস চাকাভা ধরেন। শুভগত হোম বিদায় নিলে দলের জয় তখনও ৩৯ রান থেকে দূরে। মূশফিক ৬৩ বল খেলে অপরাজিত থাকেন। এদিন ১৭ উইকেটের পতন ঘটে। টেলর ৬০ বলে অপরাজিত ৪৫ রান করলেও বাকীরা আসা-যাওয়ার দলে ছিলেন।[১৬]

২য় টেস্ট[সম্পাদনা]

৩-৭ নভেম্বর, ২০১৪
স্কোরকার্ড
টেস্ট ২১৪৩
৪৩৩ (১৫৮.৫ ওভার)
সাকিব আল হাসান ১৩৭ (১৮০)
তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা ২/৪৯ (২৯ ওভার)
৩৬৮ (১৩৫.১ ওভার)
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ১৫৮ (৩২৬)
সাকিব আল হাসান ৫/৮০ (৪১ ওভার)
২৪৮/৯ডিঃ (৮৩.৫ ওভার)
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৭১ (১৫৮)
ম্যালকম ওয়ালার ৪/৫৯ (২৭ ওভার)
১৫১ (৫১.১ ওভার)
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৬১ (১১৩)
সাকিব আল হাসান ৫/৪৪ (১৮ ওভার)
বাংলাদেশ ১৬২ রানে বিজয়ী
শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, খুলনা
আম্পায়ার: আলীম দার (পাকিস্তান) ও বিলি বাউডেন (নিউজিল্যান্ড)
ম্যাচসেরা: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)
  • বাংলাদেশ টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্রায়ান চারিনাতসাই মুশাঙউই’র টেস্ট অভিষেক ঘটে।
  • সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

বাংলাদেশ টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ে নামে। খুলনার সন্তান রুবেল হোসেনকে খেলায় নামানো হয় আল-আমিন হোসেনের পরিবর্তে। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ব্যাটিং লাইন-আপ শক্তিশালী করতে জন নিয়াম্বু’র পরিবর্তে ম্যালকম ওয়ালারকে অন্তর্ভুক্ত করেন। ভুসি সিবান্দাকে মাঠের বাইরে রেখে ২৩টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০.৬২ গড়ে রান সংগ্রহকারী ব্রায়ান চারিকে টেস্ট অভিষেক করান।[১৭] দলীয় ছয় রানেই শামসুর রহমানের উইকেট হারায়। এলটন চিগুম্বুরার ইনসুইঙ্গারে শামসুর রহমান পরাস্ত হলে আম্পায়ার বিলি বাউডেন তার আবেদনে সাড়া দেন। লাঞ্চের ৯ ওভার পর তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারার ব্যাক-অফ-এ-লেন্থ বলে মমিনুল ফিরতি ক্যাচ দেন।[১৮] তখন দলের রান ৭৮/২। তামিম ১৬৯ বলে ২১তম টেস্ট অর্ধ-শতক করেন যা তার ধীরতম অর্ধ-শতক ও ২৫০ বল মোকাবেলা তার দীর্ঘতম ইনিংস।[১৯] দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল-মমিনুল হক ৯৫ রান সংগ্রহ করেন।

চার বছরের মধ্যে তামিম তার বহুল প্রত্যাশিত শতক লাভ করেন। দ্বিতীয় দিনে জিম্বাবুয়ের সেরা সময় ছিল লাঞ্চের পর ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ছয় রান দিয়ে এক উইকেট পাওয়া। সাকিব ২০১১ সালের পর সেঞ্চুরি করেন। এরপর তিনি ম্যালকম ওয়ালারের প্রথম উইকেট শিকার হন। তাইজুল শাহাদাতের সাথে ৮ম উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। সকালে সঠিক সময় ড্রাইভ করতে ব্যর্থ হওয়ায় লাঞ্চের মাত্র ২.৩ ওভার পূর্বে ১৩২ রানে জুটি ভেঙ্গে চলে যান তামিম।[২০] ৩৩২ বলের সাহায্যে সেঞ্চুরিকারী তামিম পঞ্চম মন্থরতম ইনিংসের বিপরীতে তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম শতকের অধিকারী।[২১] ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ সম্মাননা লাভ করেন। ৪৩৩ রান সংগ্রহ করতে বাংলাদেশ দল ব্যয় করে ১৫৮.৫ ওভার যা দ্বিতীয় দীর্ঘতম ইনিংস।

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র ১৩ বছর পূর্বে টেস্ট অভিষেক ঘটে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে দলকে দীর্ঘ ছয়-বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিল টেস্ট ক্রিকেট থেকে। মধ্যম সারির ব্যাটসম্যানদেরকে আউট করতে সক্ষম হয় মধ্যাহ্ন বিরতীর পর। কিন্তু মাসাকাদজা দলের ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী ভূমিকা নেন। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই মাসাকাদজাকে আউট করার সুযোগ পেলেও তা নষ্ট করে ও বাংলাদেশ দল তার চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি দেখে। তিনি অপরাজিত ১৫৪ করেন যা তার নিজস্ব সেরা সংগ্রহ। জিম্বাবুয়ের বাইরে তিনি তার প্রথম সেঞ্চুরি করেন।[২২] রেজিস চাকাভাও অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়েকে স্বপ্ন দেখাতে থাকেন। ৬ষ্ঠ উইকেটে এ জুটি মূল্যবান ১৮৯ রান সংগ্রহ করে। ব্রেন্ডন টেলরএল্টন চিগুম্বুরা লেগসাইডে সাকিবের বলে কট-আউট হন। অস্বস্তিতে থাকা ক্রেইগ আরভিনকে অতিরিক্ত বাউন্সের মাধ্যমে ফেরত পাঠান। জিম্বাবুয়ের প্রথম-পছন্দের উইকেট-রক্ষক রিচমন্ড মুতুম্বামি অসুস্থ থাকায় চাকাভাকে দলে নেয়া হয়। তিনি এর যথার্থতা বুঝাতে প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান। অভিষিক্ত ব্রায়ান চারি মিড-অফে আউট হন।[২৩]

প্রথম-ইনিংসে দলকে এগিয়ে যেতে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা-চাকাভা জুটি মাঠে নামলে সাকিবের নীচু বলে মাসাকাদজার মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। পূর্বদিনের রানের সাথে মাসাকাদজা মাত্র চার রান যোগ করতে সক্ষম হন। সাকিব ওয়ালারকে ফেরত পাঠান। বৃহস্পতিবার প্রথম ঘন্টাতেই ত্রয়োদশবারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নেন সাকিব। তা স্বত্ত্বেও রেজিস চাকাভা তার অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। তামিম ইকবাল দৃঢ়তার সাথে খেলা শুরু করেন। কিন্তু চার বাউন্ডারি মেরেই তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা’র বলে কট এন্ড বোল্ড হন। মমিনুল-শামসুর জুটি চা বিরতী পর্যন্ত দলকে ১৪৪ রানের ব্যবধানে এগিয়ে রাখেন। মমিনুল তার ৭ম অর্ধ-শতক করেন ৮৮ বলে। ম্যালকম ওয়ালারের ব্যাট-প্যাডের ক্যাচে তার পতন ঘটে। মাত্র ২১ ইনিংসে মমিনুল হক ১০০০ টেস্ট রান করেন। সুনীল গাভাস্কার ও ব্রায়ান লারা’র পাশে নিজের নাম লেখান।[২১] শামসুরকে আউট করা ওয়ালার ধারাবাহিকভাবে শাকিব ও মুশফিককে আউট করেন। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ শুভাগত হোমের সহায়তায় সিরিজের ৩য় অর্ধ-শতক করেন ১০৪ বলে। দিনশেষে এ জুটি ৫৬ রান করে। রুবেল হোসেন সকালে টেন্ডাই চাতারা ও নাতসাই মুশাঙউইকে একই ওভারে আউট করেন। চাকাভার ৮৫ রানের সময় জিম্বাবুয়ে তাদের নবম উইকেট হারায়। দলীয় ১৩৪ ওভারে চাকাভা তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। নয় বছর পূর্বে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের কোন উইকেট-রক্ষক সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে রেজিস চাকাভা ১০১ রান করেন। তাতেন্ডা তাইবুঅ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের পর তৃতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে তিনি এ কৃতিত্বের অধিকারী হন।[২১] প্যানিয়াঙ্গারা তাকে ঠিক দশ ওভার সঙ্গ দেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার সময় জিম্বাবুয়ে ৬৫ রানে পিছিয়ে পড়ে। চাকাভা’র সাথে শেষ উইকেট জুটি ঘন্টাখানেক টিকে থাকে।[২৪]

অল-রাউন্ডার সাকিব টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানের পর সেঞ্চুরিসহ খেলায় ১০ উইকেট লাভ করেন। ৩১ বছর পূর্বে সর্বশেষ এ কীর্তি গড়েছিলেন পাকিস্তানের ইমরান খান ভারতের বিপক্ষে ১৯৮৩ সালে। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রান ও ৫/৮০ পান। পরবর্তীতে ৫/৪৪ পান দ্বিতীয় ইনিংসে। তার এ কৃতিত্বে জিম্বাবুয়ে ১৬২ রানে পরাজিত হয় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।[২৫] হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এ টেস্টের উভয় ইনিংসে অর্ধ-শতক করেন। জুলাই, ২০০৯ সালের পর তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সিরিজ জয় করে। নাতসাই মুশাঙউইকে আউট করে সাকিব তার দশম উইকেট পূর্ণ করেন। অন্য দুই স্পিনারের মধ্যে তাইজুল তিন উইকেট পান। ১৯-বছর বয়সী জুবায়ের হোসেন রেজিস চাকাভাকে আউট করার মাধ্যমে ইনিংসের সবচেয়ে বড় ৭০-রানের জুটি ভেঙ্গে দেন। পূর্বদিনের ২৬৬ রানে এগিয়ে থেকে চূড়ান্ত দিনে আরও ১৯.৫ ওভারে ৪৭ রান সংগ্রহ করে। শুভাগত হোম তার প্রথম টেস্ট অর্ধ-শতক করেন।[২৬] তার এ অর্জনের পরপরই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ইনিংসের ডিক্লেয়ার করেন। মুশাঙউই মিড-অনে মাহমুদুল্লাহকে ক্যাচ দেন। পূর্বদিনের রানের সাথে তিনি ২৯ বলে আরও ৮-রান যোগ করে ৭১ রানে আউট হন। মাসাকাদজা একহাতে শাহাদাতের ক্যাচ নিয়ে মুশাঙউইকে তার চতুর্থ শিকারে সহায়তা করেন। এ জয়ের ফলে বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানী থেকে এক ধাঁপ উপরে উঠে ও জিম্বাবুয়েকে তলানীতে ঠেলে দেয়।[২৬] চৌদ্দবারের মতো পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির মাধ্যমে সাকিব সাকলাইন মুশতাকমাইকেল হোল্ডিংয়ের অর্জনকে পিছনে রেখে দেন। বামহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে দুইবার পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির পর সাকিবও এতে যুক্ত হন। সাকিবের সেঞ্চুরি ও দশ উইকেট প্রাপ্তির পূর্বে ১৯৮৩ সালে ফয়সালাবাদে ভারতের বিপক্ষে ইমরান সর্বশেষ এ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। একমাত্র অন্য খেলোয়াড় ইয়ান বোথাম এ তালিকায় রয়েছেন। তন্মধ্যে সাকিব প্রথম স্পিনার। ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়াসিম আকরাম তিন টেস্টের সিরিজে সেঞ্চুরিসহ তিনবার পাঁচ উইকেট পান। তারপরই সাকিবের এ অর্জন। ধারাবাহিকভাবে পাঁচ উইকেট লাভের দিক দিয়ে সাকিবের অবস্থান পঞ্চম। তার সম্মুখে রয়েছেন সিডনি বার্নস, ক্ল্যারি গ্রিমেট, মুত্তিয়া মুরালিধরন, রিচার্ড হ্যাডলি। তবে হার্বার্ট সাটক্লিফ করেছেন মাত্র ১২ ইনিংসে। এ নিয়ে দুইবার ২-টেস্টে জয়ী হয় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের শিকারে পরিণত হয়। সর্বমোট ছয়বার টেস্ট জয়ের চারটিই এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।[২১]

৩য় টেস্ট[সম্পাদনা]

১২-১৬ নভেম্বর, ২০১৪
স্কোরকার্ড
টেস্ট ২১৪৫
৫০৩ (১৫৩.৪ ওভার)
ইমরুল কায়েস ১৩০ (২৫৭)
সিকান্দার রাজা ৩/১২৩ (৩৬ ওভার)
৩৭৪ (১০৬ ওভার)
এলটন চিগুম্বুরা ৮৮ (১৩০)
জুবায়ের হোসেন ৫/৯৬ (২০ ওভার)
৩১৯/৫ডিঃ (৭৮ ওভার)
মমিনুল হক ১৩১* (১৮৯)
তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা ২/৩১ (১২ ওভার)
২৬২ (৮৫ ওভার)
রেজিস চাকাভা ৮৯* (১৮১)
রুবেল হোসেন ২/১৬ (৪ ওভার)
বাংলাদেশ ১৮৬ রানে বিজয়ী
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম
আম্পায়ার: আলীম দার (পাকিস্তান) ও ক্রিস গাফানি (নিউজিল্যান্ড)
ম্যাচসেরা: মমিনুল হক (বাংলাদেশ)
ম্যান অব দ্য সিরিজ: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)
  • বাংলাদেশ টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বাংলাদেশ দলের ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়।

প্রথম দিনেই তামিম ইকবালইমরুল কায়েস জুটি নিজেদের গড়া ১৮৫ রানের পূর্বতন রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন করে রেকর্ড গড়েন। এ দু’জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই সেশন নিরবিচ্ছিন্নভাবে ছিলেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৬৩.৫ ওভার খেলে ২২৪-রান করেন। এল্টন চিগুম্বুরা, তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা, শিঙ্গিরাই মাসাকাদজা এবং নাতশাই মুশাঙউইকে নিয়ে জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণ পরিচালিত হয়। লেগস্পিনার মুশাঙউই দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায় কয়েকবার সুযোগ সৃষ্টি করলেও ব্রায়ান চারি তা নষ্ট করে দেন। ষোড়শ ওভারে ইমরুলের প্যাডে বল লাগলেও জিম্বাবুয়ে দল হক-আই প্রযুক্তির সুযোগ নেয়নি। গত ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো টেস্টে বাংলাদেশের ৫০ রানের জুটি হয়। এরপর জুন, ২০১০ সালের পর প্রথম শতরানের জুটি গড়ে। পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ে তামিম-ইমরুল। এছাড়াও, তারা দলের চতুর্থ দুই শতাধিক জুটি গড়াসহ উদ্বোধনী জুটিতে নতুন রেকর্ড গড়েন।[২৭] ২০০৮-২০১১ সালে এ দু’জন দলের উদ্বোধনে নেমে ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৫ রান করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরিকারী ইমরুল ৩নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ও তার প্রথম সেঞ্চুরি করেন। খেলায় উভয়েই সেঞ্চুরি করেন। চা-বিরতির ৩ ওভার পর তামিম মিড-অন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র শিকার হন। সিকান্দার রাজা’র বলে তামিম ১০৯ রান করে কট দেন। তার এ সেঞ্চুরি ছিল ষষ্ঠবারের মতো। এরফলে তিনি বাংলাদেশের সর্বাধিক সেঞ্চুরিকারী মোহাম্মদ আশরাফুলের ৬-সেঞ্চুরির সমকক্ষ হন।[২৮] ২০১০ সালে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে ধারাবাহিকভাবে দুই সেঞ্চুরির পর চার বছর বিরতি দিয়ে এ সিরিজেও ধারাবাহিকভাবে দুইটি সেঞ্চুরি করেন খুলনা ও চট্টগ্রামে। অন্যদিকে ইমরুলের ১৩০ রান তার দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। ১২ চার ও দুই ছক্কার সাহায্যে তার এ ইনিংসটি ২৫৭ বলের ছিল। তামিমের বিদায়ের পর ইমরুল দ্বিতীয় উইকেটে মমিনুলের সাথে ৪৮ করেন। এরপর গালিতে অতিরিক্ত খেলোয়াড় ভুসি সিবান্দা’র হাতে ধরা পড়েন মাসাকাদজা’র বলে। দিনশেষে বাংলাদেশ দল ২ উইকেটে ৩০৩ রান করে খেলায় একচ্ছত্র প্রভাববিস্তার করে। মমিনুল হক ৪৬* ও মাহমুদুল্লাহ ৫* রানে অপরাজিত ছিলেন।

সাকিব তার সপ্তদশ টেস্ট অর্ধ-শতক করেন ১১০ বল খেলে। তার এ ইনিংসে সাতটি বাউন্ডারি ছিল। কিন্তু ক্রেইগ আরভিনের চমৎকার ক্যাচে তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত আসতে হয়। পূর্বদিনের ৩০৩/২ নিয়ে খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল শুরুতেই তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা’র শিকারে পরিণত হয় মমিনুল হকের উইকেটের পতনের মাধ্যমে। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মমিনুল ১১০ বলে তিনটি চারের সহায়তায় ৪৮ রান করেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পরক্ষণেই সাকিব তার অর্ধ-শতক সম্পন্ন করেন। রাজা তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৩৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৩ রান দিয়ে।[২৯] প্যানিয়াঙ্গারা, শিঙ্গিরাই মাসাকাদজাহ্যামিল্টন মাসাকাদজা - প্রত্যেকেই দু’টি করে উইকেট নিলেও ৪৭ ওভার বোলিং করে নাতসাই মুশাঙউই কোন উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখাননি। রুবেলের অপরাজিত ৪৫* রান তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। ৪৪ বলে মিড-উইকেটে চার ছক্কা ও দুই চারে তার অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীতে বাংলাদেশ দল ৫০০ রানের কোটা অতিক্রমে সক্ষম হয়। দশম উইকেটে জুবায়ের হোসেনকে নিয়ে ৫১ রানের জুটিটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি করে। শেষদিকে রুবেল হোসেনের একক নৈপুণ্যে বাংলাদেশ দল পাঁচশত রানের কোটা অতিক্রম করে ও এ মাঠে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে। তিনি চার ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৪৫ রান সংগ্রহ করেন। এ মাঠের উইকেটে বাংলাদেশ দল সর্বাপেক্ষা ব্যাটিং উপযোগী পরিবেশ পায়। শেষ দুই টেস্টে বাংলাদেশ দল বড় ধরনের স্কোর করে ড্র করে। ফেব্রুয়ারিতে এ মাঠেই কুমার সাঙ্গাকারা ৩১৯ ও ১০৫ রান করেছিলেন।[৩০] বাংলাদেশ দল ৫০৩ রানে অল-আউট হলে জিম্বাবুয়ে দলও এর প্রত্যুত্তর দিতে শুরু করেছে। তারা ১ উইকেটে ১১৩ রান তোলে মূলত সিকান্দার রাজা ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র অপরাজিত অর্ধ-শতকের সুবাদে। রাজা তার অপরাজিত ৫৪ রান তোলেন ৬৫ বলে, ৯ বাউন্ডারির সাহায্যে। এটি তার তৃতীয় টেস্ট অর্ধ-শতক। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের তিন উইকেট লাভ করেন। মাসাকাদজাও তার ষষ্ঠ টেস্ট অর্ধ-শতক করেন ৭১ বলের সহায়তায়। সাতটি চার ও সাকিব আল হাসানের বলে বিশাল ছক্কা হাঁকান মাসাকাদজা। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতে দ্বিতীয় ওভারেই রুবেল একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন। ব্রায়ান চারিকে আউট করতে তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা’র হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়ে। দ্বিতীয় দিনশেষে জিম্বাবুয়ে ৩৯০ রানে পিছিয়ে রয়েছে।[৩০]

তৃতীয় দিনে জুবায়েরের পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি বাংলাদেশ দলকে বেশ শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। জিম্বাবুয়ে দল ৩৭৪ রানে গুটিয়ে যায়। ৩য় দিনশেষে বাংলাদেশ ১৫২ রানে এগিয়ে। জুবায়েরের অসাধারণ কৃতিত্বে স্বাগতিক দল ১২৯ রানের ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীতে আরও আধা-ঘন্টায় দলের ব্যবধান ১৫২ রান হয়। জুবায়ের ২০ ওভার বোলিং করে ৯৬ রানে ৫ উইকেট পান। ব্রেন্ডন টেলর, সিকান্দার রাজা, ক্রেগ আরভিন, এল্টন চিগুম্বুরা ও নাতসাই মুশাঙউই তার শিকারে পরিণত হন। তন্মধ্যে এল্টন চিগুম্বুরা ছিলেন জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শীর্ষ রানসংগ্রাহক। তৃতীয় দিনে ২য় উইকেটে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা চমৎকার সূচনা করেন। তারা পূর্বদিনের সাথে আরও ১০৪ রান করে জুটিকে ১৬০ রানে নিয়ে যান। এরফলে ৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে এডিআর ক্যাম্পবেল-এমএইচ ডেকারের পূর্বেকার ১৩৫ রানের রেকর্ড ভেঙ্গে যায়।[৩১] রেজিস চাকাভা-এল্টন চিগুম্বুরা’র অর্ধ-শতক জিম্বাবুয়েকে ফলো-অন থেকে বাঁচায়। চিগুম্বুরা ছক্কা মেরে দলীয় সংগ্রহকে ৩০৭-এ নিয়ে যান। এরপরই এ জুটি ভেঙ্গে যায়। সিকান্দার রাজা ১১১ বলে ১০ বাউন্ডারি সহযোগে ৮২ ও মাসাকাদজা ১৫১ বলে ৮১ করেন নয় বাউন্ডারি ও এক ছক্কার সহায়তায়। স্লিপে মাহমুদুল্লাহ রাজাকে কট-আউট ও শফিউল ইসলামের এলবিডব্লিউ’র শিকার হন মাসাকাদজা। মিড-অফে ২০-গজ দৌঁড়ে তাইজুল ইসলামের কট-আউটে পরিণত হন টেলর। ফুল-টস বলে আরভিন বোল্ড হন। চিগুম্বুরা-চাকাভা ৬ষ্ঠ উইকেটে ১১৩ রান করলে সফরকারী দল এগিয়ে যেতে থাকে। চাকাভা ১৩৬ বলে ৬৫ রান করেন ৭ চারের সাহায্যে ও শফিউলের বলে লেগ-বিফোরে আউট হন। উভয় ব্যাটসম্যানই বেশ কয়েকবার আউট হওয়া থেকে রক্ষা পান। সাকিব আল হাসানের আবেদনের প্রিক্ষিতে রিচমন্ড মুতুম্বামি ২০ রানে এলবিডব্লিউ হন। জুবায়ের কর্তৃক চিগুম্বুরা’র আউটের পূর্বে তাইজুল মাসাকাদজাকে বিদায় করেন। চিগুম্বুরা ১৩০ বলে ৮৮ করে স্লিপে কট দেন। তার ইনিংসে ছয় বাউন্ডারি ও দুই ছক্কা ছিল। মুশাঙউই কভারে মাহমুদুল্লাহ’র হাতে ধরা পড়েন।[৩১]

চতুর্থ দিন মমিনুল সেঞ্চুরি করে দলকে ৪৪৯ রানে এগিয়ে দন। দিন শেষে ১ উইকেটে ৭১ করেছে জিম্বাবুয়ে দল। সিকান্দার রাজা ৪৩ ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। চূড়ান্ত দিনে বাংলাদেশ দলকে পরাজিত করার জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৩৭৮ রান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন মাত্র ৯ উইকেট। পূর্বদিনের বিনা উইকেটে ২৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে মমিনুল হকের অপরাজিত ১৩১* ও তামিমের ৬৫ রানের কল্যাণে বাংলাদেশ ৩১৯/৫ করে ইনিংস ডিক্লেয়ার দেয়। মমিনুল বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ১০০০ টেস্ট রান করেন। এ নিয়ে তিনি তার ১২ টেস্টের ১১ ইনিংসেই পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব রান সংগ্রহ করেছেন। মমিনুলের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি বাংলাদেশ দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যায়।[৩২] অন্যদিকে রুবেল হোসেন ব্রায়ান চারিকে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আউট করে তাকে জোড়া শূন্যে পরিণত করেন।[৩২] বাংলাদেশ দল তাদের ইনিংস ডিক্লেয়ার করার পূর্বে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ দ্রুতগতিতে রান ওঠান। অন্যদিকে সাকিব তিন-টেস্টের সিরিজে ২৫০ রানের কোটা অতিক্রমসহ ১৮ উইকেট পান। বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো উভয় ইনিংসে তিন-শতাধিক রানসহ সর্বমোট ৮২২ রান করে যা তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়াও কোন একটি সিরিজে ১,৮৫৮ রান করে প্রথমবারের মতো।[৩২] মুশফিকুর ৩০ বলে চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কা সহযোগে ৪৬ রান করেন। তার আউটের পর শুভগত হোম ১.২ ওভার খেলেন ও ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মমিনুল ১৩ বাউন্ডারিতে ১৮৯ বলে ১৩১ রান করা অবস্থায় ইনিংস ঘোষণা করেন। এ সময় মমিনুল হক অপরাজিত ছিলেন। ব্যক্তিগত ৮৯ রানে তার বিপক্ষে এলবিডব্লিউ’র আবেদন আসে যা মাঠে দায়িত্বরত আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এরফলে তিনি এভারটন উইকস, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, ম্যাথু হেইডেন, জ্যাক ক্যালিস, সাইমন ক্যাটিচকুমার সাঙ্গাকারা’র দলে প্রবেশ করেন যারা ধারাবাহিকভাবে নয় টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেছেন। এছাড়াও এভারটন উইকস, সুনীল গাভাস্কারমার্ক টেলরের পর চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তার প্রথম ১২ টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করতে পেরেছেন। স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ গড়রানের পর মমিনুল হক দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ৬৩.০৫ রানগড়ে যারা কমপক্ষে ২০ ইনিংস খেলেছেন।[৩২] দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের সাথে মূল্যবান ৮৮ রান করেন। নাতসাই মুশাঙউই’র বলে তামিম ৬৫ রানে আউট হন। ৫৮ ওভার বল করে লেগস্পিনার মুশাঙউই তার প্রথম টেস্ট উইকেট লাভে সক্ষম হন।[৩২] মাহমুদুল্লাহ ২৮ বলে ৩০ রান করেন ৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কার সহায়তায়। মমিনুলের সাথে ১০.৩ ওভারে ৬৫ রান করেন।

১০ মাস যাবৎ পরাজয়ের ধাক্কার পরে অবশেষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। চূড়ান্ত ও পঞ্চম দিনে খেলার ৮৫তম ওভারে শফিউল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ’র শিকার হন নাতসাই মুশাঙউই। এতেই জিম্বাবুয়ে দলের চূড়ান্ত উইকেটের পতন হয়। ক্রেগ আরভিন, রিচমন্ড মুতুম্বামি ও তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারাও একই পথে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। অন্যদিকে রেজিস চাকাভা একপ্রান্ত ধরে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৮১ বলে ৮৯ রান করেন তিনি সাত চার ও এক ছক্কার সাহায্যে।[৩৩] তবে বেশ কয়েকবার এলবিডব্লিউ’র আবেদন, দুইবার সিদ্ধান্তের জন্য তৃতীয় আম্পায়ার ও ২১ রানে মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে রক্ষা পান তিনি। শফিউল, রুবেল হোসেন, জুবায়ের হোসেন ও শুভগত হোম প্রত্যেকই দু’টি করে উইকেট পান। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা পূর্বদিনের ৬৭ রানের জুটির সাথে আরও রান সংগ্রহে অগ্রসর হন। চতুর্থ ওভারে রাজা খেলায় তার দ্বিতীয় অর্ধ-শতক করেন ও সর্বমোচ চারটি অর্ধ-শতক করেন। পরের ওভারেই তাইজুল ইসলামের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। এনিয়ে সিরিজে মোট নয়বার বাংলাদেশের আবেদন বাতিল হয়। মাসাকাদজা সকালে মাত্র ১২ রান যোগ করে আউট হন। তিনি শুভগত হোমের বলে মুশফিকুরের বলে ধরা পড়েন। ৯৩ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের মাধ্যমে শুভগত তার দ্বিতীয় উইকেট পান। তাইজুলের ফুল টস বলে রাজা ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন। ৬৫ রানে গড়া এ ইনিংসটি ৭৫ বলে নয়টি চার ও দুই ছক্কার ছিল। জুবায়েরের বলে লুজ ড্রাইভে ব্রেন্ডন টেলর উইকেট বিলিয়ে দেন। এনিয়ে তিনবার তার শিকারে পরিণত হন টেলর। লাঞ্চের সাত মিনিট পূর্বে জুবায়েরের বলে স্লিপে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েস এল্টন চিগুম্বুরাকে আউট করে দ্বিতীয় উইকেট পান। সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক অগ্রসর হয় বাংলাদেশ দল। এনিয়ে তিন টেস্টের প্রত্যেকটিতেই বাংলাদেশ দল ২০ উইকেট পায়।[৩৩]

চার সেঞ্চুরির তিনটিই দ্বিতীয় ইনিংসে করেন মমিনুল হক।[৩৪] ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দল ৩-০ ব্যবধানে বাংলাওয়াশ করে জিম্বাবুয়েকে।[৩৪] তিন বা এরচেয়ে কম টেস্টে দুইজন খেলোয়াড় কমপক্ষে ২৫০ রান ও ১৫ বা তদূর্ধ্ব রান করেছেন। সাকিব করেছেন ২৫১ ও ১৮ উইকেট নিয়ে ২০০৮-০৯ মৌসুমে মিচেল জনসনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৫৫ রান ও ১৬ উইকেটের সমকক্ষ হন।[৩৪] একটি সিরিজে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানগণ তিনশতাধিক রান করতে পেরেছেন। মমিনুল ও তামিম এ সিরিজে করার পূর্বে গত বছর মমিনুল দুই টেস্টের সিরিজে ৩৭৬ রান করেছিলেন। ২০০৩ সালে ৩৭৯ রান করেন হাবিবুল বাশার[৩৪] পাকিস্তানের বিপক্ষে তার অর্জনটি সবচেয়ে বৃহৎ। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা সিরিজে ৩৫৬ রান করেন। ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ৪২২ রানের পর তার এ সংগ্রহ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়াও, তিনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মারে গুডউইনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এ তালিকায় ৩৮ রান বেশি নিয়ে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছেন অ্যালিস্টেয়ার ক্যাম্পবেল[৩৪]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

সর্বোচ্চ রান[৩৫]
খেলোয়াড় খেলা ইনিংস অপরাজিত রান সর্বোচ্চ রান গড় বল মোকাবেলা স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধ-শতক শূন্য
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৩৫৬ ১৫৮ ৫৯.৩৩ ৭২০ ৪৯.৪৪ ৩৭
মমিনুল হক ৩২১ ১৩১* ৬৪.২০ ৬০৪ ৫৩.১৪ ৩২
রেজিস চাকাভা ৩১৭ ১০১ ৬৩.৪০ ৭৩৪ ৪৩.১৮ ৩০
তামিম ইকবাল ৩০৮ ১০৯ ৫১.৩৩ ৬৮৮ ৪৪.৭৬ ৩২
মাহমুদুল্লাহ ২৬৪ ৭১ ৪৪.০০ ৬১৬ ৪২.৮৫ ২৭
সর্বোচ্চ উইকেট[৩৬]
খেলোয়াড় খেলা ইনিংস ওভার মেইডেন রান উইকেট ইনিংসে সেরা বোলিং খেলায় সেরা বোলিং গড় ইকোনোমি স্ট্রাইক রেট ৫-উইঃ ১০-উইঃ
সাকিব আল হাসান ১২৯.৫ ২৯ ৩২৯ ১৮ ৬/৫৯ ১০/১২৪ ১৮.২৭ ২.৫৩ ৪৩.২
তাইজুল ইসলাম ১২৯.১ ২৫ ৩৬৯ ১৭ ৮/৩৯ ৯/৮১ ২১.৭০ ২.৮৫ ৪৫.৫
তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা ১০৪.৪ ২৫ ২৮৪ ১৪ ৫/৫৯ ৭/৮৯ ২০.২৮ ২.৭১ ৪৪.৮
জুবায়ের হোসেন ৮৪.০ ৩২২ ১১ ৫/৯৬ ৭/১৫২ ২৯.২৭ ৩.৮৩ ৪৫.৮
নাতসাই মুশাঙউই ১৩১.৪ ১৬ ৪৩৫ ৪/৮২ ৫/২০৯ ৬২.১৪ ৩.৩০ ১১২.৮

ওডিআই সিরিজ[সম্পাদনা]

১ম ওডিআই[সম্পাদনা]

২১ নভেম্বর, ২০১৪
১৩:৩০ (বিএসটি) (দিন/রাত)
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ 
২৮১/৭ (৫০ ওভার)
 জিম্বাবুয়ে
১৯৪ (৪২.১ ওভার)
ব্রেন্ডন টেলর ৫৪ (৭২)
সাকিব আল হাসান ৪/৪১ (১০ ওভার)
  • জিম্বাবুয়ে টসে জয়ী হয় এবং ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বাংলাদেশের হয়ে সাব্বির রহমান ও জিম্বাবুয়ের হয়ে সলোমন মিরের ওডিআই অভিষেক হয়।

২য় ওডিআই[সম্পাদনা]

২৩ নভেম্বর, ২০১৪
১২:৩০ (বিএসটি) (দিন/রাত)
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ 
২৫১/৭ (৫০ ওভার)
 জিম্বাবুয়ে
১৮৩ (৪৪.৫ ওভার)
সলোমন মিরে ৫০ (৭৯)
আরাফাত সানি ৪/২৯ (৯.৫ ওভার)
  • বাংলাদেশ টসে জয়ী হয় এবং ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

৩য় ওডিআই[সম্পাদনা]

২৬ নভেম্বর, ২০১৪
১২:৩০ (বিএসটি) (দিন/রাত)
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ 
২৯৭/৬ (৫০ ওভার)
 জিম্বাবুয়ে
১৭৩ (৩৯.৫ ওভার)
এলটন চিগুম্বুরা ৫৩* (৪৬)
আরাফাত সানি ৪/২৭ (৮.৫ ওভার)
  • জিম্বাবুয়ে টসে জয়ী হয় এবং ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • জিম্বাবুয়ের হয়ে পিটার মুরের ওডিআই অভিষেক হয়।

৪র্থ ওডিআই[সম্পাদনা]

২৮ নভেম্বর, ২০১৪
১২:৩০ (বিএসটি) (দিন/রাত)
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ 
২৫৬/৮ (৫০ ওভার)
 জিম্বাবুয়ে
২৩৫/৮ (৫০ ওভার)
মাহমুদুল্লাহ ৮২* (১১২)
সলোমন মিরে ৩/৪৯ (১০ ওভার)
ব্রেন্ডন টেলর ৬৩ (৬৯)
সাকিব আল হাসান ২/২৮ (১০ ওভার)
  • বাংলাদেশ টসে জয়ী হয় এবং ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বাংলাদেশের পক্ষে জুবায়ের হোসেনের ওডিআই অভিষেক ঘটে।

৫ম ওডিআই[সম্পাদনা]

১ ডিসেম্বর, ২০১৪
১২:৩০ (বিএসটি) (দিন/রাত)
স্কোরকার্ড
 জিম্বাবুয়ে
১২৮ (৩০ ওভার)
বাংলাদেশ 
১৩০/৫ (২৪.৫ ওভার)
  • জিম্বাবুয়ে টসে জয়ী হয় এবং ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বাংলাদেশের হয়ে সৌম্য সরকারতাইজুল ইসলামের ওডিআই অভিষেক ঘটে।
  • একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেকে তাইজুল ইসলাম হ্যাট্রিক করেন।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ
  • ১ম ওডিআইতে সাকিব আল হাসান ১২তম ক্রিকেটার হিসাবে একদিনের আন্তর্জাতিকে সেঞ্চুরি এবং চার বা তার বেশি উইকেট নেন।
  • ৫ম ওডিআইতে অভিষেক ওডিআইয়ে তাইজুল ইসলাম হ্যাট্রিক করেন।[৩৭]
জিম্বাবুয়ে

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

সর্বোচ্চ রান[৩৮]
খেলোয়াড় খেলা ইনিংস অপরাজিত রান সর্বোচ্চ রান গড় বল মোকাবেলা স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধ-শতক শূন্য
মুশফিকুর রহিম ২১৩ ৭৭ ৪২.৬০ ২২৪ ৯৫.০৮ ১৫
এনামুল হক বিজয় ২০০ ৯৫ ৪০.০০ ২৮৪ ৭০.৪২ ১৭
মাহমুদুল্লাহ ১৭৯ ৮২* ৮৯.৫০ ২২৩ ৮০.২৬ ২২
ব্রেন্ডন টেলর ১৬২ ৬৩ ৩২.৪০ ২১১ ৭৬.৭৭ ১৭
তামিম ইকবাল ১৪৭ ৭৬ ২৯.৪০ ২২৫ ৬৫.৩৩ ১৪
সর্বোচ্চ উইকেট[৩৯]
খেলোয়াড় খেলা ইনিংস ওভার মেইডেন রান উইকেট ইনিংসে সেরা বোলিং গড় ইকোনোমি স্ট্রাইক রেট ৪-উইঃ ৫-উইঃ
সাকিব আল হাসান ৪২.০ ১৩৬ ১১ ৪/৪১ ১২.৩৬ ৩.২৩ ২২.৯
আরাফাত সানি ২৭.৫ ৭৮ ১০ ৪/২৭ ৭.৮০ ২.৮০ ১৬.৭
মাশরাফি মুর্তজা ৩৬.০ ১৪৮ ৩/৩৪ ১৬.৪৪ ৪.১১ ২৪.০
তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা ৪০.০ ২২০ ৩/৬ ২৪.৪৪ ৫.৫০ ২৬.৬
তাফাদজা কামুঙ্গোজি ৪২.০ ১৭৫ ২/৩৬ ২৯.১৬ ৪.১৬ ৪২.০

সম্প্রচার ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bangladesh to host Zimbabwe in October" (ইংরেজি ভাষায়)। ক্রিকইনফো। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৪ 
  2. "Zimbabwe in Bangladesh Test Series, 2014/15"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  3. "Zimbabwe in Bangladesh ODI Series, 2014/15"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  4. "টেস্টে ফিরলেন সাকিব, নতুন মুখ জুবায়ের"bdnews24.com 
  5. "Zimbabwe in Bangladesh 2014-15 : Zimbabwe bring back Panyangara, Ervine for Bangladesh tour - Cricket News - Bangladesh v Zimbabwe - ESPN Cricinfo"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। 
  6. "ওয়ানডে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষনা"Priyo.com 
  7. "Match Officials - 1st Test: Bangladesh v Zimbabwe at Dhaka, Oct 25-27, 2014"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৪ 
  8. "Match Officials - 2nd Test: Bangladesh v Zimbabwe at Khulna, Nov 3-7, 2014"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  9. "Match Officials - 3rd Test: Bangladesh v Zimbabwe at Chittagong, Nov 12-16, 2014"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৪ 
  10. Binoy, George (২৫ অক্টোবর ২০১৪)। "Shakib's six keeps Zimbabwe to 240; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 1st day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  11. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (২৫ অক্টোবর ২০১৪)। "Dhaka pitch helps Shakib bounce back; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 1st day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  12. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (২৬ অক্টোবর ২০১৪)। "The futility of Bangladesh's fifties; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 2nd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  13. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (২৬ অক্টোবর ২০১৪)। "Panyangara puts tri-series expulsion behind him; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 2nd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  14. Krishnaswamy, Karthik (২৬ অক্টোবর ২০১৪)। "Match evenly poised as Bangladesh take narrow lead; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 2nd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  15. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (২৭ অক্টোবর ২০১৪)। "Being bowled out for 114 hurts - Taylor; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 3rd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  16. মুথু, আলাগাপ্পান (২৭ অক্টোবর ২০১৪)। "Haphazard Bangladesh edge low-scorer; Bangladesh v Zimbabwe, 1st Test, Mirpur, 3rd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ 
  17. মুথু, আলাগাপ্পান (৩ নভেম্বর ২০১৪)। "Tamim fifty keeps Zimbabwe at bay"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  18. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (৩ নভেম্বর ২০১৪)। "First day honours 'even' - Chigumbura"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  19. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (৩ নভেম্বর ২০১৪)। "Tamim picks patience over panache"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  20. মুথু, আলাগাপ্পান (৪ নভেম্বর ২০১৪)। "Zimbabwe hit by Shakib, Tamim tons; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 2nd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  21. Jeswant, Bishen (৭ নভেম্বর ২০১৪)। "Shakib joins Imran, Botham; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 5th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৪ 
  22. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (৫ নভেম্বর ২০১৪)। "Zimbabwe shelter under Mount Masakadza; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 3rd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  23. মুথু, আলাগাপ্পান (৫ নভেম্বর ২০১৪)। "Masakadza, Chakabva revive Zimbabwe; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 3rd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  24. ফুলোরিয়া, দেবাশীষ (৬ নভেম্বর ২০১৪)। "Bangladesh strong after Shakib's five-for; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 4th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৪ 
  25. "'Had my eye on this record' - Shakib; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 5th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ নভেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৪ 
  26. মুথু, আলাগাপ্পান (৭ নভেম্বর ২০১৪)। "Shakib five-for spurs series win; Bangladesh v Zimbabwe, 2nd Test, Khulna, 5th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৪ 
  27. ইসাম, মোহাম্মদ (১২ নভেম্বর ২০১৪)। "Tamim and Imrul talk a good game; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 1st day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৪ 
  28. ইসাম, মোহাম্মদ (১২ নভেম্বর ২০১৪)। "Bangladesh openers shatter records; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 1st day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৪ 
  29. ইসাম, মোহাম্মদ (১৩ নভেম্বর ২০১৪)। "Raza, Masakadza counterattack after Bangladesh 503; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 2nd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  30. ইসাম, মোহাম্মদ (১৩ নভেম্বর ২০১৪)। "Zimbabwe victory still possible - Raza; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 2nd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৪ 
  31. ইসাম, মোহাম্মদ (১৪ নভেম্বর ২০১৪)। "Jubair's five earn Bangladesh strong lead; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 3rd day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৪ 
  32. ইসাম, মোহাম্মদ (১৫ নভেম্বর ২০১৪)। "Mominul ton sets target of 449; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 4th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৪ 
  33. ইসাম, মোহাম্মদ (১৬ নভেম্বর ২০১৪)। "Bangladesh complete 3-0 whitewash; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 5th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৪ 
  34. Jayaraman, Shiva (১৬ নভেম্বর ২০১৪)। "Shakib's double and Mominul's feat; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 5th day"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৪ 
  35. "Zimbabwe in Bangladesh Test Series, 2014/15, Most runs"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৪ 
  36. "Zimbabwe in Bangladesh Test Series, 2014/15, Most wickets"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৪ 
  37. "Taijul debut hat-trick sets 129 target"ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  38. "Zimbabwe in Bangladesh ODI Series, 2014/15, Most runs"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  39. "Zimbabwe in Bangladesh ODI Series, 2014/15, Most wickets"ইএসপিএনক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]