রুবেল হোসেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রুবেল হোসেন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম মোহাম্মদ রুবেল হোসেন
জন্ম (১৯৯০-০১-০১) ১ জানুয়ারি ১৯৯০ (বয়স ২৫)
বাগেরহাট, খুলনা, বাংলাদেশ
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণ ডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকা বোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৫৬) ৯ জুলাই ২০০৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট ২৮ এপ্রিল ২০১৫ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৯৪) ১৪ জানুয়ারি ২০০৯ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ ওডিআই ২২ এপ্রিল ২০১৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
২০০৭/০৮-বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগ
২০১২-বর্তমান চিটাগং কিংস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২২ ৫৭ ৩৯ ৯২
রানের সংখ্যা ১৯৫ ৮২ ৩৪৫ ১৪১
ব্যাটিং গড় ৯.২৯ ৯.২৯ ৮.৮৪ ৫.৮৭
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৪৫ ১৭ ৪৫* ১৮*
বল করেছে ৩,৬০০ ২,৫৯২ ৫,৭৬৮ ৪,২৮০
উইকেট ৩২ ৭৫ ৬২ ১৩৪
বোলিং গড় ৭৩.৩৪ ৩২.৪৭ ৬১.৯৮ ২৮.১৪
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ৫/১৬৬ ৬/২৬ ৫/৬০ ৬/১৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১০/– ১০/– ১৬ /– ২২/–
উত্স: ক্রিকইনফো, ৯ মার্চ ২০১৫

মোহাম্মদ রুবেল হোসেন (জন্ম: ১ জানুয়ারি, ১৯৯০) খুলনা বিভাগের বাগেরহাটে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম ক্রিকেটার। খেলায় তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এছাড়াও দলের প্রয়োজনে ডানহাতে ব্যাটিং করলেও তেমন সফল নন তিনি। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল পার্রফরমেসের জন্য খুব প্রশংসিত হয়েছেন ৷

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

দ্রুতগতির বোলার হিসেবে শ্রীলঙ্কা দলের লাসিথ মালিঙ্গা’র সাথে তার ক্ষাণিকটা মিল রয়েছে।[১] ধারাবাহিকভাবে তিনি পেস ও বাউন্সার নিক্ষেপ করতে পারেন। ২০০৭ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষে অভিষিক্ত হন। খুলনা বিভাগের বিরুদ্ধে অভিষেকের ঐ খেলায় তিনি ১ উইকেট নেন ১৩৭ রানের বিনিময়ে। জাতীয় ক্রিকেট লীগে ভালো ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে মনোনীত হন। অল্পকিছুদিন বাদেই তিনি বাংলাদেশ এ দলে স্থানান্তরিত হন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৪ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে রুবেলের। ঐ খেলায় তিনি ৫ ওভার ৩ বল করে ৩৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট দখল করে বাংলাদেশের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই বছরের ৯ জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে তার। ঐ খেলায় তিনি ৩ উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে ২০০৯ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

নভেম্বর, ২০১১ সালে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে ৩টি ওডিআই এবং ২টি টেস্ট খেলে। প্রথম টেস্টে পাকিস্তান ইনিংসের ব্যবধানে জয়ী হয়। খেলায় বাংলাদেশ দল মাত্র ৫ উইকেট দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। এ সময় রুবেলের গতিবেগ ১৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা (৯০ মাইল প্রতি ঘণ্টা) হলেও তিনি কোন উইকেট লাভ করতে পারেননি।[২][৩] তৃতীয় দিনে ফিল্ডিং করার সময় তিনি ডান কাঁধে ব্যথা পান।[৪]

২৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় তৃতীয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিকে হ্যাট্রিক করেন।[৫] তিনি একে-একে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান কোরে অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম এবং জিমি নিশামকে আউট করে এ বিরল কীর্তিগাঁথা রচনা করেন।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ৪ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে বিসিবি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলের ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।[৬] এতে তিনিও দলের অন্যতম সদস্য মনোনীত হন।[৭]

৯ মার্চ, ২০১৫ তারিখে অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ৫ম খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমসৌম্য সরকারের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ দলগতভাবে সর্বোচ্চ রান তোলে।[৮] পরবর্তীতে তার প্রশংসনীয় বোলিংয়ে (৪/৫৩) বাংলাদেশ ১৫ রানের ব্যবধানে জয়ী হওয়াসহ কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেট[সম্পাদনা]

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষস্থানীয় ছয়টি দল নিয়ে টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।[৯] সেজন্যে দলের সদস্য নির্ধারণের লক্ষ্যে খেলোয়াড়দেরকে নিলামে তোলা হয়।[১০] সিলেট রয়্যালস রুবেলকে $৭০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে দলে অন্তর্ভূক্ত করে।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "World Twenty20 day two as it happened"BBC Sport। ৬ জুলাই ২০০৯। সংগৃহীত ২০১০-০৭-০৯ 
  2. Sundar, Nitin (১১ ডিসেম্বর ২০১১)। "Younis pushes Bangladesh towards massive loss"। ESPNcricinfo। সংগৃহীত ২০১১-১২-১৪ 
  3. Sundar, Nitin (১২ ডিসেম্বর ২০১১)। "Another innings defeat for limp Bangladesh"। ESPNcricinfo। সংগৃহীত ২০১১-১২-১৪ 
  4. "Rubel Hossain injures right shoulder"। ESPNcricinfo। ১১ ডিসেম্বর ২০১১। সংগৃহীত ২০১১-১২-১৪ 
  5. "New Zealand tour of Bangladesh, 1st ODI: Bangladesh v New Zealand at Dhaka, Oct 29, 2013"ক্রিকইনফো। সংগৃহীত ১০ অক্টোবর ২০১৩ 
  6. Isam, Mohammad। "Soumya Sarkar in Bangladesh World Cup squad"ESPNCricinfo। ESPN। সংগৃহীত ৪ জানুয়ারি ২০১৫ 
  7. http://www.espncricinfo.com/icc-cricket-world-cup-2015/content/squad/816431.html
  8. "Mahmudullah ton lifts Bangladesh to 275"। ESPN Cricinfo। ৯ মার্চ ২০১৫। সংগৃহীত ৯ মার্চ ২০১৫ 
  9. Engineer, Tariq (২৮ ডিসেম্বর ২০১১)। "Bangladesh Premier League to begin on February 9"। ESPNcricinfo। সংগৃহীত ২০১২-০১-২০ 
  10. Isam, Mohammad (১৯ জানুয়ারি ২০১২)। "Afridi and Gayle fetch highest BPL prices"। ESPNcricinfo। সংগৃহীত ২০১২-০১-২০ 
  11. "Bangladesh Premier League: players standing after auction" (PDF)। ESPNcricinfo। সংগৃহীত ২০১২-০১-২০