তাইজুল ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তাইজুল ইসলাম
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামতাইজুল ইসলাম
জন্ম (1992-02-07) ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ (বয়স ২৭)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৭৩)
৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৪ নভেম্বর ২০১৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১৬)
১ ডিসেম্বর ২০১৪ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ ওডিআই১ ডিসেম্বর ২০১৪ বনাম জিম্বাবুয়ে
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০১১-২০১৪রাজশাহী বিভাগ
২০১২-২০১৩দূরন্ত রাজশাহী
২০১৩প্রাইম ধলেশ্বর এসসি
২০১৩প্রাইম ব্যাংক সিসি
২০১৪উত্তরাঞ্চল
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২২ ২২ ১৮
রানের সংখ্যা ৩০৮ ২১ ৩৯৫ ৩২
ব্যাটিং গড় ৯.৯৪ ১০.৫ ১৪.৬২ ৪.৫৭
১০০/৫০ ০/০ -/- ০/১ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৩৯ ১১ ৬৪ ১৯
বল করেছে ৫৫৬৪ ২২২ ৪,৯৮৯ ৯৯৯
উইকেট ৯৪ ১০৮ ২২
বোলিং গড় ৩১.১১ ৩০.২ ২৩.২৯ ৩৫.৫৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ১০
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৮/৩৯ ৪/১১ ৮/৩৯ ৬/১৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– -/– ১৭/– ৫/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ২৪ নভেম্বর ২০১৮

তাইজুল ইসলাম (জন্ম: ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২) বাংলাদেশের নাটোর জেলায় জন্মগ্রহণকারী একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারএকদিনের আন্তর্জাতিক ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে অভিষেকেই হ্যাট্রিক করার কীর্তিগাঁথা রচনা করেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। পাশাপাশি বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবেও দলে ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দলে খেলছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলসহ ঘরোয়া ক্রিকেটে দূরন্ত রাজশাহী, প্রাইম ধলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ও রাজশাহী বিভাগের হয়ে খেলেছেন।

প্রারম্ভিক ও ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তাইজুল নাটোর সদর উপজেলার পিপরুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় দশম শ্রেণিতে ওঠার পর পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়। পরবর্তিতে দিনাজপুরে বিকেএসপির এক বছরের এক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র সন্তানের জনক।[১] ১৫ মার্চ ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলা হলে বাংলাদেশ টেস্ট দলের কয়েকজন সদস্যের সাথে তিনিও সন্ত্রাসী হামলার প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং অল্পের জন্য বেচেঁ যান।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

এপ্রিল, ২০১১ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের হয়ে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে তার অভিষেক ঘটে। ব্যাটিংয়ে তেমন সফলতা লাভ না করতে পারলেও খেলায় তিনি ৬ উইকেট পান। ঐ খেলায় রাজশাহী দল ১১৬ রানের ব্যবধানে জয়ী হয়। জাতীয় দলে পা রাখতে তাইজুলকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে ২০১৪ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। এতে তিনি ৪ ম্যাচে ৩৭ উইকেট নিয়ে জায়গা করে নেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলে। তার কিছু দিন পরে জাতীয় দলে।

আগস্ট, ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২৫-সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্যরূপে তারও নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।[২] ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার অভিষেক টেস্টে তিনি পাঁচ উইকেট পান। এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে তার নিজস্ব সেরা ৮/৩৯ পান যা টেস্ট পর্যায়ে যে-কোন বাংলাদেশীদের তুলনায় সেরা।[৩][৪] পূর্বতন সেরা ছিল সাকিব আল হাসানের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৮ সালে ৭/৩৬। তাইজুলের পূর্বে কেবলমাত্র শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথ ৯/১২৭ ও ইংল্যান্ডের জনি ব্রিগসের ৮/১১।[৫] ৮ম উইকেট জুটিতে দলনায়ক মুশফিকুর রহিমের সাথে অপরাজিত ১৯* রানের জুটি গড়ে দলকে ৩-উইকেটের জয়ে সহায়তা করেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।[৬] এরপর ১ মে, ২০১৫ তারিখে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টের ১ম ইনিংসে পাকিস্তানের ৬২৮ রানের বিপরীতে তৃতীয়বারের মতো ৫-উইকেট লাভ করেন।[৭]

কীর্তিগাঁথা[সম্পাদনা]

১ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে জিম্বাবুয়ের দলের বিপক্ষে ৫ ওডিআই সিরিজের শেষ একদিনের আন্তর্জাতিকে তাইজুলের অভিষেক ঘটে।[৮] একদিনের আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে অভিষেকেই তিনি হ্যাট্রিক করার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন। ৭ ওভারে ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান তিনি।[৯] তার এ অসামান্য ক্রীড়ানৈপুণ্যে বাংলাদেশ দল ৫ উইকেটের ব্যবধানে জয় পায় ও ৫-০ ব্যবধানে বাংলাওয়াশ করে জিম্বাবুয়ে দলকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। তিনি একে-একে প্যানিয়াঙ্গারাকে বোল্ড, জন নিয়ুম্বুকে এলবিডব্লিউ এবং চাতারাকে বোল্ড করেন।[১০]

টেস্টে ৫-উইকেট প্রাপ্তি[সম্পাদনা]

# বোলিং পরিসংখ্যান খেলা প্রতিপক্ষ মাঠ শহর দেশ সাল ফলাফল
৫/১৩৫  ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর্নোস ভ্যাল কিংসটাউন সেন্ট ভিনসেন্ট ২০১৪ পরাজয়
৮/৩৯  জিম্বাবুয়ে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ঢাকা বাংলাদেশ ২০১৪ জয়
৬/১৬৩  পাকিস্তান শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম খুলনা বাংলাদেশ ২০১৫ ড্র

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আমি ভালো খেলতে পারলেই খুশি : তাইজুল ইসলাম"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-১৭ 
  2. "Preliminary Squad for Tour of West Indies 2014, June 28, 2014, retrieved: 28 July, 2014"। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৪ 
  3. Alagappan Muthu (27 October 2014). "Bangladesh stumble after Taijul eight-for" – ESPNcricinfo. Retrieved 27 October 2014.
  4. "Statistics / Statsguru / Test matches / Bowling records" – ESPNcricinfo. Retrieved 27 October 2014.
  5. Statistics / Statsguru / Test matches / Bowling records – ESPNcricinfo. Retrieved 27 October 2014.
  6. Zimbabwe tour of Bangladesh, 1st Test: Bangladesh v Zimbabwe at Dhaka, Oct 25-27, 2014 – ESPNcricinfo. Retrieved 27 October 2014.
  7. Devashish, Fuloria (মে ১, ২০১৫)। "Taijul takes six, but Pakistan stretch lead to 296, Bangladesh v Pakistan, 1st Test, Khulna, 4th day"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ মে ১, ২০১৫ 
  8. "Zimbabwe tour of Bangladesh, 5th ODI: Bangladesh v Zimbabwe at Dhaka, Dec 1, 2014"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  9. "Taijul debut hat-trick sets 129 target"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  10. "Zimbabwe tour of Bangladesh, 5th ODI: Bangladesh v Zimbabwe at Dhaka, Dec 1, 2014"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


আরও দেখুন[সম্পাদনা]