এভারটন উইকস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
স্যার এভারটন উইকস
Everton Weekes.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম এভারটন ডিকোর্সি উইকস
জন্ম (১৯২৫-০২-২৬) ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৫ (বয়স ৯২)
সেন্ট মাইকেল, বার্বাডোস
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি লেগ ব্রেক
ভূমিকা ব্যাটসম্যান, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষক
সম্পর্ক ডেভিড মারে (পুত্র)
কেন উইকস (কাকাতো ভাই)
রিকি হোয়েত (নাতি)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৯)

২১ জানুয়ারি ১৯৪৮ বনাম ইংল্যান্ড

      
শেষ টেস্ট ৩১ মার্চ ১৯৫৮ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৪৪-১৯৬৪ বার্বাডোস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৮ ১৫২
রানের সংখ্যা ৪,৪৫৫ ১২,০১০
ব্যাটিং গড় ৫৮.৬১ ৫৫.৩৪
১০০/৫০ ১৫/১৯ ৩৬/৫৪
সর্বোচ্চ রান ২০৭ ৩০৪*
বল করেছে ১২২ ১,১৩৭
উইকেট ১৭
বোলিং গড় ৭৭.০০ ৪৩.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৮ ৪/৩৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪৯/– ১২৪/১
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ১৪ আগস্ট ২০১৭

স্যার এভারটন ডিকার্সি উইকস, কেসিএমজি, জিসিএম, ওবিই (ইংরেজি: Everton Weekes; জন্ম: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫) বার্বাডোসের সেন্ট মাইকেল এলাকার ওয়েস্টবারিতে জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারফ্রাঙ্ক ওরেলক্লাইড ওয়ালকটের সাথে তিনিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের পক্ষে অংশগ্রহণ করে বৈশ্বিক ক্রিকেটে একাধিপত্য বিস্তারে সহায়তা করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁরা একত্রে ‘থ্রি-ডব্লিউজ’ নামে খ্যাতি পান। দলে এভারটন উইকস মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। পাশাপাশি ডানহাতে লেগ ব্রেকউইকেট-রক্ষণে দক্ষ ছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ইংরেজ ফুটবল দল এভারটন থেকে তাঁর বাবা নামকরণ করেছিলেন।[১] কিন্তু তিনি তাঁর ডিকার্সি নামের উৎস সম্পর্কে অবগত নন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, তাঁর পরিবার ফরাসী ভাষায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।[১] উইকসের পরিবার গরিব ছিল। ফলে ৮ বছর বয়সেই তাঁর বাবা পরিবার ফেলে রেখে ত্রিনিদাদের তৈলক্ষেত্রে কাজের সন্ধানে চলে যান। এরপর তিনি এগারো বছর পর পরিবারের সাথে মিলিত হয়েছিলেন।[২] পিতার অবর্তমানে উইকস ও তাঁর বোন মা লেনোর ও এক কাকীর সান্নিধ্যে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন।[২]

সেন্ট লিওনার্ড বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি কোন পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হননি। পরবর্তীকালে অবশ্য হোটেল ম্যানেজম্যান্ট বিষয়ে কৃতকার্য হয়েছেন।[৩] এসময় তিনি কেবলমাত্র খেলাধূলাতেই মনোযোগী ছিলেন।[৪] ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলাতেই তাঁর দক্ষতা ছিল। ফুটবলার হিসেবে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেন।[৫]

ক্রিকেট খেলা বিনামূল্যে দেখার লক্ষ্যে বালক অবস্থায় কেনসিংটন ওভালে গ্রাউন্ডসম্যানদেরকে সহায়তা করতেন। সেখানে প্রায়শঃই তিনি পরিবর্তিত ফিল্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।[৬] এরফলে শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদেরকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ লাভ করেছেন।[৭] ১৩ বছর বয়সে বার্বাডোস ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) ওয়েস্টশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি স্থানীয় পিকউইক ক্রিকেট ক্লাবে খেলার জন্য আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ঐ ক্লাবে কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়দেরকেই অন্তর্ভুক্ত করা হতো।[৮]

১৯৩৯ সালে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১৪ বছর বয়সে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এরফলে তিনি ক্রিকেট খেলায় সফলতার জন্য আরও অনুশীলনের সুযোগ পান।[৯] ১৯৪৩ সালে ল্যান্স-কর্পোরাল পদে বার্বাডোস রেজিম্যান্টে চাকুরী করেন।[৮] ১৯৪৭ সালে চাকুরী ত্যাগ করেন।[৭] সামরিক বাহিনীতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বিধায় বার্বাডোস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্বীকৃতপ্রাপ্ত গ্যারিসন স্পোর্টস ক্লাবে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।[৮]

থ্রি-ডব্লিউজ[সম্পাদনা]

থ্রি-ডব্লিউজের সম্মানার্থে কেনসিংটন ওভালে ওরেল, উইকস ও ওয়ালকট স্ট্যান্ড নামকরণ হয়।

বার্বাডোস থেকে ক্লাইড ওয়ালকটফ্রাঙ্ক ওরেলের সাথে ১৯৪৮ সালে একত্রে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে উইকসের। ঐ দেশ থেকে তাঁরা অসাধারণ ব্যাটসম্যান হিসেবে মর্যাদা পান। সকলের বয়সই ১৭ মাসের পার্থক্যে জন্মগ্রহণ করেন ও কেনসিংটন ওভালের ১ মাইলের মধ্যে তাঁরা বসবাস করতেন।[১০] এছাড়াও ওয়ালকট বিশ্বাস করেন যে, তাঁরা সকলেই একই ধাত্রীর হাতে জন্মেছেন।[১১]

১৬ বছর বয়সে দলের অনুশীলনীর সময়ে উইকস ওয়ালকটের সাথে প্রথম স্বাক্ষাৎ করেন।[১২] কোন সফরে যাবার সময় তাঁর একত্রে একই কক্ষে অবস্থান করতেন।[১২] ক্রিকেট খেলার পর শনিবার রাতে ওরেলের সাথে একত্রে নাঁচতেন।[১৩]

১৯৫০ সালে ইংল্যান্ড সফরে ইংরেজ সাংবাদিকগণ তাঁদেরকে ‘থ্রি-ডব্লিউজ’ নামে নামাঙ্কিত করেন।[১৪] তবে, ওয়ালকট বিশ্বাস করেন যে, তিনজনের মধ্যে উইকসই সেরা ব্যাটসম্যান, ওরেল সেরা অল-রাউন্ডার ও নিজে সেরা উইকেট-রক্ষক ছিলেন।[১৫]

ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর তাঁরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতেন। ১৯৬৭ সালে ওরেলের মৃত্যুর পর উইকস তাঁর শবযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।[১৬] ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাভ হিল ক্যাম্পাসে থ্রি-ডব্লিউজ ওভাল তাঁদের সম্মানে তৈরি করা হয়। এছাড়াও ওভালের বিপরীতে একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।[১৭] ওভালের বাইরে ওরেল ও ওয়ালকটকে সমাধিস্থ করা হয়।[১৮] কিন্তু এখনও উইকস নিজ সমাধির ব্যাপারে কোন ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ব্যাটিং গড়
অস্ট্রেলিয়া ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান
৯৯.৯৪
দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রেইম পোলক
৬০.৯৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড জর্জ হ্যাডলি
৬০.৮৩
ইংল্যান্ড হার্বার্ট সাটক্লিফ
৬০.৭৩
ইংল্যান্ড এডি পেন্টার
৫৯.২৩
ইংল্যান্ড কেন ব্যারিংটন
৫৮.৬৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড এভারটন উইকস
৫৮.৬১
ইংল্যান্ড ওয়ালি হ্যামন্ড
৫৮.৪৫
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড গারফিল্ড সোবার্স
৫৭.৭৮
ইংল্যান্ড জ্যাক হবস
৫৬.৯৪
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড ক্লাইড ওয়ালকট
৫৬.৬৮
ইংল্যান্ড লেন হাটন
৫৬.৬৭

উৎস: ক্রিকইনফো
যোগ্যতা: পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ী জীবনে কমপক্ষে ২০ ইনিংস।

২১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ২২ বছর ও ৩২৯ দিন বয়সে কেনসিংটন ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটে। ঐ টেস্টে ১২জন ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল। ওয়ালকট, রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি, উইলফ্রেড ফার্গুসন, বার্কলি গ্যাসকিন, জন গডার্ডপ্রায়র জোন্স - এ সাতজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবং জিম লেকার, মরিস ট্রেমলেট, ডেনিস ব্রুকস, উইনস্টন প্লেসজেরাল্ড স্মিথসন - এ পাঁচজন ইংল্যান্ডের ছিলেন। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে উইকস ৩৫ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলন। টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[১৯]

পরবর্তী দুই টেস্টে তাঁর অংশগ্রহণ তেমন সুখকর ছিল না।[২০] চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁকে বাদ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছিল। কিন্তু জর্জ হ্যাডলি আঘাত পেলে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।[২১] শূন্য রানে আউট হওয়া থেকে বেঁচে গিয়ে মহামূল্যবান ১৪১ রান তোলেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।[২২] এরফলে ভারত, পাকিস্তান ও সিলন সফরের জন্য তিনি মনোনীত হন।

দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে তিনি তাঁর পরবর্তী শতক হাঁকান। নভেম্বর, ১৯৪৮ সালে ভারতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে প্রথম সফরে[২২] প্রথম টেস্টে ১৯৪, বোম্বেতে দ্বিতীয় টেস্টে ১৬২ ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে ১০১ রান তোলেন। মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ৪র্থ টেস্টে ৯০ রান সংগ্রহকালে বিতর্কিতভাবে রান-আউটের শিকার হন তিনি।[২২]

টেস্ট সিরিজ শেষে সিলনের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেন ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অর্ধ-শতক করেন। কিন্তু ঐ সময় দলগুলো টেস্ট মর্যাদাবিহীন ছিল। দ্বাদশ ইনিংস শেষে ৮২.৪৬ ব্যাটিং গড়ে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেন যা কেবলমাত্র ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের তুলনায় কম ছিল।[২৩]

১৯৫০ সালে ইংল্যান্ড সফরে তিনি তাঁর ক্রীড়াশৈলী অক্ষুণ্ন রাখেন। ৫৬.৩৩ গড়ে ৩৩৮ রান তোলেন ও ৩-১ ব্যবধানে দলকে জয়লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[২৪] সিরিজ শেষে ১,৪১০ টেস্ট রান তোলেন ৭৪.২১ গড়ে। এছাড়াও পুরো সিরিজে ১১ ক্যাচ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে সেরা স্লিপ ফিল্ডার ছিলেন। পাশাপাশি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৩০৪* রান তুলেন যা অদ্যাবধি ইংল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলের একমাত্র ত্রি-শতক।[২৪]

রিচি বেনো মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘যে সকল অস্ট্রেলীয় উইকসের রুদ্রমূর্তি প্রদর্শনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করবেন - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের সাথে তাঁকে তুলনা করা চলে।’[২৫]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৫৮ সালে উরুর আঘাতের কারণে টেস্ট খেলা থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন। অবসর পরবর্তীকালে অনেকগুলো দাতব্য ও প্রদর্শনী খেলায় অংশ নেন। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে রোডেশিয়া সফরে বর্ণবৈষম্যবাদের শিকার হন ও শ্বেতাঙ্গ এলাকায় স্থানীয় আইনে কৃষ্ণাঙ্গদের নিষিদ্ধতার কবলে পড়ার অভিযোগ আনেন।[২৬] উইকস ও সতীর্থ রোহন কানহাই সফর বানচালের হুমকি দিলে রোডেশীয় সরকারের কর্মকর্তারা তাঁদের কাছে ক্ষমা চান।[২৭]

১৯৬০-এর দশকে বার্বাডোস ডেইলি নিউজে কাজ করতেন তিনি।[২৮] ঐ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন টনি কোজিয়ার[২৯]

১৯৭৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে কানাডা দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।[৩০] ক্রিকেটের বাইরে উইকস শান্তিবিষয়ক বিচারপতি ও বার্বাডোস সরকারের বেশ কিছু দায়িত্ব পালনসহ পুলিশ সার্ভিস কমিশনে কাজ করেন।[৩১] ১৯৯৪ সালে আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি মনোনীত হন তিনি। চার টেস্ট ও তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিকে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন উইকস।[৩২]

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

ধারাবাহিকভাবে পাঁচ সেঞ্চুরি করে টেস্ট রেকর্ড গড়ে জ্যাক ফিঙ্গলটনঅ্যালান মেলভিলের গড়া রেকর্ড ভঙ্গ করেন।[৩৩] এছাড়াও তিনি ধারাবাহিকভাবে সাতটি টেস্ট অর্ধ-শতক[২২] করে জ্যাক রাইডার, প্যাটসি হেনড্রেন, জর্জ হ্যাডলি ও মেলভিলের গড়া যৌথ রেকর্ড অতিক্রম করেন।[৩৪] পরবর্তীতে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারশিবনারায়ণ চন্দরপল উইকসের রেকর্ডের সমকক্ষ হন।[৩৫]

ধারাবাহিকভাবে নয় টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেছেন তিনি। এরফলে অ্যালেক স্টুয়ার্ট, ম্যাথু হেইডেন, জ্যাক ক্যালিস, সাইমন ক্যাটিচকুমার সাঙ্গাকারা’র দলে প্রবেশ করেন যারা প্রথম ১২ টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করতে পেরেছেন। পরবর্তীতে সুনীল গাভাস্কারমার্ক টেলর ও মমিনুল হক এ অর্জনের সাথে শামিল হন।[৩৬]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

উইকসের টেস্ট ক্রিকেট জীবনে লাল রঙে রান ও নীল রঙে শেষ ১০ ইনিংস দেখানো হয়েছে। নীল বিন্দুতে অপরাজিত থাকাকে লেখচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৪৯ সালে ভারতীয় ক্রিকেট কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা পান উইকস।[৩৭] তাঁর অপূর্ব ক্রীড়া নিদর্শনের প্রেক্ষিতে উইজডেন কর্তৃপক্ষ ১৯৫১ সালে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন।[২০][৩৮] খেলোয়াড়ী জীবন শেষে উইকস অনেকগুলো সম্মানসূচক পদবী লাভ করেন। তন্মধ্যে ওবিই, জিসিএম এবং ১৯৯৫ সালে কেসিএমজি লাভ করেন।[৩৯] জানুয়ারি, ২০০৯ সালে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্তকারী ৫৫জন খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিও অন্তর্ভুক্ত হন। এরফলে তিনিও নতুন খেলোয়াড়দেরকে এতে অন্তর্ভুক্ত করতে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Walcott p. 14.
  2. Weekes p. 4.
  3. Walcott p. 18.
  4. Sandiford, K. (1995) Everton DeCourcey Weekes, Famous Cricketers Series: No 29, Association of Cricket Statisticians and Historians, Nottingham. আইএসবিএন ০-৯৪৭৭৭৪-৫৫-৬
  5. Walcott p. 17.
  6. Spooner, P. (1998) "Sir Everton Weekes: My First Test", The Barbados Nation, 18 December 1998
  7. Walcott p. 20.
  8. Sandiford (1995) p. 6.
  9. Weekes, p. 5.
  10. Dyde p. 160.
  11. Walcott p. 2.
  12. Walcott p. vii.
  13. Walcott p. 7.
  14. Walcott p. 13.
  15. Walcott p. 15.
  16. Walcott p. 19.
  17. "West Indies Cricket: 3Ws Oval, Barbados" http://www.barbados.org/3ws_oval.htm Accessed 27 April 2008
  18. "West Indies Cricket: 3Ws Monument" http://www.barbados.org/3ws_memorial.htm Accessed 27 April 2008
  19. Cricinfo, "Scorecard, 1st Test: West Indies v England at Bridgetown, 21–26 Jan 1948" Accessed 27 April 2008
  20. Belson, F. (1951) "Cricketer of the Year – 1951 Everton Weekes", Wisden Cricketer's Almanack
  21. Sandiford (1995) p. 13.
  22. Sandiford, K. (2004) "Everton Weekes – West Indies' Whirlwind", The Journal of the Cricket Society, vol. 21 no. 4 Spring 2004
  23. Cricinfo: Fastest To 1000 Runs
  24. Sandiford (1995) p. 17.
  25. Armstrong p. 122.
  26. Majumdar & Mangan p. 139
  27. Majumdar & Mangan p. 138-9
  28. Sandford, Keith (১৯৯৮)। Cricket Nurseries of Colonial Barbados: The Elite Schools, 1865–1966। Press University of the West Indies। পৃ: ৬২। সংগৃহীত ১১ মে ২০১৬ 
  29. Moss, Stephen (অক্টোবর ২০০৬)। Wisden Anthology 1978–2006: Cricket's Age of RevolutionA & C Black। সংগৃহীত ১১ মে ২০১৬ 
  30. Sandiford (1998) p. 150.
  31. Government of Barbados, Official Gazette, 1986.
  32. Cricinfo, "Everton Weekes Profile", http://content-www.cricinfo.com/westindies/content/player/53241.html Accessed 24 April 2008.
  33. The Adelaide Advertiser, "Young West Indian's Test Record" 4 January 1949, p. 10.
  34. "Fifties in consecutive innings", ESPNcricinfo, Accessed 6 October 2008.
  35. Lynch, S. (2007) "Losing four times running, and seven fifties in a row", ESPNcricinfo, Accessed 6 October 2008.
  36. ইসাম, মোহাম্মদ (১৫ নভেম্বর ২০১৪)। "Mominul ton sets target of 449; Bangladesh v Zimbabwe, 3rd Test, Chittagong, 4th day"। ইএসপিএনক্রিকইনফো। সংগৃহীত ৪ জানুয়ারি ২০১৬
  37. Cricket Archive, "Indian Cricketer Cricketers of the Year", http://www.cricketarchive.co.uk/Archive/Players/Overall/Indian_Cricket_Cricketers_of_the_Year.html Accessed 27 April 2008.
  38. "Wisden Cricketers of the Year"। CricketArchive। সংগৃহীত ২০০৯-০২-২১ 
  39. Reuters, "Everton Weekes and Peter Blake Knighted" 16 June 1995.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]