সেঞ্চুরি (ক্রিকেট)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
টেস্ট ক্রিকেট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রান ও সর্বাধিক সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড ধারণ করে আছেন ভারতের শচীন তেন্ডুলকর

শতক বা শতরান (ইংরেজি: Century) বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের অন্যতম অনুষঙ্গ বিষয় ও ক্রিকেটীয় পরিভাষা। ব্যাটিংকারী দলের কোন ব্যাটসম্যান কর্তৃক একটি ইনিংসে ১০০ বা তদূর্ধ্ব রান সংগ্রহকে সেঞ্চুরি হিসেবে গণ্য করা হয়।[১] এর ফলে ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি লাভ করেছেন বলে স্কোরকার্ডে তুলে ধরা হয়। এছাড়াও এ পরিভাষাটি দুইজন ব্যাটসম্যানের অংশীদারিত্বে গঠিত জুটিতে প্রয়োগ করা হয় যা ‘সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ’ বা ‘শতরানের জুটি’ হিসেবে পরিচিত। সেঞ্চুরি একজন ব্যাটসম্যানের পরম আরাধ্য বিষয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদচারণা হিসেবে স্বীকৃত। সাধারণতঃ একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে সংখ্যাগতভাবে তুলে ধরা হয়। একজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিকে একজন বোলার কর্তৃক এক ইনিংসে সংগৃহীত ৫ উইকেটের সমমান হিসেবে খসড়াভাবে মনে করা হয়।

বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা সফল সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন তেন্ডুলকর টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশী ৫১টি সেঞ্চুরি করেছেন।[২]

অর্ধ-শতক[সম্পাদনা]

২০০, ৩০০, ৪০০ কিংবা ৫০০ রানও সেঞ্চুরি হিসেবে গণ্য যদিও এ রানগুলো যথাক্রমে ডাবল সেঞ্চুরি (দ্বি-শতক = ২০০-২৯৯), ট্রিপল সেঞ্চুরি (ত্রি-শতক = ৩০০-৩৯৯), কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি (৪০০-৪৯৯) নামে পরিচিত। যদি কোন ব্যাটসম্যান ৫০-৯৯ রান সংগ্রহ করেন, তাহলে তিনি অর্ধ-শতরান বা অর্ধ-শতক বা হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন। এভাবে ৯৯ রান থেকে যদি ব্যাটসম্যান ১০০ রান করেন, তাহলেই তা পরিসংখ্যানে শতরান হিসেবে গণ্য করা হয়।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সেঞ্চুরি পরিভাষাটি ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধ্ব পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে অপ্রচলিত ছিল। এর প্রধান কারণ ছিল পিচ যা কোন রকমে প্রস্তুত করা হতো। প্রথমদিককার সেঞ্চুরি নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও ৩১ আগস্ট, ১৭৬৯ তারিখে একটি গুরুত্বহীন খেলায় জন মিনশাল ডিউক অব ডরসেট’স একাদশের পক্ষে রোথামের বিরুদ্ধে সেভেনওকস ভাইনে ১০৭ রানের এক সেঞ্চুরি করেছিলেন বলে নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।[৪] জুলাই, ১৭৭৫ সালে ব্রডহাফপেনি ডাউনে অনুষ্ঠিত বড় ধরণের ক্রিকেট খেলায় প্রথম সুনির্দিষ্টভাবে সেঞ্চুরি করেন জন স্মল নামীয় এক ইংরেজ ক্রিকেটার। তিনি হ্যাম্পশায়ারের হয়ে সারে দলের বিপক্ষে ১৩৬ রান করেন।[৫] শুরুর দিকের চিহ্নিত সেঞ্চুরি পার্টনারশীপের রেকর্ড করা হয়েছে দুইজন হ্যাম্বলডন ক্লাবের ব্যাটসম্যানের মাধ্যমে।[৬] ক্যাটারহ্যামের বিপক্ষে এ জুটি প্রথম উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করেন। বিশ্বাস করা হয় যে, ব্যাটসম্যানদ্বয় হচ্ছেন - টম সুটার এবং এডওয়ার্ড কারি অ্যাবারো[৭] এছাড়াও তাদের মধ্যে কমপক্ষে একজন সেঞ্চুরি করেছিলেন; কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপিত হয়নি।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরির সৌভাগ্য অর্জন করেন অস্ট্রেলিয়ার ডানহাতি ব্যাটসম্যান চার্লস ব্যানারম্যান। ১৫-১৯ মার্চ, ১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বের ১ম টেস্টে ১৬৫ রানে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।[৮] ১৮৮০ সালে কেনিংটন ওভালে প্রথমবারের মতো শতরানের জুটি গড়েন ইংল্যান্ডের ডব্লিউ. জি. গ্রেস - এ. পি. লুকাস। ৬-৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ সালে তারা এ শতরানের জুটিটি গড়েন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে অপরাজিত ৪০০ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং বিস্ময় ব্রায়ান লারা। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান শচীন তেন্ডুলকর ৫১টি সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ডের অধিকার অর্জন করেছেন।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ওডিআইয়ে প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস[৯] ২৪ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে ওল্ডট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলায় তিনি ১০৩ রান করে এ কীর্তিগাঁথা রচনা করেন। কিন্তু এ খেলাটি রেকর্ডে দ্বিতীয় ওডিআই হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সবচেয়ে বেশী ওডিআই সেঞ্চুরি করেন ভারতের ব্যাটিং প্রতিভা শচীন তেন্ডুলকর। ৪৯টি সেঞ্চুরি করে তিনি শীর্ষস্থানে রয়েছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ডব্লিউ. জি. গ্রেস হচ্ছেন প্রথম ক্রিকেটার যিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শততম সেঞ্চুরি করেছেন। এ কৃতিত্ব অর্জন করেন ১৮৯৫ সালে। তাঁর সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সর্বমোট ১২৪টি সেঞ্চুরি রয়েছে। পরবর্তীতে জ্যাক হবস এ রেকর্ড অতিক্রম করে ১৯৯টি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি থেমে যান যা অদ্যাবধি অক্ষত রয়েছে।[১০][১১]

দ্রুততম সেঞ্চুরি[সম্পাদনা]

২৩ এপ্রিল, ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ৩টি পদ্ধতির (টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং টুয়েন্টি২০) যে-কোনটিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের টি২০ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে তিনি মাত্র ৩০ বলে এ কীর্তিগাঁথা রচনা করেন।[১২] পূর্বতন রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের ৩৪ বলে। এছাড়াও তিনি টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশী ১১টি সেঞ্চুরি করেন।

একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স ২০১৫ সালে ১৮ জানুয়ারি তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেন এবং কোরে অ্যান্ডারসন এর করা ৩৬ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দেন।

টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন যৌথভাবে ভিভ রিচার্ডস ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ও মিসবাহ উল হক ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে| দুইজনই ৫৬ বলে তাদের শতক পুরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Williamson, Martin। "A glossary of cricket terms"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৪  Refer to entry for ton.
  2. Test centuries
  3. "England gives it to Aussies at Ashes", Sydney Morning Herald, Dec. 2, 2006.
  4. G. B. Buckley, Fresh Light on 18th Century Cricket, Cotterell, 1935.
  5. Arthur Haygarth, Scores & Biographies, Volume 1 (1744-1826), Lillywhite, 1862.
  6. H. T. Waghorn, Cricket Scores, Notes, etc. (1730-1773), Blackwood, 1899.
  7. Ashley Mote, The Glory Days of Cricket, Robson, 1997.
  8. Test #1
  9. 1st ODI: England v Australia, Aug. 24, 1972, ESPN website.
  10. Most Hundreds in a Career, ESPN website.
  11. See Variations in first-class cricket statistics.
  12. ‘অতিমানবীয়’ গেইল, প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল ২০১৩

আরও দেখুন[সম্পাদনা]